যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে ঘিরে রিপাবলিকান পার্টির ভেতরে নতুন ধরনের অস্বস্তি ও মতভেদ প্রকাশ্যে আসতে শুরু করেছে। দীর্ঘদিন ধরে দলের বেশিরভাগ আইনপ্রণেতা ট্রাম্পের অবস্থানকে সমর্থন করলেও সাম্প্রতিক সময়ে কংগ্রেসের একাংশ তাঁর কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ উদ্যোগের বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়েছে। এতে ওয়াশিংটনের রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন আলোচনা শুরু হয়েছে।
মধ্যবর্তী নির্বাচনের চাপ
আগামী মধ্যবর্তী নির্বাচনকে সামনে রেখে অনেক রিপাবলিকান আইনপ্রণেতা নিজেদের রাজনৈতিক অবস্থান নিয়ে আরও সতর্ক হয়ে উঠেছেন। বিশ্লেষকদের মতে, ভোটারদের প্রতিক্রিয়া এবং নিজ নিজ নির্বাচনী এলাকার বাস্তবতা বিবেচনা করে তারা এখন আগের তুলনায় স্বাধীন অবস্থান নেওয়ার চেষ্টা করছেন।
সাম্প্রতিক সপ্তাহগুলোতে ট্রাম্প প্রশাসনের কয়েকটি প্রস্তাব ও নীতিগত সিদ্ধান্ত নিয়ে রিপাবলিকানদের মধ্যেই প্রশ্ন উঠেছে। কিছু ক্ষেত্রে কংগ্রেসের সদস্যরা সরাসরি আপত্তি জানিয়েছেন, আবার কিছু ক্ষেত্রে প্রশাসনকে অবস্থান পরিবর্তন করতেও চাপ দিয়েছেন।
দলের ভেতরে বাড়ছে মতভেদ
রিপাবলিকানদের একাংশের অভিযোগ, কিছু নীতি ঘোষণার সময় ও পদ্ধতি দলীয় কৌশলের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ ছিল না। বিশেষ করে নির্বাচনী বছরে বিতর্কিত বিষয় সামনে আনা দলের জন্য অস্বস্তিকর পরিস্থিতি তৈরি করতে পারে বলে তাদের আশঙ্কা।
দলের কয়েকজন প্রভাবশালী নেতা মনে করছেন, গুরুত্বপূর্ণ আইন পাস এবং নির্বাচনী প্রস্তুতির সময় অতিরিক্ত বিতর্ক সৃষ্টি হলে তা রিপাবলিকানদের রাজনৈতিক লক্ষ্য অর্জনে বাধা হয়ে দাঁড়াতে পারে। ফলে তারা কিছু বিষয়ে হোয়াইট হাউসের অবস্থানের সঙ্গে একমত নন।
ট্রাম্পের প্রভাব কি কমছে?
তবে রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের বড় একটি অংশ মনে করে, এটিকে এখনই ট্রাম্পবিরোধী বিদ্রোহ বলা যাবে না। রিপাবলিকান পার্টির ওপর তাঁর প্রভাব এখনও উল্লেখযোগ্য। দলীয় ঘাঁটি এবং সমর্থকদের মধ্যে ট্রাম্পের জনপ্রিয়তা এখনো শক্ত অবস্থানে রয়েছে।
তবে সাম্প্রতিক ঘটনাগুলো দেখাচ্ছে যে কংগ্রেসে রিপাবলিকানদের একটি অংশ প্রয়োজনে ভিন্নমত প্রকাশ করতে প্রস্তুত। এটি ভবিষ্যতে গুরুত্বপূর্ণ আইন, বাজেট এবং প্রশাসনিক নিয়োগের ক্ষেত্রে ট্রাম্পের জন্য নতুন চ্যালেঞ্জ তৈরি করতে পারে।
সামনের দিনগুলো গুরুত্বপূর্ণ
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, আগামী কয়েক মাসেই বোঝা যাবে এই মতভেদ সাময়িক নাকি দীর্ঘমেয়াদি। মধ্যবর্তী নির্বাচন যত এগিয়ে আসবে, রিপাবলিকান আইনপ্রণেতাদের মধ্যে স্বাধীন অবস্থান নেওয়ার প্রবণতা আরও বাড়তে পারে।
একই সঙ্গে ট্রাম্পের নেতৃত্বে দল কতটা ঐক্যবদ্ধ থাকতে পারে, সেটিও যুক্তরাষ্ট্রের রাজনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন হয়ে উঠেছে। আপাতত রিপাবলিকানদের ভেতরের এই নতুন প্রতিরোধ ও মতভেদই ওয়াশিংটনের অন্যতম আলোচিত বিষয়। (Reuters)
সারাক্ষণ রিপোর্ট 



















