ইসরায়েল ও ইরানের মধ্যে সাম্প্রতিক পাল্টাপাল্টি হামলার ঘটনায় যুক্তরাষ্ট্রকে সরাসরি দায়ী করেছে ইরান। দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাঘাই বলেছেন, এই সংঘাত ইতোমধ্যে জটিল হয়ে ওঠা কূটনৈতিক পরিস্থিতিকে আরও অস্থির করে তুলছে এবং ওয়াশিংটনের সঙ্গে চলমান যোগাযোগ এখন চরম অবিশ্বাসের পরিবেশে পরিচালিত হচ্ছে।
সোমবার দেওয়া এক বক্তব্যে বাঘাই অভিযোগ করেন, ইসরায়েলের সাম্প্রতিক পদক্ষেপগুলো কূটনৈতিক প্রচেষ্টাকে ব্যাহত করার উদ্দেশ্যেই নেওয়া হয়েছে। তার দাবি, এসব কর্মকাণ্ড যুক্তরাষ্ট্রের জ্ঞাতসারে হোক বা না হোক, এর প্রভাব সরাসরি আলোচনার পরিবেশকে ক্ষতিগ্রস্ত করছে।
আঞ্চলিক নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ
ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র বলেন, গত ৮ এপ্রিল কার্যকর হওয়া যুদ্ধবিরতির একটি পক্ষ হিসেবে যুক্তরাষ্ট্রের বিশেষ দায়িত্ব রয়েছে। তার মতে, যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘনের যেকোনো ঘটনা এবং ইসরায়েলের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট হামলার দায় থেকে ওয়াশিংটন নিজেকে আলাদা করতে পারে না।
তিনি আরও বলেন, ইরানের বিরুদ্ধে আঞ্চলিক শান্তি ও নিরাপত্তা বিঘ্নিত করে এমন যেকোনো পদক্ষেপের জন্য যুক্তরাষ্ট্রকে সরাসরি দায় বহন করতে হবে। একই সঙ্গে তিনি সতর্ক করে বলেন, বর্তমান পরিস্থিতি বৃহত্তর আঞ্চলিক সংঘাতে রূপ নিতে পারে, যা আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের জন্য গভীর উদ্বেগের বিষয়।
ওয়াশিংটনের সঙ্গে যোগাযোগ অব্যাহত
বাঘাই জানান, পাকিস্তানের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর সাম্প্রতিক তেহরান সফর আংশিকভাবে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে পরোক্ষ যোগাযোগ অব্যাহত রাখার প্রচেষ্টার অংশ। যদিও দুই দেশের মধ্যে অবিশ্বাস তীব্র, তবুও কূটনৈতিক বার্তা আদান-প্রদান পুরোপুরি বন্ধ হয়নি।
পরমাণু ইস্যুতে নতুন উত্তেজনা
এদিকে চলতি সপ্তাহে আন্তর্জাতিক পরমাণু তদারকি সংস্থার গভর্নর বোর্ডের বৈঠকে ইরানের বিরুদ্ধে কোনো প্রস্তাব গৃহীত হলে তার জবাব দেওয়া হবে বলেও সতর্ক করেছে তেহরান।
বাঘাই আন্তর্জাতিক পরমাণু শক্তি সংস্থার মহাপরিচালক রাফায়েল গ্রোসির সমালোচনা করে বলেন, তিনি চলমান সংঘাতের বাস্তবতা উপেক্ষা করছেন এবং রাজনৈতিকভাবে পক্ষপাতদুষ্ট অবস্থান নিচ্ছেন। এর ফলে সংস্থাটির নিরপেক্ষতা ও গ্রহণযোগ্যতা ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে বলে দাবি করেন তিনি।
মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা বৃদ্ধি এবং কূটনৈতিক সম্পর্কের অবনতির প্রেক্ষাপটে পরিস্থিতি কোন দিকে মোড় নেয়, তা নিয়ে আন্তর্জাতিক মহলে উদ্বেগ আরও বাড়ছে।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 



















