১১:৪৭ অপরাহ্ন, শনিবার, ০১ অগাস্ট ২০২৬
চার শতাব্দী পর ফিরল প্রকৃতির হারানো সন্তান, গ্লেন অ্যাফ্রিকে জন্ম নিল বুনো বিভারের নতুন প্রজন্ম ‘সবাইকে হত্যা করতে হবে’— প্রতিশোধের নামে সহিংসতার পক্ষে ইসরায়েলি বসতি স্থাপনকারীর উসকানি, আতঙ্কে পশ্চিম তীরের ফিলিস্তিনিরা এমঅ্যান্ডএসে খোলা-অংশের অন্তর্বাস বিক্রি ঘিরে বিতর্ক: ‘চমক’ নাকি বদলে যাওয়া বাজারের বাস্তবতা? প্রতিশোধের নামে হত্যার আহ্বান, পশ্চিম তীরে ইসরায়েলি বসতির বাসিন্দার বিস্ফোরক মন্তব্যে নতুন বিতর্ক ট্রাম্পের নতুন নিশানায় ‘পিকঅ্যাক্স মাউন্টেন’: ইরানের গোপন পারমাণবিক ঘাঁটি নিয়ে কেন বাড়ছে যুদ্ধের আশঙ্কা? ট্রাম্পের অভিযোগ ভেঙে পড়ল, আদালতে সরকারের স্বীকারোক্তি: ভাঙচুর নয়, তড়িঘড়ি মেরামতের ভুলেই ক্ষতিগ্রস্ত লিংকন রিফ্লেক্টিং পুল গোলাপি ডোরাকাটা রহস্যের অবসান: ৪০ বছরের অনুসন্ধানে মিলল সমুদ্রের নতুন শৈবাল প্রজাতি মৃত্যুর দিকে ছুটে চলা জীবনে থামার সময় কি এখনও আসেনি? প্যাক্স সিলিকা: কর্মসংস্থান নাকি নতুন নির্ভরতা? ফিলিপাইনের সামনে সুযোগের পাশাপাশি বড় ঝুঁকির সতর্কবার্তা যুক্তরাষ্ট্রের বিশেষ দূত সার্জিও গরের ঢাকা সফর শেষ, বাংলাদেশ-যুক্তরাষ্ট্র সম্পর্ক আরও জোরদারের অঙ্গীকার

শিশুদের নগ্ন ছবি দেখা ও শেয়ার ঠেকাতে কড়াকড়ি, প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানগুলোর জন্য তিন মাসের সময়

শিশুদের অনলাইনে নগ্ন ছবি দেখা, শেয়ার করা বা তৈরি করার সুযোগ বন্ধ করতে নতুন কঠোর পদক্ষেপ ঘোষণা করেছেন যুক্তরাজ্যের প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমার। নতুন পরিকল্পনা অনুযায়ী, স্মার্টফোন ও ট্যাবলেটে এমন প্রযুক্তি যুক্ত করতে হবে যা শিশুদের জন্য নগ্ন বা যৌনভাবে স্পষ্ট ছবি শনাক্ত করে স্বয়ংক্রিয়ভাবে ব্লক করবে।

লন্ডনে টেক উইক উপলক্ষে প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানগুলোর এক সম্মেলনে দেওয়া বক্তব্যে স্টারমার বলেন, শিশুদের নিরাপত্তার প্রশ্নে নিষ্ক্রিয় থাকার সুযোগ নেই। তার মতে, প্রযুক্তিকে সমাজের প্রয়োজনের সঙ্গে খাপ খাইয়ে নিতে হবে, উল্টোটা নয়।

প্রযুক্তি কোম্পানিগুলোর ওপর নতুন চাপ

সরকারের পরিকল্পনা অনুযায়ী, গুগল, অ্যাপলসহ বড় প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানগুলোকে আগামী তিন মাসের মধ্যে স্মার্টফোন ও ট্যাবলেটে বিল্ট-ইন নিরাপত্তা সুবিধা চালু করতে হবে। এসব সুবিধা শিশুদের নগ্ন ছবি পাঠানো, গ্রহণ করা বা দেখা থেকে বিরত রাখবে।

সরকারের দাবি, এ ধরনের ব্যবস্থা যৌন শিকারিদের মাধ্যমে শিশুদের শোষণ ও হয়রানির ঝুঁকি কমাবে। একই সঙ্গে অপ্রাপ্তবয়স্কদের পর্নোগ্রাফি দেখার সুযোগও সীমিত হবে।

বর্তমান ব্যবস্থার সীমাবদ্ধতা

যদিও ১৮ বছরের কম বয়সীদের জন্য পর্নোগ্রাফি দেখা আইনত নিষিদ্ধ, বাস্তবে অনেক শিশু সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের মাধ্যমে এসব কনটেন্টে প্রবেশ করতে পারে। সরকারের মতে, নতুন প্রযুক্তিগত নিয়ন্ত্রণ এই ফাঁকফোকর বন্ধ করতে সহায়তা করবে।

প্রাপ্তবয়স্কদের ক্ষেত্রে অবশ্য নিয়ম ভিন্ন থাকবে। বয়স যাচাই প্রক্রিয়ার মাধ্যমে তারা আগের মতোই বৈধভাবে নগ্ন বা প্রাপ্তবয়স্কদের জন্য নির্ধারিত কনটেন্ট দেখতে ও শেয়ার করতে পারবেন।

Tech firms have three months to stop children seeing or sending explicit  content, Starmer says - BBC News

আইন পরিবর্তনের হুঁশিয়ারি

সরকার প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানগুলোকে তিন মাস সময় দিলেও নির্ধারিত সময়ের মধ্যে ব্যবস্থা না নিলে আইন পরিবর্তনের পথে হাঁটার হুঁশিয়ারি দিয়েছেন স্টারমার।

তিনি বলেন, শিশুদের যৌনভাবে স্পষ্ট ছবি পাঠানো বা গ্রহণ করা ঠেকানোর মতো প্রযুক্তি তৈরি করা অসম্ভব কোনো কাজ নয়। বিশ্বের সবচেয়ে উদ্ভাবনী প্রতিষ্ঠানগুলোর পক্ষেই এই সমস্যার সমাধান করা সম্ভব।

স্টারমারের ভাষায়, প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানগুলো যদি দায়িত্ব পালন না করে, তাহলে সরকার হস্তক্ষেপ করবে এবং প্রয়োজন হলে আইন পরিবর্তন করবে। শিশুদের নিরাপত্তার ক্ষেত্রে কোনো ধরনের আপস করা হবে না।

বিতর্কও রয়েছে

তবে এই সিদ্ধান্ত রাজনৈতিক বিতর্কও তৈরি করেছে। কারণ গত মাসে সাবেক সুরক্ষা বিষয়ক মন্ত্রী জেস ফিলিপস তার পদত্যাগপত্রে অভিযোগ করেছিলেন যে, এই ধরনের পদক্ষেপ বাধ্যতামূলক করার বিষয়ে আগে অনীহা দেখিয়েছিলেন স্টারমার। ফলে সমালোচকদের একাংশ এই ঘোষণাকে নীতিগত অবস্থান পরিবর্তন হিসেবে দেখছেন।

তারপরও সরকার বলছে, শিশুদের অনলাইন নিরাপত্তা জোরদার করা এবং প্রযুক্তির অপব্যবহার ঠেকানোই এই উদ্যোগের মূল লক্ষ্য।

জনপ্রিয় সংবাদ

চার শতাব্দী পর ফিরল প্রকৃতির হারানো সন্তান, গ্লেন অ্যাফ্রিকে জন্ম নিল বুনো বিভারের নতুন প্রজন্ম

শিশুদের নগ্ন ছবি দেখা ও শেয়ার ঠেকাতে কড়াকড়ি, প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানগুলোর জন্য তিন মাসের সময়

০৬:২৪:৪২ অপরাহ্ন, সোমবার, ৮ জুন ২০২৬

শিশুদের অনলাইনে নগ্ন ছবি দেখা, শেয়ার করা বা তৈরি করার সুযোগ বন্ধ করতে নতুন কঠোর পদক্ষেপ ঘোষণা করেছেন যুক্তরাজ্যের প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমার। নতুন পরিকল্পনা অনুযায়ী, স্মার্টফোন ও ট্যাবলেটে এমন প্রযুক্তি যুক্ত করতে হবে যা শিশুদের জন্য নগ্ন বা যৌনভাবে স্পষ্ট ছবি শনাক্ত করে স্বয়ংক্রিয়ভাবে ব্লক করবে।

লন্ডনে টেক উইক উপলক্ষে প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানগুলোর এক সম্মেলনে দেওয়া বক্তব্যে স্টারমার বলেন, শিশুদের নিরাপত্তার প্রশ্নে নিষ্ক্রিয় থাকার সুযোগ নেই। তার মতে, প্রযুক্তিকে সমাজের প্রয়োজনের সঙ্গে খাপ খাইয়ে নিতে হবে, উল্টোটা নয়।

প্রযুক্তি কোম্পানিগুলোর ওপর নতুন চাপ

সরকারের পরিকল্পনা অনুযায়ী, গুগল, অ্যাপলসহ বড় প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানগুলোকে আগামী তিন মাসের মধ্যে স্মার্টফোন ও ট্যাবলেটে বিল্ট-ইন নিরাপত্তা সুবিধা চালু করতে হবে। এসব সুবিধা শিশুদের নগ্ন ছবি পাঠানো, গ্রহণ করা বা দেখা থেকে বিরত রাখবে।

সরকারের দাবি, এ ধরনের ব্যবস্থা যৌন শিকারিদের মাধ্যমে শিশুদের শোষণ ও হয়রানির ঝুঁকি কমাবে। একই সঙ্গে অপ্রাপ্তবয়স্কদের পর্নোগ্রাফি দেখার সুযোগও সীমিত হবে।

বর্তমান ব্যবস্থার সীমাবদ্ধতা

যদিও ১৮ বছরের কম বয়সীদের জন্য পর্নোগ্রাফি দেখা আইনত নিষিদ্ধ, বাস্তবে অনেক শিশু সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের মাধ্যমে এসব কনটেন্টে প্রবেশ করতে পারে। সরকারের মতে, নতুন প্রযুক্তিগত নিয়ন্ত্রণ এই ফাঁকফোকর বন্ধ করতে সহায়তা করবে।

প্রাপ্তবয়স্কদের ক্ষেত্রে অবশ্য নিয়ম ভিন্ন থাকবে। বয়স যাচাই প্রক্রিয়ার মাধ্যমে তারা আগের মতোই বৈধভাবে নগ্ন বা প্রাপ্তবয়স্কদের জন্য নির্ধারিত কনটেন্ট দেখতে ও শেয়ার করতে পারবেন।

Tech firms have three months to stop children seeing or sending explicit  content, Starmer says - BBC News

আইন পরিবর্তনের হুঁশিয়ারি

সরকার প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানগুলোকে তিন মাস সময় দিলেও নির্ধারিত সময়ের মধ্যে ব্যবস্থা না নিলে আইন পরিবর্তনের পথে হাঁটার হুঁশিয়ারি দিয়েছেন স্টারমার।

তিনি বলেন, শিশুদের যৌনভাবে স্পষ্ট ছবি পাঠানো বা গ্রহণ করা ঠেকানোর মতো প্রযুক্তি তৈরি করা অসম্ভব কোনো কাজ নয়। বিশ্বের সবচেয়ে উদ্ভাবনী প্রতিষ্ঠানগুলোর পক্ষেই এই সমস্যার সমাধান করা সম্ভব।

স্টারমারের ভাষায়, প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানগুলো যদি দায়িত্ব পালন না করে, তাহলে সরকার হস্তক্ষেপ করবে এবং প্রয়োজন হলে আইন পরিবর্তন করবে। শিশুদের নিরাপত্তার ক্ষেত্রে কোনো ধরনের আপস করা হবে না।

বিতর্কও রয়েছে

তবে এই সিদ্ধান্ত রাজনৈতিক বিতর্কও তৈরি করেছে। কারণ গত মাসে সাবেক সুরক্ষা বিষয়ক মন্ত্রী জেস ফিলিপস তার পদত্যাগপত্রে অভিযোগ করেছিলেন যে, এই ধরনের পদক্ষেপ বাধ্যতামূলক করার বিষয়ে আগে অনীহা দেখিয়েছিলেন স্টারমার। ফলে সমালোচকদের একাংশ এই ঘোষণাকে নীতিগত অবস্থান পরিবর্তন হিসেবে দেখছেন।

তারপরও সরকার বলছে, শিশুদের অনলাইন নিরাপত্তা জোরদার করা এবং প্রযুক্তির অপব্যবহার ঠেকানোই এই উদ্যোগের মূল লক্ষ্য।