কুয়েত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের যাত্রী টার্মিনালে হওয়া ক্ষয়ক্ষতি নিয়ে নতুন বিতর্ক তৈরি হয়েছে। ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি) দাবি করেছে, বিমানবন্দরের টার্মিনালে যে ধ্বংসযজ্ঞ দেখা গেছে তার জন্য ইরানি হামলা নয়, বরং যুক্তরাষ্ট্রের তৈরি প্যাট্রিয়ট প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার ত্রুটি দায়ী। অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক কর্তৃপক্ষ এই দাবি সরাসরি প্রত্যাখ্যান করেছে। (Anadolu Ajansı)
ইরানের দাবি কী
আইআরজিসির মুখপাত্র হোসেইন মোহেব্বি বলেছেন, তাদের তদন্তে দেখা গেছে যে আইআরজিসির মহাকাশ বাহিনী কুয়েত বিমানবন্দরের যাত্রী টার্মিনালকে লক্ষ্য করে কোনো হামলা চালায়নি। তার দাবি, ইরানি ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিহত করতে গিয়ে একটি প্যাট্রিয়ট ক্ষেপণাস্ত্র লক্ষ্যভ্রষ্ট হয়ে টার্মিনালে আঘাত হানে। ফলে সেখানে ক্ষয়ক্ষতি হয়। (Anadolu Ajansı)
মোহেব্বির ভাষ্য অনুযায়ী, ইরানি ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরোধে ব্যর্থ হওয়ার পর প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার ত্রুটির কারণেই এই ঘটনা ঘটে। (Anadolu Ajansı)

হামলার পেছনের প্রেক্ষাপট
আইআরজিসি এর আগে জানায়, তারা কুয়েতে থাকা একটি মার্কিন সামরিক ঘাঁটি এবং বাহরাইনে যুক্তরাষ্ট্রের পঞ্চম নৌবহরের সদর দপ্তরের বিরুদ্ধে হামলা চালিয়েছে। তাদের দাবি, ইরানের কেশম দ্বীপে একটি যোগাযোগ টাওয়ারে মার্কিন হামলার জবাব হিসেবেই এই অভিযান পরিচালনা করা হয়। (Anadolu Ajansı)
সাম্প্রতিক সপ্তাহগুলোতে উপসাগরীয় অঞ্চলে উত্তেজনা দ্রুত বেড়েছে। ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে পাল্টাপাল্টি সামরিক পদক্ষেপ পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলেছে। (Reuters)
যুক্তরাষ্ট্রের কঠোর প্রতিক্রিয়া
ইরানের অভিযোগকে সম্পূর্ণ মিথ্যা বলে উড়িয়ে দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের কেন্দ্রীয় সামরিক কমান্ড। তাদের বক্তব্য, বিমানবন্দরের ক্ষতি কোনো প্রতিরক্ষা ক্ষেপণাস্ত্রের কারণে নয়। বরং ইরান সরাসরি বেসামরিক বিমানবন্দরকে লক্ষ্য করে ড্রোন হামলা চালিয়েছে। (Anadolu Ajansı)

মার্কিন সামরিক কর্তৃপক্ষের দাবি, এটি ছিল পরিকল্পিত, উদ্দেশ্যমূলক এবং অযৌক্তিক হামলা। তাদের মতে, ইরানের আক্রমণেই বিমানবন্দরের অবকাঠামো ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে এবং বেসামরিক নাগরিকদের নিরাপত্তা হুমকির মুখে পড়েছে। (Anadolu Ajansı)
উত্তেজনা বাড়ার আশঙ্কা
কুয়েত বিমানবন্দরকে ঘিরে এই পরস্পরবিরোধী দাবির ফলে আঞ্চলিক উত্তেজনা আরও বেড়ে যাওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। ঘটনার প্রকৃত কারণ নিয়ে এখনো বিতর্ক চললেও উপসাগরীয় অঞ্চলে সামরিক সংঘাতের ঝুঁকি যে কমেনি, তা স্পষ্ট হয়ে উঠেছে। (Reuters)
সারাক্ষণ রিপোর্ট 



















