আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতের (আইসিসি) প্রধান কৌঁসুলি করিম খানকে তাৎক্ষণিকভাবে দায়িত্ব থেকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। দীর্ঘদিন ধরে চলা যৌন অসদাচরণের অভিযোগের তদন্তের পর আদালতের তদারকি সংস্থা এই সিদ্ধান্ত নিয়েছে। তবে করিম খান তার বিরুদ্ধে আনা সব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন।
এই সিদ্ধান্ত আন্তর্জাতিক বিচার ব্যবস্থায় নতুন আলোচনার জন্ম দিয়েছে। কারণ, করিম খান সাম্প্রতিক বছরগুলোতে বিশ্বের বেশ কয়েকটি আলোচিত মামলার নেতৃত্ব দিয়েছেন।
অভিযোগ কী নিয়ে
করিম খানের বিরুদ্ধে অভিযোগ, তিনি একজন নারী সহকর্মীর সঙ্গে অনাকাঙ্ক্ষিত ও অননুমোদিত যৌন আচরণে জড়িয়েছিলেন। অভিযোগ অনুযায়ী, দীর্ঘ সময় ধরে ওই নারী কর্মীকে হয়রানি করা হয়েছে এবং কর্মস্থল, ব্যক্তিগত বাসভবন ও বিভিন্ন সরকারি সফরের সময়ও এমন ঘটনা ঘটেছে।
এই অভিযোগের তদন্ত প্রায় ১৮ মাস ধরে চলে। তদন্তের বিভিন্ন পর্যায়ে সাক্ষ্য-প্রমাণ সংগ্রহ করা হয় এবং সংশ্লিষ্ট নথিপত্র পর্যালোচনা করা হয়।

তবে তদন্ত নিয়ে ভিন্নমতও রয়েছে। একদল তদন্তকারী অভিযোগের পক্ষে বাস্তব ভিত্তি খুঁজে পাওয়ার কথা বললেও বিচারিক বিশেষজ্ঞদের আরেকটি পর্যালোচনায় বলা হয়েছে, অভিযোগ নিঃসন্দেহে প্রমাণ করার মতো পর্যাপ্ত তথ্য পাওয়া যায়নি।
করিম খানের অবস্থান
করিম খান শুরু থেকেই অভিযোগ অস্বীকার করে আসছেন। তার আইনজীবীরা বরখাস্তের সিদ্ধান্তকে বেআইনি, প্রক্রিয়াগতভাবে অন্যায্য এবং প্রমাণবিহীন বলে দাবি করেছেন।
তদন্ত চলাকালে তিনি আগেই নিজের দায়িত্ব থেকে সরে দাঁড়িয়েছিলেন। এখন আনুষ্ঠানিকভাবে তাকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে।
এ পর্যন্ত তার বিরুদ্ধে কোনো ফৌজদারি মামলা বা আনুষ্ঠানিক অপরাধমূলক অভিযোগ দায়ের করা হয়নি।
এখন কী হবে
আইসিসির সদস্য রাষ্ট্রগুলোর প্রতিনিধিদের নিয়ে গঠিত পরিষদের কাছে বিষয়টি পাঠানো হয়েছে। সেখানে সদস্য দেশগুলোর ভোটের মাধ্যমে করিম খানকে স্থায়ীভাবে অপসারণ করা হবে কি না, সে বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।

গোপন ভোটাভুটিতে সদস্য রাষ্ট্রগুলোর সংখ্যাগরিষ্ঠ সমর্থন পেলে তাকে পদ থেকে সরিয়ে দেওয়া হতে পারে। অন্যথায় তিনি পুনরায় দায়িত্বে ফিরতে পারবেন।
আলোচিত মামলাগুলোর কারণে নজরে ছিলেন
২০২১ সালে প্রধান কৌঁসুলি হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার পর করিম খান আন্তর্জাতিক অঙ্গনে ব্যাপক পরিচিতি পান। তার উদ্যোগে বিশ্বের কয়েকজন প্রভাবশালী নেতার বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি হয়, যা আন্তর্জাতিক রাজনীতিতে বড় ধরনের আলোড়ন সৃষ্টি করেছিল।
এ কারণে আইসিসি এবং এর কর্মকর্তাদের ওপর বিভিন্ন দেশের চাপও বেড়েছিল। বর্তমান পরিস্থিতি আদালটির কার্যক্রম ও ভাবমূর্তির ওপর কী প্রভাব ফেলবে, তা নিয়ে আন্তর্জাতিক মহলে আলোচনা চলছে।
করিম খানের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগের চূড়ান্ত পরিণতি এখন নির্ভর করছে সদস্য রাষ্ট্রগুলোর সিদ্ধান্ত এবং ভবিষ্যৎ প্রক্রিয়ার ওপর।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 



















