যাজকদের যৌন নির্যাতনের শিকার ব্যক্তিদের সঙ্গে সাক্ষাৎ করে ক্যাথলিক চার্চকে আরও নিরাপদ ও জবাবদিহিমূলক প্রতিষ্ঠান হিসেবে গড়ে তোলার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন পোপ লিও চতুর্দশ। স্পেন সফরের তৃতীয় দিনে মাদ্রিদে ভুক্তভোগীদের সঙ্গে এক ঘণ্টার বৈঠকে তিনি চার্চের ভেতরে আরও পরিবর্তন আনার অঙ্গীকার করেন।
বৈঠকে অংশ নেওয়া ছয়জন ভুক্তভোগী তাদের ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতা তুলে ধরেন এবং ভবিষ্যতে এ ধরনের ঘটনার মোকাবিলায় চার্চের ভূমিকা আরও কার্যকর করার জন্য বিভিন্ন প্রস্তাব দেন। পোপ তাদের আশ্বস্ত করেন, এসব প্রস্তাবকে ভিত্তি করে চার্চে নতুন উদ্যোগ নেওয়া হবে, যাতে ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানটি সত্যিকার অর্থেই নিরাপদ ও আধ্যাত্মিকভাবে সুস্থ পরিবেশে পরিণত হয়।
নির্যাতন কেলেঙ্কারি এখনও বড় চ্যালেঞ্জ

স্পেনে দীর্ঘদিন ধরেই ক্যাথলিক যাজকদের বিরুদ্ধে যৌন নির্যাতনের অভিযোগ আলোচনায় রয়েছে। সাম্প্রতিক বছরগুলোতে বিষয়টি নিয়ে ব্যাপক জনমত তৈরি হয়েছে এবং ভুক্তভোগীদের জন্য ক্ষতিপূরণ ও ন্যায়বিচারের দাবি জোরালো হয়েছে।
পোপ স্পেনের বিশপদের উদ্দেশে বলেন, এই সংকট মোকাবিলায় চার্চকে মনোযোগ দিয়ে শোনা, সত্য প্রকাশ, ন্যায়বিচার নিশ্চিত করা, ক্ষতিপূরণ প্রদান এবং ভবিষ্যৎ প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থার প্রতি আরও দৃঢ় প্রতিশ্রুতি দেখাতে হবে।
তবে কিছু ভুক্তভোগী সংগঠনের প্রতিনিধিরা অভিযোগ করেছেন, বৃহত্তর পরিসরে ক্ষতিগ্রস্তদের প্রতিনিধিত্বের সুযোগ দেওয়া হয়নি। এতে তারা হতাশা প্রকাশ করেন।
সংসদে শান্তি ও অভিবাসন নিয়ে বার্তা
একই দিনে স্পেনের পার্লামেন্টে ভাষণ দেন পোপ লিও। সেখানে তিনি বিশ্বব্যাপী অভিবাসন সংকট মোকাবিলায় নিরাপদ ও বৈধ পথ তৈরির আহ্বান জানান। পাশাপাশি অভিবাসীদের মর্যাদাপূর্ণ অভ্যর্থনা ও সমাজে অন্তর্ভুক্তির সুযোগ নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।
তিনি বলেন, বিশ্বশান্তি এখন একটি বৈশ্বিক অপরিহার্যতা। সংঘাত ও অস্ত্র প্রতিযোগিতার পরিবর্তে ধৈর্যশীল সংলাপই টেকসই সমাধানের পথ হতে পারে।
মধ্যপ্রাচ্যের সাম্প্রতিক উত্তেজনার প্রসঙ্গ টেনে তিনি সতর্ক করেন, অস্ত্র সাময়িকভাবে নীরবতা আনতে পারে, কিন্তু কখনও স্থায়ী শান্তি প্রতিষ্ঠা করতে পারে না।
![]()
জনসমাগমে উচ্ছ্বাস
সোমবার সন্ধ্যায় মাদ্রিদের বিখ্যাত একটি স্টেডিয়ামে ধর্মীয় সম্প্রদায়ের সদস্যদের সঙ্গে সাক্ষাতের কর্মসূচি ছিল পোপের। হাজার হাজার মানুষ সেখানে জড়ো হয়ে তাকে স্বাগত জানান। স্পেন, ভ্যাটিকান এবং লাতিন আমেরিকার বিভিন্ন দেশের পতাকায় মুখর হয়ে ওঠে পুরো পরিবেশ।
এর আগে রাজধানীতে অনুষ্ঠিত খোলা প্রাঙ্গণের প্রার্থনা অনুষ্ঠানে বিপুল সংখ্যক মানুষের অংশগ্রহণ দেখা যায়।
সফরের বাকি কর্মসূচি
সাত দিনের সফরের অংশ হিসেবে পোপ বার্সেলোনার বিখ্যাত গির্জার নতুন টাওয়ার উদ্বোধন করবেন। পরে তিনি ক্যানারি দ্বীপপুঞ্জ সফর করবেন, যেখানে সমুদ্রপথে ইউরোপে পৌঁছানোর চেষ্টা করতে গিয়ে প্রাণ হারানো অভিবাসীদের স্মরণে শ্রদ্ধা জানাবেন।
এই সফরকে চার্চ সংস্কার, মানবিক মূল্যবোধ এবং বিশ্বশান্তির পক্ষে পোপ লিওর গুরুত্বপূর্ণ বার্তা হিসেবে দেখা হচ্ছে।


সারাক্ষণ রিপোর্ট 



















