০২:২৭ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ০২ অগাস্ট ২০২৬
চার শতাব্দী পর ফিরল প্রকৃতির হারানো সন্তান, গ্লেন অ্যাফ্রিকে জন্ম নিল বুনো বিভারের নতুন প্রজন্ম ‘সবাইকে হত্যা করতে হবে’— প্রতিশোধের নামে সহিংসতার পক্ষে ইসরায়েলি বসতি স্থাপনকারীর উসকানি, আতঙ্কে পশ্চিম তীরের ফিলিস্তিনিরা এমঅ্যান্ডএসে খোলা-অংশের অন্তর্বাস বিক্রি ঘিরে বিতর্ক: ‘চমক’ নাকি বদলে যাওয়া বাজারের বাস্তবতা? প্রতিশোধের নামে হত্যার আহ্বান, পশ্চিম তীরে ইসরায়েলি বসতির বাসিন্দার বিস্ফোরক মন্তব্যে নতুন বিতর্ক ট্রাম্পের নতুন নিশানায় ‘পিকঅ্যাক্স মাউন্টেন’: ইরানের গোপন পারমাণবিক ঘাঁটি নিয়ে কেন বাড়ছে যুদ্ধের আশঙ্কা? ট্রাম্পের অভিযোগ ভেঙে পড়ল, আদালতে সরকারের স্বীকারোক্তি: ভাঙচুর নয়, তড়িঘড়ি মেরামতের ভুলেই ক্ষতিগ্রস্ত লিংকন রিফ্লেক্টিং পুল গোলাপি ডোরাকাটা রহস্যের অবসান: ৪০ বছরের অনুসন্ধানে মিলল সমুদ্রের নতুন শৈবাল প্রজাতি মৃত্যুর দিকে ছুটে চলা জীবনে থামার সময় কি এখনও আসেনি? প্যাক্স সিলিকা: কর্মসংস্থান নাকি নতুন নির্ভরতা? ফিলিপাইনের সামনে সুযোগের পাশাপাশি বড় ঝুঁকির সতর্কবার্তা যুক্তরাষ্ট্রের বিশেষ দূত সার্জিও গরের ঢাকা সফর শেষ, বাংলাদেশ-যুক্তরাষ্ট্র সম্পর্ক আরও জোরদারের অঙ্গীকার

ফিলিপাইনে ভূমিকম্পে নিহত ৪০ ছাড়াল, বাস্তুচ্যুত ২০ হাজারের বেশি

ফিলিপাইনের দক্ষিণাঞ্চলীয় মিনদানাও দ্বীপের উপকূলে আঘাত হানা ৭.৮ মাত্রার শক্তিশালী ভূমিকম্পে মৃতের সংখ্যা ৪০ ছাড়িয়েছে। আহত হয়েছেন ৪৫০ জনেরও বেশি এবং অন্তত ২০ হাজার মানুষ ঘরবাড়ি ছেড়ে নিরাপদ আশ্রয়ে যেতে বাধ্য হয়েছেন। সোমবারের এই ভূমিকম্পের পর মঙ্গলবারও উদ্ধারকাজ অব্যাহত ছিল, যদিও নিখোঁজের সংখ্যা কমে চারজনে নেমে এসেছে।

সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে উপকূলীয় শহর জেনারেল সান্তোস। সাত লাখের বেশি মানুষের এই শহরে ভবন ধস ও ধ্বংসাবশেষের নিচে চাপা পড়ে অন্তত ১৩ জনের মৃত্যু হয়েছে। পার্শ্ববর্তী সারাঙ্গানি প্রদেশেও ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। বিশেষ করে গ্লান শহরের পাহাড়ি এলাকায় ভূমিধসে বহু বাড়ি চাপা পড়ে অন্তত ১৮ জন প্রাণ হারান।

হাসপাতালের বাইরে তাঁবুতে চিকিৎসা

ভূমিকম্পে হাসপাতালগুলোর ভবন ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় অনেক রোগীকে খোলা আকাশের নিচে বা অস্থায়ী তাঁবুতে চিকিৎসা দিতে হচ্ছে। জেনারেল সান্তোসের একটি হাসপাতালের বাইরে অস্থায়ী পর্দার আড়ালে এক নারী সন্তান প্রসব করেন। গ্লানের একটি হাসপাতালে ভবনের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ থাকায় ৬০ জনের বেশি রোগীকে বাইরে রাখা হয়েছে।

স্থানীয় কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, হাসপাতালের কাঠামোগত ক্ষতি এতটাই গুরুতর যে ভবনের ভেতরে চিকিৎসা কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়া ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠেছে।

বিদ্যালয় ও অবকাঠামোতে ব্যাপক ক্ষতি

সরকারি হিসাবে প্রায় দুই হাজার বাড়ি এবং ১১৭টি সরকারি ভবন ও স্থাপনা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ভূমিকম্পে ক্ষতিগ্রস্ত এলাকায় প্রায় ছয় হাজার স্কুল ভবনের নিরাপত্তা পরীক্ষা না হওয়া পর্যন্ত পাঠদান শুরু করা যাবে না।

ঘটনাটি ঘটে নতুন শিক্ষাবর্ষের প্রথম দিন। সকালে পতাকা উত্তোলন অনুষ্ঠানে অংশ নিতে আসা বহু শিক্ষার্থী আহত হয়েছে। কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, ভবনের দেয়ালে ফাটল দেখা দেওয়ায় অনেক স্থাপনা আফটারশকের কারণে আরও ঝুঁকির মুখে রয়েছে।

জেনারেল সান্তোস আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর এখনও বন্ধ রয়েছে। এতে মানবিক সহায়তা বহনকারী ফ্লাইট ছাড়া ৬৩টি অভ্যন্তরীণ ফ্লাইট বাতিল করা হয়েছে।

20,000 displaced by Philippine earthquake that killed at least 37 | CBC News

উদ্ধারকাজে আফটারশকের বাধা

প্রথম ভূমিকম্পের কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই একাধিক শক্তিশালী আফটারশক অনুভূত হয়। এরপর শত শত ছোট কম্পন রেকর্ড করা হয়েছে। উদ্ধারকর্মীরা বলছেন, অব্যাহত কম্পনের কারণে ধসে পড়া ভবনে প্রবেশের সময় বাড়তি সতর্কতা অবলম্বন করতে হচ্ছে।

সারাঙ্গানির কিছু দুর্গম এলাকা এখনও কেবল হেলিকপ্টারের মাধ্যমে পৌঁছানো সম্ভব। সড়ক ক্ষতিগ্রস্ত হওয়া এবং একটি সেতু ধসে পড়ায় কয়েকটি সম্প্রদায় অন্তত এক সপ্তাহ বিচ্ছিন্ন অবস্থায় থাকতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

আন্তর্জাতিক সহায়তার প্রস্তুতি

ভূমিকম্পের পর উপকূলীয় অঞ্চলে সুনামি সতর্কতা জারি করা হয়েছিল। ফিলিপাইন ছাড়াও ইন্দোনেশিয়া ও জাপানে সতর্কতা জারি হয়। তবে কয়েক ঘণ্টা পর হুমকি কেটে গেলে সতর্কতা প্রত্যাহার করা হয়। জাপানের প্রশান্ত মহাসাগরীয় উপকূলে যে ঢেউ পৌঁছেছিল তার উচ্চতা ২০ সেন্টিমিটারের বেশি ছিল না।

প্রেসিডেন্ট ফার্দিনান্দ মারকোস জুনিয়র রাজধানী ম্যানিলা থেকে শীর্ষ দুর্যোগ ও প্রতিরক্ষা কর্মকর্তাদের ক্ষতিগ্রস্ত এলাকায় পাঠিয়েছেন। তারা উদ্ধার অভিযান, ত্রাণ বিতরণ এবং অবকাঠামোগত ক্ষয়ক্ষতির মূল্যায়ন তদারকি করছেন। যুক্তরাষ্ট্র, ফ্রান্স, জাপান ও নিউজিল্যান্ড ফিলিপাইনকে সহায়তার আশ্বাস দিয়েছে।

প্রশান্ত মহাসাগরীয় ‘রিং অব ফায়ার’-এ অবস্থিত হওয়ায় ফিলিপাইন প্রায়ই ভূমিকম্প ও আগ্নেয়গিরির অগ্ন্যুৎপাতের মুখোমুখি হয়। ফলে দেশটি বিশ্বের অন্যতম দুর্যোগপ্রবণ অঞ্চলের মধ্যে একটি হিসেবে বিবেচিত।

ফিলিপাইনে ৭.৮ মাত্রার ভূমিকম্প

মিনদানাওয়ে ৭.৮ মাত্রার ভূমিকম্পে ৪০ জনের বেশি নিহত, ২০ হাজারের বেশি মানুষ বাস্তুচ্যুত। হাসপাতাল, স্কুল ও অবকাঠামোতে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি।

জনপ্রিয় সংবাদ

চার শতাব্দী পর ফিরল প্রকৃতির হারানো সন্তান, গ্লেন অ্যাফ্রিকে জন্ম নিল বুনো বিভারের নতুন প্রজন্ম

ফিলিপাইনে ভূমিকম্পে নিহত ৪০ ছাড়াল, বাস্তুচ্যুত ২০ হাজারের বেশি

০৪:৩৮:২৯ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ৯ জুন ২০২৬

ফিলিপাইনের দক্ষিণাঞ্চলীয় মিনদানাও দ্বীপের উপকূলে আঘাত হানা ৭.৮ মাত্রার শক্তিশালী ভূমিকম্পে মৃতের সংখ্যা ৪০ ছাড়িয়েছে। আহত হয়েছেন ৪৫০ জনেরও বেশি এবং অন্তত ২০ হাজার মানুষ ঘরবাড়ি ছেড়ে নিরাপদ আশ্রয়ে যেতে বাধ্য হয়েছেন। সোমবারের এই ভূমিকম্পের পর মঙ্গলবারও উদ্ধারকাজ অব্যাহত ছিল, যদিও নিখোঁজের সংখ্যা কমে চারজনে নেমে এসেছে।

সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে উপকূলীয় শহর জেনারেল সান্তোস। সাত লাখের বেশি মানুষের এই শহরে ভবন ধস ও ধ্বংসাবশেষের নিচে চাপা পড়ে অন্তত ১৩ জনের মৃত্যু হয়েছে। পার্শ্ববর্তী সারাঙ্গানি প্রদেশেও ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। বিশেষ করে গ্লান শহরের পাহাড়ি এলাকায় ভূমিধসে বহু বাড়ি চাপা পড়ে অন্তত ১৮ জন প্রাণ হারান।

হাসপাতালের বাইরে তাঁবুতে চিকিৎসা

ভূমিকম্পে হাসপাতালগুলোর ভবন ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় অনেক রোগীকে খোলা আকাশের নিচে বা অস্থায়ী তাঁবুতে চিকিৎসা দিতে হচ্ছে। জেনারেল সান্তোসের একটি হাসপাতালের বাইরে অস্থায়ী পর্দার আড়ালে এক নারী সন্তান প্রসব করেন। গ্লানের একটি হাসপাতালে ভবনের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ থাকায় ৬০ জনের বেশি রোগীকে বাইরে রাখা হয়েছে।

স্থানীয় কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, হাসপাতালের কাঠামোগত ক্ষতি এতটাই গুরুতর যে ভবনের ভেতরে চিকিৎসা কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়া ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠেছে।

বিদ্যালয় ও অবকাঠামোতে ব্যাপক ক্ষতি

সরকারি হিসাবে প্রায় দুই হাজার বাড়ি এবং ১১৭টি সরকারি ভবন ও স্থাপনা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ভূমিকম্পে ক্ষতিগ্রস্ত এলাকায় প্রায় ছয় হাজার স্কুল ভবনের নিরাপত্তা পরীক্ষা না হওয়া পর্যন্ত পাঠদান শুরু করা যাবে না।

ঘটনাটি ঘটে নতুন শিক্ষাবর্ষের প্রথম দিন। সকালে পতাকা উত্তোলন অনুষ্ঠানে অংশ নিতে আসা বহু শিক্ষার্থী আহত হয়েছে। কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, ভবনের দেয়ালে ফাটল দেখা দেওয়ায় অনেক স্থাপনা আফটারশকের কারণে আরও ঝুঁকির মুখে রয়েছে।

জেনারেল সান্তোস আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর এখনও বন্ধ রয়েছে। এতে মানবিক সহায়তা বহনকারী ফ্লাইট ছাড়া ৬৩টি অভ্যন্তরীণ ফ্লাইট বাতিল করা হয়েছে।

20,000 displaced by Philippine earthquake that killed at least 37 | CBC News

উদ্ধারকাজে আফটারশকের বাধা

প্রথম ভূমিকম্পের কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই একাধিক শক্তিশালী আফটারশক অনুভূত হয়। এরপর শত শত ছোট কম্পন রেকর্ড করা হয়েছে। উদ্ধারকর্মীরা বলছেন, অব্যাহত কম্পনের কারণে ধসে পড়া ভবনে প্রবেশের সময় বাড়তি সতর্কতা অবলম্বন করতে হচ্ছে।

সারাঙ্গানির কিছু দুর্গম এলাকা এখনও কেবল হেলিকপ্টারের মাধ্যমে পৌঁছানো সম্ভব। সড়ক ক্ষতিগ্রস্ত হওয়া এবং একটি সেতু ধসে পড়ায় কয়েকটি সম্প্রদায় অন্তত এক সপ্তাহ বিচ্ছিন্ন অবস্থায় থাকতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

আন্তর্জাতিক সহায়তার প্রস্তুতি

ভূমিকম্পের পর উপকূলীয় অঞ্চলে সুনামি সতর্কতা জারি করা হয়েছিল। ফিলিপাইন ছাড়াও ইন্দোনেশিয়া ও জাপানে সতর্কতা জারি হয়। তবে কয়েক ঘণ্টা পর হুমকি কেটে গেলে সতর্কতা প্রত্যাহার করা হয়। জাপানের প্রশান্ত মহাসাগরীয় উপকূলে যে ঢেউ পৌঁছেছিল তার উচ্চতা ২০ সেন্টিমিটারের বেশি ছিল না।

প্রেসিডেন্ট ফার্দিনান্দ মারকোস জুনিয়র রাজধানী ম্যানিলা থেকে শীর্ষ দুর্যোগ ও প্রতিরক্ষা কর্মকর্তাদের ক্ষতিগ্রস্ত এলাকায় পাঠিয়েছেন। তারা উদ্ধার অভিযান, ত্রাণ বিতরণ এবং অবকাঠামোগত ক্ষয়ক্ষতির মূল্যায়ন তদারকি করছেন। যুক্তরাষ্ট্র, ফ্রান্স, জাপান ও নিউজিল্যান্ড ফিলিপাইনকে সহায়তার আশ্বাস দিয়েছে।

প্রশান্ত মহাসাগরীয় ‘রিং অব ফায়ার’-এ অবস্থিত হওয়ায় ফিলিপাইন প্রায়ই ভূমিকম্প ও আগ্নেয়গিরির অগ্ন্যুৎপাতের মুখোমুখি হয়। ফলে দেশটি বিশ্বের অন্যতম দুর্যোগপ্রবণ অঞ্চলের মধ্যে একটি হিসেবে বিবেচিত।

ফিলিপাইনে ৭.৮ মাত্রার ভূমিকম্প

মিনদানাওয়ে ৭.৮ মাত্রার ভূমিকম্পে ৪০ জনের বেশি নিহত, ২০ হাজারের বেশি মানুষ বাস্তুচ্যুত। হাসপাতাল, স্কুল ও অবকাঠামোতে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি।