শক্তিশালী মার্কিন শ্রমবাজারের তথ্য প্রকাশের পর বৈশ্বিক মুদ্রাবাজারে ডলারের অবস্থান আরও শক্তিশালী হয়েছে। এর প্রভাব পড়েছে মালয়েশিয়ার মুদ্রা রিঙ্গিতের ওপরও। সপ্তাহের প্রথম কার্যদিবসে মার্কিন ডলারের বিপরীতে রিঙ্গিতের মূল্য উল্লেখযোগ্যভাবে কমেছে, যা বিনিয়োগকারীদের মধ্যে নতুন উদ্বেগ তৈরি করেছে।
সোমবার দিনের লেনদেন শেষে ডলারের বিপরীতে রিঙ্গিতের বিনিময় হার দাঁড়ায় ৪.০৭১৫ থেকে ৪.০৭৬০। এর আগে শুক্রবার বাজার বন্ধের সময় এই হার ছিল ৪.০২৮০ থেকে ৪.০৩২০। ফলে এক কার্যদিবসের ব্যবধানে রিঙ্গিতের অবমূল্যায়ন স্পষ্ট হয়ে উঠেছে।
ডলারের শক্তি বাড়ার কারণ
অর্থনীতিবিদদের মতে, যুক্তরাষ্ট্রের শ্রমবাজার প্রত্যাশার চেয়ে ভালো অবস্থায় থাকায় বাজারে ধারণা জোরদার হয়েছে যে মার্কিন কেন্দ্রীয় ব্যাংক ফেডারেল রিজার্ভ আপাতত কঠোর মুদ্রানীতি থেকে সরে আসবে না। উচ্চ সুদের হার দীর্ঘ সময় বজায় থাকার সম্ভাবনা ডলারের প্রতি বিনিয়োগকারীদের আস্থা বাড়িয়েছে।
ফলে শুধু রিঙ্গিত নয়, এশিয়ার বেশিরভাগ মুদ্রাই ডলারের বিপরীতে দুর্বল অবস্থানে চলে গেছে। রিঙ্গিতের মূল্যও প্রায় ১ শতাংশের বেশি কমেছে।
মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাত ও তেলের বাজার
মুদ্রাবাজারের পাশাপাশি জ্বালানি বাজারেও অস্থিরতা দেখা যাচ্ছে। যুক্তরাষ্ট্র, ইসরায়েল ও ইরানকে ঘিরে চলমান সংঘাত এবং হরমুজ প্রণালিতে পরিবহন ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা বিশ্ববাজারে তেলের দাম বাড়িয়ে দিয়েছে।
ব্রেন্ট ক্রুডের দাম দিনে প্রায় ৩.৮ শতাংশ বেড়ে ব্যারেলপ্রতি ৯৬.৬০ মার্কিন ডলারে পৌঁছায়। বিশ্লেষকদের মতে, তেলের উচ্চ মূল্য ভবিষ্যতে বৈশ্বিক মূল্যস্ফীতির ওপর অতিরিক্ত চাপ সৃষ্টি করতে পারে।

মূল্যস্ফীতি নিয়ে বাড়ছে শঙ্কা
অর্থনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, সামনের মাসগুলোতে মূল্যস্ফীতির গতি এবং আন্তর্জাতিক বাজারের প্রতিক্রিয়া মুদ্রাবাজারের গতিপথ নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
বর্তমান পরিস্থিতিতে উচ্চ সুদের হার অনেক দেশের মুদ্রাকে সমর্থন দিলেও বিনিয়োগকারীদের মধ্যে সতর্ক মনোভাব তৈরি করছে। ফলে বাজারে ঝুঁকি নেওয়ার প্রবণতা কমে যেতে পারে।
প্রধান মুদ্রাগুলোর বিপরীতে রিঙ্গিত
ব্রিটিশ পাউন্ড ও জাপানি ইয়েনের বিপরীতে রিঙ্গিত দুর্বল হয়েছে। তবে ইউরোর বিপরীতে সামান্য শক্তিশালী অবস্থান ধরে রাখতে সক্ষম হয়েছে।
অন্যদিকে আঞ্চলিক মুদ্রাগুলোর ক্ষেত্রেও একই চিত্র দেখা গেছে। সিঙ্গাপুর ডলার, থাই বাত, ফিলিপাইন পেসো এবং ইন্দোনেশিয়ান রুপিয়াহর বিপরীতেও রিঙ্গিতের দর কমেছে।
বিশ্লেষকদের মতে, শক্তিশালী ডলার, উচ্চ সুদের হার এবং মধ্যপ্রাচ্যের ভূরাজনৈতিক উত্তেজনার সম্মিলিত প্রভাবে বৈশ্বিক মুদ্রাবাজারে অনিশ্চয়তা আরও বাড়তে পারে।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 



















