০৭:৩৬ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬
মার্কিন নাগরিককে মুক্ত করতে বিরল সফরে মিয়ানমারে যুক্তরাষ্ট্রের কর্মকর্তারা ফিলিপাইনের স্কুলে বন্দুক হামলায় নিহত অন্তত তিন, বন্দুকধারীও নিহত উত্তর-পশ্চিম পাকিস্তানে জুমার নামাজের সময় বিস্ফোরণ, নিহত ১৬ রোহিঙ্গা ফেরত পাঠানো বন্ধের আহ্বান, মালয়েশিয়াকে সতর্ক করল ফরটিফাই রাইটস বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের ফ্লাইটে যাত্রীদের হাতাহাতি, ভিডিও ভাইরাল এশিয়ান গেমসে বাংলাদেশের হকি ম্যাচে ভুলে বাজল উত্তর কোরিয়ার সংগীত আরাকানে রোহিঙ্গাদের ভূমি দখল নিয়ে জাতিসংঘ প্রতিবেদনে নতুন তথ্য রাখাইনে সিত্তওয়ে ঘিরে মিয়ানমার সেনার হামলা, দুই নৌকা ধ্বংস রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসনে মিন অং হ্লাইংকে মালয়েশিয়ার আমন্ত্রণ ‘দ্য হোলস’-এ পুরুষের একাকিত্বের অন্ধকারে ঢুকছেন ম্যাক্স উলফ ফ্রিডলিখ

বিটকয়েনে বড় ধস, বিনিয়োগকারীদের উদ্বেগ বাড়ছে

বিশ্বের সবচেয়ে বড় ক্রিপ্টোকারেন্সি বিটকয়েন আবারও বড় ধাক্কার মুখে পড়েছে। একদিনেই সাত শতাংশের বেশি মূল্য হারিয়ে এটি ৬২ হাজার ডলারের নিচে নেমে গেছে। একই সঙ্গে উচ্চ ঝুঁকিতে নেওয়া লেনদেনের কারণে বাজার থেকে এক বিলিয়ন ডলারেরও বেশি অর্থ মুছে গেছে। ফলে ক্রিপ্টোকারেন্সি বাজারে নতুন করে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে।

ফেব্রুয়ারির পর সর্বনিম্ন অবস্থানে

সাম্প্রতিক পতনের ফলে বিটকয়েন ফেব্রুয়ারির পর সর্বনিম্ন পর্যায়ে পৌঁছেছে। গত বছরের অক্টোবরে রেকর্ড উচ্চতায় ওঠার পর থেকে এর মূল্য অনেকটাই কমে গেছে। বাজারমূল্যও উল্লেখযোগ্যভাবে সংকুচিত হয়েছে, যা বিনিয়োগকারীদের মধ্যে উদ্বেগ বাড়িয়েছে।

বিশ্লেষকদের মতে, একাধিক কারণ একসঙ্গে কাজ করায় এই পতন আরও তীব্র হয়েছে। মধ্যপ্রাচ্যের উত্তেজনাপূর্ণ পরিস্থিতি, যুক্তরাষ্ট্রের সুদের হার নিয়ে অনিশ্চয়তা, বিটকয়েনভিত্তিক তহবিলে বিনিয়োগ কমে যাওয়া এবং অতিরিক্ত ঋণনির্ভর লেনদেন—সব মিলিয়ে বাজারে বিক্রির চাপ বেড়েছে।

নিরাপদ সম্পদের দিকে ঝুঁকছেন বিনিয়োগকারীরা

বাজার বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ক্রিপ্টোকারেন্সি এখন অনেকটা উচ্চ ঝুঁকির প্রযুক্তি খাতের শেয়ারের মতো আচরণ করছে। বৈশ্বিক অনিশ্চয়তা বাড়লে বিনিয়োগকারীরা সাধারণত নিরাপদ সম্পদের দিকে ঝুঁকে পড়েন। এ কারণে স্বর্ণ, সরকারি বন্ড ও ডলারের প্রতি আগ্রহ বেড়েছে।

স্বর্ণের দাম এ বছর ঐতিহাসিক উচ্চতার কাছাকাছি থাকলেও বিটকয়েন সেই ধরনের নিরাপদ বিনিয়োগের মর্যাদা ধরে রাখতে পারেনি। বরং অস্থিরতার সময় বিনিয়োগকারীরা দীর্ঘদিনের পরীক্ষিত সম্পদকেই বেশি গুরুত্ব দিচ্ছেন।

Bitcoin falls to $57k as market bleeds amid fears of recession, war

ঋণনির্ভর লেনদেনের প্রভাব

সাম্প্রতিক পতন আরও তীব্র হয়েছে জোরপূর্বক বিক্রির কারণে। অনেক বিনিয়োগকারী ঋণ নিয়ে বড় অঙ্কের লেনদেন করেছিলেন। দাম বিপরীতমুখী হওয়ায় তাদের অবস্থান স্বয়ংক্রিয়ভাবে বন্ধ হয়ে যায়, যা বাজারে অতিরিক্ত বিক্রির চাপ সৃষ্টি করে।

বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, ২০২৫ সালের শক্তিশালী উত্থানের সময় বাজারে যে অতিরিক্ত ঝুঁকি জমা হয়েছিল, বর্তমান সংশোধনের মাধ্যমে তার প্রভাব স্পষ্ট হয়ে উঠছে।

প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগ কমেছে

গত বছর বিটকয়েনের উত্থানের পেছনে বড় ভূমিকা ছিল প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীদের। বিভিন্ন তহবিল ও সম্পদ ব্যবস্থাপনা প্রতিষ্ঠান ক্রিপ্টোকারেন্সিতে আগ্রহ দেখিয়েছিল। তবে সাম্প্রতিক সময়ে সেই প্রবাহ কমে গেছে।

বিশ্ব অর্থনীতির গতি নিয়ে উদ্বেগ এবং ঝুঁকি পুনর্মূল্যায়নের কারণে অনেক প্রতিষ্ঠান নতুন বিনিয়োগে সতর্ক অবস্থান নিয়েছে। ফলে বিটকয়েনের ঊর্ধ্বমুখী গতি ধরে রাখা কঠিন হয়ে পড়েছে।

সুদের হার নিয়ে নজর

বিনিয়োগকারীদের দৃষ্টি এখন যুক্তরাষ্ট্রের কেন্দ্রীয় ব্যাংকের নীতির দিকে। প্রত্যাশার তুলনায় সুদের হার কমানোর গতি ধীর হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। সাধারণত উচ্চ সুদের হার ঝুঁকিপূর্ণ সম্পদের প্রতি আগ্রহ কমিয়ে দেয় এবং তুলনামূলক নিরাপদ বিনিয়োগকে আকর্ষণীয় করে তোলে।

এ কারণে সুদের হার দীর্ঘ সময় উঁচু অবস্থায় থাকলে বিটকয়েনের ওপর আরও চাপ তৈরি হতে পারে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।

সামনের পথ কতটা কঠিন

যদিও দীর্ঘমেয়াদি সমর্থকদের মতে, বিটকয়েনের ইতিহাসে এ ধরনের বড় সংশোধন নতুন নয়। অতীতেও একাধিকবার বড় পতনের পর এটি ঘুরে দাঁড়িয়েছে এবং নতুন উচ্চতায় পৌঁছেছে।

তবে স্বল্পমেয়াদে পরিস্থিতি অনিশ্চিত। বাজারের মনোভাব দুর্বল হয়ে পড়েছে এবং বিনিয়োগকারীরা এখন মধ্যপ্রাচ্যের পরিস্থিতি, যুক্তরাষ্ট্রের সুদের হার এবং প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগের গতিপ্রকৃতির দিকে নজর রাখছেন। এসব বিষয়ে স্পষ্টতা না আসা পর্যন্ত ক্রিপ্টোকারেন্সি বাজারে অস্থিরতা অব্যাহত থাকতে পারে।

জনপ্রিয় সংবাদ

মার্কিন নাগরিককে মুক্ত করতে বিরল সফরে মিয়ানমারে যুক্তরাষ্ট্রের কর্মকর্তারা

বিটকয়েনে বড় ধস, বিনিয়োগকারীদের উদ্বেগ বাড়ছে

০৩:৩৮:২৮ অপরাহ্ন, রবিবার, ৭ জুন ২০২৬

বিশ্বের সবচেয়ে বড় ক্রিপ্টোকারেন্সি বিটকয়েন আবারও বড় ধাক্কার মুখে পড়েছে। একদিনেই সাত শতাংশের বেশি মূল্য হারিয়ে এটি ৬২ হাজার ডলারের নিচে নেমে গেছে। একই সঙ্গে উচ্চ ঝুঁকিতে নেওয়া লেনদেনের কারণে বাজার থেকে এক বিলিয়ন ডলারেরও বেশি অর্থ মুছে গেছে। ফলে ক্রিপ্টোকারেন্সি বাজারে নতুন করে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে।

ফেব্রুয়ারির পর সর্বনিম্ন অবস্থানে

সাম্প্রতিক পতনের ফলে বিটকয়েন ফেব্রুয়ারির পর সর্বনিম্ন পর্যায়ে পৌঁছেছে। গত বছরের অক্টোবরে রেকর্ড উচ্চতায় ওঠার পর থেকে এর মূল্য অনেকটাই কমে গেছে। বাজারমূল্যও উল্লেখযোগ্যভাবে সংকুচিত হয়েছে, যা বিনিয়োগকারীদের মধ্যে উদ্বেগ বাড়িয়েছে।

বিশ্লেষকদের মতে, একাধিক কারণ একসঙ্গে কাজ করায় এই পতন আরও তীব্র হয়েছে। মধ্যপ্রাচ্যের উত্তেজনাপূর্ণ পরিস্থিতি, যুক্তরাষ্ট্রের সুদের হার নিয়ে অনিশ্চয়তা, বিটকয়েনভিত্তিক তহবিলে বিনিয়োগ কমে যাওয়া এবং অতিরিক্ত ঋণনির্ভর লেনদেন—সব মিলিয়ে বাজারে বিক্রির চাপ বেড়েছে।

নিরাপদ সম্পদের দিকে ঝুঁকছেন বিনিয়োগকারীরা

বাজার বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ক্রিপ্টোকারেন্সি এখন অনেকটা উচ্চ ঝুঁকির প্রযুক্তি খাতের শেয়ারের মতো আচরণ করছে। বৈশ্বিক অনিশ্চয়তা বাড়লে বিনিয়োগকারীরা সাধারণত নিরাপদ সম্পদের দিকে ঝুঁকে পড়েন। এ কারণে স্বর্ণ, সরকারি বন্ড ও ডলারের প্রতি আগ্রহ বেড়েছে।

স্বর্ণের দাম এ বছর ঐতিহাসিক উচ্চতার কাছাকাছি থাকলেও বিটকয়েন সেই ধরনের নিরাপদ বিনিয়োগের মর্যাদা ধরে রাখতে পারেনি। বরং অস্থিরতার সময় বিনিয়োগকারীরা দীর্ঘদিনের পরীক্ষিত সম্পদকেই বেশি গুরুত্ব দিচ্ছেন।

Bitcoin falls to $57k as market bleeds amid fears of recession, war

ঋণনির্ভর লেনদেনের প্রভাব

সাম্প্রতিক পতন আরও তীব্র হয়েছে জোরপূর্বক বিক্রির কারণে। অনেক বিনিয়োগকারী ঋণ নিয়ে বড় অঙ্কের লেনদেন করেছিলেন। দাম বিপরীতমুখী হওয়ায় তাদের অবস্থান স্বয়ংক্রিয়ভাবে বন্ধ হয়ে যায়, যা বাজারে অতিরিক্ত বিক্রির চাপ সৃষ্টি করে।

বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, ২০২৫ সালের শক্তিশালী উত্থানের সময় বাজারে যে অতিরিক্ত ঝুঁকি জমা হয়েছিল, বর্তমান সংশোধনের মাধ্যমে তার প্রভাব স্পষ্ট হয়ে উঠছে।

প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগ কমেছে

গত বছর বিটকয়েনের উত্থানের পেছনে বড় ভূমিকা ছিল প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীদের। বিভিন্ন তহবিল ও সম্পদ ব্যবস্থাপনা প্রতিষ্ঠান ক্রিপ্টোকারেন্সিতে আগ্রহ দেখিয়েছিল। তবে সাম্প্রতিক সময়ে সেই প্রবাহ কমে গেছে।

বিশ্ব অর্থনীতির গতি নিয়ে উদ্বেগ এবং ঝুঁকি পুনর্মূল্যায়নের কারণে অনেক প্রতিষ্ঠান নতুন বিনিয়োগে সতর্ক অবস্থান নিয়েছে। ফলে বিটকয়েনের ঊর্ধ্বমুখী গতি ধরে রাখা কঠিন হয়ে পড়েছে।

সুদের হার নিয়ে নজর

বিনিয়োগকারীদের দৃষ্টি এখন যুক্তরাষ্ট্রের কেন্দ্রীয় ব্যাংকের নীতির দিকে। প্রত্যাশার তুলনায় সুদের হার কমানোর গতি ধীর হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। সাধারণত উচ্চ সুদের হার ঝুঁকিপূর্ণ সম্পদের প্রতি আগ্রহ কমিয়ে দেয় এবং তুলনামূলক নিরাপদ বিনিয়োগকে আকর্ষণীয় করে তোলে।

এ কারণে সুদের হার দীর্ঘ সময় উঁচু অবস্থায় থাকলে বিটকয়েনের ওপর আরও চাপ তৈরি হতে পারে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।

সামনের পথ কতটা কঠিন

যদিও দীর্ঘমেয়াদি সমর্থকদের মতে, বিটকয়েনের ইতিহাসে এ ধরনের বড় সংশোধন নতুন নয়। অতীতেও একাধিকবার বড় পতনের পর এটি ঘুরে দাঁড়িয়েছে এবং নতুন উচ্চতায় পৌঁছেছে।

তবে স্বল্পমেয়াদে পরিস্থিতি অনিশ্চিত। বাজারের মনোভাব দুর্বল হয়ে পড়েছে এবং বিনিয়োগকারীরা এখন মধ্যপ্রাচ্যের পরিস্থিতি, যুক্তরাষ্ট্রের সুদের হার এবং প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগের গতিপ্রকৃতির দিকে নজর রাখছেন। এসব বিষয়ে স্পষ্টতা না আসা পর্যন্ত ক্রিপ্টোকারেন্সি বাজারে অস্থিরতা অব্যাহত থাকতে পারে।