যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাস অঙ্গরাজ্যের করপাস ক্রিস্টি শহর ভয়াবহ পানিসংকটের মুখে পড়েছে। দীর্ঘস্থায়ী খরা ও বৃষ্টিপাতের ঘাটতির কারণে শহরের প্রধান দুটি জলাধারের পানি ইতিহাসের সর্বনিম্ন পর্যায়ে নেমে এসেছে। পরিস্থিতি এমন পর্যায়ে পৌঁছেছে যে বছরের শেষ নাগাদ জরুরি পানি সংকট ঘোষণা করা হতে পারে।
জলাধারে পানির মজুত বিপজ্জনকভাবে কম
দক্ষিণ টেক্সাসের উপকূলীয় অঞ্চলের প্রধান পানির উৎস দুটি জলাধার বর্তমানে তাদের ধারণক্ষমতার মাত্র অল্প অংশ ধরে রাখতে সক্ষম হয়েছে। বছরের শুরুতে এই জলাধারগুলোর পানি ধারণক্ষমতা রেকর্ড সর্বনিম্ন পর্যায়ে নেমে যায়। মে মাসের মাঝামাঝি সময়ে একটি জলাধারে পানি ছিল প্রায় ১১ শতাংশ এবং অন্যটিতে ৭ শতাংশের কিছু বেশি। ফলে পুরো ব্যবস্থার ওপর চাপ দ্রুত বাড়ছে।
কর্তৃপক্ষের হিসাব অনুযায়ী, যদি বর্তমান পরিস্থিতির উন্নতি না হয়, তবে ডিসেম্বরের মধ্যেই প্রথম স্তরের পানি জরুরি অবস্থা ঘোষণা করার প্রয়োজন হতে পারে। এর অর্থ হবে সরবরাহ ও চাহিদার মধ্যে ব্যবধান দ্রুত সংকটজনক পর্যায়ে পৌঁছানো।

শিল্প ও অর্থনীতির ওপর বড় চাপ
করপাস ক্রিস্টির অর্থনীতি অনেকাংশে তেল শোধনাগার ও রাসায়নিক শিল্পের ওপর নির্ভরশীল। এসব শিল্প প্রতিষ্ঠান শহরের মোট পানির অর্ধেকেরও বেশি ব্যবহার করে। ফলে পানির সংকট শুধু বাসিন্দাদের জন্য নয়, শিল্প উৎপাদন ও কর্মসংস্থানের জন্যও বড় হুমকি হয়ে উঠেছে।
বিশেষজ্ঞদের আশঙ্কা, পর্যাপ্ত বৃষ্টিপাত না হলে শিল্পকারখানাগুলোর কার্যক্রম সীমিত করতে হতে পারে। এতে স্থানীয় অর্থনীতি, কর্মসংস্থান এবং সংশ্লিষ্ট ব্যবসাগুলো ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার ঝুঁকি রয়েছে।
নাগরিক জীবনে কড়াকড়ি
শহরে ইতোমধ্যে কঠোর পানি সাশ্রয় নীতি কার্যকর রয়েছে। বাড়ির আঙিনায় পানি দেওয়া, অতিরিক্ত সেচ এবং বিভিন্ন অপ্রয়োজনীয় কাজে পানি ব্যবহারের ওপর বিধিনিষেধ আরোপ করা হয়েছে। অনেক পরিবারকে দৈনন্দিন অভ্যাস বদলাতে হয়েছে। আগে যেখানে গরমের সময়ে শিশুদের জন্য অস্থায়ী সুইমিং পুল বা জলক্রীড়ার ব্যবস্থা করা হতো, এখন তা প্রায় বন্ধ হয়ে গেছে।

জরুরি অবস্থা ঘোষণা করা হলে পানি ব্যবহারে আরও কঠোর সীমাবদ্ধতা আসতে পারে। ব্যক্তিগত ও বাণিজ্যিক উভয় খাতকেই নির্দিষ্ট পরিমাণের মধ্যে পানি ব্যবহার করতে হতে পারে। অতিরিক্ত ব্যবহারের ক্ষেত্রে বাড়তি অর্থও গুনতে হতে পারে।
আশার আলো কোথায়
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, শহরটি পুরোপুরি পানি ফুরিয়ে যাওয়ার অবস্থায় না পৌঁছালেও পরিস্থিতি অত্যন্ত উদ্বেগজনক। বিকল্প উৎস থেকে পানি আনা, ভূগর্ভস্থ পানি ব্যবহার বৃদ্ধি এবং কঠোর সংরক্ষণ কার্যক্রমের মাধ্যমে আপাতত সরবরাহ বজায় রাখা হচ্ছে। তবে দীর্ঘমেয়াদে পর্যাপ্ত বৃষ্টিপাত ছাড়া সংকট কাটানো কঠিন হবে।
বিশ্বের বিভিন্ন অঞ্চলে জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে খরা ও পানিসংকট বাড়ছে। করপাস ক্রিস্টির বর্তমান পরিস্থিতি দেখিয়ে দিচ্ছে, পানি ব্যবস্থাপনা ও সংরক্ষণে সময়মতো পদক্ষেপ না নিলে উন্নত দেশগুলোকেও কত বড় চ্যালেঞ্জের মুখে পড়তে হতে পারে।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 



















