১১:২৫ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ০৯ জুন ২০২৬
তিন দিন পর সীমান্তের শূন্যরেখা থেকে ১০ জনকে ফিরিয়ে নিল বিএসএফ ইসরায়েলের হামলার জন্য যুক্তরাষ্ট্রকে দায়ী করল ইরান, বাড়ছে আঞ্চলিক সংঘাতের শঙ্কা হারিকেনের ধাক্কা থেকে নিউইয়র্কে নতুন জীবন: অ্যালেন তুসাঁর সঙ্গীতযাত্রার অজানা অধ্যায় ওবামা প্রেসিডেন্সিয়াল সেন্টার: শিকাগোর দক্ষিণাঞ্চলে নতুন আশা নাকি বিতর্কের স্মারক? ইরান যুদ্ধের মূল্য চুকিয়ে কি শিখবে আমেরিকা? ভেনেজুয়েলায় ঋণ আদায়ের অভিনব কৌশল: ‘ড. ডিয়াবলো’ এখন আলোচনার কেন্দ্রবিন্দু নীতিনির্ভর প্রবৃদ্ধি থেকে উদ্যোক্তানির্ভর অর্থনীতি: থাইল্যান্ডের নতুন বাস্তবতার চ্যালেঞ্জ চীনের বিলাসবহুল বাজারে দেশীয় ব্র্যান্ডের উত্থান, চাপে পশ্চিমা জায়ান্টরা মার্কিন দক্ষিণাঞ্চলে রাজনৈতিক ভূমিকম্প, নতুন নির্বাচনী মানচিত্রে শঙ্কায় কৃষ্ণাঙ্গ প্রতিনিধিত্ব ট্রাম্প প্রশাসনের কড়াকড়িতে চাপে মার্কিন অভিবাসন আদালত, মামলার বোঝা দ্বিগুণ-তিনগুণ

ফর্ম-৪৭ অভিযোগে বড় ধাক্কা, নির্বাচনী ট্রাইব্যুনালে কোনো সাফল্য পেল না পিটিআই

পাকিস্তানের ২০২৪ সালের জাতীয় নির্বাচনের ফল নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে চলা বিতর্কে নতুন তথ্য সামনে এসেছে। নির্বাচনের দুই বছরেরও বেশি সময় পরও ফর্ম-৪৭ জালিয়াতির অভিযোগে করা মামলাগুলোর একটিতেও সাফল্য পায়নি পাকিস্তান তেহরিক-ই-ইনসাফ (পিটিআই) সমর্থিত প্রার্থীরা। নির্বাচনী ট্রাইব্যুনালের সিদ্ধান্তগুলো বিশ্লেষণ করে দেখা গেছে, অধিকাংশ আবেদনই খারিজ হয়েছে এবং অভিযোগ প্রমাণিত হয়নি।

শত শত মামলার বেশিরভাগই খারিজ

নির্বাচন-পরবর্তী সময়ে মোট ৩৭৪টি আবেদন দায়ের করা হয়েছিল। এর মধ্যে ২৪৬টির নিষ্পত্তি হয়েছে। নিষ্পত্তিকৃত মামলার মধ্যে ২৪২টিই খারিজ করে দিয়েছে ট্রাইব্যুনাল।

পিটিআই-সমর্থিত স্বতন্ত্র প্রার্থীরা মোট আবেদনের প্রায় ৫৫ শতাংশ দায়ের করেছিলেন। তাদের অভিযোগ ছিল, ভোটকেন্দ্রের ফলাফলের তথ্য থেকে তৈরি ফর্ম-৪৫-এর সঙ্গে চূড়ান্ত সমন্বিত ফলাফলপত্র ফর্ম-৪৭-এর অসঙ্গতি রয়েছে এবং ফলাফল পরিবর্তন করা হয়েছে। তবে এসব অভিযোগের পক্ষে পর্যাপ্ত প্রমাণ আদালতে উপস্থাপন করা যায়নি বলে অধিকাংশ আবেদন টেকেনি।

Pakistan Tehrik-e-Insaaf: New Phenomenon or Continuation of the Political  Status Quo? - South Asia

কেন খারিজ হলো আবেদনগুলো

নিষ্পত্তিকৃত মামলাগুলোর মধ্যে ১২৩টি খারিজ হয়েছে গ্রহণযোগ্যতা-সংক্রান্ত আইনি কারণে। আরও ২৬টি মামলায় বিচারিক প্রক্রিয়ার সময় অভিযোগ প্রমাণ করা সম্ভব হয়নি।

এ ছাড়া ১২টি আবেদন প্রত্যাহার করা হয়েছে, ১৬টি মামলা কার্যক্রম এগিয়ে না নেওয়ায় খারিজ হয়েছে এবং আরও কয়েকটি মামলা বিভিন্ন কারণে বাতিল হয়েছে।

বিশ্লেষকদের মতে, অধিকাংশ ক্ষেত্রে অভিযোগের পক্ষে পর্যাপ্ত তথ্য-প্রমাণ উপস্থাপন করা না যাওয়াই ছিল বড় কারণ।

মাত্র চারটি মামলায় আবেদনকারীদের জয়

নিষ্পত্তিকৃত ২৪৬টি মামলার মধ্যে মাত্র চারটি আবেদন গৃহীত হয়েছে। তবে এসব মামলার কোনোটিই পিটিআই-সমর্থিত প্রার্থীদের ছিল না। চারটিই ছিল বেলুচিস্তান প্রাদেশিক পরিষদের আসনসংক্রান্ত এবং অন্য রাজনৈতিক দলের প্রার্থীরা সেগুলো করেছিলেন।

ফলে নির্বাচনে কারচুপির অভিযোগকে কেন্দ্র করে পিটিআই যে আইনি লড়াই শুরু করেছিল, তার কোনো ইতিবাচক ফল এখন পর্যন্ত দেখা যায়নি।

সুপ্রিম কোর্টে এখনো ঝুলছে বহু আপিল

Five ways Imran Khan's party used technology to outperform in Pakistan's  elections - Atlantic Council

ট্রাইব্যুনালের সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে ইতোমধ্যে ১২৩টি আপিল করা হয়েছে। এর মধ্যে মাত্র ১৮টির নিষ্পত্তি হয়েছে। কয়েকটি আংশিকভাবে গ্রহণ করা হলেও অধিকাংশই খারিজ হয়েছে। এখনো ১০৫টি আপিল বিচারাধীন রয়েছে।

এ কারণে আইনি লড়াই পুরোপুরি শেষ হয়ে যায়নি। তবে ট্রাইব্যুনাল পর্যায়ের রায়গুলো পিটিআইয়ের নির্বাচনী অভিযোগের পক্ষে বড় ধরনের সমর্থন দিতে পারেনি।

রাজনৈতিক বর্ণনার সামনে প্রশ্ন

পিটিআই দীর্ঘদিন ধরে দাবি করে আসছে যে নির্বাচনে তাদের জনসমর্থনকে প্রতিফলিত হতে দেওয়া হয়নি এবং ফলাফল পরিবর্তন করা হয়েছে। কিন্তু এখন পর্যন্ত ট্রাইব্যুনালের রেকর্ডে সেই দাবিগুলোর পক্ষে কার্যকর প্রমাণ প্রতিষ্ঠিত হয়নি।

ফলে নির্বাচনের ফল নিয়ে যে রাজনৈতিক বিতর্ক দীর্ঘদিন ধরে চলছিল, তার আইনি ভিত্তি নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে। একই সঙ্গে বিচারাধীন আপিলগুলোর দিকে নজর রাখছেন রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকরা, কারণ সেসব মামলার রায় ভবিষ্যতে এ বিতর্কের গতিপথ নির্ধারণ করতে পারে।

 

 

জনপ্রিয় সংবাদ

তিন দিন পর সীমান্তের শূন্যরেখা থেকে ১০ জনকে ফিরিয়ে নিল বিএসএফ

ফর্ম-৪৭ অভিযোগে বড় ধাক্কা, নির্বাচনী ট্রাইব্যুনালে কোনো সাফল্য পেল না পিটিআই

১১:৫৫:২৭ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৪ জুন ২০২৬

পাকিস্তানের ২০২৪ সালের জাতীয় নির্বাচনের ফল নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে চলা বিতর্কে নতুন তথ্য সামনে এসেছে। নির্বাচনের দুই বছরেরও বেশি সময় পরও ফর্ম-৪৭ জালিয়াতির অভিযোগে করা মামলাগুলোর একটিতেও সাফল্য পায়নি পাকিস্তান তেহরিক-ই-ইনসাফ (পিটিআই) সমর্থিত প্রার্থীরা। নির্বাচনী ট্রাইব্যুনালের সিদ্ধান্তগুলো বিশ্লেষণ করে দেখা গেছে, অধিকাংশ আবেদনই খারিজ হয়েছে এবং অভিযোগ প্রমাণিত হয়নি।

শত শত মামলার বেশিরভাগই খারিজ

নির্বাচন-পরবর্তী সময়ে মোট ৩৭৪টি আবেদন দায়ের করা হয়েছিল। এর মধ্যে ২৪৬টির নিষ্পত্তি হয়েছে। নিষ্পত্তিকৃত মামলার মধ্যে ২৪২টিই খারিজ করে দিয়েছে ট্রাইব্যুনাল।

পিটিআই-সমর্থিত স্বতন্ত্র প্রার্থীরা মোট আবেদনের প্রায় ৫৫ শতাংশ দায়ের করেছিলেন। তাদের অভিযোগ ছিল, ভোটকেন্দ্রের ফলাফলের তথ্য থেকে তৈরি ফর্ম-৪৫-এর সঙ্গে চূড়ান্ত সমন্বিত ফলাফলপত্র ফর্ম-৪৭-এর অসঙ্গতি রয়েছে এবং ফলাফল পরিবর্তন করা হয়েছে। তবে এসব অভিযোগের পক্ষে পর্যাপ্ত প্রমাণ আদালতে উপস্থাপন করা যায়নি বলে অধিকাংশ আবেদন টেকেনি।

Pakistan Tehrik-e-Insaaf: New Phenomenon or Continuation of the Political  Status Quo? - South Asia

কেন খারিজ হলো আবেদনগুলো

নিষ্পত্তিকৃত মামলাগুলোর মধ্যে ১২৩টি খারিজ হয়েছে গ্রহণযোগ্যতা-সংক্রান্ত আইনি কারণে। আরও ২৬টি মামলায় বিচারিক প্রক্রিয়ার সময় অভিযোগ প্রমাণ করা সম্ভব হয়নি।

এ ছাড়া ১২টি আবেদন প্রত্যাহার করা হয়েছে, ১৬টি মামলা কার্যক্রম এগিয়ে না নেওয়ায় খারিজ হয়েছে এবং আরও কয়েকটি মামলা বিভিন্ন কারণে বাতিল হয়েছে।

বিশ্লেষকদের মতে, অধিকাংশ ক্ষেত্রে অভিযোগের পক্ষে পর্যাপ্ত তথ্য-প্রমাণ উপস্থাপন করা না যাওয়াই ছিল বড় কারণ।

মাত্র চারটি মামলায় আবেদনকারীদের জয়

নিষ্পত্তিকৃত ২৪৬টি মামলার মধ্যে মাত্র চারটি আবেদন গৃহীত হয়েছে। তবে এসব মামলার কোনোটিই পিটিআই-সমর্থিত প্রার্থীদের ছিল না। চারটিই ছিল বেলুচিস্তান প্রাদেশিক পরিষদের আসনসংক্রান্ত এবং অন্য রাজনৈতিক দলের প্রার্থীরা সেগুলো করেছিলেন।

ফলে নির্বাচনে কারচুপির অভিযোগকে কেন্দ্র করে পিটিআই যে আইনি লড়াই শুরু করেছিল, তার কোনো ইতিবাচক ফল এখন পর্যন্ত দেখা যায়নি।

সুপ্রিম কোর্টে এখনো ঝুলছে বহু আপিল

Five ways Imran Khan's party used technology to outperform in Pakistan's  elections - Atlantic Council

ট্রাইব্যুনালের সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে ইতোমধ্যে ১২৩টি আপিল করা হয়েছে। এর মধ্যে মাত্র ১৮টির নিষ্পত্তি হয়েছে। কয়েকটি আংশিকভাবে গ্রহণ করা হলেও অধিকাংশই খারিজ হয়েছে। এখনো ১০৫টি আপিল বিচারাধীন রয়েছে।

এ কারণে আইনি লড়াই পুরোপুরি শেষ হয়ে যায়নি। তবে ট্রাইব্যুনাল পর্যায়ের রায়গুলো পিটিআইয়ের নির্বাচনী অভিযোগের পক্ষে বড় ধরনের সমর্থন দিতে পারেনি।

রাজনৈতিক বর্ণনার সামনে প্রশ্ন

পিটিআই দীর্ঘদিন ধরে দাবি করে আসছে যে নির্বাচনে তাদের জনসমর্থনকে প্রতিফলিত হতে দেওয়া হয়নি এবং ফলাফল পরিবর্তন করা হয়েছে। কিন্তু এখন পর্যন্ত ট্রাইব্যুনালের রেকর্ডে সেই দাবিগুলোর পক্ষে কার্যকর প্রমাণ প্রতিষ্ঠিত হয়নি।

ফলে নির্বাচনের ফল নিয়ে যে রাজনৈতিক বিতর্ক দীর্ঘদিন ধরে চলছিল, তার আইনি ভিত্তি নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে। একই সঙ্গে বিচারাধীন আপিলগুলোর দিকে নজর রাখছেন রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকরা, কারণ সেসব মামলার রায় ভবিষ্যতে এ বিতর্কের গতিপথ নির্ধারণ করতে পারে।