দুই মাসের অস্থির যুদ্ধবিরতির পর আবারও সরাসরি সংঘাতে জড়িয়ে পড়েছে ইসরায়েল ও ইরান। নতুন করে শুরু হওয়া হামলা-পাল্টা হামলা শুধু মধ্যপ্রাচ্যের নিরাপত্তা পরিস্থিতিকেই নয়, বৈশ্বিক জ্বালানি বাণিজ্য ও তেলবাজারকেও নাড়িয়ে দিয়েছে। ইসরায়েলের হামলায় ইরানের একটি গুরুত্বপূর্ণ পেট্রোকেমিক্যাল স্থাপনা ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার খবর প্রকাশের পর আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম দ্রুত বেড়েছে।
সোমবার ইরানের ছোড়া ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্রের কারণে মধ্য ও দক্ষিণ ইসরায়েলে সতর্কতা সাইরেন বেজে ওঠে। জবাবে ইসরায়েল পশ্চিম ও দক্ষিণ ইরানের একাধিক লক্ষ্যবস্তুতে বিমান হামলা চালায়। ইসরায়েলি সামরিক বাহিনীর দাবি, এসব হামলার মধ্যে সামরিক স্থাপনার পাশাপাশি একটি বড় পেট্রোকেমিক্যাল কমপ্লেক্সও ছিল।
যুদ্ধবিরতির পর প্রথম বড় সংঘর্ষ
এপ্রিল মাসে যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যস্থতায় শুরু হওয়া যুদ্ধবিরতির পর এই প্রথমবার ইসরায়েল ও ইরানের মধ্যে সরাসরি বড় ধরনের হামলা-পাল্টা হামলার ঘটনা ঘটল। সে সময় আলোচনার মাধ্যমে একটি দীর্ঘমেয়াদি সমাধানের আশা তৈরি হলেও কয়েক দফা কূটনৈতিক প্রচেষ্টা স্থায়ী অগ্রগতি আনতে পারেনি। নতুন সংঘর্ষ সেই প্রক্রিয়াকে আবারও অনিশ্চয়তার মুখে ফেলেছে।
বৈরুত থেকে শুরু নতুন উত্তেজনা
রবিবার ইসরায়েল লেবাননের রাজধানী বৈরুতের দক্ষিণাঞ্চলে হামলা চালায়। হামলাটি ছিল ইরান-সমর্থিত হিজবুল্লাহর বিরুদ্ধে চলমান অভিযানের অংশ। এর পরপরই ইরান প্রতিশোধমূলক পদক্ষেপ হিসেবে ইসরায়েলের দিকে ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করে। ইসরায়েল দাবি করেছে, তাদের প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা অন্তত কিছু ক্ষেপণাস্ত্র ভূপাতিত করতে সক্ষম হয়েছে।

তেলবাজারে তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়া
সংঘাতের সবচেয়ে তাৎক্ষণিক প্রভাব দেখা গেছে জ্বালানি বাজারে। ইসরায়েলের হামলা এবং ইরানের পাল্টা আঘাতের পর ব্রেন্ট ক্রুডের দাম প্রায় ৫ শতাংশ বেড়ে ব্যারেলপ্রতি ৯৭ থেকে ৯৮ ডলারের কাছাকাছি পৌঁছেছে। বাজার বিশ্লেষকদের মতে, মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা বৃদ্ধি এবং জ্বালানি অবকাঠামো লক্ষ্যবস্তু হওয়ায় সরবরাহ নিয়ে নতুন উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।
বিশেষ করে হরমুজ প্রণালির নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে। বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহের একটি বড় অংশ এই রুট দিয়ে পরিবাহিত হয়। সম্ভাব্য বিঘ্নের আশঙ্কা বিনিয়োগকারী ও বাণিজ্যিক অংশীদারদের মধ্যে অস্থিরতা তৈরি করেছে।
কূটনৈতিক তৎপরতা অব্যাহত
সংঘাত ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কায় বিভিন্ন দেশ সংযমের আহ্বান জানিয়েছে। কানাডা ও যুক্তরাজ্য পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে। অন্যদিকে কাতার নতুন করে মধ্যস্থতার উদ্যোগ শুরু করেছে। দেশটির প্রধানমন্ত্রী ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচির সঙ্গে আলোচনা করেছেন বলে জানা গেছে।
এদিকে ইয়েমেনের ইরান-সমর্থিত হুথিরা লোহিত সাগরে ইসরায়েল-সম্পর্কিত নৌ চলাচলের বিরুদ্ধে নতুন অবরোধ ঘোষণার কথা জানিয়েছে। এই হুমকি কার্যকর হলে আন্তর্জাতিক বাণিজ্যপথ ও সামুদ্রিক পরিবহনে নতুন চাপ তৈরি হতে পারে।
বর্তমান পরিস্থিতিতে মধ্যপ্রাচ্যের নিরাপত্তা সংকটের পাশাপাশি জ্বালানি বাণিজ্য, তেল সরবরাহ এবং বৈশ্বিক অর্থনীতির ওপর সম্ভাব্য প্রভাব নিয়ে আন্তর্জাতিক মহলে উদ্বেগ দ্রুত বাড়ছে।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 



















