এক সময় যুক্তরাষ্ট্রে নিজের প্রথম বাড়ি কেনা ছিল মধ্যবিত্ত জীবনের একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক। তুলনামূলক কম দামের ছোট বাড়িগুলো নতুন ক্রেতাদের জন্য সম্পত্তির বাজারে প্রবেশের সুযোগ তৈরি করত। কিন্তু সাম্প্রতিক বছরগুলোতে সেই বাস্তবতা দ্রুত বদলে গেছে। এখন অনেক আমেরিকানই মনে করছেন, প্রথম বাড়ি কেনার সেই সুযোগ ধীরে ধীরে অতীতের বিষয় হয়ে যাচ্ছে।
প্রথম বাড়ি কেনা এখন আরও কঠিন
সাম্প্রতিক এক জরিপে দেখা গেছে, যুক্তরাষ্ট্রের প্রাপ্তবয়স্কদের বড় একটি অংশ মনে করেন কম দামের প্রথম বাড়িগুলো এখন আর আগের মতো সহজলভ্য নয়। আবাসন বাজারের বর্তমান পরিস্থিতি অনেকের কাছে উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। বাড়ির দাম বৃদ্ধি, উচ্চ সুদের হার এবং সীমিত সরবরাহ নতুন ক্রেতাদের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ তৈরি করছে।

কয়েক বছরে বড় মূল্যবৃদ্ধি
পরিসংখ্যান বলছে, ২০১৯ সালে যে ধরনের প্রথম বাড়ির গড় মূল্য ছিল প্রায় ১ লাখ ৫৭ হাজার ডলার, তা বেড়ে ২০২৬ সালের মার্চে ২ লাখ ৬১ হাজার ডলারেরও বেশি হয়েছে। একই সময়ে যুক্তরাষ্ট্রে সব ধরনের বাড়ির মধ্যম মূল্য ২ লাখ ৯৫ হাজার ডলার থেকে বেড়ে ৪ লাখ ৩৬ হাজার ডলারের বেশি হয়েছে। ফলে সম্পত্তি কেনার স্বপ্ন অনেকের জন্য আরও দূরে সরে যাচ্ছে।
কমেছে নতুন ক্রেতার সংখ্যা
বাড়ির দাম বাড়ার প্রভাব পড়েছে নতুন ক্রেতাদের ওপরও। প্রথমবার বাড়ি কেনা মানুষের অংশ এখন রেকর্ড নিম্ন পর্যায়ে নেমে এসেছে। একই সঙ্গে প্রথমবার বাড়ি কেনার গড় বয়সও বেড়ে ৪০ বছরে পৌঁছেছে। অর্থাৎ আগের তুলনায় মানুষকে অনেক বেশি সময় অপেক্ষা করতে হচ্ছে নিজের বাড়ির মালিক হতে।

অর্থনৈতিক প্রভাবও বাড়ছে
বিশেষজ্ঞদের মতে, বাড়ি কেনা শুধু বসবাসের বিষয় নয়; এটি দীর্ঘমেয়াদি সম্পদ গঠন ও আর্থিক নিরাপত্তারও গুরুত্বপূর্ণ ভিত্তি। কিন্তু যখন মানুষ দেরিতে বাড়ির মালিক হচ্ছে, তখন সম্পদ সঞ্চয়ের গতি কমে যাচ্ছে। এর প্রভাব ভবিষ্যৎ প্রজন্মের আর্থিক অবস্থার ওপরও পড়তে পারে।
অনেকের কাছে বাড়ি কেনা একসময় ছিল স্থিতিশীল জীবন ও অর্থনৈতিক উন্নতির প্রতীক। এখন সেই পথ আরও কঠিন হয়ে পড়ায় মধ্যবিত্ত পরিবারের উদ্বেগও বাড়ছে। আবাসন বাজারের এই পরিবর্তন যুক্তরাষ্ট্রের অর্থনীতি ও সমাজে দীর্ঘমেয়াদি প্রভাব ফেলতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 



















