যুক্তরাষ্ট্রের অন্যতম বৃহৎ শহর লস অ্যাঞ্জেলেসে মেয়র নির্বাচন ঘিরে নতুন রাজনৈতিক সমীকরণ তৈরি হয়েছে। সিটি কাউন্সিল সদস্য নিথ্যা রমন নভেম্বরের রানঅফ নির্বাচনে বর্তমান মেয়র কারেন ব্যাসের মুখোমুখি হচ্ছেন। এর মধ্য দিয়ে একই দলের দুই প্রভাবশালী ডেমোক্র্যাট নেত্রীর মধ্যে সরাসরি প্রতিদ্বন্দ্বিতা দেখতে যাচ্ছে শহরটি।
নির্বাচনের প্রাথমিক ফলাফলে রিপাবলিকান প্রার্থী ও সাবেক টেলিভিশন ব্যক্তিত্ব স্পেন্সার প্র্যাট আলোচনায় থাকলেও শেষ পর্যন্ত তিনি রানঅফে জায়গা করে নিতে পারেননি। ভোট গণনার শেষ পর্যায়ে নিথ্যা রমন ধীরে ধীরে এগিয়ে গিয়ে দ্বিতীয় স্থান নিশ্চিত করেন।
ভোটারদের সামনে পরিবর্তনের প্রশ্ন
এই নির্বাচনকে শুধু ব্যক্তিগত প্রতিদ্বন্দ্বিতা হিসেবে দেখা হচ্ছে না। বরং এটি লস অ্যাঞ্জেলেসের ভবিষ্যৎ রাজনৈতিক দিকনির্দেশনা নির্ধারণের একটি গুরুত্বপূর্ণ পরীক্ষা হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
দীর্ঘদিন ধরে শহরটি গৃহহীনতা, বাড়তি ভাড়া, আবাসন সংকট, ক্ষতিগ্রস্ত অবকাঠামো এবং জনসেবার নানা সমস্যার মুখোমুখি। রমন দাবি করছেন, বর্তমান নীতিগুলো এসব সমস্যার কার্যকর সমাধান দিতে ব্যর্থ হয়েছে এবং নতুন চিন্তা ও পরিকল্পনার প্রয়োজন রয়েছে।
তিনি বলেছেন, সাধারণ মানুষের জন্য কার্যকর একটি শহর গড়ে তুলতে পরিবর্তন দরকার। তার মতে, রাজনৈতিক স্বার্থের চেয়ে নাগরিকদের জীবনমান উন্নয়নকে বেশি গুরুত্ব দেওয়া উচিত।
কারেন ব্যাসের জন্য সতর্কবার্তা
বর্তমান মেয়র কারেন ব্যাস প্রাথমিক ভোটে সবচেয়ে বেশি সমর্থন পেলেও মোট ভোটের ৩৫ শতাংশের নিচে অবস্থান করেছেন। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, এটি একজন দায়িত্বে থাকা মেয়রের জন্য খুব শক্তিশালী অবস্থান নয়।
ব্যাস ডেমোক্র্যাট নেতৃত্বের মূলধারার প্রতিনিধিত্ব করেন। তার পেছনে রাজ্যের শীর্ষ নেতৃত্ব, প্রভাবশালী রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব এবং শ্রমিক সংগঠনগুলোর সমর্থন রয়েছে। তবে ভোটের ফলাফল ইঙ্গিত দিচ্ছে যে শহরের একটি বড় অংশ পরিবর্তনের দাবিও তুলছে।
ইতিহাস গড়ার সম্ভাবনা
এই নির্বাচনে আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ দিক রয়েছে। কারেন ব্যাস লস অ্যাঞ্জেলেসের প্রথম কৃষ্ণাঙ্গ নারী মেয়র। অন্যদিকে ভারতের জন্ম নেওয়া নিথ্যা রমন নির্বাচিত হলে তিনি শহরের প্রথম দক্ষিণ এশীয় নারী মেয়র হিসেবে ইতিহাস গড়বেন।
শৈশবে যুক্তরাষ্ট্রে আসা রমন নগর পরিকল্পনা বিষয়ে উচ্চশিক্ষা লাভ করেন এবং পরবর্তীতে স্থানীয় রাজনীতিতে সক্রিয় হন। আবাসন, নগর উন্নয়ন এবং গৃহহীনতা মোকাবিলায় তিনি দীর্ঘদিন ধরে কাজ করে আসছেন।
গৃহহীনতা ও নিরাপত্তা নিয়ে বিতর্ক
রমনের রাজনৈতিক অবস্থান নিয়ে বিতর্কও কম নয়। অতীতে তিনি গৃহহীনদের জন্য কঠোর নিষেধাজ্ঞার বিরোধিতা করেছিলেন। তবে সাম্প্রতিক সময়ে কিছু বিষয়ে তার অবস্থান তুলনামূলক নমনীয় হয়েছে বলে পর্যবেক্ষকরা মনে করছেন।
পুলিশ বাহিনীর আকার ও বাজেট নিয়েও তার অবস্থানের পরিবর্তন নিয়ে সমালোচনা হয়েছে। বিরোধীরা দাবি করছে, তিনি বিভিন্ন সময়ে ভিন্ন ভিন্ন অবস্থান নিয়েছেন। তবে রমন বলছেন, শহরের বাস্তবতা বিবেচনায় তিনি কার্যকর ও বাস্তবসম্মত সমাধান খুঁজতে চান।
নভেম্বরে কঠিন লড়াই
বিশ্লেষকদের মতে, নভেম্বরের রানঅফ নির্বাচনে জিততে হলে নিথ্যা রমনকে তার বর্তমান সমর্থনভিত্তির বাইরে আরও বিস্তৃত ভোটারগোষ্ঠীর আস্থা অর্জন করতে হবে। অন্যদিকে কারেন ব্যাসকে প্রমাণ করতে হবে যে তার নেতৃত্বে শহরের সমস্যাগুলোর সমাধান সম্ভব।
লস অ্যাঞ্জেলেসের অনেক ভোটারই পরিবর্তনের প্রত্যাশা করছেন। সেই পরিবর্তন বর্তমান নেতৃত্বের মাধ্যমে আসবে নাকি নতুন নেতৃত্বের হাতে, তার সিদ্ধান্ত হবে নভেম্বরের নির্বাচনে।
নগর পরিচালনা, আবাসন সংকট, গৃহহীনতা এবং জননিরাপত্তার মতো ইস্যুগুলোকে সামনে রেখেই এখন এগোচ্ছে যুক্তরাষ্ট্রের অন্যতম আলোচিত এই মেয়র নির্বাচন।
লস অ্যাঞ্জেলেস মেয়র নির্বাচনে কারেন ব্যাস ও নিথ্যা রমনের রানঅফ লড়াই শুরু হয়েছে। আবাসন, গৃহহীনতা ও পরিবর্তনের প্রশ্নে ভোটারদের নজর এখন নভেম্বরে।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 



















