০১:২২ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬
রপ্তানি বাড়াতে হলে কৌশলগত আমদানির পথও খুলতে হবে যুদ্ধের ভাষার আড়ালে কূটনীতির শেষ দরজা টিকটক শপে চারুকলা: শিল্পবাজার বদলের শুরু, নাকি ব্যর্থ এক পরীক্ষা? নবায়নযোগ্য জ্বালানিতে ভারত এগিয়ে, কিন্তু বিদ্যুৎ গ্রিডে বাড়ছে চাপ প্রজ্ঞাপন জারি: জ্বালানি তেলের দাম বাড়ায় বাস-মিনিবাসের ভাড়া কিলোমিটারে ১৭ পয়সা বৃদ্ধি ২০ তলা থেকে সাইকেলসহ নানা জিনিস ছুড়ে দিলেন ব্যক্তি, ৬ ঘণ্টার পুলিশি অভিযানে আটক চাঁদের আলোয় সায়েন্স সেন্টারে এক রাতের নাচ-গান, সিঙ্গাপুরে ‘মুনবিটস: আফটারডার্ক’ একা থাকা ৭২ বছরের বৃদ্ধের মৃত্যু, দরজার নিচ দিয়ে রক্ত গড়িয়ে আসতেই মিলল মরদেহ টোকিওর কাছে টাইফুন দুজুয়ানের আঘাত, নিহত ৯, নিখোঁজ ৪ এল নিনোর তাপে ভারতে ফেব্রুয়ারির মধ্যে ১৫ হাজার ৮০০ মৃত্যুর শঙ্কা

লোহিত সাগরে ইসরায়েলি জাহাজ চলাচলে সম্পূর্ণ নিষেধাজ্ঞা ঘোষণা হুতিদের

মধ্যপ্রাচ্যের চলমান সংঘাত নতুন করে উত্তেজনার দিকে মোড় নিয়েছে। ইয়েমেনের হুতি বিদ্রোহীরা লোহিত সাগরে ইসরায়েলি জাহাজ চলাচলের ওপর সম্পূর্ণ নিষেধাজ্ঞা ঘোষণা করেছে। একই সঙ্গে তারা ইসরায়েলের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ লক্ষ্যবস্তুতে ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালানোর দাবি করেছে।

হুতিদের এই ঘোষণায় আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ নৌপথ আবারও অনিশ্চয়তার মুখে পড়েছে। এর আগে গাজা যুদ্ধ চলাকালে লোহিত সাগরে বাণিজ্যিক জাহাজ লক্ষ্য করে হামলার কারণে বহু আন্তর্জাতিক শিপিং প্রতিষ্ঠানকে আফ্রিকার দক্ষিণ প্রান্ত ঘুরে দীর্ঘ পথ ব্যবহার করতে হয়েছিল।

নতুন হুমকিতে বাণিজ্যপথ

Yemen’s Houthis declare ban on Israeli ships sailing the Red Sea

হুতিদের সশস্ত্র বাহিনীর এক বিবৃতিতে বলা হয়েছে, লোহিত সাগরে ইসরায়েলি সামুদ্রিক চলাচলের ওপর সম্পূর্ণ নিষেধাজ্ঞা কার্যকর করা হয়েছে। তাদের দাবি, ঘোষণার পর থেকে প্রতিপক্ষের যেকোনো ধরনের নৌ-চলাচল বৈধ সামরিক লক্ষ্যবস্তু হিসেবে বিবেচিত হবে।

এই ঘোষণা এমন এক সময়ে এলো, যখন মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধ পরিস্থিতির কারণে আঞ্চলিক সামুদ্রিক নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে। বিশেষ করে জ্বালানি পরিবহনের গুরুত্বপূর্ণ রুটগুলো নিয়ে আন্তর্জাতিক মহলে দুশ্চিন্তা তৈরি হয়েছে।

ইসরায়েলের দিকে ক্ষেপণাস্ত্র হামলার দাবি

হুতিরা জানিয়েছে, তারা ইসরায়েলের গুরুত্বপূর্ণ ও সংবেদনশীল স্থাপনাগুলো লক্ষ্য করে একাধিক ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করেছে। তাদের দাবি, হামলাগুলো নির্ভুলভাবে নির্ধারিত লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হেনেছে।

অন্যদিকে ইসরায়েলও ইয়েমেন থেকে ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপের বিষয়টি শনাক্ত করার কথা জানিয়েছে। দেশটির আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা সম্ভাব্য হামলা ঠেকাতে সক্রিয় ছিল বলেও জানা গেছে।

Houthis declare 'total ban' on Israeli ships in Red Sea as Israel-Iran  strikes shatter ceasefire :: Lloyd's List

যুদ্ধবিরতির ওপর নতুন চাপ

এপ্রিল মাসে কার্যকর হওয়া নাজুক যুদ্ধবিরতির পর হুতিদের পক্ষ থেকে ইসরায়েলের বিরুদ্ধে বড় ধরনের ক্ষেপণাস্ত্র হামলার ঘোষণা খুব কমই দেখা গেছে। তবে সাম্প্রতিক এই পদক্ষেপ যুদ্ধবিরতির স্থায়িত্ব নিয়ে নতুন প্রশ্ন তৈরি করেছে।

একই সময়ে ইসরায়েল ও ইরানের মধ্যে পাল্টাপাল্টি হামলার ঘটনাও আঞ্চলিক পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলেছে। ফলে শান্তি প্রতিষ্ঠার সম্ভাবনা আবারও অনিশ্চয়তার মুখে পড়েছে।

দীর্ঘদিনের সংঘাতের পটভূমি

ইরানপন্থী হুতি আন্দোলন ও লেবাননের হিজবুল্লাহ দীর্ঘদিন ধরে ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রবিরোধী শক্তিগুলোর অংশ হিসেবে পরিচিত। ইয়েমেনের উত্তরাঞ্চলভিত্তিক হুতিরা ২০১৪ সালে রাজধানী সানার নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার পর দেশটির বড় অংশ নিজেদের নিয়ন্ত্রণে আনে।

Yemen's Houthis declare 'total ban' on Israeli ships in Red Sea - The Hindu

পরবর্তী সময়ে আন্তর্জাতিক সামরিক হস্তক্ষেপের ফলে ইয়েমেনে দীর্ঘ ও রক্তক্ষয়ী গৃহযুদ্ধ শুরু হয়। এই সংঘাতে সরাসরি ও পরোক্ষভাবে বিপুলসংখ্যক মানুষের প্রাণহানি ঘটে এবং দেশটি গভীর মানবিক সংকটে নিমজ্জিত হয়।

মধ্যপ্রাচ্যের বর্তমান পরিস্থিতিতে হুতিদের নতুন ঘোষণা শুধু আঞ্চলিক নিরাপত্তাই নয়, বৈশ্বিক বাণিজ্য ও জ্বালানি সরবরাহ ব্যবস্থার ওপরও উল্লেখযোগ্য প্রভাব ফেলতে পারে বলে বিশ্লেষকদের ধারণা।

 

 

জনপ্রিয় সংবাদ

রপ্তানি বাড়াতে হলে কৌশলগত আমদানির পথও খুলতে হবে

লোহিত সাগরে ইসরায়েলি জাহাজ চলাচলে সম্পূর্ণ নিষেধাজ্ঞা ঘোষণা হুতিদের

১১:৩৬:৩৭ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ৯ জুন ২০২৬

মধ্যপ্রাচ্যের চলমান সংঘাত নতুন করে উত্তেজনার দিকে মোড় নিয়েছে। ইয়েমেনের হুতি বিদ্রোহীরা লোহিত সাগরে ইসরায়েলি জাহাজ চলাচলের ওপর সম্পূর্ণ নিষেধাজ্ঞা ঘোষণা করেছে। একই সঙ্গে তারা ইসরায়েলের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ লক্ষ্যবস্তুতে ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালানোর দাবি করেছে।

হুতিদের এই ঘোষণায় আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ নৌপথ আবারও অনিশ্চয়তার মুখে পড়েছে। এর আগে গাজা যুদ্ধ চলাকালে লোহিত সাগরে বাণিজ্যিক জাহাজ লক্ষ্য করে হামলার কারণে বহু আন্তর্জাতিক শিপিং প্রতিষ্ঠানকে আফ্রিকার দক্ষিণ প্রান্ত ঘুরে দীর্ঘ পথ ব্যবহার করতে হয়েছিল।

নতুন হুমকিতে বাণিজ্যপথ

Yemen’s Houthis declare ban on Israeli ships sailing the Red Sea

হুতিদের সশস্ত্র বাহিনীর এক বিবৃতিতে বলা হয়েছে, লোহিত সাগরে ইসরায়েলি সামুদ্রিক চলাচলের ওপর সম্পূর্ণ নিষেধাজ্ঞা কার্যকর করা হয়েছে। তাদের দাবি, ঘোষণার পর থেকে প্রতিপক্ষের যেকোনো ধরনের নৌ-চলাচল বৈধ সামরিক লক্ষ্যবস্তু হিসেবে বিবেচিত হবে।

এই ঘোষণা এমন এক সময়ে এলো, যখন মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধ পরিস্থিতির কারণে আঞ্চলিক সামুদ্রিক নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে। বিশেষ করে জ্বালানি পরিবহনের গুরুত্বপূর্ণ রুটগুলো নিয়ে আন্তর্জাতিক মহলে দুশ্চিন্তা তৈরি হয়েছে।

ইসরায়েলের দিকে ক্ষেপণাস্ত্র হামলার দাবি

হুতিরা জানিয়েছে, তারা ইসরায়েলের গুরুত্বপূর্ণ ও সংবেদনশীল স্থাপনাগুলো লক্ষ্য করে একাধিক ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করেছে। তাদের দাবি, হামলাগুলো নির্ভুলভাবে নির্ধারিত লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হেনেছে।

অন্যদিকে ইসরায়েলও ইয়েমেন থেকে ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপের বিষয়টি শনাক্ত করার কথা জানিয়েছে। দেশটির আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা সম্ভাব্য হামলা ঠেকাতে সক্রিয় ছিল বলেও জানা গেছে।

Houthis declare 'total ban' on Israeli ships in Red Sea as Israel-Iran  strikes shatter ceasefire :: Lloyd's List

যুদ্ধবিরতির ওপর নতুন চাপ

এপ্রিল মাসে কার্যকর হওয়া নাজুক যুদ্ধবিরতির পর হুতিদের পক্ষ থেকে ইসরায়েলের বিরুদ্ধে বড় ধরনের ক্ষেপণাস্ত্র হামলার ঘোষণা খুব কমই দেখা গেছে। তবে সাম্প্রতিক এই পদক্ষেপ যুদ্ধবিরতির স্থায়িত্ব নিয়ে নতুন প্রশ্ন তৈরি করেছে।

একই সময়ে ইসরায়েল ও ইরানের মধ্যে পাল্টাপাল্টি হামলার ঘটনাও আঞ্চলিক পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলেছে। ফলে শান্তি প্রতিষ্ঠার সম্ভাবনা আবারও অনিশ্চয়তার মুখে পড়েছে।

দীর্ঘদিনের সংঘাতের পটভূমি

ইরানপন্থী হুতি আন্দোলন ও লেবাননের হিজবুল্লাহ দীর্ঘদিন ধরে ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রবিরোধী শক্তিগুলোর অংশ হিসেবে পরিচিত। ইয়েমেনের উত্তরাঞ্চলভিত্তিক হুতিরা ২০১৪ সালে রাজধানী সানার নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার পর দেশটির বড় অংশ নিজেদের নিয়ন্ত্রণে আনে।

Yemen's Houthis declare 'total ban' on Israeli ships in Red Sea - The Hindu

পরবর্তী সময়ে আন্তর্জাতিক সামরিক হস্তক্ষেপের ফলে ইয়েমেনে দীর্ঘ ও রক্তক্ষয়ী গৃহযুদ্ধ শুরু হয়। এই সংঘাতে সরাসরি ও পরোক্ষভাবে বিপুলসংখ্যক মানুষের প্রাণহানি ঘটে এবং দেশটি গভীর মানবিক সংকটে নিমজ্জিত হয়।

মধ্যপ্রাচ্যের বর্তমান পরিস্থিতিতে হুতিদের নতুন ঘোষণা শুধু আঞ্চলিক নিরাপত্তাই নয়, বৈশ্বিক বাণিজ্য ও জ্বালানি সরবরাহ ব্যবস্থার ওপরও উল্লেখযোগ্য প্রভাব ফেলতে পারে বলে বিশ্লেষকদের ধারণা।