০২:৪০ অপরাহ্ন, রবিবার, ০৭ জুন ২০২৬
চীনের উপকূলে তিমির খোঁজে ভূমিকম্প পর্যবেক্ষণ যন্ত্র, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার নতুন সাফল্য বিশ্বকাপে কুরাসাও, ঘুমহীন আনন্দে মেতে পুরো দ্বীপ টুঙ্গিপাড়ায় সন্ত্রাসবিরোধী আইনের মামলায় শ্রমিক লীগ নেতা গ্রেপ্তার সাফ ফাইনালে হারলেও লড়াইয়ে সন্তুষ্ট বাটলার, ঘুরে দাঁড়ানোর বার্তা বাংলাদেশ নারী দলের টিকা দিতে টাকা দাবির অভিযোগে কসবা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের নার্স সাময়িক অব্যাহতি পশ্চিমবঙ্গে ফের তৃণমূল নেতার গাড়িতে ডিম নিক্ষেপ, এবার লক্ষ্য মদন মিত্র পাকিস্তানে বাড়ছে পোলট্রি শিল্প, কিন্তু কমছে না মুরগির দাম আর্জেন্টিনা-ব্রাজিলের জয়যাত্রা অব্যাহত, বিশ্বকাপের আগে আত্মবিশ্বাসে উজ্জ্বল শীর্ষ দলগুলো নতুন উষ্ণতা, পুরোনো সন্দেহ: চীন-ভারত সম্পর্কে কেন ‘সমঝোতা’ নয়, বরং ‘পরিচালিত সহাবস্থান’ই বাস্তবতা শরীয়তপুর স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের মাটির নিচে রহস্যময় তাপ, উৎকণ্ঠা ও কৌতূহল এলাকাজুড়ে

ইরানের সম্পদ ব্যবহার করে উপসাগরীয় মিত্রদের ক্ষতিপূরণে যুক্তরাষ্ট্রের পরিকল্পনা, বাড়ছে নতুন উত্তেজনা

ইরানের বিরুদ্ধে চলমান সংঘাতের মধ্যেই দেশটির সম্পদ ব্যবহার করে উপসাগরীয় মিত্র দেশগুলোর যুদ্ধক্ষতির পুনর্গঠন ও মেরামত ব্যয়ের অর্থ জোগানোর পরিকল্পনা করছে যুক্তরাষ্ট্র। এমন একটি পদক্ষেপ বাস্তবায়িত হলে ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যে চলমান নাজুক যুদ্ধবিরতি আরও চাপের মুখে পড়তে পারে বলে মনে করা হচ্ছে।

সম্প্রতি কুয়েত ও বাহরাইনের ওপর ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলার পর যুক্তরাষ্ট্র এই উদ্যোগ নিয়ে কাজ শুরু করেছে। যুক্তরাষ্ট্রের অর্থ মন্ত্রণালয় ইতোমধ্যে মিত্র দেশগুলোর ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ মূল্যায়নের প্রক্রিয়া শুরু করেছে বলে জানা গেছে।

ক্ষয়ক্ষতির হিসাব করছে ওয়াশিংটন

যুক্তরাষ্ট্রের পরিকল্পনা অনুযায়ী, ইতোমধ্যে হওয়া ক্ষয়ক্ষতির পাশাপাশি ভবিষ্যতে ইরানের হামলায় সৃষ্ট ধ্বংসযজ্ঞের ক্ষেত্রেও দেশটির সম্পদ ব্যবহার করার বিষয়টি বিবেচনায় রাখা হচ্ছে। তবে কোন ধরনের সম্পদ ব্যবহার করা হবে, সে বিষয়ে এখনো স্পষ্ট কোনো তথ্য প্রকাশ করা হয়নি।

এর আগে ইরানের সর্বোচ্চ নেতার একজন উপদেষ্টা জানিয়েছিলেন, যুক্তরাষ্ট্রে আটকে থাকা প্রায় ২৪ বিলিয়ন ডলারের ইরানি সম্পদ মুক্তির বিষয়টি যুদ্ধ অবসানের সম্ভাব্য চুক্তির অন্যতম শর্ত।

যুদ্ধবিরতির মধ্যেও হামলা-পাল্টা হামলা

তিন মাস ধরে চলা সংঘাত থামাতে আলোচনা চললেও পরিস্থিতি এখনো অস্থির। সপ্তাহান্তে উভয় পক্ষের সামরিক তৎপরতা নতুন করে উত্তেজনা বাড়িয়েছে।

যুক্তরাষ্ট্র জানিয়েছে, হরমুজ প্রণালিতে নৌ চলাচলের জন্য হুমকি হয়ে ওঠা কয়েকটি ইরানি ড্রোন ভূপাতিত করা হয়েছে। এর জবাবে ইরান কুয়েত ও বাহরাইনে অবস্থিত মার্কিন ঘাঁটিগুলোকে লক্ষ্য করে ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালানোর দাবি করেছে।

কুয়েতের সেনাবাহিনী জানিয়েছে, আবাসিক এলাকার ওপর দিয়ে উড়ে যাওয়া সাতটি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিহত করা হয়েছে। এতে কিছু স্থাপনার ক্ষতি হলেও কোনো প্রাণহানি ঘটেনি। বাহরাইনেও সতর্কতা সাইরেন বাজানো হয় এবং বাসিন্দাদের নিরাপদ আশ্রয়ে যেতে বলা হয়।

Daily life in Teheran

শান্তি আলোচনায় অচলাবস্থা

যুদ্ধ থামাতে অন্তর্বর্তী সমঝোতার বিষয়ে পরোক্ষ আলোচনা চললেও এখন পর্যন্ত উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি হয়নি। ইরান চাইছে তাদের তেল রপ্তানি থেকে অর্জিত বিপুল অর্থে প্রবেশাধিকার, নিষেধাজ্ঞা শিথিলকরণ এবং বন্দর অবরোধ প্রত্যাহার।

অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্র ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি ও আঞ্চলিক নিরাপত্তা ইস্যুকে সামনে রেখে আলোচনায় চাপ বজায় রাখছে।

তেহরানে পাকিস্তানের বিশেষ বার্তা

এ পরিস্থিতিতে পাকিস্তানের একজন জ্যেষ্ঠ মন্ত্রী তেহরান সফর করেছেন। তিনি ইরানের সর্বোচ্চ নেতার কাছে পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী ও সেনাপ্রধানের একটি বিশেষ বার্তা পৌঁছে দিয়েছেন বলে জানা গেছে। পর্যবেক্ষকদের মতে, চলমান সংকট নিরসনে মধ্যস্থতার প্রচেষ্টা জোরদার করতেই এই সফর।

আঞ্চলিক সংঘাতও বাড়াচ্ছে উদ্বেগ

একই সময়ে লেবাননেও উত্তেজনা অব্যাহত রয়েছে। সেখানে সামরিক হামলায় কয়েকজন সেনাসদস্য নিহত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে। ইরান ইতোমধ্যে জানিয়েছে, লেবাননে সংঘাত কমানোর বিষয়টিও ওয়াশিংটনের সঙ্গে সম্ভাব্য বৃহত্তর শান্তি সমঝোতার অংশ হওয়া উচিত।

বিশ্লেষকদের মতে, ইরানের সম্পদ পুনর্নির্দেশের পরিকল্পনা বাস্তবায়নের চেষ্টা হলে তা শুধু যুক্তরাষ্ট্র-ইরান সম্পর্কেই নয়, পুরো মধ্যপ্রাচ্যের নিরাপত্তা পরিস্থিতিতেও নতুন অনিশ্চয়তা তৈরি করতে পারে। একই সঙ্গে তেলের দাম, জ্বালানি বাজার এবং বৈশ্বিক সরবরাহ ব্যবস্থার ওপরও এর প্রভাব পড়ার আশঙ্কা রয়েছে।

জনপ্রিয় সংবাদ

চীনের উপকূলে তিমির খোঁজে ভূমিকম্প পর্যবেক্ষণ যন্ত্র, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার নতুন সাফল্য

ইরানের সম্পদ ব্যবহার করে উপসাগরীয় মিত্রদের ক্ষতিপূরণে যুক্তরাষ্ট্রের পরিকল্পনা, বাড়ছে নতুন উত্তেজনা

০১:০৭:১২ অপরাহ্ন, রবিবার, ৭ জুন ২০২৬

ইরানের বিরুদ্ধে চলমান সংঘাতের মধ্যেই দেশটির সম্পদ ব্যবহার করে উপসাগরীয় মিত্র দেশগুলোর যুদ্ধক্ষতির পুনর্গঠন ও মেরামত ব্যয়ের অর্থ জোগানোর পরিকল্পনা করছে যুক্তরাষ্ট্র। এমন একটি পদক্ষেপ বাস্তবায়িত হলে ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যে চলমান নাজুক যুদ্ধবিরতি আরও চাপের মুখে পড়তে পারে বলে মনে করা হচ্ছে।

সম্প্রতি কুয়েত ও বাহরাইনের ওপর ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলার পর যুক্তরাষ্ট্র এই উদ্যোগ নিয়ে কাজ শুরু করেছে। যুক্তরাষ্ট্রের অর্থ মন্ত্রণালয় ইতোমধ্যে মিত্র দেশগুলোর ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ মূল্যায়নের প্রক্রিয়া শুরু করেছে বলে জানা গেছে।

ক্ষয়ক্ষতির হিসাব করছে ওয়াশিংটন

যুক্তরাষ্ট্রের পরিকল্পনা অনুযায়ী, ইতোমধ্যে হওয়া ক্ষয়ক্ষতির পাশাপাশি ভবিষ্যতে ইরানের হামলায় সৃষ্ট ধ্বংসযজ্ঞের ক্ষেত্রেও দেশটির সম্পদ ব্যবহার করার বিষয়টি বিবেচনায় রাখা হচ্ছে। তবে কোন ধরনের সম্পদ ব্যবহার করা হবে, সে বিষয়ে এখনো স্পষ্ট কোনো তথ্য প্রকাশ করা হয়নি।

এর আগে ইরানের সর্বোচ্চ নেতার একজন উপদেষ্টা জানিয়েছিলেন, যুক্তরাষ্ট্রে আটকে থাকা প্রায় ২৪ বিলিয়ন ডলারের ইরানি সম্পদ মুক্তির বিষয়টি যুদ্ধ অবসানের সম্ভাব্য চুক্তির অন্যতম শর্ত।

যুদ্ধবিরতির মধ্যেও হামলা-পাল্টা হামলা

তিন মাস ধরে চলা সংঘাত থামাতে আলোচনা চললেও পরিস্থিতি এখনো অস্থির। সপ্তাহান্তে উভয় পক্ষের সামরিক তৎপরতা নতুন করে উত্তেজনা বাড়িয়েছে।

যুক্তরাষ্ট্র জানিয়েছে, হরমুজ প্রণালিতে নৌ চলাচলের জন্য হুমকি হয়ে ওঠা কয়েকটি ইরানি ড্রোন ভূপাতিত করা হয়েছে। এর জবাবে ইরান কুয়েত ও বাহরাইনে অবস্থিত মার্কিন ঘাঁটিগুলোকে লক্ষ্য করে ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালানোর দাবি করেছে।

কুয়েতের সেনাবাহিনী জানিয়েছে, আবাসিক এলাকার ওপর দিয়ে উড়ে যাওয়া সাতটি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিহত করা হয়েছে। এতে কিছু স্থাপনার ক্ষতি হলেও কোনো প্রাণহানি ঘটেনি। বাহরাইনেও সতর্কতা সাইরেন বাজানো হয় এবং বাসিন্দাদের নিরাপদ আশ্রয়ে যেতে বলা হয়।

Daily life in Teheran

শান্তি আলোচনায় অচলাবস্থা

যুদ্ধ থামাতে অন্তর্বর্তী সমঝোতার বিষয়ে পরোক্ষ আলোচনা চললেও এখন পর্যন্ত উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি হয়নি। ইরান চাইছে তাদের তেল রপ্তানি থেকে অর্জিত বিপুল অর্থে প্রবেশাধিকার, নিষেধাজ্ঞা শিথিলকরণ এবং বন্দর অবরোধ প্রত্যাহার।

অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্র ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি ও আঞ্চলিক নিরাপত্তা ইস্যুকে সামনে রেখে আলোচনায় চাপ বজায় রাখছে।

তেহরানে পাকিস্তানের বিশেষ বার্তা

এ পরিস্থিতিতে পাকিস্তানের একজন জ্যেষ্ঠ মন্ত্রী তেহরান সফর করেছেন। তিনি ইরানের সর্বোচ্চ নেতার কাছে পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী ও সেনাপ্রধানের একটি বিশেষ বার্তা পৌঁছে দিয়েছেন বলে জানা গেছে। পর্যবেক্ষকদের মতে, চলমান সংকট নিরসনে মধ্যস্থতার প্রচেষ্টা জোরদার করতেই এই সফর।

আঞ্চলিক সংঘাতও বাড়াচ্ছে উদ্বেগ

একই সময়ে লেবাননেও উত্তেজনা অব্যাহত রয়েছে। সেখানে সামরিক হামলায় কয়েকজন সেনাসদস্য নিহত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে। ইরান ইতোমধ্যে জানিয়েছে, লেবাননে সংঘাত কমানোর বিষয়টিও ওয়াশিংটনের সঙ্গে সম্ভাব্য বৃহত্তর শান্তি সমঝোতার অংশ হওয়া উচিত।

বিশ্লেষকদের মতে, ইরানের সম্পদ পুনর্নির্দেশের পরিকল্পনা বাস্তবায়নের চেষ্টা হলে তা শুধু যুক্তরাষ্ট্র-ইরান সম্পর্কেই নয়, পুরো মধ্যপ্রাচ্যের নিরাপত্তা পরিস্থিতিতেও নতুন অনিশ্চয়তা তৈরি করতে পারে। একই সঙ্গে তেলের দাম, জ্বালানি বাজার এবং বৈশ্বিক সরবরাহ ব্যবস্থার ওপরও এর প্রভাব পড়ার আশঙ্কা রয়েছে।