রান্নার গ্যাসের আন্তর্জাতিক বাজারে সরবরাহ সংকট এবং পশ্চিম এশিয়ার চলমান অস্থিরতার প্রভাবের মধ্যে ভারতের কেন্দ্রীয় সরকার উজ্জ্বলা প্রকল্পের আওতায় ভর্তুকিযুক্ত গ্যাস সিলিন্ডারের সংখ্যা কমিয়ে দিয়েছে। আগে যেখানে বছরে সর্বোচ্চ নয়টি সিলিন্ডারে ভর্তুকি পাওয়া যেত, এখন তা কমিয়ে চারটিতে আনা হয়েছে।
এই সিদ্ধান্তের ফলে প্রকল্পের কোটি কোটি উপকারভোগী সরাসরি প্রভাবের মুখে পড়তে পারেন। যদিও সরকারের দাবি, অধিকাংশ পরিবার বছরে চার থেকে পাঁচটির বেশি সিলিন্ডার ব্যবহার করে না।
গ্যাসের দামও বাড়ল
সাম্প্রতিক সময়ে গৃহস্থালি গ্যাসের দামও বেড়েছে। সর্বশেষ সংশোধনের পর একটি সাধারণ ১৪ দশমিক ২ কেজির সিলিন্ডারের দাম বেড়ে হয়েছে ৯৪২ রুপি। পশ্চিম এশিয়ার সংঘাত শুরুর পর এটি দ্বিতীয় মূল্যবৃদ্ধি। দুই দফায় মোট ৮৯ রুপি দাম বেড়েছে।
বর্তমানে উজ্জ্বলা প্রকল্পের আওতাভুক্ত গ্রাহকরা প্রতি সিলিন্ডারে ৩০০ রুপি অতিরিক্ত ভর্তুকি পান। ফলে তাদের কার্যকর মূল্য দাঁড়ায় ৬৪২ রুপি।
সরকারের ব্যাখ্যা
পেট্রোলিয়াম মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা বলছেন, আন্তর্জাতিক বাজারের বর্তমান পরিস্থিতি অনুযায়ী একটি সিলিন্ডারের দাম আরও অনেক বেশি হওয়ার কথা। সেই তুলনায় সাধারণ গ্রাহকরাও কম দামে গ্যাস পাচ্ছেন, যা এক ধরনের পরোক্ষ ভর্তুকি হিসেবে বিবেচিত হতে পারে।

সরকারের মতে, উজ্জ্বলা প্রকল্পের সুবিধাভোগীরা অতিরিক্ত ভর্তুকি পাওয়ায় তাদের জন্য মূল্যছাড় আরও বেশি। বর্তমান ব্যবস্থায় তারা আন্তর্জাতিক বাজারদরের তুলনায় উল্লেখযোগ্য কম দামে সিলিন্ডার কিনতে পারছেন।
ব্যবহার কম হওয়ার যুক্তি
সরকারের দাবি, উজ্জ্বলা প্রকল্পের অধিকাংশ পরিবার বছরে গড়ে চার থেকে পাঁচটি সিলিন্ডার ব্যবহার করে। সেই বাস্তবতা বিবেচনায় নিয়েই ভর্তুকিযুক্ত সিলিন্ডারের সংখ্যা পুনর্নির্ধারণ করা হয়েছে।
তবে সমালোচকদের মতে, জ্বালানির দাম বৃদ্ধি এবং ভর্তুকির সুযোগ কমে যাওয়ায় নিম্ন আয়ের পরিবারগুলোর ওপর অতিরিক্ত চাপ তৈরি হতে পারে। বিশেষ করে গ্রামীণ এলাকায় রান্নার জ্বালানির ব্যয় আরও বেড়ে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
দশ কোটির বেশি সংযোগ
উজ্জ্বলা প্রকল্প ভারতের অন্যতম বৃহৎ সামাজিক কর্মসূচি হিসেবে পরিচিত। চলতি বছরের মে মাসের শেষ পর্যন্ত এই প্রকল্পের মাধ্যমে প্রায় ১০ কোটি ৫৫ লাখ গ্যাস সংযোগ দেওয়া হয়েছে।
সরকার প্রকল্পটিকে পরিচ্ছন্ন জ্বালানি ব্যবহারের ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে তুলে ধরলেও ভর্তুকির পরিমাণ ও সুবিধা কমানোর সিদ্ধান্ত নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 



















