নরওয়ের ক্রাউন প্রিন্সেস মেটে-মারিতের শারীরিক অবস্থার দ্রুত অবনতি ঘটেছে। চিকিৎসকেরা জানিয়েছেন, তার জীবন রক্ষায় এখন ফুসফুস প্রতিস্থাপনই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ। এ কারণে তাকে ফুসফুস প্রতিস্থাপনের অপেক্ষমাণ তালিকায় রাখা হয়েছে।
৫২ বছর বয়সী মেটে-মারিত নরওয়ের সিংহাসনের উত্তরাধিকারী ক্রাউন প্রিন্স হাকনের স্ত্রী। ২০১৮ সালে তার পালমোনারি ফাইব্রোসিস ধরা পড়ে। এটি এমন একটি দীর্ঘমেয়াদি রোগ, যেখানে ফুসফুসে ক্ষত তৈরি হয় এবং শরীরে অক্সিজেন গ্রহণের ক্ষমতা ধীরে ধীরে কমে যায়।
দ্রুত অবনতির কারণে জরুরি সিদ্ধান্ত
চিকিৎসকদের মতে, গত কয়েক মাসে মেটে-মারিতের শারীরিক অবস্থার নাটকীয় অবনতি হয়েছে। পরিস্থিতি এমন পর্যায়ে পৌঁছেছে যে প্রতিস্থাপন ছাড়া তার আয়ু প্রায় এক বছরের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকতে পারে।
চিকিৎসকেরা জানান, ফুসফুস প্রতিস্থাপন একটি জটিল ও ঝুঁকিপূর্ণ অস্ত্রোপচার। রোগীকে একদিকে যথেষ্ট অসুস্থ হতে হয় যাতে প্রতিস্থাপনের প্রয়োজন হয়, আবার অন্যদিকে অস্ত্রোপচার ও পরবর্তী চিকিৎসা সহ্য করার মতো সক্ষমতাও থাকতে হয়।
রাজপ্রাসাদ এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, ক্রাউন প্রিন্সেসের বর্তমান অবস্থা জীবন-সংকটাপন্ন।
পরিবারে উদ্বেগ
স্ত্রীর পাশে থাকার জন্য ক্রাউন প্রিন্স হাকন সম্প্রতি জাপান সফর সংক্ষিপ্ত করে দেশে ফিরে এসেছেন। অন্যদিকে তাদের মেয়ে প্রিন্সেস ইনগ্রিড আলেকজান্দ্রাও পড়াশোনার জন্য অস্ট্রেলিয়ায় অবস্থান করলেও দ্রুত অসলোতে ফিরে এসেছেন।
পরিবারের এই পরিস্থিতির কারণে আগস্টে নির্ধারিত তাদের ২৫তম বিবাহবার্ষিকীর আনুষ্ঠানিক উদযাপনও স্থগিত করা হয়েছে।

প্রতিস্থাপনের ক্ষেত্রে কঠোর শর্ত
চিকিৎসকদের ভাষ্য অনুযায়ী, সফল ফুসফুস প্রতিস্থাপনের জন্য দাতার অঙ্গের আকার, রক্তের গ্রুপ এবং টিস্যুর সামঞ্জস্যসহ বিভিন্ন বিষয় মিলতে হয়। সঠিক রোগীর জন্য সঠিক অঙ্গ খুঁজে পাওয়াই সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ।
নরওয়েতে প্রতি বছর গড়ে ৩০ থেকে ৩৫টি ফুসফুস প্রতিস্থাপন করা হয়। হাসপাতাল জানিয়েছে, মেটে-মারিত অন্য সব রোগীর মতোই অপেক্ষমাণ তালিকায় রয়েছেন।
সংগ্রাম থেকে রাজপরিবারে
মেটে-মারিতের জীবনকাহিনিও নরওয়েতে বেশ আলোচিত। ১৯৯৯ সালে একটি সঙ্গীত উৎসবে তার সঙ্গে ক্রাউন প্রিন্স হাকনের পরিচয় হয়। তখন তিনি ছিলেন অবিবাহিত এক সন্তানের মা। সেই পরিচয় পরে প্রেমে রূপ নেয় এবং নানা বিতর্ক পেরিয়ে শেষ পর্যন্ত নরওয়ের মানুষের ব্যাপক সমর্থন অর্জন করে।
বর্তমানে দেশজুড়ে তার সুস্থতা কামনা করা হচ্ছে। রাজনৈতিক নেতৃত্বও তার সাহসিকতার প্রশংসা করেছে। দীর্ঘদিন ধরে নিজের অসুস্থতা নিয়ে খোলামেলা কথা বলার কারণে একই ধরনের রোগে আক্রান্ত অনেক মানুষ সচেতন হওয়ার সুযোগ পেয়েছেন বলে মনে করা হচ্ছে।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 



















