যুক্তরাষ্ট্রে শুরু হতে যাওয়া ফুটবল বিশ্বকাপকে ঘিরে সাংবাদিক, দর্শক ও অভিবাসী সম্প্রদায়ের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে বিভিন্ন অধিকারভিত্তিক সংগঠন। তাদের দাবি, কঠোর অভিবাসন নীতি ও সীমান্ত নিয়ন্ত্রণের কারণে দেশটিতে এক ধরনের ‘ভীতির পরিবেশ’ তৈরি হয়েছে, যা বিশ্বকাপের মতো বৈশ্বিক ক্রীড়া আসরের জন্য উদ্বেগজনক।
অধিকার সংগঠনগুলোর জোটের নেতারা বলেছেন, বিশ্বকাপ আয়োজনের আগে সম্ভাব্য মানবাধিকার ঝুঁকি মোকাবিলায় প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ যথেষ্টভাবে দেখা যাচ্ছে না। বিশেষ করে ভিসা সীমাবদ্ধতা, সীমান্তে কঠোর তদারকি এবং আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কার্যক্রম নিয়ে নানা প্রশ্ন উঠছে।
অভিবাসন নীতি নিয়ে উদ্বেগ

সংগঠনগুলোর মতে, যুক্তরাষ্ট্রের সাম্প্রতিক অভিবাসনবিষয়ক কঠোর অবস্থান আন্তর্জাতিক দর্শক ও স্থানীয় অনেক মানুষের মধ্যে অনিশ্চয়তা তৈরি করেছে। তারা আশঙ্কা প্রকাশ করেছে, বিভিন্ন দেশের সমর্থক, কর্মী ও সংবাদকর্মীরা ভ্রমণ ও অবস্থানের ক্ষেত্রে অতিরিক্ত চাপ বা জটিলতার মুখে পড়তে পারেন।
তাদের ভাষ্য, বিশ্বকাপকে বিশ্বের সবচেয়ে অন্তর্ভুক্তিমূলক ক্রীড়া উৎসব হিসেবে তুলে ধরা হলেও বাস্তব পরিস্থিতি সেই প্রত্যাশার সঙ্গে পুরোপুরি মিলছে না।
হোয়াইট হাউসের আশ্বাস
অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্র প্রশাসন এসব উদ্বেগকে অতিরঞ্জিত বলে উল্লেখ করেছে। প্রশাসনের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, বিশ্বকাপ মানব ইতিহাসের অন্যতম বড় ও আকর্ষণীয় আয়োজন হতে যাচ্ছে এবং এটি সফল করতে কেন্দ্রীয়, অঙ্গরাজ্য ও স্থানীয় কর্তৃপক্ষ একসঙ্গে কাজ করছে।
তাদের দাবি, দর্শক ও অংশগ্রহণকারীদের জন্য এটিকে ইতিহাসের সবচেয়ে নিরাপদ ক্রীড়া আয়োজনগুলোর একটিতে পরিণত করাই সরকারের লক্ষ্য।

ফিফার ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন
সমালোচকদের একটি অংশ মনে করছে, আয়োজক দেশ নিয়ে ওঠা বিভিন্ন উদ্বেগের বিষয়ে ফুটবলের বিশ্ব নিয়ন্ত্রক সংস্থার আরও সক্রিয় অবস্থান নেওয়া উচিত ছিল। মানবাধিকার, নিরাপত্তা এবং ভ্রমণ-সংক্রান্ত বিষয়গুলো নিয়ে আরও স্পষ্ট বার্তা প্রত্যাশা করা হয়েছিল বলেও তারা মনে করেন।
তবে আয়োজকদের পক্ষ থেকে আগেই জানানো হয়েছে, বিশ্বকাপ উপলক্ষে বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আসা দর্শকদের স্বাগত জানাতে সব ধরনের প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে।
নিরাপত্তা নিয়ে স্থানীয় বার্তা
বিশ্বকাপের কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচের শহরগুলোর মধ্যে অন্যতম লস অ্যাঞ্জেলেস। সেখানকার আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, বিশ্বকাপের ম্যাচ বা সংশ্লিষ্ট অনুষ্ঠানে সাধারণ অভিবাসন প্রয়োগ অভিযান পরিচালনার কোনো পরিকল্পনা নেই।
এতে কিছুটা স্বস্তি তৈরি হলেও অধিকার সংগঠনগুলো বলছে, উদ্বেগ পুরোপুরি দূর করতে আরও সুস্পষ্ট ও ধারাবাহিক আশ্বাস প্রয়োজন।
আগামী সপ্তাহে শুরু হতে যাওয়া সম্প্রসারিত বিশ্বকাপে ৪৮টি দল অংশ নেবে। ফুটবলের সবচেয়ে বড় এই আসরকে ঘিরে মাঠের উত্তেজনার পাশাপাশি নিরাপত্তা, মানবাধিকার ও ভ্রমণ-সংশ্লিষ্ট বিষয়ও এখন আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে উঠে এসেছে।

সারাক্ষণ রিপোর্ট 



















