যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট দীর্ঘদিন ধরে কর কর্তৃপক্ষের সঙ্গে চলা বিরোধে বড় ধরনের সুবিধা পেয়েছেন বলে নতুন বিতর্ক তৈরি হয়েছে। নতুন ব্যবস্থার ফলে তার অতীতের কর-সংক্রান্ত অনেক তদন্ত ও অডিট কার্যত বন্ধ হয়ে যেতে পারে, যা তাকে ভবিষ্যতেও বিপুল পরিমাণ কর পরিশোধ এড়াতে সহায়তা করতে পারে বলে বিশেষজ্ঞদের ধারণা।
এই সিদ্ধান্তকে ঘিরে রাজনৈতিক অঙ্গনে আলোচনা বাড়লেও, কংগ্রেসে বিষয়টি নিয়ে তুলনামূলকভাবে কম প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে। ফলে সমালোচকদের মতে, প্রেসিডেন্ট হিসেবে ট্রাম্প এমন একটি সুবিধা পেয়েছেন যা আগে কোনো মার্কিন প্রেসিডেন্টের ক্ষেত্রে দেখা যায়নি।
বহু বছরের কর-বিতর্কের নতুন মোড়
ট্রাম্পের ব্যবসায়িক সাম্রাজ্য এবং ব্যক্তিগত কর-ব্যবস্থা বহু বছর ধরেই যুক্তরাষ্ট্রের কর কর্তৃপক্ষের নজরে ছিল। তার কর রিটার্নে দেখানো ব্যবসায়িক ক্ষতি, বিভিন্ন কর-ছাড়ের দাবি এবং আয়ের হিসাব নিয়ে একাধিকবার প্রশ্ন উঠেছে।
কর কর্তৃপক্ষ অতীতে তার বিভিন্ন ব্যবসা ও সম্পত্তি নিয়ে তদন্ত চালিয়েছে। এসব তদন্তের মধ্যে কিছু ক্ষেত্রে সরকারের কাছে শত কোটি ডলারের অতিরিক্ত কর পাওনার সম্ভাবনাও ছিল বলে আলোচনায় এসেছে।
নতুন সিদ্ধান্তের ফলে আগে দাখিল করা কর রিটার্নের ওপর চলমান বা সম্ভাব্য অনেক অডিট আর এগোবে না বলে ধারণা করা হচ্ছে। এর আওতায় শুধু ট্রাম্প নন, তার পরিবারের সদস্য এবং তাদের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট কিছু ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠানেরও সুবিধা পাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
কর রিটার্ন নিয়ে দীর্ঘ বিতর্ক
২০১৬ সালের নির্বাচনী প্রচারণার সময় ট্রাম্প তার কর রিটার্ন প্রকাশ করতে অস্বীকৃতি জানান। সে সময় তিনি যুক্তি দিয়েছিলেন যে তিনি নিয়মিত কর-অডিটের মুখোমুখি হচ্ছেন এবং সেই কারণে নথিগুলো প্রকাশ করা সম্ভব নয়।
পরবর্তীতে ফাঁস হওয়া কর নথি ও বিভিন্ন অনুসন্ধানে দেখা যায়, তিনি বহু বছর খুব কম বা কোনো ফেডারেল আয়করই পরিশোধ করেননি। এসব প্রতিবেদনে ব্যবসায়িক ক্ষতি দেখিয়ে করযোগ্য আয় কমানোর বিভিন্ন কৌশলের কথাও উঠে আসে।
এই ঘটনা নিয়ে রাজনৈতিক ও আইনি বিতর্ক বছরের পর বছর ধরে চলেছে। পরে কর-সংক্রান্ত তথ্য ফাঁসের ঘটনায় জড়িত একজন ব্যক্তিকে কারাদণ্ডও দেওয়া হয়।

আদালত ও তদন্তের নতুন প্রশ্ন
ট্রাম্পের বিরুদ্ধে করা মামলা এবং পরবর্তী সমঝোতা নিয়ে এখনো কিছু আইনি প্রশ্ন রয়ে গেছে। একটি ফেডারেল আদালত খতিয়ে দেখছে, মামলার প্রক্রিয়ায় আদালতকে বিভ্রান্ত করা হয়েছে কি না।
তবে বিশ্লেষকদের মতে, সরকার ও ট্রাম্পের মধ্যে হওয়া এই ধরনের সমঝোতা আদালতে চ্যালেঞ্জ করা সহজ হবে না। ফলে অডিট-সুরক্ষা ব্যবস্থা বহাল থাকলে এর দীর্ঘমেয়াদি প্রভাব পড়তে পারে।
ভবিষ্যতে কী সুবিধা পেতে পারেন ট্রাম্প?
বিশেষজ্ঞদের মতে, অতীতের কর রিটার্ন নিয়ে তদন্ত বন্ধ হয়ে গেলে ট্রাম্প ভবিষ্যতেও পুরোনো ক্ষতির হিসাব ব্যবহার করে নতুন আয়ের বিপরীতে কর কমানোর সুযোগ পেতে পারেন।
ট্রাম্পের নিয়ন্ত্রণে শত শত ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠান রয়েছে। এত বিস্তৃত ব্যবসায়িক কাঠামোর মধ্যে কর-সংক্রান্ত বিষয়গুলো পর্যালোচনা করা কর কর্তৃপক্ষের জন্য বরাবরই জটিল ছিল। নতুন সুরক্ষা ব্যবস্থা সেই জটিলতাকে আরও বাড়াতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে।
যদিও ভবিষ্যতের কর রিটার্ন এখনো পর্যালোচনার আওতায় থাকবে, তবু অতীতের কর-সংক্রান্ত বিরোধ থেকে মুক্তি পাওয়া ট্রাম্পের জন্য বড় আর্থিক সুবিধা হয়ে উঠতে পারে। রাজনৈতিকভাবে বিষয়টি বিতর্কিত হলেও, বাস্তবে এটি তার দীর্ঘদিনের কর-সংক্রান্ত লড়াইয়ের একটি গুরুত্বপূর্ণ বিজয় হিসেবে দেখা হচ্ছে।
ট্রাম্পের কর-অডিট সুরক্ষা নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রে বিতর্ক তীব্র হচ্ছে। নতুন ব্যবস্থায় অতীতের কর তদন্ত বন্ধ হয়ে বড় আর্থিক সুবিধা পেতে পারেন ট্রাম্প।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 



















