ফিলিপাইনের দক্ষিণাঞ্চলে সোমবার আঘাত হানা ৭.৮ মাত্রার শক্তিশালী ভূমিকম্পে মৃতের সংখ্যা বেড়ে অন্তত ৩১ জনে পৌঁছেছে। প্রাদেশিক কর্তৃপক্ষের তথ্য অনুযায়ী, ভূমিকম্পের পর বহু ভবন ধসে পড়ে এবং পুরো অঞ্চলে সুনামি সতর্কতা জারি করা হয়। জাতীয় দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, এখনও অন্তত ১২ জন নিখোঁজ রয়েছেন এবং ১৩৪ জন আহত হয়েছেন।
উপকূলীয় এলাকায় আতঙ্ক, সুনামি সতর্কতা
ভূমিকম্পটির কেন্দ্র ছিল জেনারেল সান্তোস শহরের দক্ষিণ উপকূলীয় সমুদ্রাঞ্চলে। প্রায় ৭ লাখ ২০ হাজার জনসংখ্যার এই শহরে অন্তত নয়জনের মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে। ভূমিকম্পের পর উপকূলীয় এলাকাগুলোর বাসিন্দাদের দ্রুত উঁচু স্থানে সরে যাওয়ার নির্দেশ দেয় কর্তৃপক্ষ।
প্রশান্ত মহাসাগরীয় সুনামি সতর্কতা কেন্দ্র জানিয়েছিল, ফিলিপাইন ছাড়াও ইন্দোনেশিয়া, পালাউ, তাইওয়ান এবং পাপুয়া নিউগিনির উপকূলে সুনামি ঢেউ আঘাত হানতে পারে। তবে বিকেলের মধ্যে ফিলিপাইনসহ সংশ্লিষ্ট দেশগুলো সতর্কতা প্রত্যাহার করে। জাপানের প্রশান্ত মহাসাগরীয় উপকূলে যে ঢেউ পৌঁছায়, তার উচ্চতা ২০ সেন্টিমিটারের বেশি ছিল না।
ভূমিধসে বেড়েছে প্রাণহানি
সবচেয়ে ক্ষতিগ্রস্ত সারাঙ্গানি প্রদেশের গ্লান পৌরসভায় অন্তত ১৪ জন নিহত হন। স্থানীয় দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা প্রধান রেনে পুন্জালান জানান, ভূমিকম্পের পরপরই পাহাড়ের পাদদেশে ভূমিধস নেমে বহু বাড়ি চাপা পড়ে।
তিনি বলেন, বিদ্যুৎ বিচ্ছিন্ন হয়ে যাওয়ায় অনেক এলাকা থেকে এখনও পূর্ণাঙ্গ তথ্য পাওয়া যাচ্ছে না। ফলে হতাহতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। একই সঙ্গে পরপর শক্তিশালী পরাঘাতের কারণে স্থানীয়দের মধ্যে আতঙ্ক বিরাজ করছে।
ধ্বংসস্তূপে উদ্ধার অভিযান
ভূমিকম্পের প্রায় দুই ঘণ্টা পর থেকে একের পর এক শক্তিশালী পরাঘাত অনুভূত হয়। যুক্তরাষ্ট্রের ভূতাত্ত্বিক জরিপ সংস্থার তথ্য অনুযায়ী, সবচেয়ে বড় পরাঘাতের মাত্রা ছিল ৬.৫।
জেনারেল সান্তোস শহরে একটি জনপ্রিয় মুদিপণ্যের দোকান চেইনের ধ্বংসস্তূপে আটকে পড়া দুই কর্মীর মরদেহ উদ্ধারে উদ্ধারকর্মীরা অভিযান চালান। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওতে দেখা যায়, শহরের একটি শপিং সেন্টার ও সেখানে অবস্থিত একটি ফাস্টফুড রেস্তোরাঁ সম্পূর্ণ ধসে পড়েছে। অন্য একটি স্কুল ভবনও মাটিতে লুটিয়ে পড়ে, যদিও ভবনটি তখন খালি ছিল বলে কর্মকর্তারা জানিয়েছেন।

স্কুলশিশুদের আতঙ্কিত অবস্থার ভিডিওও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে। শিক্ষকদের কোলে থাকা শিশুদের চিৎকার করতে দেখা যায়, যখন প্রবল কম্পনে চারপাশ দুলছিল।
হাজারো মানুষ আশ্রয়কেন্দ্রে
সুনামি সতর্কতার কারণে দুই হাজারেরও বেশি মানুষকে নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়া হয়েছিল। সতর্কতা প্রত্যাহারের পরও তারা বাড়ি ফিরতে পারবেন কি না, তা পরিস্থিতি মূল্যায়নের পর সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে বলে জানিয়েছে স্থানীয় প্রশাসন।
এদিকে জেনারেল সান্তোস বিমানবন্দর অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে। বিমানবন্দরের ব্যাগেজ সংগ্রহ এলাকায় ছাদের অংশ ভেঙে পড়ার ঘটনাও ভিডিওতে ধরা পড়েছে।
ভূমিকম্পপ্রবণ অঞ্চলে নতুন বিপর্যয়
ফিলিপাইন প্রশান্ত মহাসাগরীয় ‘রিং অব ফায়ার’ অঞ্চলে অবস্থিত, যেখানে প্রায়ই শক্তিশালী ভূমিকম্প ও আগ্নেয়গিরির কার্যকলাপ দেখা যায়। গত অক্টোবরেও পূর্ব মিন্দানাও অঞ্চলে ৭.৪ ও ৬.৭ মাত্রার দুটি ভূমিকম্পে অন্তত আটজন নিহত হয়েছিলেন। এর আগে ৬.৯ মাত্রার আরেকটি ভূমিকম্পে ৭৬ জনের মৃত্যু এবং ৭২ হাজারের বেশি ভবন ক্ষতিগ্রস্ত বা ধ্বংস হয়েছিল।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 



















