১০:১০ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ০২ অগাস্ট ২০২৬
শুধু অনুদান নয়, টেকসই সংগীতশিল্প গড়তে বদলাতে হবে পুরো অর্থনৈতিক কাঠামো স্ট্রোক: প্রতিরোধ, দ্রুত চিকিৎসা ও দীর্ঘ পুনর্বাসনের এক অবিচ্ছিন্ন লড়াই চার শতাব্দী পর ফিরল প্রকৃতির হারানো সন্তান, গ্লেন অ্যাফ্রিকে জন্ম নিল বুনো বিভারের নতুন প্রজন্ম ‘সবাইকে হত্যা করতে হবে’— প্রতিশোধের নামে সহিংসতার পক্ষে ইসরায়েলি বসতি স্থাপনকারীর উসকানি, আতঙ্কে পশ্চিম তীরের ফিলিস্তিনিরা এমঅ্যান্ডএসে খোলা-অংশের অন্তর্বাস বিক্রি ঘিরে বিতর্ক: ‘চমক’ নাকি বদলে যাওয়া বাজারের বাস্তবতা? প্রতিশোধের নামে হত্যার আহ্বান, পশ্চিম তীরে ইসরায়েলি বসতির বাসিন্দার বিস্ফোরক মন্তব্যে নতুন বিতর্ক ট্রাম্পের নতুন নিশানায় ‘পিকঅ্যাক্স মাউন্টেন’: ইরানের গোপন পারমাণবিক ঘাঁটি নিয়ে কেন বাড়ছে যুদ্ধের আশঙ্কা? ট্রাম্পের অভিযোগ ভেঙে পড়ল, আদালতে সরকারের স্বীকারোক্তি: ভাঙচুর নয়, তড়িঘড়ি মেরামতের ভুলেই ক্ষতিগ্রস্ত লিংকন রিফ্লেক্টিং পুল গোলাপি ডোরাকাটা রহস্যের অবসান: ৪০ বছরের অনুসন্ধানে মিলল সমুদ্রের নতুন শৈবাল প্রজাতি মৃত্যুর দিকে ছুটে চলা জীবনে থামার সময় কি এখনও আসেনি?

বার্ধক্য উল্টে দেওয়ার দাবিতে বিপুল বিনিয়োগ, ৪৩৫ মিলিয়ন ডলার পেল জৈবপ্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান

মানুষের কোষের বার্ধক্য আংশিকভাবে উল্টে দেওয়ার সম্ভাবনা নিয়ে কাজ করা একটি জৈবপ্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান নতুন করে ৪৩৫ মিলিয়ন ডলারের বিনিয়োগ সংগ্রহ করেছে। প্রতিষ্ঠানটির দাবি, তারা এমন একটি পরীক্ষামূলক ওষুধের প্রাথমিক সংস্করণ তৈরি করেছে, যা বয়স্ক মানব যকৃতের কোষকে আরও তরুণ অবস্থায় ফিরিয়ে নিতে সক্ষম।

প্রতিষ্ঠানটির কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, আগামী বছর তারা প্রথমবারের মতো মানুষের ওপর এই প্রযুক্তিনির্ভর চিকিৎসার ক্লিনিক্যাল পরীক্ষা শুরু করার পরিকল্পনা করছে। তাদের মতে, সাম্প্রতিক গবেষণায় পাওয়া অগ্রগতি পরীক্ষার সময়সূচিকে অনেকটাই এগিয়ে এনেছে।

বার্ধক্য নিয়ে নতুন গবেষণার দাবি

প্রতিষ্ঠানটির গবেষণার মূল লক্ষ্য হলো কোষের জৈবিক বয়স কমিয়ে তার কার্যকারিতা পুনরুদ্ধার করা। গবেষকরা বলছেন, তারা এমন একটি পদ্ধতি ব্যবহার করছেন যা কোষের মৌলিক জিনগত গঠন পরিবর্তন না করেই কোষের কার্যক্রমকে আরও তরুণ অবস্থার মতো করে তুলতে পারে।

এই প্রযুক্তি মূলত এপিজেনেটিক প্রোগ্রামিংয়ের ওপর ভিত্তি করে গড়ে উঠেছে। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার সহায়তায় কোষের নিয়ন্ত্রণব্যবস্থাকে পুনর্গঠনের মাধ্যমে বয়সজনিত পরিবর্তন কমানোর চেষ্টা করা হচ্ছে।

বিনিয়োগকারীদের আস্থা

নতুন বিনিয়োগের ফলে প্রতিষ্ঠানটির বাজারমূল্য প্রায় ৩.১ বিলিয়ন ডলারে পৌঁছেছে। এই অর্থায়নে অংশ নিয়েছে একাধিক বড় বিনিয়োগ সংস্থা ও স্বাস্থ্যখাতভিত্তিক তহবিল।

বিশ্লেষকদের মতে, বার্ধক্য প্রতিরোধ বা বয়সজনিত ক্ষয় কমানোর প্রযুক্তি বর্তমানে জৈবপ্রযুক্তি খাতের অন্যতম আলোচিত ক্ষেত্র। ফলে এই ধরনের গবেষণায় বিনিয়োগকারীদের আগ্রহও দ্রুত বাড়ছে।

Can the billion-dollar bet on biotech finally reverse aging?

কী হতে পারে সম্ভাব্য সুফল

গবেষণা সফল হলে ভবিষ্যতে যকৃত, রোগপ্রতিরোধ ব্যবস্থা এবং রক্তনালির কার্যকারিতা উন্নত করার নতুন পথ খুলে যেতে পারে। বিজ্ঞানীরা মনে করছেন, এর মাধ্যমে বয়স বৃদ্ধির সঙ্গে সম্পর্কিত নানা শারীরিক দুর্বলতা কমানো সম্ভব হতে পারে।

তাদের ধারণা, এমন চিকিৎসা একদিন মানুষের বিপাকক্রিয়া, শক্তি উৎপাদন, রোগ প্রতিরোধক্ষমতা এবং মানসিক সক্ষমতা দীর্ঘ সময় ধরে ভালো রাখতে সহায়তা করতে পারে। তবে এসব সম্ভাবনা এখনো গবেষণা ও পরীক্ষার পর্যায়ে রয়েছে।

সামনে ক্লিনিক্যাল পরীক্ষার চ্যালেঞ্জ

যদিও প্রাথমিক ফলাফল নিয়ে আশাবাদ প্রকাশ করা হচ্ছে, তবু মানুষের ওপর পরীক্ষার মাধ্যমে নিরাপত্তা ও কার্যকারিতা প্রমাণ করাই হবে সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ। বিশেষজ্ঞদের মতে, পরীক্ষাগারে পাওয়া সাফল্য বাস্তব চিকিৎসায় রূপ নিতে দীর্ঘ সময় এবং কঠোর বৈজ্ঞানিক যাচাই প্রয়োজন।

তবু সাম্প্রতিক অর্থায়ন প্রমাণ করছে যে বার্ধক্য মোকাবিলার নতুন প্রযুক্তি নিয়ে বিনিয়োগকারী ও গবেষকদের আগ্রহ আগের যেকোনো সময়ের তুলনায় অনেক বেশি।

মানবদেহের কোষের বার্ধক্য কমানোর দাবি করা নতুন প্রযুক্তিতে ৪৩৫ মিলিয়ন ডলারের বিনিয়োগ। আগামী বছর মানবদেহে পরীক্ষার প্রস্তুতি।

জনপ্রিয় সংবাদ

শুধু অনুদান নয়, টেকসই সংগীতশিল্প গড়তে বদলাতে হবে পুরো অর্থনৈতিক কাঠামো

বার্ধক্য উল্টে দেওয়ার দাবিতে বিপুল বিনিয়োগ, ৪৩৫ মিলিয়ন ডলার পেল জৈবপ্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান

১২:২৫:০২ অপরাহ্ন, রবিবার, ৭ জুন ২০২৬

মানুষের কোষের বার্ধক্য আংশিকভাবে উল্টে দেওয়ার সম্ভাবনা নিয়ে কাজ করা একটি জৈবপ্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান নতুন করে ৪৩৫ মিলিয়ন ডলারের বিনিয়োগ সংগ্রহ করেছে। প্রতিষ্ঠানটির দাবি, তারা এমন একটি পরীক্ষামূলক ওষুধের প্রাথমিক সংস্করণ তৈরি করেছে, যা বয়স্ক মানব যকৃতের কোষকে আরও তরুণ অবস্থায় ফিরিয়ে নিতে সক্ষম।

প্রতিষ্ঠানটির কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, আগামী বছর তারা প্রথমবারের মতো মানুষের ওপর এই প্রযুক্তিনির্ভর চিকিৎসার ক্লিনিক্যাল পরীক্ষা শুরু করার পরিকল্পনা করছে। তাদের মতে, সাম্প্রতিক গবেষণায় পাওয়া অগ্রগতি পরীক্ষার সময়সূচিকে অনেকটাই এগিয়ে এনেছে।

বার্ধক্য নিয়ে নতুন গবেষণার দাবি

প্রতিষ্ঠানটির গবেষণার মূল লক্ষ্য হলো কোষের জৈবিক বয়স কমিয়ে তার কার্যকারিতা পুনরুদ্ধার করা। গবেষকরা বলছেন, তারা এমন একটি পদ্ধতি ব্যবহার করছেন যা কোষের মৌলিক জিনগত গঠন পরিবর্তন না করেই কোষের কার্যক্রমকে আরও তরুণ অবস্থার মতো করে তুলতে পারে।

এই প্রযুক্তি মূলত এপিজেনেটিক প্রোগ্রামিংয়ের ওপর ভিত্তি করে গড়ে উঠেছে। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার সহায়তায় কোষের নিয়ন্ত্রণব্যবস্থাকে পুনর্গঠনের মাধ্যমে বয়সজনিত পরিবর্তন কমানোর চেষ্টা করা হচ্ছে।

বিনিয়োগকারীদের আস্থা

নতুন বিনিয়োগের ফলে প্রতিষ্ঠানটির বাজারমূল্য প্রায় ৩.১ বিলিয়ন ডলারে পৌঁছেছে। এই অর্থায়নে অংশ নিয়েছে একাধিক বড় বিনিয়োগ সংস্থা ও স্বাস্থ্যখাতভিত্তিক তহবিল।

বিশ্লেষকদের মতে, বার্ধক্য প্রতিরোধ বা বয়সজনিত ক্ষয় কমানোর প্রযুক্তি বর্তমানে জৈবপ্রযুক্তি খাতের অন্যতম আলোচিত ক্ষেত্র। ফলে এই ধরনের গবেষণায় বিনিয়োগকারীদের আগ্রহও দ্রুত বাড়ছে।

Can the billion-dollar bet on biotech finally reverse aging?

কী হতে পারে সম্ভাব্য সুফল

গবেষণা সফল হলে ভবিষ্যতে যকৃত, রোগপ্রতিরোধ ব্যবস্থা এবং রক্তনালির কার্যকারিতা উন্নত করার নতুন পথ খুলে যেতে পারে। বিজ্ঞানীরা মনে করছেন, এর মাধ্যমে বয়স বৃদ্ধির সঙ্গে সম্পর্কিত নানা শারীরিক দুর্বলতা কমানো সম্ভব হতে পারে।

তাদের ধারণা, এমন চিকিৎসা একদিন মানুষের বিপাকক্রিয়া, শক্তি উৎপাদন, রোগ প্রতিরোধক্ষমতা এবং মানসিক সক্ষমতা দীর্ঘ সময় ধরে ভালো রাখতে সহায়তা করতে পারে। তবে এসব সম্ভাবনা এখনো গবেষণা ও পরীক্ষার পর্যায়ে রয়েছে।

সামনে ক্লিনিক্যাল পরীক্ষার চ্যালেঞ্জ

যদিও প্রাথমিক ফলাফল নিয়ে আশাবাদ প্রকাশ করা হচ্ছে, তবু মানুষের ওপর পরীক্ষার মাধ্যমে নিরাপত্তা ও কার্যকারিতা প্রমাণ করাই হবে সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ। বিশেষজ্ঞদের মতে, পরীক্ষাগারে পাওয়া সাফল্য বাস্তব চিকিৎসায় রূপ নিতে দীর্ঘ সময় এবং কঠোর বৈজ্ঞানিক যাচাই প্রয়োজন।

তবু সাম্প্রতিক অর্থায়ন প্রমাণ করছে যে বার্ধক্য মোকাবিলার নতুন প্রযুক্তি নিয়ে বিনিয়োগকারী ও গবেষকদের আগ্রহ আগের যেকোনো সময়ের তুলনায় অনেক বেশি।

মানবদেহের কোষের বার্ধক্য কমানোর দাবি করা নতুন প্রযুক্তিতে ৪৩৫ মিলিয়ন ডলারের বিনিয়োগ। আগামী বছর মানবদেহে পরীক্ষার প্রস্তুতি।