০৩:১৭ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬
রপ্তানি বাড়াতে হলে কৌশলগত আমদানির পথও খুলতে হবে যুদ্ধের ভাষার আড়ালে কূটনীতির শেষ দরজা টিকটক শপে চারুকলা: শিল্পবাজার বদলের শুরু, নাকি ব্যর্থ এক পরীক্ষা? নবায়নযোগ্য জ্বালানিতে ভারত এগিয়ে, কিন্তু বিদ্যুৎ গ্রিডে বাড়ছে চাপ প্রজ্ঞাপন জারি: জ্বালানি তেলের দাম বাড়ায় বাস-মিনিবাসের ভাড়া কিলোমিটারে ১৭ পয়সা বৃদ্ধি ২০ তলা থেকে সাইকেলসহ নানা জিনিস ছুড়ে দিলেন ব্যক্তি, ৬ ঘণ্টার পুলিশি অভিযানে আটক চাঁদের আলোয় সায়েন্স সেন্টারে এক রাতের নাচ-গান, সিঙ্গাপুরে ‘মুনবিটস: আফটারডার্ক’ একা থাকা ৭২ বছরের বৃদ্ধের মৃত্যু, দরজার নিচ দিয়ে রক্ত গড়িয়ে আসতেই মিলল মরদেহ টোকিওর কাছে টাইফুন দুজুয়ানের আঘাত, নিহত ৯, নিখোঁজ ৪ এল নিনোর তাপে ভারতে ফেব্রুয়ারির মধ্যে ১৫ হাজার ৮০০ মৃত্যুর শঙ্কা

লেবাননের বউফোর্ট দুর্গ ঘিরে নতুন উত্তেজনা, মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাতে আবারও কৌশলগত কেন্দ্র

দক্ষিণ লেবাননের পাহাড়চূড়ায় দাঁড়িয়ে থাকা প্রায় ৯০০ বছরের পুরোনো বউফোর্ট দুর্গ আবারও মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাতের কেন্দ্রে উঠে এসেছে। লিতানি নদীর পাশের এই ঐতিহাসিক স্থাপনাটি শুধু অতীতের সামরিক ইতিহাসের সাক্ষী নয়, বর্তমান ইসরায়েল-লেবানন সংঘাতেও গুরুত্বপূর্ণ কৌশলগত অবস্থান হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।

সম্প্রতি দক্ষিণ লেবাননে সামরিক তৎপরতা বাড়ার পর দুর্গটি নতুন করে আলোচনায় এসেছে। পাহাড়ের উচ্চ অবস্থান থেকে উত্তর ইসরায়েল এবং বেকা উপত্যকার বিস্তৃত এলাকা নজরে রাখা যায়, যা এটিকে দীর্ঘদিন ধরে সামরিকভাবে গুরুত্বপূর্ণ করে রেখেছে।

ইতিহাসের বহু শাসকের পদচিহ্ন

বর্তমান বউফোর্ট দুর্গের প্রাথমিক নির্মাণ হয় দ্বাদশ শতকে। তখন এটি ‘কালাত আল-শাকিফ’ বা ‘উঁচু পাথরের দুর্গ’ নামে পরিচিত ছিল। ইউরোপীয় ক্রুসেডাররা পুরোনো প্রতিরক্ষা কাঠামোর ওপর নতুন দুর্গ নির্মাণ করে। পরবর্তী শতকগুলোতে দুর্গটি বহুবার অবরোধ, আক্রমণ ও দখলের শিকার হয়েছে।

মিশর ও সিরিয়ার শাসক সালাহউদ্দিনের বাহিনী একসময় এটি দখল করে সীমান্ত প্রতিরক্ষার গুরুত্বপূর্ণ ঘাঁটি হিসেবে ব্যবহার করে। পরে মামলুক, অটোমান এবং ফরাসি প্রশাসনের সময়ও দুর্গটিতে বিভিন্ন ধরনের স্থাপত্য ও সামরিক পরিবর্তন আনা হয়। ফলে বউফোর্ট আজ বিভিন্ন যুগের স্থাপত্য ঐতিহ্যের এক অনন্য সমন্বয়।

Israeli army captures strategic castle in Lebanon in deepest incursion into  country in 26 years – WANE 15

প্রাকৃতিক অবস্থানের কারণে বিশেষ গুরুত্ব

দুর্গটির এক পাশে প্রায় ৩০০ মিটার গভীর খাড়া ঢাল এবং অন্য পাশে বিস্তৃত উপত্যকা রয়েছে। এই প্রাকৃতিক প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা শত্রুপক্ষের জন্য এটিকে দখল করা কঠিন করে তুলেছিল। একই সঙ্গে উঁচু অবস্থান থেকে নজরদারি, গোলাবর্ষণ এবং সামরিক অবস্থান গ্রহণের সুবিধা পাওয়া যায়।

এ কারণেই শতাব্দীর পর শতাব্দী ধরে এটি শুধু ঐতিহাসিক স্থাপনা নয়, সামরিক কৌশলেরও গুরুত্বপূর্ণ অংশ হিসেবে বিবেচিত হয়েছে।

আধুনিক সংঘাতের কেন্দ্রবিন্দু

বিশ শতকের দ্বিতীয়ার্ধে দুর্গটি নতুন করে সামরিক গুরুত্ব পায়। ফিলিস্তিনি সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলো এখানে অবস্থান নিয়ে ইসরায়েলের বিরুদ্ধে হামলা চালাত। সে সময় দুর্গের নিচে গভীর ভূগর্ভস্থ বাংকার ও কমান্ড সেন্টার নির্মাণ করা হয়।

Israel captures Crusader castle as war expands in southern Lebanon –  POLITICO

১৯৮২ সালে ইসরায়েল লেবাননে অভিযান চালিয়ে দুর্গটির নিয়ন্ত্রণ নেয়। পরে দীর্ঘ দখলদারিত্বের পর ২০০০ সালে তারা সেখান থেকে সরে যায় এবং অনেক সামরিক স্থাপনা ধ্বংস করে। এরপর দুর্গটি সাধারণ দর্শনার্থীদের জন্য উন্মুক্ত করা হয় এবং পুনরুদ্ধার কাজ শুরু হয়।

ঐতিহ্য রক্ষার চ্যালেঞ্জ

সাম্প্রতিক বছরগুলোতে বউফোর্ট দুর্গকে বিশ্ব ঐতিহ্যের মর্যাদা দেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। আন্তর্জাতিক পর্যায়ে এর ঐতিহাসিক ও সাংস্কৃতিক গুরুত্ব স্বীকৃতি পেতে শুরু করেছে। তবে চলমান সংঘাতের কারণে এই স্থাপনাটির সংরক্ষণ বড় চ্যালেঞ্জের মুখে পড়েছে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, যুদ্ধক্ষেত্রের মাঝখানে অবস্থান করার কারণে দুর্গটি শুধু সামরিক নয়, সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য রক্ষার প্রশ্নেও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। মধ্যপ্রাচ্যের বর্তমান উত্তেজনা যত বাড়ছে, ততই এই প্রাচীন দুর্গ আবারও ইতিহাস ও ভূরাজনীতির সংযোগস্থলে পরিণত হচ্ছে।

 

 

জনপ্রিয় সংবাদ

রপ্তানি বাড়াতে হলে কৌশলগত আমদানির পথও খুলতে হবে

লেবাননের বউফোর্ট দুর্গ ঘিরে নতুন উত্তেজনা, মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাতে আবারও কৌশলগত কেন্দ্র

০৬:৫৫:০১ অপরাহ্ন, রবিবার, ৭ জুন ২০২৬

দক্ষিণ লেবাননের পাহাড়চূড়ায় দাঁড়িয়ে থাকা প্রায় ৯০০ বছরের পুরোনো বউফোর্ট দুর্গ আবারও মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাতের কেন্দ্রে উঠে এসেছে। লিতানি নদীর পাশের এই ঐতিহাসিক স্থাপনাটি শুধু অতীতের সামরিক ইতিহাসের সাক্ষী নয়, বর্তমান ইসরায়েল-লেবানন সংঘাতেও গুরুত্বপূর্ণ কৌশলগত অবস্থান হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।

সম্প্রতি দক্ষিণ লেবাননে সামরিক তৎপরতা বাড়ার পর দুর্গটি নতুন করে আলোচনায় এসেছে। পাহাড়ের উচ্চ অবস্থান থেকে উত্তর ইসরায়েল এবং বেকা উপত্যকার বিস্তৃত এলাকা নজরে রাখা যায়, যা এটিকে দীর্ঘদিন ধরে সামরিকভাবে গুরুত্বপূর্ণ করে রেখেছে।

ইতিহাসের বহু শাসকের পদচিহ্ন

বর্তমান বউফোর্ট দুর্গের প্রাথমিক নির্মাণ হয় দ্বাদশ শতকে। তখন এটি ‘কালাত আল-শাকিফ’ বা ‘উঁচু পাথরের দুর্গ’ নামে পরিচিত ছিল। ইউরোপীয় ক্রুসেডাররা পুরোনো প্রতিরক্ষা কাঠামোর ওপর নতুন দুর্গ নির্মাণ করে। পরবর্তী শতকগুলোতে দুর্গটি বহুবার অবরোধ, আক্রমণ ও দখলের শিকার হয়েছে।

মিশর ও সিরিয়ার শাসক সালাহউদ্দিনের বাহিনী একসময় এটি দখল করে সীমান্ত প্রতিরক্ষার গুরুত্বপূর্ণ ঘাঁটি হিসেবে ব্যবহার করে। পরে মামলুক, অটোমান এবং ফরাসি প্রশাসনের সময়ও দুর্গটিতে বিভিন্ন ধরনের স্থাপত্য ও সামরিক পরিবর্তন আনা হয়। ফলে বউফোর্ট আজ বিভিন্ন যুগের স্থাপত্য ঐতিহ্যের এক অনন্য সমন্বয়।

Israeli army captures strategic castle in Lebanon in deepest incursion into  country in 26 years – WANE 15

প্রাকৃতিক অবস্থানের কারণে বিশেষ গুরুত্ব

দুর্গটির এক পাশে প্রায় ৩০০ মিটার গভীর খাড়া ঢাল এবং অন্য পাশে বিস্তৃত উপত্যকা রয়েছে। এই প্রাকৃতিক প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা শত্রুপক্ষের জন্য এটিকে দখল করা কঠিন করে তুলেছিল। একই সঙ্গে উঁচু অবস্থান থেকে নজরদারি, গোলাবর্ষণ এবং সামরিক অবস্থান গ্রহণের সুবিধা পাওয়া যায়।

এ কারণেই শতাব্দীর পর শতাব্দী ধরে এটি শুধু ঐতিহাসিক স্থাপনা নয়, সামরিক কৌশলেরও গুরুত্বপূর্ণ অংশ হিসেবে বিবেচিত হয়েছে।

আধুনিক সংঘাতের কেন্দ্রবিন্দু

বিশ শতকের দ্বিতীয়ার্ধে দুর্গটি নতুন করে সামরিক গুরুত্ব পায়। ফিলিস্তিনি সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলো এখানে অবস্থান নিয়ে ইসরায়েলের বিরুদ্ধে হামলা চালাত। সে সময় দুর্গের নিচে গভীর ভূগর্ভস্থ বাংকার ও কমান্ড সেন্টার নির্মাণ করা হয়।

Israel captures Crusader castle as war expands in southern Lebanon –  POLITICO

১৯৮২ সালে ইসরায়েল লেবাননে অভিযান চালিয়ে দুর্গটির নিয়ন্ত্রণ নেয়। পরে দীর্ঘ দখলদারিত্বের পর ২০০০ সালে তারা সেখান থেকে সরে যায় এবং অনেক সামরিক স্থাপনা ধ্বংস করে। এরপর দুর্গটি সাধারণ দর্শনার্থীদের জন্য উন্মুক্ত করা হয় এবং পুনরুদ্ধার কাজ শুরু হয়।

ঐতিহ্য রক্ষার চ্যালেঞ্জ

সাম্প্রতিক বছরগুলোতে বউফোর্ট দুর্গকে বিশ্ব ঐতিহ্যের মর্যাদা দেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। আন্তর্জাতিক পর্যায়ে এর ঐতিহাসিক ও সাংস্কৃতিক গুরুত্ব স্বীকৃতি পেতে শুরু করেছে। তবে চলমান সংঘাতের কারণে এই স্থাপনাটির সংরক্ষণ বড় চ্যালেঞ্জের মুখে পড়েছে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, যুদ্ধক্ষেত্রের মাঝখানে অবস্থান করার কারণে দুর্গটি শুধু সামরিক নয়, সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য রক্ষার প্রশ্নেও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। মধ্যপ্রাচ্যের বর্তমান উত্তেজনা যত বাড়ছে, ততই এই প্রাচীন দুর্গ আবারও ইতিহাস ও ভূরাজনীতির সংযোগস্থলে পরিণত হচ্ছে।