০৪:৩০ অপরাহ্ন, রবিবার, ০২ অগাস্ট ২০২৬
বাংলাদেশকে আমেরিকা, ভারতসহ অন্যান্য দেশের গড়ে ওঠা চীনের বিকল্প সাপ্লাই চেইন জোট ‘প্যাক্স সিলিকা’য় যোগ দিতে আহ্বান সার্জিও গরের চট্টগ্রাম ওয়াসার পানির দাম ৫ শতাংশ বাড়ানোর প্রস্তাব প্রত্যাহারের দাবি, ক্যাবের তীব্র প্রতিবাদ বেনজীর আহমেদ দুবাই কারাগার থেকে জামিনে মুক্ত, ইউরোপে যাওয়ার চেষ্টা: পারিবারিক সূত্র কুষ্টিয়ার চরে সেতুহীন দুর্ভোগ: পদ্মার বালুচর পেরিয়ে প্রতিদিন জীবনযুদ্ধ, বিচ্ছিন্ন প্রায় এক লাখ মানুষ সুন্দরবনে ছাগল খাচ্ছে লবণপানির কুমির, পর্যটকের ক্যামেরায় বিরল ভিডিও ফরিদপুরে রেললাইনের পাশে ৮ বছরের শিশুর মরদেহ উদ্ধার, জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আটক ৩ প্রাথমিকের ১৪,৩৮৪ সুপারিশপ্রাপ্ত সহকারী শিক্ষক প্রার্থীর অনির্দিষ্টকালের অবস্থান কর্মসূচি, আগস্টেই নিয়োগপত্রের দাবি যশোরে কলেজছাত্রী ধর্ষণের অভিযোগে ছাত্রদল নেতা গ্রেপ্তার বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ে দুই হলের শিক্ষার্থীদের সংঘর্ষ, আহত ৪ অলিখিত নিয়মের পক্ষে: কেন কখনও কখনও ‘নাক গলানো’ও নাগরিক দায়িত্ব

অনিরাপদ খাবারে বছরে ১৫ লাখ মৃত্যু, সবচেয়ে ঝুঁকিতে শিশুরা

বিশ্বজুড়ে অনিরাপদ খাবার খেয়ে প্রতি বছর প্রায় ১৫ লাখ মানুষের মৃত্যু হচ্ছে। ক্ষতিকর ব্যাকটেরিয়া, ভাইরাস, পরজীবী ও রাসায়নিক পদার্থে দূষিত খাবারের কারণে এই মৃত্যুর ঘটনা ঘটছে। সবচেয়ে বেশি ঝুঁকিতে রয়েছে পাঁচ বছরের কম বয়সী শিশুরা।

সম্প্রতি প্রকাশিত এক বৈশ্বিক বিশ্লেষণে দেখা গেছে, প্রতি বছর প্রায় ৮৮ কোটি ৬০ লাখ মানুষ অনিরাপদ খাবারজনিত বিভিন্ন রোগে আক্রান্ত হন। এর মধ্যে অল্পবয়সী শিশুদের আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকি অন্যদের তুলনায় প্রায় তিন গুণ বেশি।

খাবার নিরাপত্তা এখন বড় বৈশ্বিক চ্যালেঞ্জ

Unsafe food kills 1.5 million people each year; children most at risk: WHO  | UN News

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, খাদ্য নিরাপত্তা কোনো বিমূর্ত বিষয় নয়। এটি প্রতিদিনের খাবার, প্রতিটি পরিবার এবং মানুষের দৈনন্দিন জীবনের সঙ্গে সরাসরি জড়িত। যদিও ২০০০ সালের পর থেকে খাদ্যবাহিত রোগের হার কিছুটা কমেছে, তবুও অঞ্চলভেদে বৈষম্য এখনও ব্যাপক।

বিশ্বের মোট খাদ্যবাহিত রোগের প্রায় তিন-চতুর্থাংশ এবং মৃত্যুর ৬০ শতাংশের জন্য আফ্রিকা ও দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়া অঞ্চল দায়ী। এসব অঞ্চলে নিরাপদ খাদ্য ব্যবস্থাপনা ও স্বাস্থ্যসেবার সীমাবদ্ধতা পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলেছে।

ব্যাকটেরিয়া ও ভাইরাস প্রধান কারণ

২০২১ সালে প্রায় ৮৬ কোটি মানুষের অসুস্থতার পেছনে প্রধান ভূমিকা ছিল জীবাণুজনিত দূষণ। ব্যাকটেরিয়া ও ভাইরাসের কারণে সবচেয়ে বেশি মানুষ আক্রান্ত হয়েছেন।

তবে মৃত্যুর ক্ষেত্রে রাসায়নিক দূষণের প্রভাব তুলনামূলক বেশি দেখা গেছে। বিশেষ করে আর্সেনিক ও সিসা দূষণজনিত বিষক্রিয়া উল্লেখযোগ্য সংখ্যক মৃত্যুর কারণ হিসেবে চিহ্নিত হয়েছে।

WHO sounds alarm over deadly impact of unsafe food on children

জলবায়ু পরিবর্তন বাড়াচ্ছে ঝুঁকি

গবেষণায় উঠে এসেছে, জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে খাদ্য দূষণের ঝুঁকি বাড়ছে। একই সঙ্গে অ্যান্টিবায়োটিক প্রতিরোধী জীবাণুর বিস্তার সংক্রমণের চিকিৎসাকে আরও কঠিন করে তুলছে। ফলে খাদ্যবাহিত রোগ নিয়ন্ত্রণে নতুন চ্যালেঞ্জ তৈরি হচ্ছে।

অর্থনীতিতেও বড় ক্ষতি

মানুষের স্বাস্থ্যঝুঁকির পাশাপাশি অনিরাপদ খাবারের প্রভাব পড়ছে বৈশ্বিক অর্থনীতিতেও। ২০২১ সালে খাদ্যবাহিত রোগের কারণে উৎপাদনশীলতা হ্রাস ও কর্মঘণ্টা নষ্ট হওয়ায় বিশ্ব অর্থনীতির ক্ষতির পরিমাণ দাঁড়ায় প্রায় ৬৪ হাজার ৭০০ কোটি ডলার।

বিশেষজ্ঞদের মতে, নিরাপদ খাদ্য নিশ্চিত করতে উৎপাদন থেকে ভোক্তা পর্যায় পর্যন্ত প্রতিটি ধাপে কঠোর মান নিয়ন্ত্রণ, সচেতনতা বৃদ্ধি এবং কার্যকর নজরদারি জরুরি।

Unsafe food kills 1.5 million annually worldwide, children most vulnerable:  WHO - Daijiworld.com

 

জনপ্রিয় সংবাদ

বাংলাদেশকে আমেরিকা, ভারতসহ অন্যান্য দেশের গড়ে ওঠা চীনের বিকল্প সাপ্লাই চেইন জোট ‘প্যাক্স সিলিকা’য় যোগ দিতে আহ্বান সার্জিও গরের

অনিরাপদ খাবারে বছরে ১৫ লাখ মৃত্যু, সবচেয়ে ঝুঁকিতে শিশুরা

১০:২০:০৫ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৪ জুন ২০২৬

বিশ্বজুড়ে অনিরাপদ খাবার খেয়ে প্রতি বছর প্রায় ১৫ লাখ মানুষের মৃত্যু হচ্ছে। ক্ষতিকর ব্যাকটেরিয়া, ভাইরাস, পরজীবী ও রাসায়নিক পদার্থে দূষিত খাবারের কারণে এই মৃত্যুর ঘটনা ঘটছে। সবচেয়ে বেশি ঝুঁকিতে রয়েছে পাঁচ বছরের কম বয়সী শিশুরা।

সম্প্রতি প্রকাশিত এক বৈশ্বিক বিশ্লেষণে দেখা গেছে, প্রতি বছর প্রায় ৮৮ কোটি ৬০ লাখ মানুষ অনিরাপদ খাবারজনিত বিভিন্ন রোগে আক্রান্ত হন। এর মধ্যে অল্পবয়সী শিশুদের আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকি অন্যদের তুলনায় প্রায় তিন গুণ বেশি।

খাবার নিরাপত্তা এখন বড় বৈশ্বিক চ্যালেঞ্জ

Unsafe food kills 1.5 million people each year; children most at risk: WHO  | UN News

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, খাদ্য নিরাপত্তা কোনো বিমূর্ত বিষয় নয়। এটি প্রতিদিনের খাবার, প্রতিটি পরিবার এবং মানুষের দৈনন্দিন জীবনের সঙ্গে সরাসরি জড়িত। যদিও ২০০০ সালের পর থেকে খাদ্যবাহিত রোগের হার কিছুটা কমেছে, তবুও অঞ্চলভেদে বৈষম্য এখনও ব্যাপক।

বিশ্বের মোট খাদ্যবাহিত রোগের প্রায় তিন-চতুর্থাংশ এবং মৃত্যুর ৬০ শতাংশের জন্য আফ্রিকা ও দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়া অঞ্চল দায়ী। এসব অঞ্চলে নিরাপদ খাদ্য ব্যবস্থাপনা ও স্বাস্থ্যসেবার সীমাবদ্ধতা পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলেছে।

ব্যাকটেরিয়া ও ভাইরাস প্রধান কারণ

২০২১ সালে প্রায় ৮৬ কোটি মানুষের অসুস্থতার পেছনে প্রধান ভূমিকা ছিল জীবাণুজনিত দূষণ। ব্যাকটেরিয়া ও ভাইরাসের কারণে সবচেয়ে বেশি মানুষ আক্রান্ত হয়েছেন।

তবে মৃত্যুর ক্ষেত্রে রাসায়নিক দূষণের প্রভাব তুলনামূলক বেশি দেখা গেছে। বিশেষ করে আর্সেনিক ও সিসা দূষণজনিত বিষক্রিয়া উল্লেখযোগ্য সংখ্যক মৃত্যুর কারণ হিসেবে চিহ্নিত হয়েছে।

WHO sounds alarm over deadly impact of unsafe food on children

জলবায়ু পরিবর্তন বাড়াচ্ছে ঝুঁকি

গবেষণায় উঠে এসেছে, জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে খাদ্য দূষণের ঝুঁকি বাড়ছে। একই সঙ্গে অ্যান্টিবায়োটিক প্রতিরোধী জীবাণুর বিস্তার সংক্রমণের চিকিৎসাকে আরও কঠিন করে তুলছে। ফলে খাদ্যবাহিত রোগ নিয়ন্ত্রণে নতুন চ্যালেঞ্জ তৈরি হচ্ছে।

অর্থনীতিতেও বড় ক্ষতি

মানুষের স্বাস্থ্যঝুঁকির পাশাপাশি অনিরাপদ খাবারের প্রভাব পড়ছে বৈশ্বিক অর্থনীতিতেও। ২০২১ সালে খাদ্যবাহিত রোগের কারণে উৎপাদনশীলতা হ্রাস ও কর্মঘণ্টা নষ্ট হওয়ায় বিশ্ব অর্থনীতির ক্ষতির পরিমাণ দাঁড়ায় প্রায় ৬৪ হাজার ৭০০ কোটি ডলার।

বিশেষজ্ঞদের মতে, নিরাপদ খাদ্য নিশ্চিত করতে উৎপাদন থেকে ভোক্তা পর্যায় পর্যন্ত প্রতিটি ধাপে কঠোর মান নিয়ন্ত্রণ, সচেতনতা বৃদ্ধি এবং কার্যকর নজরদারি জরুরি।

Unsafe food kills 1.5 million annually worldwide, children most vulnerable:  WHO - Daijiworld.com