ইন্দোনেশিয়ার অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির পূর্বাভাস কমিয়েছে অর্থনৈতিক সহযোগিতা ও উন্নয়ন সংস্থা (ওইসিডি)। সংস্থাটির সর্বশেষ অর্থনৈতিক পূর্বাভাসে বলা হয়েছে, ২০২৬ সালে দেশটির অর্থনীতি ৪ দশমিক ৭ শতাংশ হারে বাড়তে পারে, যা মার্চে প্রকাশিত পূর্বাভাসের তুলনায় কম। তবে ২০২৭ সালে প্রবৃদ্ধি আবার ৫ শতাংশে পৌঁছাতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
সারাক্ষণ রিপোর্ট
ওইসিডির জুন অর্থনৈতিক পূর্বাভাসে উল্লেখ করা হয়েছে, জ্বালানির উচ্চ মূল্য, নীতিগত অনিশ্চয়তা এবং শ্রমবাজারের দুর্বলতা ইন্দোনেশিয়ার অর্থনীতিতে চাপ সৃষ্টি করছে। এর ফলে ভোক্তা ব্যয় ও ব্যবসায়িক বিনিয়োগের গতি কিছুটা কমে যেতে পারে।
অর্থনীতির গতি কমার ইঙ্গিত
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ২০২৬ সালের শুরুতে ইন্দোনেশিয়ার অর্থনীতি শক্ত অবস্থানে থাকলেও সাম্প্রতিক সময়ে প্রবৃদ্ধির গতি কিছুটা কমার লক্ষণ দেখা যাচ্ছে। বছরের প্রথম প্রান্তিকে দেশটির মোট দেশজ উৎপাদন (জিডিপি) আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় ৫ দশমিক ৬ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে।
সরকারি ব্যয় এ সময় ২১ দশমিক ৮ শতাংশ বেড়েছে। একই সঙ্গে ২০২৫ সালের উল্লেখযোগ্য মুদ্রানীতিগত শিথিলতার প্রভাবে পারিবারিক ভোগব্যয় এবং বিনিয়োগও স্থিতিশীল ছিল।
তবে সাম্প্রতিক অর্থনৈতিক সূচকগুলো ভিন্ন চিত্র দেখাচ্ছে। এপ্রিল মাসে খুচরা বিক্রি ১ দশমিক ৯ শতাংশ কমেছে। পাশাপাশি কর্মসংস্থানের সম্ভাবনা নিয়ে মানুষের প্রত্যাশা দুর্বল হওয়ায় ভোক্তা আস্থাও বছরের শুরু থেকে কমতে শুরু করেছে।
জ্বালানির উচ্চ মূল্য নতুন চাপ
ওইসিডি বলছে, বৈশ্বিক জ্বালানি মূল্য বৃদ্ধির কারণে সার এবং শিল্পখাতের বিভিন্ন কাঁচামালের উৎপাদন ব্যয় বাড়তে পারে। এর প্রভাব ব্যবসা প্রতিষ্ঠান ও সাধারণ ভোক্তা—উভয়ের ওপরই পড়বে।
সংস্থাটি আরও উল্লেখ করেছে, মধ্যপ্রাচ্যের চলমান সংঘাতের কারণে আন্তর্জাতিক জ্বালানি বাজারে যে পরিবর্তন হচ্ছে, তার প্রভাব ইন্দোনেশিয়ার ক্ষেত্রে তুলনামূলকভাবে সীমিত। কারণ দেশটি অপরিশোধিত তেল ও জ্বালানি আমদানি করলেও কয়লা ও গ্যাস রপ্তানির মাধ্যমে সামগ্রিকভাবে জ্বালানি খাতে রপ্তানিকারক অবস্থানে রয়েছে।

মুদ্রাস্ফীতি ও সুদের হার
ওইসিডির পূর্বাভাস অনুযায়ী, জ্বালানি মূল্য বৃদ্ধির প্রভাব ধীরে ধীরে অভ্যন্তরীণ বাজারে ছড়িয়ে পড়ায় ২০২৬ সালে দেশটির মুদ্রাস্ফীতি ৩ দশমিক ৪ শতাংশে পৌঁছাতে পারে।
সরকার ভর্তুকিযুক্ত জ্বালানির দাম স্থির রাখার সিদ্ধান্ত বজায় রাখলেও মূল্যস্ফীতির ঝুঁকি পুরোপুরি দূর হচ্ছে না। এ অবস্থায় ইন্দোনেশিয়ার কেন্দ্রীয় ব্যাংক চলতি বছরের শেষ পর্যন্ত তুলনামূলক কঠোর মুদ্রানীতি বজায় রাখতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। বৈশ্বিক জ্বালানি মূল্য বৃদ্ধি এবং মার্কিন ডলারের বিপরীতে রুপিয়াহর দুর্বলতার কারণে মে মাসে নীতিগত সুদের হারও বাড়ানো হয়েছে।
বাজেট ঘাটতি বাড়ার আশঙ্কা
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, জ্বালানি ভর্তুকি এবং সরকারের বিনামূল্যের খাবার কর্মসূচিতে ব্যয় বৃদ্ধির ফলে ২০২৬ সালে বাজেট ঘাটতি জিডিপির ৩ শতাংশে পৌঁছাতে পারে। ২০২৫ সালে এই হার ছিল ২ দশমিক ৯ শতাংশ।
তেলের দাম আরও বাড়লে জ্বালানি মূল্য স্থির রাখার নীতির কারণে ভর্তুকি ব্যয় উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়ে যেতে পারে। সেক্ষেত্রে আইনি সীমার মধ্যে বাজেট ঘাটতি রাখতে সরকারের অন্য খাতে ব্যয় সমন্বয় করতে হতে পারে।
দীর্ঘমেয়াদে কী পরামর্শ?
দীর্ঘমেয়াদে ইন্দোনেশিয়াকে জ্বালানি ভর্তুকি আরও লক্ষ্যভিত্তিক করার পরামর্শ দিয়েছে ওইসিডি। বিশেষ করে দুর্বল ও ঝুঁকিপূর্ণ পরিবারগুলোর জন্য সহায়তা নিশ্চিত করে সাধারণ মূল্যনিয়ন্ত্রণের ওপর নির্ভরতা কমানোর আহ্বান জানানো হয়েছে।
একই সঙ্গে নবায়নযোগ্য জ্বালানির ব্যবহার বাড়ানো, সরকারের বি-৫০ জৈবজ্বালানি কর্মসূচি দ্রুত বাস্তবায়ন এবং জ্বালানি নিরাপত্তা জোরদারের ওপর গুরুত্ব আরোপ করা হয়েছে।
প্রতিবেদনে রাষ্ট্রায়ত্ত সম্পদভিত্তিক বিনিয়োগ তহবিল ‘দানান্তারা’র কার্যকর ও দ্রুত বাস্তবায়নের বিষয়টিও গুরুত্ব পেয়েছে। ওইসিডির মতে, এটি বেসরকারি বিনিয়োগ আকৃষ্ট করতে, অবকাঠামো উন্নয়ন ত্বরান্বিত করতে এবং শিল্পায়ন প্রকল্প বাস্তবায়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 



















