তাইওয়ানের পূর্ব দিকের সমুদ্রসীমায় চীনের উপকূলরক্ষী বাহিনীর টহলকে উসকানিমূলক পদক্ষেপ হিসেবে আখ্যা দিয়েছে তাইওয়ান। দেশটির প্রতিরক্ষা কর্তৃপক্ষ বলছে, এই কর্মকাণ্ড শুধু সামুদ্রিক উপস্থিতি প্রদর্শনের চেষ্টা নয়, বরং তাইওয়ানের সার্বভৌমত্বকে চ্যালেঞ্জ করার একটি কৌশলগত প্রচেষ্টা।
সোমবার তাইওয়ানের প্রতিরক্ষামন্ত্রী জানান, চীনের সাম্প্রতিক পদক্ষেপের জবাবে সামরিক বাহিনী ও উপকূলরক্ষী বাহিনীর মধ্যে সমন্বয় আরও জোরদার করা হবে। পাশাপাশি গোয়েন্দা তথ্য বিনিময় ও নজরদারি কার্যক্রমও বাড়ানো হবে।
পূর্ব উপকূলে নতুন উত্তেজনা
সম্প্রতি চীন পূর্ব তাইওয়ানসংলগ্ন জলসীমায় বিশেষ সামুদ্রিক আইন প্রয়োগ অভিযান পরিচালনার কথা ঘোষণা করে। এর পরপরই তাইওয়ানের উপকূলরক্ষী বাহিনী নিজেদের জাহাজ পাঠিয়ে চীনা জাহাজগুলোকে সতর্ক করে এবং সীমাবদ্ধ জলসীমা থেকে সরে যেতে বলে।

তাইওয়ানের কর্মকর্তাদের দাবি, চীনা জাহাজগুলোকে শেষ পর্যন্ত ওই এলাকা ত্যাগ করতে বাধ্য করা হয়েছে। সোমবার ভোরের দিকে তারা পূর্ব দিকে সরে যায় বলে জানানো হয়েছে।
‘মাকড়সার জালের মতো নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা’
তাইওয়ানের প্রতিরক্ষামন্ত্রী অভিযোগ করেন, চীন ধাপে ধাপে পূর্ব দিকের সমুদ্রাঞ্চলকে নিজেদের নিয়ন্ত্রণাধীন এলাকা হিসেবে প্রতিষ্ঠার চেষ্টা করছে। তাঁর ভাষায়, এটি এমন এক কৌশল যার মাধ্যমে পুরো অঞ্চলকে মাকড়সার জালের মতো ঘিরে ফেলার চেষ্টা করা হচ্ছে।
তিনি বলেন, এই ধরনের কর্মকাণ্ড তাইওয়ানের জাতীয় সার্বভৌমত্বের ওপর গুরুতর আঘাত এবং তা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়।
বাড়ছে সামুদ্রিক চাপ
তাইওয়ানের সামুদ্রিক বিষয়ক কর্তৃপক্ষও অভিযোগ করেছে, গত মে মাসের শুরু থেকে চীন ধারাবাহিকভাবে চাপ বাড়িয়ে যাচ্ছে। দক্ষিণ চীন সাগরের বিভিন্ন এলাকায় টহল, গবেষণা জাহাজ মোতায়েন এবং তাইওয়ান-নিয়ন্ত্রিত দ্বীপগুলোর আশপাশে তৎপরতা বৃদ্ধিকে তারা একই কৌশলের অংশ হিসেবে দেখছে।

তাদের মতে, সমুদ্র শান্তি ও সহযোগিতার ক্ষেত্র হওয়া উচিত। কিন্তু সাম্প্রতিক পদক্ষেপগুলো সেই পরিবেশকে আরও অস্থিতিশীল করে তুলছে।
প্রতিদিনের সামরিক উপস্থিতি
চীনা যুদ্ধজাহাজ ও যুদ্ধবিমান প্রায় প্রতিদিনই তাইওয়ানের আশপাশে কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছে। একই সময়ে পশ্চিম প্রশান্ত মহাসাগরে চীনের বিমানবাহী রণতরীর দীর্ঘমেয়াদি মিশনও নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছে তাইওয়ান।
বিশ্লেষকদের মতে, সাম্প্রতিক ঘটনাগুলো দেখাচ্ছে যে তাইওয়ানকে ঘিরে সামরিক ও কূটনৈতিক চাপ অব্যাহত রয়েছে। অন্যদিকে তাইপে স্পষ্ট করে জানিয়েছে, তারা নিজেদের নিরাপত্তা ও সামুদ্রিক অধিকার রক্ষায় সতর্ক অবস্থান বজায় রাখবে।
চীন দীর্ঘদিন ধরে তাইওয়ানকে নিজেদের ভূখণ্ডের অংশ হিসেবে দাবি করে আসছে। তবে তাইওয়ানের সরকার সেই দাবি প্রত্যাখ্যান করে নিজেদের স্বশাসিত অবস্থানের ওপর জোর দিয়ে আসছে। ফলে দুই পক্ষের মধ্যে উত্তেজনা কমার পরিবর্তে নতুন নতুন ইস্যুতে আরও জটিল হয়ে উঠছে।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 



















