ভারতের পাঞ্জাব রাজ্যের অমৃতসরে অপারেশন ব্লুস্টারের ৪২তম বার্ষিকী ঘিরে আবারও খালিস্তানপন্থী স্লোগান শোনা গেছে। দিনটি উপলক্ষে বিভিন্ন শিখ সংগঠনের কর্মসূচির কারণে শহরের বেশিরভাগ ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ ছিল। ফলে অমৃতসরজুড়ে অনেকটাই জনশূন্য পরিবেশ দেখা যায়।
স্বর্ণমন্দিরে সমাবেশ
বার্ষিকী উপলক্ষে অমৃতসরের স্বর্ণমন্দির প্রাঙ্গণে বিপুলসংখ্যক শিখ ধর্মাবলম্বী ও বিভিন্ন সংগঠনের সমর্থক জড়ো হন। সমাবেশে অংশ নেওয়া কিছু উগ্রপন্থী সংগঠনের কর্মী খালিস্তান প্রতিষ্ঠার দাবিতে স্লোগান দেন। তারা শিখদের জন্য পৃথক রাষ্ট্র গঠনের দাবিও পুনর্ব্যক্ত করেন।
অনেক তরুণকে খালিস্তান আন্দোলনের সঙ্গে যুক্ত ঐতিহাসিক ব্যক্তিত্বদের ছবি সংবলিত পোশাক পরতে দেখা যায়। তারা বিভিন্ন পোস্টার বিতরণ করেন এবং আন্দোলনের প্রতি সমর্থন জানান।

অপারেশন ব্লুস্টারের স্মৃতি
১৯৮৪ সালের ৬ জুন ভারতীয় সেনাবাহিনী অমৃতসরের স্বর্ণমন্দির কমপ্লেক্সে অভিযান চালায়। সেই অভিযানের লক্ষ্য ছিল সেখানে অবস্থান নেওয়া সশস্ত্র উগ্রপন্থীদের সরিয়ে দেওয়া। ওই অভিযানে নিহত হন শিখ বিচ্ছিন্নতাবাদী নেতা জারনাইল সিং ভিন্দ্রানওয়ালে। প্রতিবছর এই দিনটি তাঁর মৃত্যুবার্ষিকী হিসেবেও স্মরণ করা হয়।
শিখ পরিচয় নিয়ে উদ্বেগ
স্মরণসভায় বক্তারা বিশ্বজুড়ে শিখ সম্প্রদায়ের অবদান ও মানবসেবার ঐতিহ্যের কথা তুলে ধরেন। একই সঙ্গে তারা দাবি করেন, বিভিন্ন অজুহাতে শিখ পরিচয় ও ধর্মীয় প্রতীককে লক্ষ্যবস্তু করা হচ্ছে। এ নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে তারা শিখ প্রতিষ্ঠানগুলোর স্বাধীনতা রক্ষার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।
বক্তারা আরও বলেন, যেসব শিখ বন্দি তাদের সাজা পূর্ণ করেছেন বলে দাবি করা হয়, তাদের মুক্তির বিষয়টিও গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করা উচিত। এ নিয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের প্রতি আহ্বান জানানো হয়।

রাজনৈতিক ও সামাজিক গুরুত্ব
অপারেশন ব্লুস্টার এখনো পাঞ্জাব ও শিখ রাজনীতির একটি অত্যন্ত সংবেদনশীল অধ্যায় হিসেবে বিবেচিত হয়। প্রতি বছর এই দিনকে কেন্দ্র করে নানা কর্মসূচি, আলোচনা এবং রাজনৈতিক বক্তব্য সামনে আসে। এবারের বার্ষিকীতেও সেই আবেগ ও বিতর্কের প্রতিফলন দেখা গেছে অমৃতসরের রাজপথ থেকে ধর্মীয় সমাবেশ পর্যন্ত।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 



















