ইউক্রেন দাবি করেছে, রাজধানী কিয়েভের উত্তরে অবস্থিত চেরনোবিল এলাকার একটি ব্যবহৃত পারমাণবিক জ্বালানি সংরক্ষণ স্থাপনায় ড্রোন হামলা চালানো হয়েছে। দেশটির সামরিক বাহিনীর মতে, হামলাটি রাশিয়ার বাহিনী পরিচালিত ড্রোনের মাধ্যমে সংঘটিত হয়েছে।
ইউক্রেনের জেনারেল স্টাফ জানিয়েছে, চেরনোবিল নিষিদ্ধ অঞ্চলের ভেতরে কেন্দ্রীয় ব্যবহৃত পারমাণবিক জ্বালানি সংরক্ষণ কেন্দ্রের একটি ভবনে ড্রোন আঘাত হানে। হামলার পর সেখানে ছোট আকারের আগুনের সৃষ্টি হলেও দ্রুত নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব হয়।
অল্প সময়ে আগুন নিয়ন্ত্রণে
সামরিক কর্মকর্তাদের তথ্য অনুযায়ী, ড্রোনের আঘাতে আগুন লাগার পর জরুরি সেবা কর্মীরা দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে কাজ শুরু করেন। প্রায় এক ঘণ্টার মধ্যেই আগুন সম্পূর্ণভাবে নিভিয়ে ফেলা হয়। প্রাথমিকভাবে বড় ধরনের ক্ষয়ক্ষতি বা তেজস্ক্রিয়তা ছড়িয়ে পড়ার কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি।
চেরনোবিল বিশ্বের অন্যতম পরিচিত পারমাণবিক দুর্ঘটনার স্থান। তাই এ অঞ্চলে যেকোনো সামরিক হামলা আন্তর্জাতিক অঙ্গনে উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়ায়।

আন্তর্জাতিক উদ্বেগ
ঘটনার পর জাতিসংঘের পারমাণবিক তদারকি সংস্থা কড়া প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে বলে জানা গেছে। পারমাণবিক স্থাপনার নিরাপত্তা নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে, বিশেষ করে চলমান যুদ্ধের মধ্যে এমন সংবেদনশীল অবকাঠামো ঝুঁকির মুখে পড়ায়।
বিশ্লেষকদের মতে, পারমাণবিক স্থাপনাগুলোর আশপাশে সামরিক কর্মকাণ্ড বাড়লে তা শুধু সংশ্লিষ্ট দেশ নয়, পুরো অঞ্চলের নিরাপত্তার জন্যও হুমকি হয়ে উঠতে পারে।
রাশিয়ার কোনো মন্তব্য নেই
ইউক্রেনের অভিযোগের বিষয়ে এখন পর্যন্ত রাশিয়ার পক্ষ থেকে কোনো আনুষ্ঠানিক মন্তব্য পাওয়া যায়নি। ফলে ঘটনাটির বিস্তারিত পরিস্থিতি এবং হামলার প্রকৃত প্রভাব নিয়ে এখনও অনিশ্চয়তা রয়ে গেছে।
যুদ্ধের দীর্ঘায়িত প্রেক্ষাপটে পারমাণবিক স্থাপনাগুলোর নিরাপত্তা আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ উদ্বেগের বিষয় হয়ে উঠেছে। চেরনোবিলের মতো ঐতিহাসিকভাবে সংবেদনশীল এলাকায় এমন ঘটনা সেই উদ্বেগকে আরও বাড়িয়ে দিয়েছে।

সারাক্ষণ রিপোর্ট 



















