১২:৩৩ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬
রপ্তানি বাড়াতে হলে কৌশলগত আমদানির পথও খুলতে হবে যুদ্ধের ভাষার আড়ালে কূটনীতির শেষ দরজা টিকটক শপে চারুকলা: শিল্পবাজার বদলের শুরু, নাকি ব্যর্থ এক পরীক্ষা? নবায়নযোগ্য জ্বালানিতে ভারত এগিয়ে, কিন্তু বিদ্যুৎ গ্রিডে বাড়ছে চাপ প্রজ্ঞাপন জারি: জ্বালানি তেলের দাম বাড়ায় বাস-মিনিবাসের ভাড়া কিলোমিটারে ১৭ পয়সা বৃদ্ধি ২০ তলা থেকে সাইকেলসহ নানা জিনিস ছুড়ে দিলেন ব্যক্তি, ৬ ঘণ্টার পুলিশি অভিযানে আটক চাঁদের আলোয় সায়েন্স সেন্টারে এক রাতের নাচ-গান, সিঙ্গাপুরে ‘মুনবিটস: আফটারডার্ক’ একা থাকা ৭২ বছরের বৃদ্ধের মৃত্যু, দরজার নিচ দিয়ে রক্ত গড়িয়ে আসতেই মিলল মরদেহ টোকিওর কাছে টাইফুন দুজুয়ানের আঘাত, নিহত ৯, নিখোঁজ ৪ এল নিনোর তাপে ভারতে ফেব্রুয়ারির মধ্যে ১৫ হাজার ৮০০ মৃত্যুর শঙ্কা

মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাতের ধাক্কা, জ্বালানি খরচে চাপে বিশ্ব বিমান শিল্প

মধ্যপ্রাচ্যে চলমান সংঘাতের প্রভাব এবার সরাসরি পড়েছে বৈশ্বিক বিমান পরিবহন খাতে। জেট জ্বালানির দাম দ্রুত বেড়ে যাওয়ায় যুক্তরাষ্ট্রসহ বিশ্বের বড় বড় বিমান সংস্থাগুলোর পরিচালন ব্যয় উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। এর ফলে ২০২৬ সালের জন্য বিমান শিল্পের মুনাফা নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।

সম্প্রতি প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্রের বিমান সংস্থাগুলো এপ্রিল মাসে জেট জ্বালানির পেছনে ৬৫০ কোটি ডলারেরও বেশি ব্যয় করেছে। এক বছর আগে একই সময়ে এই ব্যয় ছিল প্রায় ৩৬০ কোটি ডলার। অর্থাৎ মাত্র এক বছরের ব্যবধানে জ্বালানি ব্যয় বেড়েছে প্রায় ৭৮ শতাংশ। উল্লেখযোগ্য বিষয় হলো, এই সময়ে জ্বালানি ব্যবহারের পরিমাণ সামান্য কমলেও ব্যয় বেড়েছে মূলত দামের ঊর্ধ্বগতির কারণে।

সংঘাতের প্রভাব জ্বালানি বাজারে

মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা শুরু হওয়ার পর তেলের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ পরিবহন পথ হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচল ব্যাপকভাবে ব্যাহত হয়েছে। বিশ্ববাজারে অপরিশোধিত তেল ও জেট জ্বালানির সরবরাহ নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হওয়ায় দাম দ্রুত বাড়তে শুরু করে। এর সরাসরি প্রভাব পড়ে বিমান শিল্পে, যেখানে জ্বালানি ব্যয় অন্যতম বড় খরচের খাত।

মুনাফার পূর্বাভাসে বড় কাটছাঁট

বিশ্বের বিমান সংস্থাগুলোর প্রতিনিধিত্বকারী আন্তর্জাতিক সংগঠন জানিয়েছে, ২০২৬ সালে বৈশ্বিক বিমান শিল্পের সম্মিলিত নিট মুনাফা ২৩০০ কোটি ডলারে নেমে আসতে পারে। আগে এই মুনাফা ৪১০০ কোটি ডলার হবে বলে পূর্বাভাস দেওয়া হয়েছিল। ২০২৫ সালে যেখানে মুনাফা ছিল ৪৫০০ কোটি ডলার, সেখানে আগামী বছরের এই পূর্বাভাস শিল্পটির জন্য বড় ধাক্কা হিসেবে দেখা হচ্ছে।

সংগঠনটির মতে, জেট জ্বালানির গড় মূল্য ২০২৬ সালে ব্যারেলপ্রতি ১৫২ ডলারে পৌঁছাতে পারে, যা আগের বছরের তুলনায় প্রায় ৭০ শতাংশ বেশি। ফলে বৈশ্বিক বিমান শিল্পের মোট জ্বালানি ব্যয় বেড়ে ৩৫০ বিলিয়ন ডলারে পৌঁছানোর আশঙ্কা রয়েছে।

Airlines worldwide" face a new crisis from the Iran-Iran conflict; profit  shrinkage and soaring fuel costs are anticipated - Money & Banking Magazine

যাত্রীদের ওপরও বাড়তি চাপ

ব্যয় সামাল দিতে বিশ্বের বিভিন্ন বিমান সংস্থা ইতোমধ্যে বিমান ভাড়া ও অতিরিক্ত ফি বাড়িয়েছে। পাশাপাশি কিছু সুবিধা কমিয়ে আনা হয়েছে এবং বেশ কয়েকটি রুটে ফ্লাইট সংখ্যা কমানো হয়েছে। অনেক সংস্থা নতুন রুট চালুর পরিকল্পনাও স্থগিত করেছে।

কিছু আন্তর্জাতিক বিমান সংস্থা গ্রীষ্মকালীন মৌসুমে নির্ধারিত ফ্লাইট বাতিল করেছে। আবার কেউ কেউ স্বল্প দূরত্বের হাজার হাজার ফ্লাইট কমিয়ে দিয়েছে। উত্তর আমেরিকা, ইউরোপ এবং এশিয়ার বেশ কয়েকটি বড় বিমান সংস্থা তাদের সময়সূচি পুনর্বিন্যাস করেছে, যাতে বাড়তি জ্বালানি ব্যয়ের প্রভাব কিছুটা নিয়ন্ত্রণ করা যায়।

সামনে আরও কঠিন সময়?

বিশ্লেষকদের মতে, মধ্যপ্রাচ্যের পরিস্থিতি দ্রুত স্বাভাবিক না হলে জ্বালানির বাজারে অস্থিরতা আরও দীর্ঘস্থায়ী হতে পারে। সেক্ষেত্রে বিমান ভাড়া আরও বাড়ার সম্ভাবনা রয়েছে এবং ভ্রমণকারীদের অতিরিক্ত খরচ বহন করতে হতে পারে। একই সঙ্গে বিমান সংস্থাগুলোর মুনাফার ওপর চাপ অব্যাহত থাকবে।

বৈশ্বিক অর্থনীতির সঙ্গে নিবিড়ভাবে যুক্ত বিমান শিল্প এখন এমন এক সময় পার করছে, যেখানে জ্বালানি বাজারের প্রতিটি পরিবর্তন সরাসরি ব্যবসার ভবিষ্যৎ নির্ধারণ করছে। সংঘাত দীর্ঘায়িত হলে এই খাতের সামনে আরও কঠিন চ্যালেঞ্জ অপেক্ষা করছে।

মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাতের প্রভাবে জেট জ্বালানির দাম বেড়ে বিশ্ব বিমান শিল্পের মুনাফা কমছে, বাড়ছে বিমান ভাড়া ও পরিচালন ব্যয়।

জনপ্রিয় সংবাদ

রপ্তানি বাড়াতে হলে কৌশলগত আমদানির পথও খুলতে হবে

মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাতের ধাক্কা, জ্বালানি খরচে চাপে বিশ্ব বিমান শিল্প

০৫:০১:২০ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ৯ জুন ২০২৬

মধ্যপ্রাচ্যে চলমান সংঘাতের প্রভাব এবার সরাসরি পড়েছে বৈশ্বিক বিমান পরিবহন খাতে। জেট জ্বালানির দাম দ্রুত বেড়ে যাওয়ায় যুক্তরাষ্ট্রসহ বিশ্বের বড় বড় বিমান সংস্থাগুলোর পরিচালন ব্যয় উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। এর ফলে ২০২৬ সালের জন্য বিমান শিল্পের মুনাফা নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।

সম্প্রতি প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্রের বিমান সংস্থাগুলো এপ্রিল মাসে জেট জ্বালানির পেছনে ৬৫০ কোটি ডলারেরও বেশি ব্যয় করেছে। এক বছর আগে একই সময়ে এই ব্যয় ছিল প্রায় ৩৬০ কোটি ডলার। অর্থাৎ মাত্র এক বছরের ব্যবধানে জ্বালানি ব্যয় বেড়েছে প্রায় ৭৮ শতাংশ। উল্লেখযোগ্য বিষয় হলো, এই সময়ে জ্বালানি ব্যবহারের পরিমাণ সামান্য কমলেও ব্যয় বেড়েছে মূলত দামের ঊর্ধ্বগতির কারণে।

সংঘাতের প্রভাব জ্বালানি বাজারে

মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা শুরু হওয়ার পর তেলের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ পরিবহন পথ হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচল ব্যাপকভাবে ব্যাহত হয়েছে। বিশ্ববাজারে অপরিশোধিত তেল ও জেট জ্বালানির সরবরাহ নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হওয়ায় দাম দ্রুত বাড়তে শুরু করে। এর সরাসরি প্রভাব পড়ে বিমান শিল্পে, যেখানে জ্বালানি ব্যয় অন্যতম বড় খরচের খাত।

মুনাফার পূর্বাভাসে বড় কাটছাঁট

বিশ্বের বিমান সংস্থাগুলোর প্রতিনিধিত্বকারী আন্তর্জাতিক সংগঠন জানিয়েছে, ২০২৬ সালে বৈশ্বিক বিমান শিল্পের সম্মিলিত নিট মুনাফা ২৩০০ কোটি ডলারে নেমে আসতে পারে। আগে এই মুনাফা ৪১০০ কোটি ডলার হবে বলে পূর্বাভাস দেওয়া হয়েছিল। ২০২৫ সালে যেখানে মুনাফা ছিল ৪৫০০ কোটি ডলার, সেখানে আগামী বছরের এই পূর্বাভাস শিল্পটির জন্য বড় ধাক্কা হিসেবে দেখা হচ্ছে।

সংগঠনটির মতে, জেট জ্বালানির গড় মূল্য ২০২৬ সালে ব্যারেলপ্রতি ১৫২ ডলারে পৌঁছাতে পারে, যা আগের বছরের তুলনায় প্রায় ৭০ শতাংশ বেশি। ফলে বৈশ্বিক বিমান শিল্পের মোট জ্বালানি ব্যয় বেড়ে ৩৫০ বিলিয়ন ডলারে পৌঁছানোর আশঙ্কা রয়েছে।

Airlines worldwide" face a new crisis from the Iran-Iran conflict; profit  shrinkage and soaring fuel costs are anticipated - Money & Banking Magazine

যাত্রীদের ওপরও বাড়তি চাপ

ব্যয় সামাল দিতে বিশ্বের বিভিন্ন বিমান সংস্থা ইতোমধ্যে বিমান ভাড়া ও অতিরিক্ত ফি বাড়িয়েছে। পাশাপাশি কিছু সুবিধা কমিয়ে আনা হয়েছে এবং বেশ কয়েকটি রুটে ফ্লাইট সংখ্যা কমানো হয়েছে। অনেক সংস্থা নতুন রুট চালুর পরিকল্পনাও স্থগিত করেছে।

কিছু আন্তর্জাতিক বিমান সংস্থা গ্রীষ্মকালীন মৌসুমে নির্ধারিত ফ্লাইট বাতিল করেছে। আবার কেউ কেউ স্বল্প দূরত্বের হাজার হাজার ফ্লাইট কমিয়ে দিয়েছে। উত্তর আমেরিকা, ইউরোপ এবং এশিয়ার বেশ কয়েকটি বড় বিমান সংস্থা তাদের সময়সূচি পুনর্বিন্যাস করেছে, যাতে বাড়তি জ্বালানি ব্যয়ের প্রভাব কিছুটা নিয়ন্ত্রণ করা যায়।

সামনে আরও কঠিন সময়?

বিশ্লেষকদের মতে, মধ্যপ্রাচ্যের পরিস্থিতি দ্রুত স্বাভাবিক না হলে জ্বালানির বাজারে অস্থিরতা আরও দীর্ঘস্থায়ী হতে পারে। সেক্ষেত্রে বিমান ভাড়া আরও বাড়ার সম্ভাবনা রয়েছে এবং ভ্রমণকারীদের অতিরিক্ত খরচ বহন করতে হতে পারে। একই সঙ্গে বিমান সংস্থাগুলোর মুনাফার ওপর চাপ অব্যাহত থাকবে।

বৈশ্বিক অর্থনীতির সঙ্গে নিবিড়ভাবে যুক্ত বিমান শিল্প এখন এমন এক সময় পার করছে, যেখানে জ্বালানি বাজারের প্রতিটি পরিবর্তন সরাসরি ব্যবসার ভবিষ্যৎ নির্ধারণ করছে। সংঘাত দীর্ঘায়িত হলে এই খাতের সামনে আরও কঠিন চ্যালেঞ্জ অপেক্ষা করছে।

মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাতের প্রভাবে জেট জ্বালানির দাম বেড়ে বিশ্ব বিমান শিল্পের মুনাফা কমছে, বাড়ছে বিমান ভাড়া ও পরিচালন ব্যয়।