০৯:৫৯ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২৪ জুলাই ২০২৬
হাফিজ উদ্দিন ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব নিলেন, পদত্যাগ করলেন রাষ্ট্রপতি মোহাম্মদ শাহাবুদ্দিন এশিয়ান গেমসে সরাসরি কোয়ার্টার ফাইনালে বাংলাদেশ, টি-টোয়েন্টি ক্রিকেটের সূচি ঘোষণা বাংলায় ধর্মীয় স্বাধীনতা নিয়ে নতুন বিতর্ক, মধ্যপন্থার বার্তা দিল প্রেসবাইটেরিয়ান চার্চ কিশোরগঞ্জে পৃথক সড়ক দুর্ঘটনায় স্কুলছাত্র ও মাইক্রোবাসচালক নিহত, আহত ৬ মতিঝিল বিএনপির সভাপতিকে লাঞ্ছিত করা ও ইউনূসের দৈত্যরা ইরানের দ্রুত পুনর্গঠনে নতুন উদ্বেগ, যুদ্ধের ক্ষয়ক্ষতি কাটিয়ে ঘুরে দাঁড়ানোর ইঙ্গিত প্রশ্নফাঁস রোধে আরও কঠোর আইন আনছে ভারত, দ্রুত বিচার আদালতের ঘোষণা মোদির চার্লি এক্সসির নতুন অ্যালবাম ঘিরে আলোড়ন, নাচের সুর ছেড়ে নতুন পথে জনপ্রিয় তারকা লোহিত সাগরে হুতিদের নতুন তৎপরতা, বৈশ্বিক বাণিজ্য ও তেলের বাজারে বাড়ছে অনিশ্চয়তা সৌদি পরমাণু চুক্তিতে নতুন শর্ত ট্রাম্পের, ইসরায়েলের সঙ্গে সম্পর্ক স্বাভাবিক না হলে অনিশ্চিত ভবিষ্যৎ

সৌদি পরমাণু চুক্তিতে নতুন শর্ত ট্রাম্পের, ইসরায়েলের সঙ্গে সম্পর্ক স্বাভাবিক না হলে অনিশ্চিত ভবিষ্যৎ

যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সৌদি আরবের বেসামরিক পরমাণু কর্মসূচি নিয়ে হওয়া বড় চুক্তিতে নতুন শর্ত যোগ করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তিনি স্পষ্ট জানিয়েছেন, সৌদি আরব যদি ইসরায়েলের সঙ্গে সম্পর্ক স্বাভাবিক না করে, তাহলে এই চুক্তির অনুমোদন মিলবে না। ট্রাম্পের এই অবস্থান মধ্যপ্রাচ্যের কূটনীতিতে নতুন জটিলতা তৈরি করেছে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।

নতুন শর্তে বাড়ল অনিশ্চয়তা

সামাজিক মাধ্যমে দেওয়া এক বার্তায় ট্রাম্প বলেন, সৌদি আরবকে অবশ্যই আব্রাহাম চুক্তিতে যোগ দিতে হবে। তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, এই শর্ত পূরণ না হলে পরমাণু কর্মসূচি নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে হওয়া সমঝোতা কার্যকর হবে না।

হোয়াইট হাউসও জানিয়েছে, ট্রাম্প দীর্ঘদিন ধরেই উপসাগরীয় আরব দেশগুলোর সঙ্গে আলোচনায় এই অবস্থান তুলে ধরেছেন। ফলে সৌদি আরবের সঙ্গে ভবিষ্যৎ আলোচনা এখন আরও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।

বহু বছরের বড় বিনিয়োগের পরিকল্পনা

সম্প্রতি ঘোষিত দীর্ঘমেয়াদি এই চুক্তির আওতায় সৌদি আরবে বেসামরিক পরমাণু অবকাঠামো গড়ে তুলতে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিষ্ঠানগুলো গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে। পাশাপাশি সৌদি ভূখণ্ডে ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ কেন্দ্র স্থাপনের বাণিজ্যিক সম্ভাব্যতা যাচাই করতে দুই বছরের একটি সমীক্ষা চালানোর পরিকল্পনা রয়েছে। সেই সমীক্ষায় ইতিবাচক ফল এলেই পরবর্তী ধাপে যাওয়া হবে।

Trump Has History of Strong Support for Israel - The New York Times

সৌদির অবস্থান কী

সৌদি আরব অতীতেও ইসরায়েলের সঙ্গে সম্পর্ক স্বাভাবিক করার বিষয়ে আগ্রহ দেখিয়েছে। তবে দেশটি বরাবরই বলছে, ফিলিস্তিনি রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার বিষয়ে স্পষ্ট অঙ্গীকার ছাড়া তারা এমন সিদ্ধান্তে যাবে না। বর্তমান ইসরায়েলি সরকারের সঙ্গে সেই সম্ভাবনা খুবই সীমিত বলেই তাদের ধারণা।

নতুন বিতর্কের জন্ম

চুক্তি ঘোষণার পর ট্রাম্পের নতুন শর্ত রাজনৈতিক ও কূটনৈতিক অঙ্গনে নানা প্রশ্নের জন্ম দিয়েছে। সাবেক এক মার্কিন কূটনীতিকের মতে, এই ঘোষণায় বোঝা কঠিন যে এটি শুরু থেকেই চুক্তির অংশ ছিল, নাকি সমালোচনার জবাব দিতে পরে যুক্ত করা হয়েছে। তবে তাঁর মতে, এতে সৌদি আরবের অবস্থান বদলে যাওয়ার সম্ভাবনা খুব বেশি নয়।

পরমাণু নিরাপত্তা নিয়েও উদ্বেগ

চুক্তি নিয়ে আরেকটি বড় বিতর্ক রয়েছে পরমাণু নিরাপত্তা ও তদারকি ব্যবস্থা ঘিরে। সৌদি আরব ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণের ওপর কঠোর সীমাবদ্ধতা এবং অতিরিক্ত আন্তর্জাতিক পরিদর্শনের কিছু শর্ত মেনে নিতে অনাগ্রহ দেখিয়েছে। যদিও যুক্তরাষ্ট্রের দাবি, দুই দেশের মধ্যে আলাদা যাচাই ব্যবস্থা থাকায় পর্যাপ্ত নজরদারি নিশ্চিত করা সম্ভব হবে। সমালোচকদের আশঙ্কা, এতে সম্ভাব্য গোপন কার্যক্রম পুরোপুরি শনাক্ত করা কঠিন হতে পারে।

মধ্যপ্রাচ্যের নিরাপত্তা, ইসরায়েল-সৌদি সম্পর্ক এবং পরমাণু কর্মসূচিকে ঘিরে আগামী দিনের কূটনীতিতে এই নতুন শর্ত গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব ফেলতে পারে বলেই মনে করা হচ্ছে।

পরমাণু চুক্তিতে নতুন শর্ত দিয়ে সৌদি আরবের ওপর চাপ বাড়ালেন ট্রাম্প। ইসরায়েলের সঙ্গে সম্পর্ক স্বাভাবিক না হলে চুক্তির ভবিষ্যৎ অনিশ্চিত।

জনপ্রিয় সংবাদ

হাফিজ উদ্দিন ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব নিলেন, পদত্যাগ করলেন রাষ্ট্রপতি মোহাম্মদ শাহাবুদ্দিন

সৌদি পরমাণু চুক্তিতে নতুন শর্ত ট্রাম্পের, ইসরায়েলের সঙ্গে সম্পর্ক স্বাভাবিক না হলে অনিশ্চিত ভবিষ্যৎ

০৮:৪২:২৬ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২৪ জুলাই ২০২৬

যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সৌদি আরবের বেসামরিক পরমাণু কর্মসূচি নিয়ে হওয়া বড় চুক্তিতে নতুন শর্ত যোগ করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তিনি স্পষ্ট জানিয়েছেন, সৌদি আরব যদি ইসরায়েলের সঙ্গে সম্পর্ক স্বাভাবিক না করে, তাহলে এই চুক্তির অনুমোদন মিলবে না। ট্রাম্পের এই অবস্থান মধ্যপ্রাচ্যের কূটনীতিতে নতুন জটিলতা তৈরি করেছে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।

নতুন শর্তে বাড়ল অনিশ্চয়তা

সামাজিক মাধ্যমে দেওয়া এক বার্তায় ট্রাম্প বলেন, সৌদি আরবকে অবশ্যই আব্রাহাম চুক্তিতে যোগ দিতে হবে। তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, এই শর্ত পূরণ না হলে পরমাণু কর্মসূচি নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে হওয়া সমঝোতা কার্যকর হবে না।

হোয়াইট হাউসও জানিয়েছে, ট্রাম্প দীর্ঘদিন ধরেই উপসাগরীয় আরব দেশগুলোর সঙ্গে আলোচনায় এই অবস্থান তুলে ধরেছেন। ফলে সৌদি আরবের সঙ্গে ভবিষ্যৎ আলোচনা এখন আরও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।

বহু বছরের বড় বিনিয়োগের পরিকল্পনা

সম্প্রতি ঘোষিত দীর্ঘমেয়াদি এই চুক্তির আওতায় সৌদি আরবে বেসামরিক পরমাণু অবকাঠামো গড়ে তুলতে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিষ্ঠানগুলো গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে। পাশাপাশি সৌদি ভূখণ্ডে ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ কেন্দ্র স্থাপনের বাণিজ্যিক সম্ভাব্যতা যাচাই করতে দুই বছরের একটি সমীক্ষা চালানোর পরিকল্পনা রয়েছে। সেই সমীক্ষায় ইতিবাচক ফল এলেই পরবর্তী ধাপে যাওয়া হবে।

Trump Has History of Strong Support for Israel - The New York Times

সৌদির অবস্থান কী

সৌদি আরব অতীতেও ইসরায়েলের সঙ্গে সম্পর্ক স্বাভাবিক করার বিষয়ে আগ্রহ দেখিয়েছে। তবে দেশটি বরাবরই বলছে, ফিলিস্তিনি রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার বিষয়ে স্পষ্ট অঙ্গীকার ছাড়া তারা এমন সিদ্ধান্তে যাবে না। বর্তমান ইসরায়েলি সরকারের সঙ্গে সেই সম্ভাবনা খুবই সীমিত বলেই তাদের ধারণা।

নতুন বিতর্কের জন্ম

চুক্তি ঘোষণার পর ট্রাম্পের নতুন শর্ত রাজনৈতিক ও কূটনৈতিক অঙ্গনে নানা প্রশ্নের জন্ম দিয়েছে। সাবেক এক মার্কিন কূটনীতিকের মতে, এই ঘোষণায় বোঝা কঠিন যে এটি শুরু থেকেই চুক্তির অংশ ছিল, নাকি সমালোচনার জবাব দিতে পরে যুক্ত করা হয়েছে। তবে তাঁর মতে, এতে সৌদি আরবের অবস্থান বদলে যাওয়ার সম্ভাবনা খুব বেশি নয়।

পরমাণু নিরাপত্তা নিয়েও উদ্বেগ

চুক্তি নিয়ে আরেকটি বড় বিতর্ক রয়েছে পরমাণু নিরাপত্তা ও তদারকি ব্যবস্থা ঘিরে। সৌদি আরব ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণের ওপর কঠোর সীমাবদ্ধতা এবং অতিরিক্ত আন্তর্জাতিক পরিদর্শনের কিছু শর্ত মেনে নিতে অনাগ্রহ দেখিয়েছে। যদিও যুক্তরাষ্ট্রের দাবি, দুই দেশের মধ্যে আলাদা যাচাই ব্যবস্থা থাকায় পর্যাপ্ত নজরদারি নিশ্চিত করা সম্ভব হবে। সমালোচকদের আশঙ্কা, এতে সম্ভাব্য গোপন কার্যক্রম পুরোপুরি শনাক্ত করা কঠিন হতে পারে।

মধ্যপ্রাচ্যের নিরাপত্তা, ইসরায়েল-সৌদি সম্পর্ক এবং পরমাণু কর্মসূচিকে ঘিরে আগামী দিনের কূটনীতিতে এই নতুন শর্ত গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব ফেলতে পারে বলেই মনে করা হচ্ছে।

পরমাণু চুক্তিতে নতুন শর্ত দিয়ে সৌদি আরবের ওপর চাপ বাড়ালেন ট্রাম্প। ইসরায়েলের সঙ্গে সম্পর্ক স্বাভাবিক না হলে চুক্তির ভবিষ্যৎ অনিশ্চিত।