পাকিস্তানের বন্দরনগরী করাচিতে তীব্র গরমের সঙ্গে বিদ্যুৎ বিভ্রাট ও পানির সংকট মিলিয়ে সাধারণ মানুষের দুর্ভোগ চরমে পৌঁছেছে। তাপমাত্রা ৪০ ডিগ্রি সেলসিয়াসের বেশি ওঠার পাশাপাশি অনুভূত তাপমাত্রা আরও বেশি থাকায় নগরজীবন কার্যত স্থবির হয়ে পড়েছে। এর মধ্যে বহু এলাকায় পানির সরবরাহ ব্যাহত হওয়া এবং দীর্ঘ সময়ের লোডশেডিং পরিস্থিতিকে আরও কঠিন করে তুলেছে।
গরমে নাকাল নগরবাসী
দিনভর গরম ও আর্দ্র আবহাওয়ার কারণে মানুষের স্বাভাবিক চলাচল ব্যাহত হয়েছে। বিশেষ করে দুপুরের দিকে বাইরে বের হওয়া মানুষের জন্য পরিস্থিতি অত্যন্ত কষ্টকর হয়ে ওঠে। আবহাওয়ার বর্তমান ধারা অনুযায়ী আগামী কয়েক দিনও একই ধরনের তাপপ্রবাহ অব্যাহত থাকতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
পানির সংকটে ভোগান্তি

গত সপ্তাহে শুরু হওয়া পানির সংকট এখনো পুরোপুরি কাটেনি। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, ক্ষতিগ্রস্ত পাইপলাইন মেরামত এবং প্রধান পাম্পিং ব্যবস্থার সমস্যা সমাধানের পর বিভিন্ন এলাকায় ধীরে ধীরে পানি সরবরাহ স্বাভাবিক করা হচ্ছে।
তবে বাস্তব চিত্র ভিন্ন বলে অভিযোগ করছেন অনেক বাসিন্দা। শহরের একাধিক এলাকায় এখনো নিয়মিত পানি পৌঁছাচ্ছে না। ফলে বহু পরিবারকে অতিরিক্ত খরচ করে ব্যক্তিগত পানির ট্যাংকারের ওপর নির্ভর করতে হচ্ছে। এতে সাধারণ মানুষের আর্থিক চাপও বেড়ে গেছে।
লোডশেডিং নিয়ে ক্ষোভ
প্রচণ্ড গরমের মধ্যেও বিভিন্ন এলাকায় দীর্ঘ সময় বিদ্যুৎ না থাকায় জনঅসন্তোষ বাড়ছে। অনেক বাসিন্দা অভিযোগ করেছেন, তীব্র তাপদাহের সময়েও বিদ্যুৎ বিভ্রাট কমেনি। কিছু এলাকায় মানুষ রাস্তায় নেমে প্রতিবাদও করেছেন।
বিদ্যুৎ সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠান বলছে, গরমের পরিস্থিতি বিবেচনায় কিছু নির্ধারিত কার্যক্রম স্থগিত করা হয়েছে এবং বিশেষ পরিস্থিতিতে লোডশেডিং সীমিত রাখার চেষ্টা চলছে। তবে বাসিন্দাদের অভিযোগ, বাস্তবে তারা এখনো কাঙ্ক্ষিত স্বস্তি পাচ্ছেন না।

রাজনৈতিক সমালোচনা
পানির সংকটকে কেন্দ্র করে প্রাদেশিক সরকারের বিরুদ্ধে সমালোচনার ঝড় উঠেছে। বিরোধী রাজনৈতিক নেতারা দাবি করেছেন, অব্যবস্থাপনা, অবহেলা এবং ধীরগতির কারণে পরিস্থিতি আরও জটিল হয়েছে। তাদের মতে, সরবরাহ ঘাটতি ও অবকাঠামোগত দুর্বলতার কারণে নগরবাসী অপ্রয়োজনীয় ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন।
তারা দ্রুত ও কার্যকর পদক্ষেপ নিয়ে পানি সরবরাহ সম্পূর্ণ স্বাভাবিক করার পাশাপাশি দায়ীদের জবাবদিহির আওতায় আনার আহ্বান জানিয়েছেন।
সামনে আরও চ্যালেঞ্জ
বিশেষজ্ঞদের মতে, গ্রীষ্মের তীব্রতা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে করাচির মতো বড় শহরগুলোতে পানি ও বিদ্যুতের চাহিদা আরও বাড়বে। তাই দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা ছাড়া এ ধরনের সংকট বারবার ফিরে আসতে পারে। আপাতত নগরবাসী অপেক্ষায় রয়েছে কবে স্বাভাবিক হবে পানি ও বিদ্যুতের সরবরাহ, আর মিলবে তীব্র গরম থেকে কিছুটা স্বস্তি।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 


















