ভারতের রাজধানী নয়াদিল্লির একটি হোটেলে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে ২১ জনের মৃত্যুর ঘটনার পর হোটেলটির মালিককে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। দুর্ঘটনার কারণ এবং নিরাপত্তা ব্যবস্থার সম্ভাব্য ত্রুটি খতিয়ে দেখতে তদন্ত শুরু হয়েছে।
পুলিশ জানিয়েছে, আগুনে ক্ষতিগ্রস্ত হোটেলটির মালিক লাভকেশ বাজাজকে বুধবার গভীর রাতে আটক করা হয়। কয়েক ঘণ্টা আগেই ভয়াবহ আগুনে হোটেলটি প্রায় সম্পূর্ণভাবে পুড়ে যায়। এতে অন্তত ২১ জনের প্রাণহানি ঘটে, যাদের মধ্যে ভারতীয় নাগরিকদের পাশাপাশি বিদেশিরাও ছিলেন।
বিদেশি নাগরিকও নিহত
এ পর্যন্ত নিহতদের মধ্যে দুই বিদেশির পরিচয় নিশ্চিত করা হয়েছে। তাদের একজন লাইবেরিয়ার এবং অন্যজন মোজাম্বিকের নাগরিক। কর্তৃপক্ষ বাকি নিহতদের পরিচয় শনাক্তের কাজও চালিয়ে যাচ্ছে।
চাঞ্চল্যকর উদ্ধারচিত্র
ঘনবসতিপূর্ণ এলাকায় অবস্থিত হোটেলটিতে আগুন ছড়িয়ে পড়ার পর উপরের তলায় আটকে পড়া অনেক মানুষকে জীবন বাঁচাতে নিচে রাখা গদি ও অস্থায়ী নিরাপত্তা ব্যবস্থার দিকে লাফ দিতে দেখা যায়। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওতে আতঙ্কিত মানুষের মরিয়া চেষ্টা স্পষ্ট হয়ে ওঠে।
অনেককে গুরুতর দগ্ধ অবস্থায় হাসপাতালে নেওয়া হয়েছে। এছাড়া ভবন থেকে লাফ দেওয়ার সময় অনেকের হাড় ভেঙে যাওয়ার ঘটনাও ঘটেছে।
নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়ে প্রশ্ন
ভারতে ভবন ও হোটেলে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা নতুন নয়। অগ্নিনির্বাপণ সরঞ্জামের ঘাটতি এবং নিরাপত্তা বিধি যথাযথভাবে না মানার কারণে প্রায়ই এমন দুর্ঘটনা ঘটে। এই ঘটনার পরও ভবনের নিরাপত্তা মান, জরুরি নির্গমন পথ এবং অগ্নিনির্বাপণ ব্যবস্থার কার্যকারিতা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।

তদন্তকারীরা এখন খতিয়ে দেখছেন, নিরাপত্তা বিধি লঙ্ঘন বা অবহেলার কারণে প্রাণহানির মাত্রা বেড়েছে কি না।
হাসপাতালেও আগুনে মৃত্যু
এদিকে বৃহস্পতিবার সকালে ভারতের পূর্বাঞ্চলীয় বিহার রাজ্যের মুজাফ্ফরপুরের একটি হাসপাতালের নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে আগুন লাগার ঘটনায় অন্তত চারজনের মৃত্যু হয়েছে। স্থানীয় প্রশাসন জানিয়েছে, ওই ঘটনার কারণ অনুসন্ধানেও তদন্ত চলছে।
একদিনের ব্যবধানে দুটি পৃথক অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় ভারতে জননিরাপত্তা এবং জরুরি প্রস্তুতি নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 



















