০৯:৫০ অপরাহ্ন, সোমবার, ০৮ জুন ২০২৬
কাকলির দাবিতে তৃণমূলে নতুন বিতর্ক, এনডিএকে সমর্থন দিতে পারেন ২০ সাংসদ ২০২৯ নির্বাচনের প্রস্তুতি, কংগ্রেসের নেতৃত্বে ঐক্যের ডাক ইন্ডিয়া শিবিরে চীনের নতুন গরুর মাংস কোটা নীতিতে বদলে যাচ্ছে বৈশ্বিক বাণিজ্য, সুযোগ দেখছে অস্ট্রেলিয়া ও দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়া রাজ্যসভা ছাড়লেন সুখেন্দু শেখর, পশ্চিমবঙ্গের রাজনীতিতে শুরু নতুন সমীকরণের আলোচনা পশ্চিমবঙ্গের মদ নীতিতে হাজার কোটি টাকার কেলেঙ্কারির অভিযোগ, নিশানায় অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় বাবা হওয়া কি সত্যিই বদলে দিতে পারে জীবন? গবেষণায় মিলছে মস্তিষ্ক ও মানসিক স্বাস্থ্যের চমকপ্রদ উপকার কফির সঙ্গে আমাদের সম্পর্ক: শক্তির উৎস, নাকি ঘুমের গোপন শত্রু? ইসরায়েলের সাদা ফসফরাস ব্যবহারের অভিযোগে নতুন বিতর্ক, লেবাননের বেসামরিকদের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ প্যাট্রিক ব্রুয়েলকে গ্রেপ্তার, ১৩ নারীর যৌন নির্যাতন ও ধর্ষণের অভিযোগে ফ্রান্সে তোলপাড় যুক্তরাজ্যে পুলিশ পেনশন বিতর্ক: রাতারাতি নিয়ম বদলে হাজার হাজার পাউন্ড হারাচ্ছেন অবসরপ্রাপ্ত কর্মকর্তারা

জোকোভিকে নতুন চোখে দেখার চেষ্টা: ‘দ্য গ্রেট ট্রান্সফরমার’ নিয়ে জ্যঁ কুতোর বিশ্লেষণ

ইন্দোনেশিয়ার সপ্তম প্রেসিডেন্ট জোকো “জোকোভি” উইদোদোর শাসনামল নিয়ে নতুন বিতর্ক ও আলোচনার জন্ম দিয়েছে ইতিহাসবিদ ও ভাষাবিদ জ্যঁ কুতোর বই Understanding Jokowi: Progressive Realism in Indonesian Politics, 2014-2024। প্রচলিত জীবনীগ্রন্থের বাইরে গিয়ে বইটি জোকোভির নেতৃত্ব, নীতি, রাজনৈতিক বাস্তবতা এবং ইন্দোনেশিয়ার রূপান্তরের এক বিশদ বিশ্লেষণ তুলে ধরেছে।

ফরাসি বংশোদ্ভূত গবেষক জ্যঁ কুতো দীর্ঘদিন ধরে ইন্দোনেশিয়ার সমাজ, সংস্কৃতি ও রাজনীতি নিয়ে কাজ করছেন। নতুন এই বইয়ে তিনি জোকোভির এক দশকের শাসনকে “প্রগতিশীল বাস্তববাদ” হিসেবে ব্যাখ্যা করেছেন, যেখানে গণতান্ত্রিক আদর্শের চেয়ে উন্নয়ন ও অর্থনৈতিক রূপান্তরকে অগ্রাধিকার দেওয়া হয়েছে।

উন্নয়ন আগে, গণতন্ত্র পরে

কুতোর মতে, জোকোভি ইন্দোনেশিয়ার রাজনৈতিক গতিপথ পরিবর্তন করেছিলেন উন্নয়নকে কেন্দ্রে রেখে। একজন সাবেক কাঠমিস্ত্রি হিসেবে তিনি ছিলেন কাজকেন্দ্রিক নেতা, যিনি দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনার চেয়ে বাস্তব ফলাফলকে বেশি গুরুত্ব দিয়েছেন।

বইটিতে বলা হয়েছে, জোকোভি মনে করতেন শুধুমাত্র রপ্তানিনির্ভর অর্থনীতি দিয়ে ইন্দোনেশিয়ার টেকসই অগ্রগতি সম্ভব নয়। তাই তিনি এমন একটি অর্থনৈতিক কাঠামো গড়ে তুলতে চেয়েছিলেন, যেখানে খনিজ, জ্বালানি ও অন্যান্য সম্পদ থেকে দেশের অভ্যন্তরে বেশি মূল্য সংযোজন হবে।

প্রথম মেয়াদের বড় সংস্কার

২০১৪ থেকে ২০১৯ সালের প্রথম মেয়াদে জোকোভি জ্বালানি ভর্তুকি কমিয়ে সেই অর্থ সামাজিক নিরাপত্তা ও কল্যাণমূলক কর্মসূচিতে স্থানান্তর করেন। স্বাস্থ্যসেবার জন্য বিপিজেএস এবং শিক্ষার জন্য বিভিন্ন সহায়তা কর্মসূচির সম্প্রসারণ ঘটে। পাশাপাশি শুরু হয় বড় আকারের অবকাঠামো নির্মাণ প্রকল্প।

কুতোর বিশ্লেষণে, ভর্তুকি কমানোর মাধ্যমে সাশ্রয় হওয়া অর্থ ব্যবহার করে ডিজিটাল ব্যবস্থাপনাভিত্তিক প্রায় সর্বজনীন সামাজিক নিরাপত্তা কাঠামো গড়ে তোলা সম্ভব হয়েছিল। এই পরিবর্তন শুধু প্রশাসনিক নয়, অর্থনীতি ও জনকল্যাণ ব্যবস্থারও রূপান্তর ঘটায়।

‘জাভা-কেন্দ্রিক’ থেকে ‘ইন্দোনেশিয়া-কেন্দ্রিক’

বইয়ের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ আলোচ্য বিষয় হলো আঞ্চলিক উন্নয়নের দৃষ্টিভঙ্গির পরিবর্তন। কুতো মনে করেন, জোকোভি জাভা দ্বীপকেন্দ্রিক উন্নয়ন ধারণা থেকে সরে এসে পুরো দেশকে অন্তর্ভুক্ত করার চেষ্টা করেছিলেন।

দূরবর্তী প্রদেশগুলোতে তার আকস্মিক সফর, সড়ক ও অবকাঠামো সম্প্রসারণ এবং প্রান্তিক অঞ্চলে সরকারি উপস্থিতি বাড়ানোর উদ্যোগ তাকে একজন কার্যকর বাস্তববাদী নেতা হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করে।

রাজনৈতিক বাস্তবতা ও বিতর্ক

Understanding Jokowi বইটি শুধু সাফল্যের গল্প নয়, বিতর্কগুলোকেও গুরুত্ব দিয়েছে। দুর্নীতি দমন কমিশন কেপিকের ক্ষমতা হ্রাস, ওমনিবাস আইন নিয়ে সমালোচনা, পাপুয়া প্রশ্ন, পরিবেশগত উদ্বেগ এবং গণতান্ত্রিক পশ্চাদপসরণের অভিযোগ—সবই আলোচনায় এসেছে।

বিশেষভাবে আলোচিত হয়েছে জোকোভির ছেলে গিবরানের নির্বাচনী যোগ্যতা নিয়ে সাংবিধানিক আদালতের সিদ্ধান্ত। সমালোচকেরা এটিকে স্বজনপ্রীতির উদাহরণ হিসেবে দেখলেও কুতোর মতে, জোকোভির লক্ষ্য ছিল নীতির ধারাবাহিকতা বজায় রাখা, পারিবারিক রাজনৈতিক রাজবংশ গঠন নয়।

প্রাবোওকে সরকারে আনার সিদ্ধান্ত

জোকোভির দ্বিতীয় মেয়াদে রাজনৈতিক প্রতিদ্বন্দ্বী প্রাবোও সুবিয়ান্তোকে মন্ত্রিসভায় অন্তর্ভুক্ত করার সিদ্ধান্তও বইয়ের গুরুত্বপূর্ণ আলোচ্য বিষয়। অনেক সমর্থক এটিকে আদর্শের সঙ্গে আপস হিসেবে দেখলেও কুতোর ব্যাখ্যায় এটি ছিল বিরোধিতা কমিয়ে স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করার একটি বাস্তববাদী কৌশল।

জীবনী নাকি রাজনৈতিক বিশ্লেষণ?

বইটি জোকোভির ব্যক্তিগত উত্থান, সলো শহরের মেয়র থেকে জাতীয় নেতা হয়ে ওঠার গল্প এবং ইন্দোনেশিয়ার রাজনৈতিক-সাংস্কৃতিক বাস্তবতাকে একসঙ্গে বিশ্লেষণ করেছে। একই সঙ্গে এতে তার উত্তরাধিকার, উত্তরসূরি রাজনীতি এবং নবনির্বাচিত প্রেসিডেন্ট প্রাবোও সুবিয়ান্তোর প্রথম বছরের প্রেক্ষাপটও যুক্ত হয়েছে।

সমালোচক এরিক বুভেলোর মূল্যায়নে, প্রেসিডেন্টের কার্যালয়ের উদ্যোগে বইটি লেখা হলেও এটি গবেষণা ও বিশ্লেষণের দিক থেকে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি কাজ। ইন্দোনেশিয়ার সাম্প্রতিক রাজনৈতিক ইতিহাস বোঝার ক্ষেত্রে এটি উল্লেখযোগ্য অবদান হিসেবে বিবেচিত হতে পারে।

জনপ্রিয় সংবাদ

কাকলির দাবিতে তৃণমূলে নতুন বিতর্ক, এনডিএকে সমর্থন দিতে পারেন ২০ সাংসদ

জোকোভিকে নতুন চোখে দেখার চেষ্টা: ‘দ্য গ্রেট ট্রান্সফরমার’ নিয়ে জ্যঁ কুতোর বিশ্লেষণ

০৮:২৪:১৩ অপরাহ্ন, সোমবার, ৮ জুন ২০২৬

ইন্দোনেশিয়ার সপ্তম প্রেসিডেন্ট জোকো “জোকোভি” উইদোদোর শাসনামল নিয়ে নতুন বিতর্ক ও আলোচনার জন্ম দিয়েছে ইতিহাসবিদ ও ভাষাবিদ জ্যঁ কুতোর বই Understanding Jokowi: Progressive Realism in Indonesian Politics, 2014-2024। প্রচলিত জীবনীগ্রন্থের বাইরে গিয়ে বইটি জোকোভির নেতৃত্ব, নীতি, রাজনৈতিক বাস্তবতা এবং ইন্দোনেশিয়ার রূপান্তরের এক বিশদ বিশ্লেষণ তুলে ধরেছে।

ফরাসি বংশোদ্ভূত গবেষক জ্যঁ কুতো দীর্ঘদিন ধরে ইন্দোনেশিয়ার সমাজ, সংস্কৃতি ও রাজনীতি নিয়ে কাজ করছেন। নতুন এই বইয়ে তিনি জোকোভির এক দশকের শাসনকে “প্রগতিশীল বাস্তববাদ” হিসেবে ব্যাখ্যা করেছেন, যেখানে গণতান্ত্রিক আদর্শের চেয়ে উন্নয়ন ও অর্থনৈতিক রূপান্তরকে অগ্রাধিকার দেওয়া হয়েছে।

উন্নয়ন আগে, গণতন্ত্র পরে

কুতোর মতে, জোকোভি ইন্দোনেশিয়ার রাজনৈতিক গতিপথ পরিবর্তন করেছিলেন উন্নয়নকে কেন্দ্রে রেখে। একজন সাবেক কাঠমিস্ত্রি হিসেবে তিনি ছিলেন কাজকেন্দ্রিক নেতা, যিনি দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনার চেয়ে বাস্তব ফলাফলকে বেশি গুরুত্ব দিয়েছেন।

বইটিতে বলা হয়েছে, জোকোভি মনে করতেন শুধুমাত্র রপ্তানিনির্ভর অর্থনীতি দিয়ে ইন্দোনেশিয়ার টেকসই অগ্রগতি সম্ভব নয়। তাই তিনি এমন একটি অর্থনৈতিক কাঠামো গড়ে তুলতে চেয়েছিলেন, যেখানে খনিজ, জ্বালানি ও অন্যান্য সম্পদ থেকে দেশের অভ্যন্তরে বেশি মূল্য সংযোজন হবে।

প্রথম মেয়াদের বড় সংস্কার

২০১৪ থেকে ২০১৯ সালের প্রথম মেয়াদে জোকোভি জ্বালানি ভর্তুকি কমিয়ে সেই অর্থ সামাজিক নিরাপত্তা ও কল্যাণমূলক কর্মসূচিতে স্থানান্তর করেন। স্বাস্থ্যসেবার জন্য বিপিজেএস এবং শিক্ষার জন্য বিভিন্ন সহায়তা কর্মসূচির সম্প্রসারণ ঘটে। পাশাপাশি শুরু হয় বড় আকারের অবকাঠামো নির্মাণ প্রকল্প।

কুতোর বিশ্লেষণে, ভর্তুকি কমানোর মাধ্যমে সাশ্রয় হওয়া অর্থ ব্যবহার করে ডিজিটাল ব্যবস্থাপনাভিত্তিক প্রায় সর্বজনীন সামাজিক নিরাপত্তা কাঠামো গড়ে তোলা সম্ভব হয়েছিল। এই পরিবর্তন শুধু প্রশাসনিক নয়, অর্থনীতি ও জনকল্যাণ ব্যবস্থারও রূপান্তর ঘটায়।

‘জাভা-কেন্দ্রিক’ থেকে ‘ইন্দোনেশিয়া-কেন্দ্রিক’

বইয়ের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ আলোচ্য বিষয় হলো আঞ্চলিক উন্নয়নের দৃষ্টিভঙ্গির পরিবর্তন। কুতো মনে করেন, জোকোভি জাভা দ্বীপকেন্দ্রিক উন্নয়ন ধারণা থেকে সরে এসে পুরো দেশকে অন্তর্ভুক্ত করার চেষ্টা করেছিলেন।

দূরবর্তী প্রদেশগুলোতে তার আকস্মিক সফর, সড়ক ও অবকাঠামো সম্প্রসারণ এবং প্রান্তিক অঞ্চলে সরকারি উপস্থিতি বাড়ানোর উদ্যোগ তাকে একজন কার্যকর বাস্তববাদী নেতা হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করে।

রাজনৈতিক বাস্তবতা ও বিতর্ক

Understanding Jokowi বইটি শুধু সাফল্যের গল্প নয়, বিতর্কগুলোকেও গুরুত্ব দিয়েছে। দুর্নীতি দমন কমিশন কেপিকের ক্ষমতা হ্রাস, ওমনিবাস আইন নিয়ে সমালোচনা, পাপুয়া প্রশ্ন, পরিবেশগত উদ্বেগ এবং গণতান্ত্রিক পশ্চাদপসরণের অভিযোগ—সবই আলোচনায় এসেছে।

বিশেষভাবে আলোচিত হয়েছে জোকোভির ছেলে গিবরানের নির্বাচনী যোগ্যতা নিয়ে সাংবিধানিক আদালতের সিদ্ধান্ত। সমালোচকেরা এটিকে স্বজনপ্রীতির উদাহরণ হিসেবে দেখলেও কুতোর মতে, জোকোভির লক্ষ্য ছিল নীতির ধারাবাহিকতা বজায় রাখা, পারিবারিক রাজনৈতিক রাজবংশ গঠন নয়।

প্রাবোওকে সরকারে আনার সিদ্ধান্ত

জোকোভির দ্বিতীয় মেয়াদে রাজনৈতিক প্রতিদ্বন্দ্বী প্রাবোও সুবিয়ান্তোকে মন্ত্রিসভায় অন্তর্ভুক্ত করার সিদ্ধান্তও বইয়ের গুরুত্বপূর্ণ আলোচ্য বিষয়। অনেক সমর্থক এটিকে আদর্শের সঙ্গে আপস হিসেবে দেখলেও কুতোর ব্যাখ্যায় এটি ছিল বিরোধিতা কমিয়ে স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করার একটি বাস্তববাদী কৌশল।

জীবনী নাকি রাজনৈতিক বিশ্লেষণ?

বইটি জোকোভির ব্যক্তিগত উত্থান, সলো শহরের মেয়র থেকে জাতীয় নেতা হয়ে ওঠার গল্প এবং ইন্দোনেশিয়ার রাজনৈতিক-সাংস্কৃতিক বাস্তবতাকে একসঙ্গে বিশ্লেষণ করেছে। একই সঙ্গে এতে তার উত্তরাধিকার, উত্তরসূরি রাজনীতি এবং নবনির্বাচিত প্রেসিডেন্ট প্রাবোও সুবিয়ান্তোর প্রথম বছরের প্রেক্ষাপটও যুক্ত হয়েছে।

সমালোচক এরিক বুভেলোর মূল্যায়নে, প্রেসিডেন্টের কার্যালয়ের উদ্যোগে বইটি লেখা হলেও এটি গবেষণা ও বিশ্লেষণের দিক থেকে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি কাজ। ইন্দোনেশিয়ার সাম্প্রতিক রাজনৈতিক ইতিহাস বোঝার ক্ষেত্রে এটি উল্লেখযোগ্য অবদান হিসেবে বিবেচিত হতে পারে।