মধ্যপ্রাচ্যে চলমান সংঘাত থামাতে কূটনৈতিক তৎপরতা অব্যাহত থাকলেও ইরান জানিয়েছে, এখন পর্যন্ত আলোচনায় কোনো দৃশ্যমান অগ্রগতি হয়নি। একই সময়ে নতুন করে হামলা ও পাল্টা হামলার ঘটনায় যুদ্ধবিরতির ভবিষ্যৎ নিয়ে উদ্বেগ আরও বেড়েছে।
ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে যোগাযোগের পথ এখনো খোলা রয়েছে এবং বার্তা আদান-প্রদান চলছে। তবে আলোচনার প্রক্রিয়ায় এখন পর্যন্ত কোনো বাস্তব অগ্রগতি অর্জিত হয়নি। তিনি সতর্ক করে বলেন, বৈরুতে কোনো হামলা হলে সংঘাত আবার পূর্ণমাত্রায় শুরু হতে পারে।
বৈরুত নিয়ে কঠোর বার্তা
আরাঘচি জানান, লেবাননের রাজধানী বৈরুতে হামলা হলে তার গুরুতর পরিণতি হবে। তিনি বলেন, ইরানের সশস্ত্র বাহিনী প্রস্তুত রয়েছে এবং এমন পরিস্থিতিতে ইসরায়েলের বিরুদ্ধে সরাসরি পদক্ষেপ নেওয়া হতে পারে।
এই বক্তব্য এমন সময়ে এসেছে, যখন ইসরায়েল ও ইরান-সমর্থিত গোষ্ঠীগুলোর মধ্যে উত্তেজনা আবারও বৃদ্ধি পাচ্ছে। যুদ্ধবিরতি কার্যকর থাকলেও বিভিন্ন এলাকায় বিচ্ছিন্ন সংঘর্ষ অব্যাহত রয়েছে।

কুয়েতে নতুন উত্তেজনা
কুয়েত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের যাত্রী টার্মিনালে একটি ড্রোন হামলায় একজন নিহত এবং বহু মানুষ আহত হওয়ার ঘটনা নতুন করে উদ্বেগ তৈরি করেছে। কুয়েতের কর্তৃপক্ষ এ ঘটনাকে গুরুতর আগ্রাসন হিসেবে উল্লেখ করেছে।
অন্যদিকে ইরানের বিপ্লবী গার্ড বাহিনী হামলার অভিযোগ অস্বীকার করেছে। তাদের দাবি, একটি প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার ত্রুটির কারণে ক্ষেপণাস্ত্রের অংশ বিমানবন্দরে পড়ে থাকতে পারে। একই সঙ্গে তারা অভিযোগ করেছে, যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক পদক্ষেপই উত্তেজনা আরও বাড়িয়ে দিয়েছে।
ট্রাম্পের আশাবাদ, কংগ্রেসের আপত্তি
যেখানে ইরান আলোচনায় অগ্রগতির অভাবের কথা বলছে, সেখানে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প আশাবাদী অবস্থান নিয়েছেন। তিনি বলেছেন, খুব শিগগিরই একটি সমঝোতা হতে পারে এবং আলোচনার পরিবেশ ইতিবাচক রয়েছে।
তবে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিনিধি পরিষদে একটি প্রস্তাব পাস হয়েছে, যেখানে ইরান যুদ্ধ থেকে মার্কিন সেনা প্রত্যাহারের আহ্বান জানানো হয়েছে। যদিও এই পদক্ষেপের রাজনৈতিক গুরুত্ব বেশি, তবু এটি ট্রাম্প প্রশাসনের জন্য একটি চাপের বার্তা হিসেবে দেখা হচ্ছে।

পরমাণু কর্মসূচি ও হরমুজ প্রণালি
ওয়াশিংটন স্পষ্ট করেছে যে যেকোনো শান্তি চুক্তির ক্ষেত্রে ইরানের উচ্চমাত্রায় সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম মজুদ, পরমাণু কর্মসূচির সীমাবদ্ধতা এবং হরমুজ প্রণালিতে নিরাপদ নৌ চলাচল নিশ্চিত করা গুরুত্বপূর্ণ শর্ত হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
বিশ্ব জ্বালানি সরবরাহের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এই প্রণালি নিয়ে দুই পক্ষের অবস্থান এখনো দূরত্বপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে।
ইসরায়েল-লেবানন যুদ্ধবিরতির নতুন উদ্যোগ
এদিকে যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যস্থতায় ইসরায়েল ও লেবাননের মধ্যে সরাসরি আলোচনার পর একটি নতুন যুদ্ধবিরতি কাঠামোতে সম্মতি হয়েছে। এতে অস্ত্রবিরতি কার্যকর করা এবং লেবাননের নির্দিষ্ট এলাকায় শুধুমাত্র সরকারি বাহিনীর নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠার কথা বলা হয়েছে।
তবে মাঠপর্যায়ে পরিস্থিতি এখনো অস্থির। উভয় পক্ষই একে অপরের বিরুদ্ধে হামলার অভিযোগ করছে এবং সীমান্ত এলাকায় সংঘর্ষ অব্যাহত রয়েছে। ফলে দীর্ঘমেয়াদি শান্তি প্রতিষ্ঠা এখনো অনিশ্চিত রয়ে গেছে।
মধ্যপ্রাচ্যের এই সংকটময় পরিস্থিতিতে কূটনৈতিক আলোচনা অব্যাহত থাকলেও নতুন হামলা, পাল্টা হুমকি এবং আঞ্চলিক উত্তেজনা যুদ্ধবিরতির স্থায়িত্ব নিয়ে বড় প্রশ্ন তৈরি করেছে।

সারাক্ষণ রিপোর্ট 



















