০৩:২৯ অপরাহ্ন, রবিবার, ০৭ জুন ২০২৬
সিমোন বাইলসের জীবনসংকট! ‘প্রায় মারা যাচ্ছিলাম’—ভয়াবহ অভিজ্ঞতার কথা জানালেন জিমন্যাস্টিক্স কিংবদন্তি ইন্টেল ম্যাকের যুগ কি শেষ? কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাকেন্দ্রিক নতুন পথে এগোচ্ছে অ্যাপল জোহর নির্বাচনে আমানত হারাতে না দেওয়াই লক্ষ্য, বললেন রাফিজি ফ্রান্সের নেতৃত্বে ইসরায়েলের ওপর নতুন চাপ, পশ্চিম তীরের সহিংসতায় জাতীয় নিষেধাজ্ঞার পথে কয়েক দেশ ঋতুপর্ণা শুধু বাংলাদেশের নয়, পুরো এশিয়ার অনুপ্রেরণা: ভারত কোচের প্রশংসায় ভাসলেন তারকা ফুটবলার অলিভিয়া রদ্রিগোর নতুন গানে ভাঙল পুরোনো রীতি, প্রথমবার সহযোগিতায় রবার্ট স্মিথ পেন্টাগনের উদ্বেগ, যুক্তরাষ্ট্রে ইসরায়েলি গোয়েন্দা তৎপরতা নিয়ে নতুন বিতর্ক ইন্দোনেশিয়ার প্রবৃদ্ধি পূর্বাভাস কমাল ওইসিডি, জ্বালানি ব্যয় ও নীতিগত অনিশ্চয়তায় শঙ্কা উত্তরখানে গ্যাস সিলিন্ডার বিস্ফোরণ: দগ্ধ স্বামীর মৃত্যু, আইসিইউতে স্ত্রী ও মেয়ে পাকিস্তানে ছোট ব্যবসায়ীদের করজালে আনতে নতুন উদ্যোগ, চালু হচ্ছে ‘ফিক্সড ট্যাক্স আসান স্কিম’

তামিলনাড়ুতে ৪৩৬ নতুন প্রকল্প ঘোষণা, মাদকমুক্ত রাজ্য গড়াকে অগ্রাধিকার দিলেন মুখ্যমন্ত্রী বিজয়

তামিলনাড়ুর নতুন সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর প্রথম মন্ত্রিসভা বৈঠকেই উন্নয়ন, যুবসমাজ, নারীকল্যাণ এবং মাদকবিরোধী কর্মসূচিকে সামনে রেখে ৪৩৬টি নতুন প্রকল্প ঘোষণা করা হয়েছে। মুখ্যমন্ত্রী সি জোসেফ বিজয়ের নেতৃত্বে অনুষ্ঠিত এই বৈঠকে বিভিন্ন বিভাগের কাজের লক্ষ্য ও বাস্তবায়ন কৌশল নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়।

শুক্রবার সচিবালয়ে অনুষ্ঠিত বৈঠকটি এক ঘণ্টারও বেশি সময় ধরে চলে। বৈঠক শেষে জ্বালানি সম্পদ ও আইনমন্ত্রী সিটিআর নির্মল কুমার জানান, রাজ্যের বিভিন্ন দপ্তরের জন্য নির্দিষ্ট লক্ষ্য নির্ধারণ করে মোট ৪৩৬টি প্রকল্প অনুমোদন ও বরাদ্দ দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী।

যুব ও নারীদের উন্নয়নে জোর

সরকারের নতুন কর্মপরিকল্পনায় যুবসমাজের ক্ষমতায়ন, নারীদের কল্যাণ, জেলে সম্প্রদায়ের উন্নয়ন এবং মাদকমুক্ত তামিলনাড়ু গড়ার বিষয়গুলো বিশেষ গুরুত্ব পেয়েছে। মন্ত্রী বলেন, প্রতিটি দপ্তরকে নির্দিষ্ট লক্ষ্য অনুযায়ী কাজ করতে হবে এবং প্রকল্পগুলোর দ্রুত বাস্তবায়নের জন্য সুস্পষ্ট কর্মপরিকল্পনা তৈরি করা হবে।

তিনি জানান, এখন সংশ্লিষ্ট মন্ত্রীরা নিজেদের দপ্তরের কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠক করে বিস্তারিত রূপরেখা প্রস্তুত করবেন। সেই পরিকল্পনার ভিত্তিতেই প্রকল্প বাস্তবায়নের সময়সূচি ও কার্যক্রম নির্ধারণ করা হবে।

প্রতিটি দপ্তরের জন্য নির্দিষ্ট লক্ষ্য

নির্মল কুমারের ভাষ্য অনুযায়ী, মুখ্যমন্ত্রী প্রতিটি বিভাগের জন্য আলাদা লক্ষ্য নির্ধারণ করেছেন। শুধু প্রকল্প ঘোষণা নয়, সেগুলো কীভাবে দ্রুত বাস্তবায়ন করা হবে, সে বিষয়েও স্পষ্ট নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।

সরকারের দাবি, প্রশাসনের বিভিন্ন স্তরে সমন্বয় বাড়িয়ে প্রকল্প বাস্তবায়নের গতি ত্বরান্বিত করা হবে। এ জন্য বিভাগভিত্তিক পর্যালোচনা ও অগ্রগতি মূল্যায়নের ব্যবস্থাও রাখা হবে।

মাদকবিরোধী অভিযানে কঠোর অবস্থান

মাদকবিরোধী পদক্ষেপ নিয়ে প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী জানান, ইতোমধ্যে সরকারি নিয়ন্ত্রণাধীন ৭১৭টি মদের দোকান বন্ধ করা হয়েছে। তিনি বলেন, সরকারের চূড়ান্ত লক্ষ্য হলো একটি সম্পূর্ণ মাদকমুক্ত তামিলনাড়ু গড়ে তোলা।

তার দাবি, গত পাঁচ বছরে গাঁজা থেকে শুরু করে মেথামফেটামিনসহ বিভিন্ন ধরনের মাদকের বিস্তার ব্যাপক আকার ধারণ করেছিল। সেই পরিস্থিতি মোকাবিলায় পুলিশকে কঠোর নির্দেশ দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী।

নিষিদ্ধ পণ্যের বিরুদ্ধেও অভিযান

মন্ত্রী আরও জানান, গুটখা বিক্রির সঙ্গে জড়িত দোকানগুলোর বিরুদ্ধেও কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। শুধু মাদুরাই শহরেই এক সপ্তাহের মধ্যে নিষিদ্ধ গুটখা বিক্রির অভিযোগে ২৪টির বেশি দোকান সিলগালা করা হয়েছে।

এ ছাড়া সিনথেটিক মাদক বিক্রির সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে কঠোর আইন প্রয়োগ করা হচ্ছে। বিশেষ করে গুণ্ডা আইনের আওতায় অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার বিষয়টিও সক্রিয়ভাবে ব্যবহার করা হচ্ছে বলে জানান তিনি।

নতুন সরকারের প্রথম মন্ত্রিসভা বৈঠক থেকেই উন্নয়ন কর্মসূচি ও মাদকবিরোধী অবস্থানকে সমান গুরুত্ব দেওয়ার বার্তা স্পষ্টভাবে উঠে এসেছে। এখন নজর থাকবে ঘোষিত ৪৩৬টি প্রকল্প কত দ্রুত বাস্তবায়নের পথে এগোয় এবং মাদকমুক্ত তামিলনাড়ুর লক্ষ্য অর্জনে সরকার কতটা সফল হয়।

জনপ্রিয় সংবাদ

সিমোন বাইলসের জীবনসংকট! ‘প্রায় মারা যাচ্ছিলাম’—ভয়াবহ অভিজ্ঞতার কথা জানালেন জিমন্যাস্টিক্স কিংবদন্তি

তামিলনাড়ুতে ৪৩৬ নতুন প্রকল্প ঘোষণা, মাদকমুক্ত রাজ্য গড়াকে অগ্রাধিকার দিলেন মুখ্যমন্ত্রী বিজয়

০১:২২:৪৬ অপরাহ্ন, রবিবার, ৭ জুন ২০২৬

তামিলনাড়ুর নতুন সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর প্রথম মন্ত্রিসভা বৈঠকেই উন্নয়ন, যুবসমাজ, নারীকল্যাণ এবং মাদকবিরোধী কর্মসূচিকে সামনে রেখে ৪৩৬টি নতুন প্রকল্প ঘোষণা করা হয়েছে। মুখ্যমন্ত্রী সি জোসেফ বিজয়ের নেতৃত্বে অনুষ্ঠিত এই বৈঠকে বিভিন্ন বিভাগের কাজের লক্ষ্য ও বাস্তবায়ন কৌশল নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়।

শুক্রবার সচিবালয়ে অনুষ্ঠিত বৈঠকটি এক ঘণ্টারও বেশি সময় ধরে চলে। বৈঠক শেষে জ্বালানি সম্পদ ও আইনমন্ত্রী সিটিআর নির্মল কুমার জানান, রাজ্যের বিভিন্ন দপ্তরের জন্য নির্দিষ্ট লক্ষ্য নির্ধারণ করে মোট ৪৩৬টি প্রকল্প অনুমোদন ও বরাদ্দ দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী।

যুব ও নারীদের উন্নয়নে জোর

সরকারের নতুন কর্মপরিকল্পনায় যুবসমাজের ক্ষমতায়ন, নারীদের কল্যাণ, জেলে সম্প্রদায়ের উন্নয়ন এবং মাদকমুক্ত তামিলনাড়ু গড়ার বিষয়গুলো বিশেষ গুরুত্ব পেয়েছে। মন্ত্রী বলেন, প্রতিটি দপ্তরকে নির্দিষ্ট লক্ষ্য অনুযায়ী কাজ করতে হবে এবং প্রকল্পগুলোর দ্রুত বাস্তবায়নের জন্য সুস্পষ্ট কর্মপরিকল্পনা তৈরি করা হবে।

তিনি জানান, এখন সংশ্লিষ্ট মন্ত্রীরা নিজেদের দপ্তরের কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠক করে বিস্তারিত রূপরেখা প্রস্তুত করবেন। সেই পরিকল্পনার ভিত্তিতেই প্রকল্প বাস্তবায়নের সময়সূচি ও কার্যক্রম নির্ধারণ করা হবে।

প্রতিটি দপ্তরের জন্য নির্দিষ্ট লক্ষ্য

নির্মল কুমারের ভাষ্য অনুযায়ী, মুখ্যমন্ত্রী প্রতিটি বিভাগের জন্য আলাদা লক্ষ্য নির্ধারণ করেছেন। শুধু প্রকল্প ঘোষণা নয়, সেগুলো কীভাবে দ্রুত বাস্তবায়ন করা হবে, সে বিষয়েও স্পষ্ট নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।

সরকারের দাবি, প্রশাসনের বিভিন্ন স্তরে সমন্বয় বাড়িয়ে প্রকল্প বাস্তবায়নের গতি ত্বরান্বিত করা হবে। এ জন্য বিভাগভিত্তিক পর্যালোচনা ও অগ্রগতি মূল্যায়নের ব্যবস্থাও রাখা হবে।

মাদকবিরোধী অভিযানে কঠোর অবস্থান

মাদকবিরোধী পদক্ষেপ নিয়ে প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী জানান, ইতোমধ্যে সরকারি নিয়ন্ত্রণাধীন ৭১৭টি মদের দোকান বন্ধ করা হয়েছে। তিনি বলেন, সরকারের চূড়ান্ত লক্ষ্য হলো একটি সম্পূর্ণ মাদকমুক্ত তামিলনাড়ু গড়ে তোলা।

তার দাবি, গত পাঁচ বছরে গাঁজা থেকে শুরু করে মেথামফেটামিনসহ বিভিন্ন ধরনের মাদকের বিস্তার ব্যাপক আকার ধারণ করেছিল। সেই পরিস্থিতি মোকাবিলায় পুলিশকে কঠোর নির্দেশ দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী।

নিষিদ্ধ পণ্যের বিরুদ্ধেও অভিযান

মন্ত্রী আরও জানান, গুটখা বিক্রির সঙ্গে জড়িত দোকানগুলোর বিরুদ্ধেও কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। শুধু মাদুরাই শহরেই এক সপ্তাহের মধ্যে নিষিদ্ধ গুটখা বিক্রির অভিযোগে ২৪টির বেশি দোকান সিলগালা করা হয়েছে।

এ ছাড়া সিনথেটিক মাদক বিক্রির সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে কঠোর আইন প্রয়োগ করা হচ্ছে। বিশেষ করে গুণ্ডা আইনের আওতায় অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার বিষয়টিও সক্রিয়ভাবে ব্যবহার করা হচ্ছে বলে জানান তিনি।

নতুন সরকারের প্রথম মন্ত্রিসভা বৈঠক থেকেই উন্নয়ন কর্মসূচি ও মাদকবিরোধী অবস্থানকে সমান গুরুত্ব দেওয়ার বার্তা স্পষ্টভাবে উঠে এসেছে। এখন নজর থাকবে ঘোষিত ৪৩৬টি প্রকল্প কত দ্রুত বাস্তবায়নের পথে এগোয় এবং মাদকমুক্ত তামিলনাড়ুর লক্ষ্য অর্জনে সরকার কতটা সফল হয়।