০৫:১০ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬
রপ্তানি বাড়াতে হলে কৌশলগত আমদানির পথও খুলতে হবে যুদ্ধের ভাষার আড়ালে কূটনীতির শেষ দরজা টিকটক শপে চারুকলা: শিল্পবাজার বদলের শুরু, নাকি ব্যর্থ এক পরীক্ষা? নবায়নযোগ্য জ্বালানিতে ভারত এগিয়ে, কিন্তু বিদ্যুৎ গ্রিডে বাড়ছে চাপ প্রজ্ঞাপন জারি: জ্বালানি তেলের দাম বাড়ায় বাস-মিনিবাসের ভাড়া কিলোমিটারে ১৭ পয়সা বৃদ্ধি ২০ তলা থেকে সাইকেলসহ নানা জিনিস ছুড়ে দিলেন ব্যক্তি, ৬ ঘণ্টার পুলিশি অভিযানে আটক চাঁদের আলোয় সায়েন্স সেন্টারে এক রাতের নাচ-গান, সিঙ্গাপুরে ‘মুনবিটস: আফটারডার্ক’ একা থাকা ৭২ বছরের বৃদ্ধের মৃত্যু, দরজার নিচ দিয়ে রক্ত গড়িয়ে আসতেই মিলল মরদেহ টোকিওর কাছে টাইফুন দুজুয়ানের আঘাত, নিহত ৯, নিখোঁজ ৪ এল নিনোর তাপে ভারতে ফেব্রুয়ারির মধ্যে ১৫ হাজার ৮০০ মৃত্যুর শঙ্কা

বার্ধক্য উল্টে দেওয়ার দাবিতে বিপুল বিনিয়োগ, ৪৩৫ মিলিয়ন ডলার পেল জৈবপ্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান

মানুষের কোষের বার্ধক্য আংশিকভাবে উল্টে দেওয়ার সম্ভাবনা নিয়ে কাজ করা একটি জৈবপ্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান নতুন করে ৪৩৫ মিলিয়ন ডলারের বিনিয়োগ সংগ্রহ করেছে। প্রতিষ্ঠানটির দাবি, তারা এমন একটি পরীক্ষামূলক ওষুধের প্রাথমিক সংস্করণ তৈরি করেছে, যা বয়স্ক মানব যকৃতের কোষকে আরও তরুণ অবস্থায় ফিরিয়ে নিতে সক্ষম।

প্রতিষ্ঠানটির কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, আগামী বছর তারা প্রথমবারের মতো মানুষের ওপর এই প্রযুক্তিনির্ভর চিকিৎসার ক্লিনিক্যাল পরীক্ষা শুরু করার পরিকল্পনা করছে। তাদের মতে, সাম্প্রতিক গবেষণায় পাওয়া অগ্রগতি পরীক্ষার সময়সূচিকে অনেকটাই এগিয়ে এনেছে।

বার্ধক্য নিয়ে নতুন গবেষণার দাবি

প্রতিষ্ঠানটির গবেষণার মূল লক্ষ্য হলো কোষের জৈবিক বয়স কমিয়ে তার কার্যকারিতা পুনরুদ্ধার করা। গবেষকরা বলছেন, তারা এমন একটি পদ্ধতি ব্যবহার করছেন যা কোষের মৌলিক জিনগত গঠন পরিবর্তন না করেই কোষের কার্যক্রমকে আরও তরুণ অবস্থার মতো করে তুলতে পারে।

এই প্রযুক্তি মূলত এপিজেনেটিক প্রোগ্রামিংয়ের ওপর ভিত্তি করে গড়ে উঠেছে। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার সহায়তায় কোষের নিয়ন্ত্রণব্যবস্থাকে পুনর্গঠনের মাধ্যমে বয়সজনিত পরিবর্তন কমানোর চেষ্টা করা হচ্ছে।

বিনিয়োগকারীদের আস্থা

নতুন বিনিয়োগের ফলে প্রতিষ্ঠানটির বাজারমূল্য প্রায় ৩.১ বিলিয়ন ডলারে পৌঁছেছে। এই অর্থায়নে অংশ নিয়েছে একাধিক বড় বিনিয়োগ সংস্থা ও স্বাস্থ্যখাতভিত্তিক তহবিল।

বিশ্লেষকদের মতে, বার্ধক্য প্রতিরোধ বা বয়সজনিত ক্ষয় কমানোর প্রযুক্তি বর্তমানে জৈবপ্রযুক্তি খাতের অন্যতম আলোচিত ক্ষেত্র। ফলে এই ধরনের গবেষণায় বিনিয়োগকারীদের আগ্রহও দ্রুত বাড়ছে।

Can the billion-dollar bet on biotech finally reverse aging?

কী হতে পারে সম্ভাব্য সুফল

গবেষণা সফল হলে ভবিষ্যতে যকৃত, রোগপ্রতিরোধ ব্যবস্থা এবং রক্তনালির কার্যকারিতা উন্নত করার নতুন পথ খুলে যেতে পারে। বিজ্ঞানীরা মনে করছেন, এর মাধ্যমে বয়স বৃদ্ধির সঙ্গে সম্পর্কিত নানা শারীরিক দুর্বলতা কমানো সম্ভব হতে পারে।

তাদের ধারণা, এমন চিকিৎসা একদিন মানুষের বিপাকক্রিয়া, শক্তি উৎপাদন, রোগ প্রতিরোধক্ষমতা এবং মানসিক সক্ষমতা দীর্ঘ সময় ধরে ভালো রাখতে সহায়তা করতে পারে। তবে এসব সম্ভাবনা এখনো গবেষণা ও পরীক্ষার পর্যায়ে রয়েছে।

সামনে ক্লিনিক্যাল পরীক্ষার চ্যালেঞ্জ

যদিও প্রাথমিক ফলাফল নিয়ে আশাবাদ প্রকাশ করা হচ্ছে, তবু মানুষের ওপর পরীক্ষার মাধ্যমে নিরাপত্তা ও কার্যকারিতা প্রমাণ করাই হবে সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ। বিশেষজ্ঞদের মতে, পরীক্ষাগারে পাওয়া সাফল্য বাস্তব চিকিৎসায় রূপ নিতে দীর্ঘ সময় এবং কঠোর বৈজ্ঞানিক যাচাই প্রয়োজন।

তবু সাম্প্রতিক অর্থায়ন প্রমাণ করছে যে বার্ধক্য মোকাবিলার নতুন প্রযুক্তি নিয়ে বিনিয়োগকারী ও গবেষকদের আগ্রহ আগের যেকোনো সময়ের তুলনায় অনেক বেশি।

মানবদেহের কোষের বার্ধক্য কমানোর দাবি করা নতুন প্রযুক্তিতে ৪৩৫ মিলিয়ন ডলারের বিনিয়োগ। আগামী বছর মানবদেহে পরীক্ষার প্রস্তুতি।

জনপ্রিয় সংবাদ

রপ্তানি বাড়াতে হলে কৌশলগত আমদানির পথও খুলতে হবে

বার্ধক্য উল্টে দেওয়ার দাবিতে বিপুল বিনিয়োগ, ৪৩৫ মিলিয়ন ডলার পেল জৈবপ্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান

১২:২৫:০২ অপরাহ্ন, রবিবার, ৭ জুন ২০২৬

মানুষের কোষের বার্ধক্য আংশিকভাবে উল্টে দেওয়ার সম্ভাবনা নিয়ে কাজ করা একটি জৈবপ্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান নতুন করে ৪৩৫ মিলিয়ন ডলারের বিনিয়োগ সংগ্রহ করেছে। প্রতিষ্ঠানটির দাবি, তারা এমন একটি পরীক্ষামূলক ওষুধের প্রাথমিক সংস্করণ তৈরি করেছে, যা বয়স্ক মানব যকৃতের কোষকে আরও তরুণ অবস্থায় ফিরিয়ে নিতে সক্ষম।

প্রতিষ্ঠানটির কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, আগামী বছর তারা প্রথমবারের মতো মানুষের ওপর এই প্রযুক্তিনির্ভর চিকিৎসার ক্লিনিক্যাল পরীক্ষা শুরু করার পরিকল্পনা করছে। তাদের মতে, সাম্প্রতিক গবেষণায় পাওয়া অগ্রগতি পরীক্ষার সময়সূচিকে অনেকটাই এগিয়ে এনেছে।

বার্ধক্য নিয়ে নতুন গবেষণার দাবি

প্রতিষ্ঠানটির গবেষণার মূল লক্ষ্য হলো কোষের জৈবিক বয়স কমিয়ে তার কার্যকারিতা পুনরুদ্ধার করা। গবেষকরা বলছেন, তারা এমন একটি পদ্ধতি ব্যবহার করছেন যা কোষের মৌলিক জিনগত গঠন পরিবর্তন না করেই কোষের কার্যক্রমকে আরও তরুণ অবস্থার মতো করে তুলতে পারে।

এই প্রযুক্তি মূলত এপিজেনেটিক প্রোগ্রামিংয়ের ওপর ভিত্তি করে গড়ে উঠেছে। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার সহায়তায় কোষের নিয়ন্ত্রণব্যবস্থাকে পুনর্গঠনের মাধ্যমে বয়সজনিত পরিবর্তন কমানোর চেষ্টা করা হচ্ছে।

বিনিয়োগকারীদের আস্থা

নতুন বিনিয়োগের ফলে প্রতিষ্ঠানটির বাজারমূল্য প্রায় ৩.১ বিলিয়ন ডলারে পৌঁছেছে। এই অর্থায়নে অংশ নিয়েছে একাধিক বড় বিনিয়োগ সংস্থা ও স্বাস্থ্যখাতভিত্তিক তহবিল।

বিশ্লেষকদের মতে, বার্ধক্য প্রতিরোধ বা বয়সজনিত ক্ষয় কমানোর প্রযুক্তি বর্তমানে জৈবপ্রযুক্তি খাতের অন্যতম আলোচিত ক্ষেত্র। ফলে এই ধরনের গবেষণায় বিনিয়োগকারীদের আগ্রহও দ্রুত বাড়ছে।

Can the billion-dollar bet on biotech finally reverse aging?

কী হতে পারে সম্ভাব্য সুফল

গবেষণা সফল হলে ভবিষ্যতে যকৃত, রোগপ্রতিরোধ ব্যবস্থা এবং রক্তনালির কার্যকারিতা উন্নত করার নতুন পথ খুলে যেতে পারে। বিজ্ঞানীরা মনে করছেন, এর মাধ্যমে বয়স বৃদ্ধির সঙ্গে সম্পর্কিত নানা শারীরিক দুর্বলতা কমানো সম্ভব হতে পারে।

তাদের ধারণা, এমন চিকিৎসা একদিন মানুষের বিপাকক্রিয়া, শক্তি উৎপাদন, রোগ প্রতিরোধক্ষমতা এবং মানসিক সক্ষমতা দীর্ঘ সময় ধরে ভালো রাখতে সহায়তা করতে পারে। তবে এসব সম্ভাবনা এখনো গবেষণা ও পরীক্ষার পর্যায়ে রয়েছে।

সামনে ক্লিনিক্যাল পরীক্ষার চ্যালেঞ্জ

যদিও প্রাথমিক ফলাফল নিয়ে আশাবাদ প্রকাশ করা হচ্ছে, তবু মানুষের ওপর পরীক্ষার মাধ্যমে নিরাপত্তা ও কার্যকারিতা প্রমাণ করাই হবে সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ। বিশেষজ্ঞদের মতে, পরীক্ষাগারে পাওয়া সাফল্য বাস্তব চিকিৎসায় রূপ নিতে দীর্ঘ সময় এবং কঠোর বৈজ্ঞানিক যাচাই প্রয়োজন।

তবু সাম্প্রতিক অর্থায়ন প্রমাণ করছে যে বার্ধক্য মোকাবিলার নতুন প্রযুক্তি নিয়ে বিনিয়োগকারী ও গবেষকদের আগ্রহ আগের যেকোনো সময়ের তুলনায় অনেক বেশি।

মানবদেহের কোষের বার্ধক্য কমানোর দাবি করা নতুন প্রযুক্তিতে ৪৩৫ মিলিয়ন ডলারের বিনিয়োগ। আগামী বছর মানবদেহে পরীক্ষার প্রস্তুতি।