পশ্চিমবঙ্গে তৃণমূল কংগ্রেসের নেতাদের লক্ষ্য করে ডিম নিক্ষেপের ঘটনায় নতুন করে যুক্ত হলো কামারহাটির বিধায়ক মদন মিত্রের নাম। শনিবার রাতে উত্তর ২৪ পরগনার আরিয়াদহ এলাকায় তার গাড়িকে লক্ষ্য করে একদল ব্যক্তি ডিম ছোড়ে বলে জানা গেছে। ঘটনাটি নিয়ে রাজনৈতিক মহলে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে।
ঘটনার সময় গাড়িতে ছিলেন না মদন মিত্র
ঘটনার পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওতে দেখা যায়, কয়েকজন ব্যক্তি দৌড়ে এসে একটি গাড়িকে ঘিরে ফেলে এবং তাতে ডিম নিক্ষেপ করে। পাশাপাশি গাড়ির জানালার কাচেও আঘাত করা হয়। পরে দ্রুত গাড়িটি ঘটনাস্থল ত্যাগ করে। কিছু লোক গাড়িটির পিছু নেওয়ার চেষ্টা করলেও সফল হয়নি।
তবে মদন মিত্র পরে স্পষ্ট করেন, ঘটনার সময় তিনি গাড়ির ভেতরে ছিলেন না। তার দাবি, এটি ছিল পূর্বপরিকল্পিত রাজনৈতিক বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির চেষ্টা।
রাজনৈতিক প্রতিক্রিয়া
ঘটনার পর বিজেপির পক্ষ থেকেও প্রতিক্রিয়া জানানো হয়েছে। দলের সাংসদ রাজু বিস্তা বলেন, বিজেপি কোনো ধরনের সহিংসতাকে সমর্থন করে না। তবে তার মতে, দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক ক্ষোভ ও জনঅসন্তোষের বহিঃপ্রকাশ হিসেবে অনেক স্থানে মানুষের প্রতিক্রিয়া দেখা যাচ্ছে।
তিনি দাবি করেন, পশ্চিমবঙ্গের মানুষ অতীতের নানা অভিযোগ ও অসন্তোষের কারণে ক্ষুব্ধ। একই সঙ্গে তিনি বলেন, কোনো অভিযোগ থাকলে আইনগত প্রক্রিয়ার মাধ্যমে তা সমাধান হওয়া উচিত এবং পুলিশ প্রশাসন প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেবে।
নির্বাচনের পর থেকে বাড়ছে এমন ঘটনা
২০২৬ সালের পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচনে তৃণমূল কংগ্রেস ক্ষমতা হারানোর পর থেকেই দলটির নেতাদের বিরুদ্ধে ডিম নিক্ষেপের একাধিক ঘটনা ঘটেছে।
গত ২৮ মে প্রথম আলোচনায় আসে তৃণমূলের জ্যেষ্ঠ নেতা ও লোকসভা সদস্য সৌগত রায়কে ঘিরে একটি ঘটনা। উত্তর ২৪ পরগনার নিমতা থানার বাইরে তাকে লক্ষ্য করে ডিম নিক্ষেপ করা হয় বলে অভিযোগ ওঠে।
এর দুই দিন পর দক্ষিণ ২৪ পরগনার সোনারপুরে তৃণমূলের সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ও একই ধরনের ঘটনার মুখোমুখি হন। নির্বাচনের পর সহিংসতায় ক্ষতিগ্রস্ত দলীয় কর্মীদের পরিবারের সঙ্গে দেখা করতে গেলে তার নিরাপত্তা বলয় ভেঙে একদল মানুষ তাকে ঘিরে ফেলে। অভিযোগ রয়েছে, সেখানে তার দিকে কাঁচা ডিম ও ইটও ছোড়া হয় এবং তার পোশাকও ছিঁড়ে ফেলা হয়।
নিরাপত্তা ও রাজনৈতিক উত্তেজনা নিয়ে প্রশ্ন
ক্রমাগত তৃণমূল নেতাদের লক্ষ্য করে এ ধরনের ঘটনা ঘটায় পশ্চিমবঙ্গের রাজনৈতিক পরিবেশ ও নিরাপত্তা পরিস্থিতি নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠছে। বিশেষ করে নির্বাচন-পরবর্তী সময়ে রাজনৈতিক উত্তেজনা যে এখনও প্রশমিত হয়নি, সাম্প্রতিক ঘটনাগুলো সেই ইঙ্গিতই দিচ্ছে।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 



















