০৪:২৪ অপরাহ্ন, রবিবার, ০৭ জুন ২০২৬
লুইস এনরিকে: চ্যাম্পিয়ন্স লিগের মহাতারকাদের কাতারে, তবু পিএসজি অধ্যায় নিয়ে রয়ে গেছে বিতর্ক বোটক্স থেকে লেজার: সেলুনে ঝুঁকিপূর্ণ সৌন্দর্য চিকিৎসা নিয়ে বাড়ছে উদ্বেগ টিউনার: পিয়ানো সুর থেকে সিন্দুক ভাঙা, এক ব্যতিক্রমী অপরাধ-রোমাঞ্চের গল্প বিটকয়েনে বড় ধস, বিনিয়োগকারীদের উদ্বেগ বাড়ছে সিমোন বাইলসের জীবনসংকট! ‘প্রায় মারা যাচ্ছিলাম’—ভয়াবহ অভিজ্ঞতার কথা জানালেন জিমন্যাস্টিক্স কিংবদন্তি ইন্টেল ম্যাকের যুগ কি শেষ? কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাকেন্দ্রিক নতুন পথে এগোচ্ছে অ্যাপল জোহর নির্বাচনে আমানত হারাতে না দেওয়াই লক্ষ্য, বললেন রাফিজি ফ্রান্সের নেতৃত্বে ইসরায়েলের ওপর নতুন চাপ, পশ্চিম তীরের সহিংসতায় জাতীয় নিষেধাজ্ঞার পথে কয়েক দেশ ঋতুপর্ণা শুধু বাংলাদেশের নয়, পুরো এশিয়ার অনুপ্রেরণা: ভারত কোচের প্রশংসায় ভাসলেন তারকা ফুটবলার অলিভিয়া রদ্রিগোর নতুন গানে ভাঙল পুরোনো রীতি, প্রথমবার সহযোগিতায় রবার্ট স্মিথ

চীনের উপকূলে তিমির খোঁজে ভূমিকম্প পর্যবেক্ষণ যন্ত্র, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার নতুন সাফল্য

সামুদ্রিক প্রাণী সংরক্ষণ ও গবেষণায় নতুন সম্ভাবনার দ্বার খুলে দিয়েছে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা। দক্ষিণ চীনের গুয়াংসি ঝুয়াং স্বায়ত্তশাসিত অঞ্চলের গবেষকেরা ভূমিকম্প পর্যবেক্ষণে ব্যবহৃত যন্ত্রপাতিকে রূপান্তর করেছেন একটি স্বল্প ব্যয়ী ‘সামুদ্রিক স্টেথোস্কোপে’, যা বিপন্ন তিমির শব্দ শনাক্ত করতে সক্ষম।

গবেষণায় দেখা গেছে, দ্বীপভিত্তিক সিসমোমিটার বা ভূকম্পন মাপার যন্ত্রের সঙ্গে ডিপ লার্নিং প্রযুক্তি যুক্ত করে দক্ষিণ চীন সাগরের বেইবু উপসাগরে ব্রাইডস তিমির স্বল্প-কম্পাঙ্কের ডাক শনাক্ত ও বিশ্লেষণ করা সম্ভব হয়েছে। এর মাধ্যমে গবেষকেরা জানতে পেরেছেন, এই তিমিগুলো উপকূলীয় এলাকায় পূর্বধারণার চেয়ে দীর্ঘ সময় অবস্থান করে এবং সেখানে প্রজনন কার্যক্রমও চালিয়ে যায়।

গবেষণার নতুন দিগন্ত

‘জিওফিজিক্যাল রিসার্চ লেটার্স’ সাময়িকীতে প্রকাশিত গবেষণাটি পরিচালনা করেন গুয়াংসি মিনজু বিশ্ববিদ্যালয়ের সহযোগী অধ্যাপক শিয়াও ঝুও। গবেষণা দলের তৈরি কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাভিত্তিক মডেলকে ১৭ লাখেরও বেশি লেবেলযুক্ত ভূকম্পন নমুনার মাধ্যমে প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়।

বেইহাই শহরের কাছে শিয়েয়াং দ্বীপ সংলগ্ন এলাকায় এক বছরের তথ্য বিশ্লেষণ করে এই মডেল ব্রাইডস তিমির ডাক ৯৯ শতাংশ নির্ভুলতায় শনাক্ত করতে সক্ষম হয়েছে। গবেষকেরা বলছেন, এত উচ্চমাত্রার নির্ভুলতা সামুদ্রিক প্রাণী পর্যবেক্ষণে প্রযুক্তিটির কার্যকারিতা প্রমাণ করে।

মানুষের শ্রবণসীমার নিচের শব্দও ধরা পড়ছে

গবেষণায় শনাক্ত হওয়া তিমির কিছু শব্দের কম্পাঙ্ক ছিল মাত্র ৫ হার্টজ, যা মানুষের শ্রবণসীমার অনেক নিচে। এমনকি প্রচলিত অনেক জলতল শব্দগ্রাহক যন্ত্রের পক্ষেও এসব সংকেত শনাক্ত করা কঠিন।

গবেষকেরা দেখতে পান, তিমির এই নিম্ন-কম্পাঙ্কের শব্দ সমুদ্রতল দিয়ে ছড়িয়ে পড়ে ক্ষুদ্র ভূকম্পনের মতো সংকেত তৈরি করে, যা স্থলভিত্তিক সিসমোমিটার শনাক্ত করতে পারে। এসব শব্দের মধ্যে প্রজনন বা সঙ্গী আকর্ষণের আচরণের ইঙ্গিতও থাকতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

আগের ধারণার সঙ্গে মিলছে না নতুন তথ্য

সংগৃহীত তথ্য অনুযায়ী, ২০২১ সালের জানুয়ারি থেকে জুলাই পর্যন্ত বেইবু উপসাগরে ব্রাইডস তিমির উপস্থিতি পাওয়া গেছে। অথচ আগের জরিপগুলোতে ধারণা করা হয়েছিল যে তারা এপ্রিলের পর এলাকা ছেড়ে চলে যায়।

গবেষণার ফলাফলের সঙ্গে স্থানীয় জেলেদের পর্যবেক্ষণও মিলেছে। তারাও জুলাই মাসে তিমি দেখার তথ্য দিয়েছেন। ফলে এই প্রজাতির আবাসস্থল ও মৌসুমি চলাচল সম্পর্কে নতুন ধারণা তৈরি হচ্ছে।

সংরক্ষণে ব্যয়সাশ্রয়ী প্রযুক্তি

বিজ্ঞানীরা মনে করছেন, স্থলভিত্তিক সিসমোমিটার ব্যবহার করে দীর্ঘমেয়াদি ও ধারাবাহিক পর্যবেক্ষণ চালানো তুলনামূলকভাবে কম খরচের একটি উপায়। এর মাধ্যমে তিমির চলাচল, প্রজনন এবং আবাসস্থল সম্পর্কে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য সংগ্রহ করা সম্ভব হবে।

বর্তমানে বেইবু উপসাগর অঞ্চলে ৭০টির বেশি সনাক্তকৃত ব্রাইডস তিমি রয়েছে। গবেষকেরা আশা করছেন, নতুন এই প্রযুক্তি তাদের সংরক্ষণ প্রচেষ্টাকে আরও কার্যকর করবে এবং বিপন্ন সামুদ্রিক প্রাণী রক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

জনপ্রিয় সংবাদ

লুইস এনরিকে: চ্যাম্পিয়ন্স লিগের মহাতারকাদের কাতারে, তবু পিএসজি অধ্যায় নিয়ে রয়ে গেছে বিতর্ক

চীনের উপকূলে তিমির খোঁজে ভূমিকম্প পর্যবেক্ষণ যন্ত্র, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার নতুন সাফল্য

০২:৩৬:৪৪ অপরাহ্ন, রবিবার, ৭ জুন ২০২৬

সামুদ্রিক প্রাণী সংরক্ষণ ও গবেষণায় নতুন সম্ভাবনার দ্বার খুলে দিয়েছে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা। দক্ষিণ চীনের গুয়াংসি ঝুয়াং স্বায়ত্তশাসিত অঞ্চলের গবেষকেরা ভূমিকম্প পর্যবেক্ষণে ব্যবহৃত যন্ত্রপাতিকে রূপান্তর করেছেন একটি স্বল্প ব্যয়ী ‘সামুদ্রিক স্টেথোস্কোপে’, যা বিপন্ন তিমির শব্দ শনাক্ত করতে সক্ষম।

গবেষণায় দেখা গেছে, দ্বীপভিত্তিক সিসমোমিটার বা ভূকম্পন মাপার যন্ত্রের সঙ্গে ডিপ লার্নিং প্রযুক্তি যুক্ত করে দক্ষিণ চীন সাগরের বেইবু উপসাগরে ব্রাইডস তিমির স্বল্প-কম্পাঙ্কের ডাক শনাক্ত ও বিশ্লেষণ করা সম্ভব হয়েছে। এর মাধ্যমে গবেষকেরা জানতে পেরেছেন, এই তিমিগুলো উপকূলীয় এলাকায় পূর্বধারণার চেয়ে দীর্ঘ সময় অবস্থান করে এবং সেখানে প্রজনন কার্যক্রমও চালিয়ে যায়।

গবেষণার নতুন দিগন্ত

‘জিওফিজিক্যাল রিসার্চ লেটার্স’ সাময়িকীতে প্রকাশিত গবেষণাটি পরিচালনা করেন গুয়াংসি মিনজু বিশ্ববিদ্যালয়ের সহযোগী অধ্যাপক শিয়াও ঝুও। গবেষণা দলের তৈরি কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাভিত্তিক মডেলকে ১৭ লাখেরও বেশি লেবেলযুক্ত ভূকম্পন নমুনার মাধ্যমে প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়।

বেইহাই শহরের কাছে শিয়েয়াং দ্বীপ সংলগ্ন এলাকায় এক বছরের তথ্য বিশ্লেষণ করে এই মডেল ব্রাইডস তিমির ডাক ৯৯ শতাংশ নির্ভুলতায় শনাক্ত করতে সক্ষম হয়েছে। গবেষকেরা বলছেন, এত উচ্চমাত্রার নির্ভুলতা সামুদ্রিক প্রাণী পর্যবেক্ষণে প্রযুক্তিটির কার্যকারিতা প্রমাণ করে।

মানুষের শ্রবণসীমার নিচের শব্দও ধরা পড়ছে

গবেষণায় শনাক্ত হওয়া তিমির কিছু শব্দের কম্পাঙ্ক ছিল মাত্র ৫ হার্টজ, যা মানুষের শ্রবণসীমার অনেক নিচে। এমনকি প্রচলিত অনেক জলতল শব্দগ্রাহক যন্ত্রের পক্ষেও এসব সংকেত শনাক্ত করা কঠিন।

গবেষকেরা দেখতে পান, তিমির এই নিম্ন-কম্পাঙ্কের শব্দ সমুদ্রতল দিয়ে ছড়িয়ে পড়ে ক্ষুদ্র ভূকম্পনের মতো সংকেত তৈরি করে, যা স্থলভিত্তিক সিসমোমিটার শনাক্ত করতে পারে। এসব শব্দের মধ্যে প্রজনন বা সঙ্গী আকর্ষণের আচরণের ইঙ্গিতও থাকতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

আগের ধারণার সঙ্গে মিলছে না নতুন তথ্য

সংগৃহীত তথ্য অনুযায়ী, ২০২১ সালের জানুয়ারি থেকে জুলাই পর্যন্ত বেইবু উপসাগরে ব্রাইডস তিমির উপস্থিতি পাওয়া গেছে। অথচ আগের জরিপগুলোতে ধারণা করা হয়েছিল যে তারা এপ্রিলের পর এলাকা ছেড়ে চলে যায়।

গবেষণার ফলাফলের সঙ্গে স্থানীয় জেলেদের পর্যবেক্ষণও মিলেছে। তারাও জুলাই মাসে তিমি দেখার তথ্য দিয়েছেন। ফলে এই প্রজাতির আবাসস্থল ও মৌসুমি চলাচল সম্পর্কে নতুন ধারণা তৈরি হচ্ছে।

সংরক্ষণে ব্যয়সাশ্রয়ী প্রযুক্তি

বিজ্ঞানীরা মনে করছেন, স্থলভিত্তিক সিসমোমিটার ব্যবহার করে দীর্ঘমেয়াদি ও ধারাবাহিক পর্যবেক্ষণ চালানো তুলনামূলকভাবে কম খরচের একটি উপায়। এর মাধ্যমে তিমির চলাচল, প্রজনন এবং আবাসস্থল সম্পর্কে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য সংগ্রহ করা সম্ভব হবে।

বর্তমানে বেইবু উপসাগর অঞ্চলে ৭০টির বেশি সনাক্তকৃত ব্রাইডস তিমি রয়েছে। গবেষকেরা আশা করছেন, নতুন এই প্রযুক্তি তাদের সংরক্ষণ প্রচেষ্টাকে আরও কার্যকর করবে এবং বিপন্ন সামুদ্রিক প্রাণী রক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।