মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র থেকে বহিষ্কৃত তৃতীয় দেশের অভিবাসীদের গ্রহণে সম্মত হয়েছে মধ্য আফ্রিকান প্রজাতন্ত্র। এই সিদ্ধান্তকে আফ্রিকান দেশগুলোর সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের নতুন অভিবাসন নীতির অংশ হিসেবে দেখা হচ্ছে। এর মাধ্যমে দ্রুত বহিষ্কার কার্যক্রম এগিয়ে নিতে চায় ওয়াশিংটন।
সাম্প্রতিক সময়ে যুক্তরাষ্ট্র বিভিন্ন আফ্রিকান দেশের সঙ্গে এমন সমঝোতা করেছে, যার আওতায় নিজ দেশের পরিবর্তে অন্য দেশে অভিবাসীদের পাঠানো হচ্ছে। মানবাধিকার সংগঠনগুলো বলছে, এই ধরনের ব্যবস্থা অনেক ক্ষেত্রে অভিবাসীদের জন্য আদালত প্রদত্ত সুরক্ষা দুর্বল করে দিতে পারে।
যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সমঝোতা
মধ্য আফ্রিকান প্রজাতন্ত্রের একজন সরকারি কর্মকর্তা জানিয়েছেন, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে হওয়া চুক্তির আওতায় দেশটি মার্কিন কর্তৃপক্ষের বহিষ্কৃত অভিবাসীদের গ্রহণ করবে। বিষয়টি নিয়ে রাজধানী বাঙ্গুইয়ে যুক্তরাষ্ট্রের একটি প্রতিনিধিদলের সঙ্গে আলোচনা হয়েছে বলেও জানা গেছে।

আরেকজন কূটনৈতিক সূত্রও নিশ্চিত করেছে যে দুই দেশের মধ্যে এ বিষয়ে সমঝোতা সম্পন্ন হয়েছে। তবে কতজন অভিবাসী পাঠানো হবে, তারা কোন দেশের নাগরিক এবং কখন থেকে তাদের আগমন শুরু হবে—এসব বিষয়ে এখনো স্পষ্ট তথ্য পাওয়া যায়নি।
আদালতের নথিতে ইঙ্গিত
একটি সাম্প্রতিক আদালতের আদেশে দেখা গেছে, মধ্য আফ্রিকান প্রজাতন্ত্রে একজন তুর্কি নাগরিককে পাঠানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছিল। পরে আদালত সাময়িকভাবে সেই বহিষ্কার প্রক্রিয়া স্থগিত করেন।
এতে ধারণা করা হচ্ছে, আনুষ্ঠানিক ঘোষণা না এলেও অভিবাসীদের এই দেশে পাঠানোর প্রস্তুতি ইতোমধ্যে শুরু হয়েছিল।
অভিবাসীদের সহায়তায় আন্তর্জাতিক সংস্থা
মধ্য আফ্রিকান প্রজাতন্ত্রে পৌঁছানোর পর বহিষ্কৃত অভিবাসীদের সহায়তা করবে আন্তর্জাতিক অভিবাসন সংস্থা। আফ্রিকার অন্য কয়েকটি দেশেও একই ধরনের বহিষ্কৃত ব্যক্তিদের সহায়তা দেওয়ার অভিজ্ঞতা রয়েছে সংস্থাটির।

এদিকে চলতি বছরে দেশটিতে বিভিন্ন কার্যক্রম পরিচালনার জন্য আন্তর্জাতিক অভিবাসন সংস্থাকে উল্লেখযোগ্য অর্থায়ন দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। ধারণা করা হচ্ছে, নতুন এই ব্যবস্থার বাস্তবায়নেও সেই সহায়তা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
দারিদ্র্য ও অস্থিরতার মধ্যে নতুন চ্যালেঞ্জ
স্বাধীনতার পর থেকে বহুবার রাজনৈতিক অস্থিরতা ও সংঘাতে জর্জরিত হয়েছে মধ্য আফ্রিকান প্রজাতন্ত্র। দেশটির অধিকাংশ মানুষ এখনো দারিদ্র্যের মধ্যে জীবনযাপন করছে।
এমন পরিস্থিতিতে বহিষ্কৃত অভিবাসীদের গ্রহণের সিদ্ধান্ত দেশটির জন্য নতুন প্রশাসনিক ও মানবিক চ্যালেঞ্জ তৈরি করতে পারে। একই সঙ্গে এটি আফ্রিকায় যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন কৌশলের নতুন দিকও তুলে ধরছে।

সারাক্ষণ রিপোর্ট 



















