মার্কিন নিষেধাজ্ঞার চাপের মুখে কিউবায় পরিচালিত ছয়টি হোটেলের ব্যবস্থাপনা কার্যক্রম থেকে সরে যাওয়ার ঘোষণা দিয়েছে ইন্দোনেশিয়ার বৃহৎ হোটেল ব্যবস্থাপনা প্রতিষ্ঠান আর্কিপেলাগো ইন্টারন্যাশনাল। প্রতিষ্ঠানটি জানিয়েছে, বর্তমান পরিস্থিতির কারণে তারা কিউবায় তাদের কার্যক্রম বন্ধ করছে, তবে ভবিষ্যতে পরিস্থিতির উন্নতি হলে আবারও ফিরে আসার সম্ভাবনা উড়িয়ে দিচ্ছে না।
শুক্রবার এএফপিকে দেওয়া বক্তব্যে আর্কিপেলাগো ইন্টারন্যাশনালের জ্যেষ্ঠ পরিচালক সারি কুসুমানিংরুম বলেন, পরিস্থিতি অনুকূলে এলে প্রতিষ্ঠানটি কিউবায় পুনরায় কার্যক্রম শুরু করার বিষয়ে বিবেচনা করতে পারে।
মার্কিন সময়সীমার আগে ব্যবসা গুটিয়ে নেওয়া
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প নির্ধারিত এক সময়সীমার আগে কিউবায় কার্যক্রম পরিচালনাকারী একাধিক বিদেশি প্রতিষ্ঠান দেশটি থেকে নিজেদের সম্পৃক্ততা কমিয়ে ফেলেছে বা পুরোপুরি বন্ধ করেছে। ওয়াশিংটনের নিষেধাজ্ঞার আওতায় থাকা সামরিক নিয়ন্ত্রিত ব্যবসায়িক গোষ্ঠী গায়েসার সঙ্গে সম্পর্ক ছিন্ন করার নির্দেশের পর এই পদক্ষেপগুলো নেওয়া হচ্ছে।
গায়েসা কিউবার অর্থনীতির একটি বড় অংশ নিয়ন্ত্রণ করে এবং পর্যটন খাতেও এর প্রভাব ব্যাপক। ফলে বিদেশি হোটেল অপারেটরদের ওপরও চাপ বেড়েছে।
ছয়টি হোটেলের ব্যবস্থাপনা হস্তান্তর
জাকার্তাভিত্তিক আর্কিপেলাগো ইন্টারন্যাশনাল বুধবারের এক বিবৃতিতে জানায়, তাদের অ্যাস্টন ব্র্যান্ডের অধীনে পরিচালিত কিউবার ছয়টি হোটেলের ব্যবস্থাপনা চুক্তি সমাপ্ত করা হয়েছে। প্রতিষ্ঠানটি জানিয়েছে, মার্কিন নিষেধাজ্ঞা মেনে চলার প্রয়োজনীয়তার কারণেই হোটেলগুলোর পরিচালন দায়িত্ব মালিকপক্ষের কাছে সম্পূর্ণভাবে হস্তান্তর করা হচ্ছে।
এর ফলে কিউবায় থাকা এসব সম্পত্তি আর আর্কিপেলাগো ইন্টারন্যাশনালের বৈশ্বিক পোর্টফোলিওর অংশ হিসেবে থাকবে না।
বিদেশি হোটেল চেইনের ধারাবাহিক প্রস্থান
আর্কিপেলাগোর এই সিদ্ধান্তের আগে আরও কয়েকটি আন্তর্জাতিক হোটেল চেইন একই ধরনের পদক্ষেপ নিয়েছে। কানাডার ব্লু ডায়মন্ড এবং স্পেনের মেলিয়া ও আইবেরোস্টার সম্মিলিতভাবে ৮৯টি সম্পত্তির সঙ্গে সম্পর্ক ছিন্ন করেছে। এসব হোটেলের অধিকাংশই গায়েসার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ছিল।
পর্যটন খাতের সঙ্গে যুক্ত সূত্রগুলোও সম্প্রতি জানিয়েছিল যে আর্কিপেলাগো ইন্টারন্যাশনাল ইতোমধ্যেই কিউবায় তাদের কার্যক্রম গুটিয়ে নিয়েছে। সর্বশেষ বিবৃতির মাধ্যমে প্রতিষ্ঠানটি সেই তথ্যের আনুষ্ঠানিক নিশ্চিতকরণ দিয়েছে।
চাপের মুখে কিউবার পর্যটন শিল্প
১৯৯০-এর দশক থেকে বিভিন্ন বিদেশি হোটেল চেইন কিউবায় কার্যক্রম পরিচালনা করে আসছে। তারা সাধারণত দেশটির পর্যটন মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে অংশীদারত্বে অথবা গায়েসার পর্যটন সহযোগী প্রতিষ্ঠান গাভিওতার সঙ্গে চুক্তির ভিত্তিতে হোটেল পরিচালনা করে।
তবে সাম্প্রতিক মার্কিন নিষেধাজ্ঞা এবং জ্বালানি অবরোধের কারণে কিউবার অর্থনীতি ও পর্যটন খাত নতুন করে সংকটে পড়েছে। ইতোমধ্যেই দুর্বল হয়ে পড়া পর্যটন শিল্পের জন্য আন্তর্জাতিক হোটেল অপারেটরদের প্রস্থান আরেকটি বড় ধাক্কা হিসেবে দেখা হচ্ছে।
সাম্প্রতিক মাসগুলোতে জ্বালানি সংকট, বিদ্যুৎ সরবরাহে বিপর্যয় এবং পর্যটক সংখ্যা হ্রাসের মতো নানা সমস্যার মুখোমুখি হয়েছে দেশটি। এমন পরিস্থিতিতে বিদেশি বিনিয়োগ ও আন্তর্জাতিক হোটেল পরিচালকদের সরে যাওয়া কিউবার পর্যটন শিল্পের ভবিষ্যৎ নিয়ে নতুন প্রশ্ন তৈরি করছে।
কিউবায় আর্কিপেলাগো ইন্টারন্যাশনালের কার্যক্রম বন্ধ
কিউবায় ছয়টি হোটেলের ব্যবস্থাপনা থেকে সরে দাঁড়িয়েছে ইন্দোনেশিয়ার আর্কিপেলাগো ইন্টারন্যাশনাল। মার্কিন নিষেধাজ্ঞার প্রভাব পর্যটন খাতে নতুন চাপ তৈরি করেছে।
Sarakhon Report 



















