০৪:১২ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬
রপ্তানি বাড়াতে হলে কৌশলগত আমদানির পথও খুলতে হবে যুদ্ধের ভাষার আড়ালে কূটনীতির শেষ দরজা টিকটক শপে চারুকলা: শিল্পবাজার বদলের শুরু, নাকি ব্যর্থ এক পরীক্ষা? নবায়নযোগ্য জ্বালানিতে ভারত এগিয়ে, কিন্তু বিদ্যুৎ গ্রিডে বাড়ছে চাপ প্রজ্ঞাপন জারি: জ্বালানি তেলের দাম বাড়ায় বাস-মিনিবাসের ভাড়া কিলোমিটারে ১৭ পয়সা বৃদ্ধি ২০ তলা থেকে সাইকেলসহ নানা জিনিস ছুড়ে দিলেন ব্যক্তি, ৬ ঘণ্টার পুলিশি অভিযানে আটক চাঁদের আলোয় সায়েন্স সেন্টারে এক রাতের নাচ-গান, সিঙ্গাপুরে ‘মুনবিটস: আফটারডার্ক’ একা থাকা ৭২ বছরের বৃদ্ধের মৃত্যু, দরজার নিচ দিয়ে রক্ত গড়িয়ে আসতেই মিলল মরদেহ টোকিওর কাছে টাইফুন দুজুয়ানের আঘাত, নিহত ৯, নিখোঁজ ৪ এল নিনোর তাপে ভারতে ফেব্রুয়ারির মধ্যে ১৫ হাজার ৮০০ মৃত্যুর শঙ্কা

ফ্রান্সের নেতৃত্বে ইসরায়েলের ওপর নতুন চাপ, পশ্চিম তীরের সহিংসতায় জাতীয় নিষেধাজ্ঞার পথে কয়েক দেশ

ইসরায়েল অধিকৃত পশ্চিম তীরে বসতি স্থাপনকারী ইসরায়েলি গোষ্ঠীগুলোর সহিংসতা নিয়ে ক্রমবর্ধমান উদ্বেগের মধ্যে ফ্রান্স ও তার কয়েকটি মিত্র দেশ নতুন চাপ প্রয়োগের প্রস্তুতি নিচ্ছে। ইউরোপীয় কূটনৈতিক সূত্রগুলোর তথ্য অনুযায়ী, কয়েকটি দেশ সমন্বিতভাবে জাতীয় পর্যায়ে নিষেধাজ্ঞা আরোপের পরিকল্পনা করছে, যার লক্ষ্য হবে পশ্চিম তীরের সহিংসতার সঙ্গে জড়িত ব্যক্তি ও গোষ্ঠী।

প্রস্তাবিত ব্যবস্থার মধ্যে সম্পদ জব্দ এবং ভ্রমণ নিষেধাজ্ঞার মতো পদক্ষেপ থাকতে পারে। যদিও চূড়ান্ত তালিকা এখনো নির্ধারিত হয়নি, বিভিন্ন দেশ নিজেদের প্রয়োজন অনুযায়ী আলাদা আলাদা ব্যক্তির নাম অন্তর্ভুক্ত করতে পারে।

ইউরোপীয় ইউনিয়নে ঐকমত্যের অভাব

ইসরায়েলের বিরুদ্ধে আরও কঠোর পদক্ষেপ নিতে ইউরোপীয় ইউনিয়নের ভেতরে দীর্ঘদিন ধরেই আলোচনা চলছে। তবে সদস্য রাষ্ট্রগুলোর মধ্যে পূর্ণ ঐকমত্য না থাকায় সেই উদ্যোগ অগ্রসর হয়নি। ফলে কিছু দেশ জাতীয় পর্যায়ে সমন্বিত পদক্ষেপ নেওয়ার সিদ্ধান্তে ঝুঁকছে।

কূটনৈতিক মহলের মতে, ইউরোপীয় ইউনিয়নের কাঠামোর বাইরে গিয়ে কয়েকটি দেশ দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ার পক্ষে অবস্থান নিয়েছে। এসব দেশের মধ্যে ব্রিটেন ও নরওয়ের নাম আলোচনায় এসেছে, যদিও সম্ভাব্য অংশগ্রহণকারীদের পূর্ণ তালিকা এখনো প্রকাশ করা হয়নি।

পশ্চিম তীরে উত্তেজনা বৃদ্ধির প্রেক্ষাপট

সাম্প্রতিক মাসগুলোতে পশ্চিম তীরে বসতি সম্প্রসারণ এবং সহিংস ঘটনার সংখ্যা বেড়েছে। বিশেষ করে পূর্ব জেরুজালেমের কাছে ই–ওয়ান নামে পরিচিত একটি নতুন বসতি প্রকল্প নিয়ে আন্তর্জাতিক উদ্বেগ বাড়ছে। সমালোচকদের মতে, এই প্রকল্প বাস্তবায়িত হলে পশ্চিম তীর ভৌগোলিকভাবে আরও বিভক্ত হয়ে পড়বে এবং ভবিষ্যৎ ফিলিস্তিনি রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার সম্ভাবনা ক্ষতিগ্রস্ত হবে।

পশ্চিমা দেশগুলোর একটি অংশ মনে করছে, বর্তমান পরিস্থিতি দুই রাষ্ট্রভিত্তিক সমাধানের সম্ভাবনাকে আরও দুর্বল করছে। এ কারণে ইসরায়েলি সরকারের ওপর চাপ বাড়ানোর দাবি জোরালো হয়েছে।

ইসরায়েলের প্রতিক্রিয়া

এর আগে ইউরোপীয় কিছু নিষেধাজ্ঞার প্রতিক্রিয়ায় ইসরায়েলি পররাষ্ট্রমন্ত্রী গিদিওন সার অভিযোগ করেছিলেন যে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে ইসরায়েলি নাগরিক ও প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। তিনি এসব পদক্ষেপকে ভিত্তিহীন বলে অভিহিত করেন।

অন্যদিকে ফ্রান্সসহ কয়েকটি পশ্চিমা দেশ ইতোমধ্যে প্রকাশ্যে বলেছে যে পশ্চিম তীরে বসতি সম্প্রসারণ এবং সহিংসতা পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলছে।

France, allies eye national measures to pressure Israel over West Bank:  Diplomats | The Business Standard

প্যারিসে গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক

আগামী ১২ জুন প্যারিসে একটি গুরুত্বপূর্ণ আন্তর্জাতিক বৈঠকের আয়োজন করছে ফ্রান্স। সেখানে ইসরায়েলি ও ফিলিস্তিনি নাগরিক সমাজের প্রতিনিধিদের পাশাপাশি প্রায় এক ডজন দেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রীরা অংশ নেবেন।

এই বৈঠকটি জাতিসংঘের একটি ঘোষণার এক বছর পূর্তি উপলক্ষে অনুষ্ঠিত হবে, যেখানে ফিলিস্তিনি রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার একটি রূপরেখা তুলে ধরা হয়েছিল। সেই প্রক্রিয়ার ধারাবাহিকতায় ফ্রান্সসহ বেশ কয়েকটি দেশ গত বছর ফিলিস্তিনকে রাষ্ট্র হিসেবে স্বীকৃতি দিয়েছিল।

বিশ্লেষকদের মতে, ইরান ও লেবাননকেন্দ্রিক আঞ্চলিক সংঘাত আন্তর্জাতিক মনোযোগ অন্যদিকে সরিয়ে নিলেও ফ্রান্স চায় ইসরায়েল–ফিলিস্তিন ইস্যুটি বৈশ্বিক কূটনৈতিক আলোচনার কেন্দ্রেই থাকুক। একই সময়ে গাজার ভবিষ্যৎ নিয়ে আলোচনা স্থবির হয়ে থাকায় পশ্চিম তীরের পরিস্থিতি আন্তর্জাতিক উদ্বেগের নতুন কেন্দ্রবিন্দু হয়ে উঠছে।

জনপ্রিয় সংবাদ

রপ্তানি বাড়াতে হলে কৌশলগত আমদানির পথও খুলতে হবে

ফ্রান্সের নেতৃত্বে ইসরায়েলের ওপর নতুন চাপ, পশ্চিম তীরের সহিংসতায় জাতীয় নিষেধাজ্ঞার পথে কয়েক দেশ

০৩:১৭:০৬ অপরাহ্ন, রবিবার, ৭ জুন ২০২৬

ইসরায়েল অধিকৃত পশ্চিম তীরে বসতি স্থাপনকারী ইসরায়েলি গোষ্ঠীগুলোর সহিংসতা নিয়ে ক্রমবর্ধমান উদ্বেগের মধ্যে ফ্রান্স ও তার কয়েকটি মিত্র দেশ নতুন চাপ প্রয়োগের প্রস্তুতি নিচ্ছে। ইউরোপীয় কূটনৈতিক সূত্রগুলোর তথ্য অনুযায়ী, কয়েকটি দেশ সমন্বিতভাবে জাতীয় পর্যায়ে নিষেধাজ্ঞা আরোপের পরিকল্পনা করছে, যার লক্ষ্য হবে পশ্চিম তীরের সহিংসতার সঙ্গে জড়িত ব্যক্তি ও গোষ্ঠী।

প্রস্তাবিত ব্যবস্থার মধ্যে সম্পদ জব্দ এবং ভ্রমণ নিষেধাজ্ঞার মতো পদক্ষেপ থাকতে পারে। যদিও চূড়ান্ত তালিকা এখনো নির্ধারিত হয়নি, বিভিন্ন দেশ নিজেদের প্রয়োজন অনুযায়ী আলাদা আলাদা ব্যক্তির নাম অন্তর্ভুক্ত করতে পারে।

ইউরোপীয় ইউনিয়নে ঐকমত্যের অভাব

ইসরায়েলের বিরুদ্ধে আরও কঠোর পদক্ষেপ নিতে ইউরোপীয় ইউনিয়নের ভেতরে দীর্ঘদিন ধরেই আলোচনা চলছে। তবে সদস্য রাষ্ট্রগুলোর মধ্যে পূর্ণ ঐকমত্য না থাকায় সেই উদ্যোগ অগ্রসর হয়নি। ফলে কিছু দেশ জাতীয় পর্যায়ে সমন্বিত পদক্ষেপ নেওয়ার সিদ্ধান্তে ঝুঁকছে।

কূটনৈতিক মহলের মতে, ইউরোপীয় ইউনিয়নের কাঠামোর বাইরে গিয়ে কয়েকটি দেশ দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ার পক্ষে অবস্থান নিয়েছে। এসব দেশের মধ্যে ব্রিটেন ও নরওয়ের নাম আলোচনায় এসেছে, যদিও সম্ভাব্য অংশগ্রহণকারীদের পূর্ণ তালিকা এখনো প্রকাশ করা হয়নি।

পশ্চিম তীরে উত্তেজনা বৃদ্ধির প্রেক্ষাপট

সাম্প্রতিক মাসগুলোতে পশ্চিম তীরে বসতি সম্প্রসারণ এবং সহিংস ঘটনার সংখ্যা বেড়েছে। বিশেষ করে পূর্ব জেরুজালেমের কাছে ই–ওয়ান নামে পরিচিত একটি নতুন বসতি প্রকল্প নিয়ে আন্তর্জাতিক উদ্বেগ বাড়ছে। সমালোচকদের মতে, এই প্রকল্প বাস্তবায়িত হলে পশ্চিম তীর ভৌগোলিকভাবে আরও বিভক্ত হয়ে পড়বে এবং ভবিষ্যৎ ফিলিস্তিনি রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার সম্ভাবনা ক্ষতিগ্রস্ত হবে।

পশ্চিমা দেশগুলোর একটি অংশ মনে করছে, বর্তমান পরিস্থিতি দুই রাষ্ট্রভিত্তিক সমাধানের সম্ভাবনাকে আরও দুর্বল করছে। এ কারণে ইসরায়েলি সরকারের ওপর চাপ বাড়ানোর দাবি জোরালো হয়েছে।

ইসরায়েলের প্রতিক্রিয়া

এর আগে ইউরোপীয় কিছু নিষেধাজ্ঞার প্রতিক্রিয়ায় ইসরায়েলি পররাষ্ট্রমন্ত্রী গিদিওন সার অভিযোগ করেছিলেন যে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে ইসরায়েলি নাগরিক ও প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। তিনি এসব পদক্ষেপকে ভিত্তিহীন বলে অভিহিত করেন।

অন্যদিকে ফ্রান্সসহ কয়েকটি পশ্চিমা দেশ ইতোমধ্যে প্রকাশ্যে বলেছে যে পশ্চিম তীরে বসতি সম্প্রসারণ এবং সহিংসতা পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলছে।

France, allies eye national measures to pressure Israel over West Bank:  Diplomats | The Business Standard

প্যারিসে গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক

আগামী ১২ জুন প্যারিসে একটি গুরুত্বপূর্ণ আন্তর্জাতিক বৈঠকের আয়োজন করছে ফ্রান্স। সেখানে ইসরায়েলি ও ফিলিস্তিনি নাগরিক সমাজের প্রতিনিধিদের পাশাপাশি প্রায় এক ডজন দেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রীরা অংশ নেবেন।

এই বৈঠকটি জাতিসংঘের একটি ঘোষণার এক বছর পূর্তি উপলক্ষে অনুষ্ঠিত হবে, যেখানে ফিলিস্তিনি রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার একটি রূপরেখা তুলে ধরা হয়েছিল। সেই প্রক্রিয়ার ধারাবাহিকতায় ফ্রান্সসহ বেশ কয়েকটি দেশ গত বছর ফিলিস্তিনকে রাষ্ট্র হিসেবে স্বীকৃতি দিয়েছিল।

বিশ্লেষকদের মতে, ইরান ও লেবাননকেন্দ্রিক আঞ্চলিক সংঘাত আন্তর্জাতিক মনোযোগ অন্যদিকে সরিয়ে নিলেও ফ্রান্স চায় ইসরায়েল–ফিলিস্তিন ইস্যুটি বৈশ্বিক কূটনৈতিক আলোচনার কেন্দ্রেই থাকুক। একই সময়ে গাজার ভবিষ্যৎ নিয়ে আলোচনা স্থবির হয়ে থাকায় পশ্চিম তীরের পরিস্থিতি আন্তর্জাতিক উদ্বেগের নতুন কেন্দ্রবিন্দু হয়ে উঠছে।