যুদ্ধবিরতির কয়েক মাস পর আবারও উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়েছে মধ্যপ্রাচ্যে। ইরান ও ইসরায়েল একে অপরের বিরুদ্ধে নতুন করে হামলা চালানোর পর উভয় পক্ষ জানিয়েছে, আপাতত তারা আক্রমণ বন্ধ রেখেছে। তবে যুদ্ধবিরতি আবার ভঙ্গ হলে কঠোর জবাব দেওয়া হবে বলেও সতর্ক করেছে দুই দেশ।
সোমবার ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী Benjamin Netanyahu বলেন, এই মুহূর্তে তাদের বাহিনী হামলা বন্ধ রেখেছে। তবে তিনি স্পষ্ট করে দেন, ইরান এবং ইরান-সমর্থিত গোষ্ঠী Hezbollah-এর বিরুদ্ধে লড়াই এখনও শেষ হয়নি।
পাল্টাপাল্টি হামলার পর বিরতি
ইরানের সামরিক বাহিনী দাবি করেছে, তারা ইসরায়েলকে “কঠিন জবাব” দেওয়ার পর তাদের সামরিক অভিযান স্থগিত করেছে। একই সঙ্গে তারা হুঁশিয়ারি দিয়েছে, ভবিষ্যতে আবার হামলা হলে আরও কঠোর পদক্ষেপ নেওয়া হবে।
রোববার ইরান ইসরায়েলের দিকে ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করে। এর জবাবে সোমবার ভোরে ইসরায়েল ইরানের কয়েকটি সামরিক স্থাপনায় হামলা চালায়। ইসরায়েলি বাহিনীর দাবি, তাদের লক্ষ্য ছিল সামরিক অবকাঠামো ও ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচির সঙ্গে যুক্ত কিছু স্থাপনা।
ইসরায়েলি কর্তৃপক্ষের তথ্য অনুযায়ী, সোমবার সকালেও জেরুজালেমসহ বিভিন্ন এলাকায় ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র হামলার সতর্কতা জারি করা হয়েছিল।
কূটনৈতিক তৎপরতা ও যুক্তরাষ্ট্রের ভূমিকা
যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট Donald Trump জানিয়েছেন, দুই পক্ষকে সংযম প্রদর্শনের আহ্বান জানানো হয়েছে। তাঁর দাবি, একটি গুরুত্বপূর্ণ সমঝোতা চুক্তির বিষয়ে আলোচনা শেষ পর্যায়ে রয়েছে এবং নতুন সংঘাত সেই প্রচেষ্টাকে বাধাগ্রস্ত করতে পারে।
মার্কিন প্রশাসনের সঙ্গে আলোচনার পর ইসরায়েল হামলা বন্ধে সম্মত হয়েছে বলে জানা গেছে। একই সময়ে ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যে বৃহত্তর আঞ্চলিক সমঝোতা নিয়েও আলোচনা চলছে।

লেবাননেও উত্তেজনা
সংঘাত শুধু ইরান ও ইসরায়েলের মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকেনি। দক্ষিণ লেবাননে ইসরায়েলি হামলায় কয়েকজন নিহত ও আহত হয়েছেন বলে খবর পাওয়া গেছে। অন্যদিকে হিজবুল্লাহও সীমান্ত এলাকায় ইসরায়েলি বাহিনীর ওপর রকেট হামলার দাবি করেছে।
এর ফলে লেবানন সীমান্তেও উত্তেজনা নতুন মাত্রা পেয়েছে। যদিও আগে একটি যুদ্ধবিরতি চুক্তি হয়েছিল, বাস্তবে সংঘর্ষ পুরোপুরি থামেনি।
হরমুজ প্রণালি ও বৈশ্বিক উদ্বেগ
মধ্যপ্রাচ্যের এই সংঘাতের প্রভাব পড়েছে আন্তর্জাতিক বাণিজ্য ও জ্বালানি বাজারেও। হরমুজ প্রণালিকে কেন্দ্র করে নিরাপত্তা উদ্বেগ বাড়ছে। সাম্প্রতিক একটি সামরিক হেলিকপ্টার দুর্ঘটনার ঘটনাও নতুন করে আলোচনায় এসেছে, যদিও এতে কোনো হতাহতের খবর পাওয়া যায়নি।
বিশ্লেষকদের মতে, হরমুজ প্রণালির পরিস্থিতি অস্থিতিশীল হলে বিশ্ববাজারে তেলের দাম আরও বাড়তে পারে।
দীর্ঘ সংঘাতের মানবিক মূল্য
চলমান সংঘাতে ইরান, ইসরায়েল, লেবানন এবং উপসাগরীয় অঞ্চলের বিভিন্ন দেশে হাজার হাজার মানুষ প্রাণ হারিয়েছেন। বিপুল সংখ্যক বেসামরিক নাগরিকও হতাহত হয়েছেন। যুদ্ধের কারণে বাস্তুচ্যুতি, অবকাঠামো ধ্বংস এবং অর্থনৈতিক ক্ষতির পরিমাণও ক্রমেই বাড়ছে।
বর্তমানে উভয় দেশ হামলা স্থগিত রাখার ঘোষণা দিলেও পরিস্থিতি এখনও অত্যন্ত নাজুক। নতুন কোনো উসকানি বা ভুল হিসাব যে আবারও বড় ধরনের সংঘর্ষ ডেকে আনতে পারে, সে আশঙ্কা থেকেই যাচ্ছে।
ইরান-ইসরায়েলের নতুন হামলার পর উভয় পক্ষ সাময়িকভাবে আক্রমণ বন্ধের ঘোষণা দিয়েছে। মধ্যপ্রাচ্যে শান্তি আলোচনার মাঝেও উত্তেজনা রয়ে গেছে।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 



















