মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সোমবার জানিয়েছেন, রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের সাথে দুই ঘণ্টারও বেশি সময় ধরে ফোনে কথা হয়েছে এবং রাশিয়া ও ইউক্রেন যুদ্ধবিরতির লক্ষ্যে অবিলম্বে আলোচনা শুরু করবে। ট্রাম্প সোশ্যাল মিডিয়ায় পোস্ট করেছেন, আলাপ অত্যন্ত ভালো হয়েছে এবং দুই দেশ শান্তির পথে এগিয়ে যাচ্ছে।
পুতিনের সাথে কী কথা হলো
ট্রাম্প জানান, তিনি পুতিনকে বলেছেন এই যুদ্ধের অবসান দরকার। পুতিন নিজেও শান্তি চান বলে ট্রাম্প দাবি করেছেন। ক্রেমলিনের মুখপাত্র দিমিত্রি পেসকভ বলেছেন, আলোচনা ফলপ্রসূ ছিল, তবে চুক্তি অত্যন্ত জটিল এবং এর সমাধান দ্রুত আসার সম্ভাবনা নেই। ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি পরে নিশ্চিত করেছেন যে তিনিও ট্রাম্পের সাথে কথা বলেছেন।
আলোচনার স্থান হিসেবে ভ্যাটিকানের প্রস্তাব
ট্রাম্প জানিয়েছেন, নবনির্বাচিত পোপ লিও ভ্যাটিকানে আলোচনা আয়োজনে আগ্রহ দেখিয়েছেন এবং তিনি সেটিকে একটি ভালো বিকল্প মনে করছেন। এর আগে তুরস্কের ইস্তানবুলেও আলোচনার একটি রাউন্ড হয়েছিল, যেখানে বিশেষ অগ্রগতি হয়নি। ট্রাম্প বলেছেন, শান্তি আলোচনা পরিচালনার দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও, জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা মাইকেল ওয়ালৎজ এবং মধ্যপ্রাচ্য দূত স্টিভ উইটকফকে।
কতটা বাস্তব এই আশা
তিন বছরেরও বেশি সময় ধরে চলা এই যুদ্ধে এখন পর্যন্ত বহুবার যুদ্ধবিরতির আশা দেখা দিলেও কার্যকর কিছু হয়নি। ক্রেমলিন বারবার বলে এসেছে, ইউক্রেনে ন্যাটো সদস্যপদ না দেওয়ার নিশ্চয়তাসহ নির্দিষ্ট শর্ত পূরণ না হলে চুক্তি হবে না। অন্যদিকে জেলেনস্কি বলেছেন, ইউক্রেন শান্তির জন্য প্রস্তুত কিন্তু সার্বভৌমত্বের বিনিময়ে নয়।
বাংলাদেশের জন্য প্রাসঙ্গিকতা
রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ বাংলাদেশের জন্য পরোক্ষভাবে গুরুত্বপূর্ণ। যুদ্ধ বন্ধ হলে বৈশ্বিক সার ও গমের দাম কমতে পারে, যা বাংলাদেশের কৃষি ও খাদ্যনিরাপত্তায় সহায়ক হবে। সেই সাথে বৈশ্বিক শিপিং খরচ কমলে আমদানি-নির্ভর বাংলাদেশের অর্থনীতি কিছুটা স্বস্তি পাবে।
তিন বছরের যুদ্ধ থামানোর নতুন প্রচেষ্টায় ট্রাম্প। আলোচনা শুরুর ঘোষণা হয়েছে, কিন্তু বাস্তবে শান্তি আসবে কিনা তা নিয়ে সংশয় রয়েছে।
ট্রাম্প-পুতিন ফোনালাপের পর রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধবিরতি আলোচনার ঘোষণা, ভ্যাটিকানে বৈঠকের প্রস্তাব।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 



















