যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের ধারাবাহিক বিমান হামলায় ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার পরও ইরান প্রত্যাশার তুলনায় অনেক দ্রুত সামরিক ও গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামো পুনর্গঠন করছে। ক্ষেপণাস্ত্র ঘাঁটি, সেতু, বন্দর ও উৎপাদন স্থাপনা মেরামতের গতি নতুন করে মধ্যপ্রাচ্যের নিরাপত্তা পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ বাড়িয়েছে। সাম্প্রতিক স্যাটেলাইট চিত্রে এই পুনর্গঠনের একাধিক প্রমাণ মিলেছে বলে জানা গেছে।
দ্রুত ফিরছে ক্ষতিগ্রস্ত অবকাঠামো
পশ্চিম ইরানের বিভিন্ন এলাকায় হামলায় ক্ষতিগ্রস্ত ক্ষেপণাস্ত্র ঘাঁটির প্রবেশপথ এবং সংযোগ সড়ক অল্প সময়ের মধ্যেই পুনর্নির্মাণ করা হয়েছে। কোথাও নতুন করে সুড়ঙ্গের মুখ খনন করা হয়েছে, আবার কোথাও দ্রুত পাকা সড়ক তৈরি করা হয়েছে।
এ ছাড়া একটি গুরুত্বপূর্ণ সেতুতে হামলার কয়েক দিনের মধ্যেই সেটি আবার সচল করে ফেলা হয়েছে বলে জানা গেছে। এত অল্প সময়ে মেরামত শেষ হওয়ায় সংশ্লিষ্ট মহলে বিস্ময় তৈরি হয়েছে।
বন্দর ও সামরিক স্থাপনাতেও চলছে কাজ
কাস্পিয়ান সাগর উপকূলের একটি গুরুত্বপূর্ণ বন্দরে অবস্থিত জাহাজ মেরামত কেন্দ্রেও পুনর্গঠনের কাজ এগিয়ে চলেছে। যুদ্ধের সময় ওই এলাকায় একাধিক হামলা চালানো হলেও বর্তমানে সেখানে ধাপে ধাপে কার্যক্রম ফিরিয়ে আনার চেষ্টা চলছে।
বিশ্লেষকদের মতে, এসব পদক্ষেপ ইঙ্গিত দিচ্ছে যে যুদ্ধের ক্ষতি কাটিয়ে সামরিক সক্ষমতা পুনরুদ্ধারে ইরান পরিকল্পিতভাবে কাজ করছে।
যুদ্ধের ফল নিয়ে নতুন প্রশ্ন
যুদ্ধের সময় ব্যাপক বিমান হামলার মাধ্যমে ইরানের সামরিক শক্তিকে বড় ধরনের ধাক্কা দেওয়ার দাবি করা হয়েছিল। তবে দ্রুত পুনর্গঠন সেই দাবির কার্যকারিতা নিয়ে নতুন প্রশ্ন তুলছে।
কয়েকজন নিরাপত্তা বিশ্লেষকের মতে, ইরানের শিল্পভিত্তিক সক্ষমতা এবং অবকাঠামো পুনর্নির্মাণের অভিজ্ঞতা দেশটিকে দ্রুত ঘুরে দাঁড়াতে সহায়তা করছে। অতীতেও যুদ্ধের ক্ষতি কাটিয়ে ক্ষেপণাস্ত্র উৎপাদন ও সামরিক সরঞ্জামের মজুত পুনরায় গড়ে তোলার সক্ষমতা তারা দেখিয়েছিল।
ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচি নিয়ে বাড়ছে উদ্বেগ
বিশেষজ্ঞদের ধারণা, ক্ষেপণাস্ত্র তৈরির জন্য প্রয়োজনীয় কিছু উন্নত উপাদান পুনরায় উৎপাদনে সময় লাগতে পারে। তবে আগে থেকেই ভূগর্ভস্থ স্থাপনায় সংরক্ষিত উপকরণ থাকলে স্বল্প সময়ের মধ্যে নতুন ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন তৈরি করা সম্ভব হতে পারে।
এদিকে গোয়েন্দা পর্যবেক্ষণে এমন আশঙ্কাও প্রকাশ করা হয়েছে যে, সংবেদনশীল পারমাণবিক যন্ত্রপাতির একটি অংশ পাহাড়ের অভ্যন্তরের নিরাপদ সুড়ঙ্গে সরিয়ে রাখা হয়ে থাকতে পারে। এমনটি সত্য হলে ভবিষ্যতে ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি পুনরুজ্জীবিত হওয়ার আশঙ্কা আরও বাড়বে।
মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা অব্যাহত
যুদ্ধ ও পাল্টা হামলার মধ্যেও ইরান আঞ্চলিক সামরিক তৎপরতা পুরোপুরি বন্ধ করেনি বলে বিভিন্ন পর্যবেক্ষণে উঠে এসেছে। ফলে মধ্যপ্রাচ্যের নিরাপত্তা পরিস্থিতি এখনও অস্থিতিশীল রয়ে গেছে। একই সঙ্গে দ্রুত পুনর্গঠনের এই অগ্রগতি ভবিষ্যতের সংঘাতের সম্ভাবনা এবং আঞ্চলিক শক্তির ভারসাম্য নিয়ে নতুন আলোচনা তৈরি করেছে।
ইরানের পুনর্গঠন কার্যক্রম যত এগোচ্ছে, ততই স্পষ্ট হচ্ছে যে যুদ্ধের ক্ষয়ক্ষতি কাটিয়ে দেশটি আবারও নিজেদের সামরিক ও কৌশলগত সক্ষমতা পুনর্গঠনের পথে দ্রুত এগোচ্ছে।
ইরানের ক্ষতিগ্রস্ত সামরিক অবকাঠামো দ্রুত পুনর্গঠনের অগ্রগতি মধ্যপ্রাচ্যের নিরাপত্তা পরিস্থিতি ও ভবিষ্যৎ সংঘাত নিয়ে নতুন উদ্বেগ তৈরি করেছে।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 


















