০২:২৫ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ০২ অগাস্ট ২০২৬
চার শতাব্দী পর ফিরল প্রকৃতির হারানো সন্তান, গ্লেন অ্যাফ্রিকে জন্ম নিল বুনো বিভারের নতুন প্রজন্ম ‘সবাইকে হত্যা করতে হবে’— প্রতিশোধের নামে সহিংসতার পক্ষে ইসরায়েলি বসতি স্থাপনকারীর উসকানি, আতঙ্কে পশ্চিম তীরের ফিলিস্তিনিরা এমঅ্যান্ডএসে খোলা-অংশের অন্তর্বাস বিক্রি ঘিরে বিতর্ক: ‘চমক’ নাকি বদলে যাওয়া বাজারের বাস্তবতা? প্রতিশোধের নামে হত্যার আহ্বান, পশ্চিম তীরে ইসরায়েলি বসতির বাসিন্দার বিস্ফোরক মন্তব্যে নতুন বিতর্ক ট্রাম্পের নতুন নিশানায় ‘পিকঅ্যাক্স মাউন্টেন’: ইরানের গোপন পারমাণবিক ঘাঁটি নিয়ে কেন বাড়ছে যুদ্ধের আশঙ্কা? ট্রাম্পের অভিযোগ ভেঙে পড়ল, আদালতে সরকারের স্বীকারোক্তি: ভাঙচুর নয়, তড়িঘড়ি মেরামতের ভুলেই ক্ষতিগ্রস্ত লিংকন রিফ্লেক্টিং পুল গোলাপি ডোরাকাটা রহস্যের অবসান: ৪০ বছরের অনুসন্ধানে মিলল সমুদ্রের নতুন শৈবাল প্রজাতি মৃত্যুর দিকে ছুটে চলা জীবনে থামার সময় কি এখনও আসেনি? প্যাক্স সিলিকা: কর্মসংস্থান নাকি নতুন নির্ভরতা? ফিলিপাইনের সামনে সুযোগের পাশাপাশি বড় ঝুঁকির সতর্কবার্তা যুক্তরাষ্ট্রের বিশেষ দূত সার্জিও গরের ঢাকা সফর শেষ, বাংলাদেশ-যুক্তরাষ্ট্র সম্পর্ক আরও জোরদারের অঙ্গীকার

তেলবাজারে স্বস্তির আড়ালে অনিশ্চয়তার ছায়া, দীর্ঘ যুদ্ধের প্রভাবে বাড়ছে উদ্বেগ

বিশ্বের জ্বালানি বাজারে আপাতদৃষ্টিতে স্থিতিশীলতা দেখা গেলেও বাস্তবে পরিস্থিতি ক্রমেই জটিল হয়ে উঠছে। মধ্যপ্রাচ্যে চলমান সংঘাতের চার মাস পার হলেও এর কোনো সুস্পষ্ট সমাধান সামনে আসেনি। তবু আন্তর্জাতিক তেলের বাজারে বড় ধরনের আতঙ্ক দেখা যাচ্ছে না। তবে বিশ্লেষকদের মতে, এই শান্তভাবের আড়ালে লুকিয়ে আছে বহু অজানা ঝুঁকি, যা যেকোনো সময় বাজারকে নতুন সংকটে ফেলতে পারে।

হরমুজ প্রণালির গুরুত্ব

বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ তেল পরিবহন পথ হরমুজ প্রণালি দীর্ঘ সময় ধরে কার্যত বাধাগ্রস্ত অবস্থায় রয়েছে। এর ফলে বৈশ্বিক তেল সরবরাহের উল্লেখযোগ্য অংশ প্রভাবিত হয়েছে। সাম্প্রতিক সময়ে ইরান ও ইসরায়েলের মধ্যে নতুন করে হামলা-পাল্টা হামলার কারণে তেলের দাম আবারও বেড়েছে। তবে দাম এখনও অতীতের বড় সংকটগুলোর তুলনায় নিয়ন্ত্রিত পর্যায়ে রয়েছে।

বাজারে এমন ধারণা রয়েছে যে পরিস্থিতির দ্রুত পরিবর্তন হতে পারে এবং কোনো সমঝোতা হলে সরবরাহ স্বাভাবিক হতে পারে। কিন্তু বাস্তব চিত্র এতটা সহজ নয়। কারণ শুধু রাজনৈতিক সিদ্ধান্তই নয়, নিরাপত্তা ঝুঁকিও তেল পরিবহনের বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে।

জাহাজ চলাচলে সতর্কতা

যদিও কিছু তেলবাহী জাহাজ বিকল্প ও গোপন পদ্ধতিতে উপসাগরীয় অঞ্চল থেকে পণ্য পরিবহন করছে, তবুও এটি দীর্ঘমেয়াদি সমাধান নয়। জাহাজ পরিচালনাকারী প্রতিষ্ঠান, বীমা কোম্পানি এবং ব্যবসায়ীরা এখনও ঝুঁকি নিতে অনিচ্ছুক। তাদের আশঙ্কা, সংঘাত আবার বেড়ে গেলে জাহাজগুলো আটকে পড়তে পারে।

ফলে আনুষ্ঠানিকভাবে হরমুজ প্রণালি খুলে গেলেও সরবরাহ পুরোপুরি স্বাভাবিক হতে সময় লাগবে। নিরাপত্তা নিয়ে আস্থা ফিরে আসা ছাড়া বাণিজ্যিক কার্যক্রম আগের অবস্থায় ফেরানো কঠিন।

মজুদের ওপর বাড়তি চাপ

বর্তমান সংকটে বিশ্বজুড়ে সরকার ও জ্বালানি কোম্পানিগুলো তাদের বাণিজ্যিক মজুদ এবং কৌশলগত রিজার্ভ ব্যবহার করছে। এর ফলে বৈশ্বিক তেল মজুদ দ্রুত কমে যাচ্ছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, মজুদ হ্রাসের এই গতি অব্যাহত থাকলে ভবিষ্যতে সরবরাহ সংকট আরও প্রকট হতে পারে।

যুক্তরাষ্ট্রসহ বিভিন্ন দেশে মজুদের পরিমাণ উল্লেখযোগ্যভাবে কমেছে। বিশেষ করে গুরুত্বপূর্ণ সংরক্ষণ কেন্দ্রগুলোতে মজুদ এমন পর্যায়ে নেমে এসেছে, যা ভবিষ্যতে বাজার পরিচালনার জন্য উদ্বেগের কারণ হতে পারে।

Oil market calm masks a host of unknowns - The Economic Times

চীনের ভূমিকা নিয়ে ধোঁয়াশা

বিশ্বের দ্বিতীয় বৃহত্তম তেল ব্যবহারকারী দেশ চীনও বাজারে বড় অনিশ্চয়তার উৎস হয়ে উঠেছে। উচ্চমূল্যের কারণে দেশটি সমুদ্রপথে অপরিশোধিত তেল আমদানি কমিয়েছে। এতে অন্য দেশগুলোর জন্য কিছুটা স্বস্তি তৈরি হলেও নতুন প্রশ্নও তৈরি হয়েছে।

চীন কি নিজস্ব মজুদ ব্যবহার করছে, নাকি প্রকৃত চাহিদাই কমে গেছে—এ বিষয়ে স্পষ্ট তথ্য নেই। দেশটির জ্বালানি ব্যবহার ও মজুদের তথ্য সীমিত হওয়ায় বৈশ্বিক বাজার প্রকৃত পরিস্থিতি বুঝতে পারছে না। ফলে সরবরাহ ও চাহিদার ভারসাম্য নির্ধারণ আরও কঠিন হয়ে পড়েছে।

চাহিদা নির্ধারণের চ্যালেঞ্জ

তেল উৎপাদন, পরিশোধন এবং জাহাজ চলাচলের তথ্য তুলনামূলকভাবে সহজে পাওয়া গেলেও প্রকৃত চাহিদা নির্ধারণ অনেক বেশি কঠিন। বিশ্বজুড়ে কোটি কোটি ভোক্তার ব্যবহার নির্ভুলভাবে পরিমাপ করা সহজ নয়।

অনেক বিশ্লেষকের মতে, বর্তমান সংকটের ফলে বৈশ্বিক তেল চাহিদা উল্লেখযোগ্যভাবে কমেছে। অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডে ধীরগতি এবং উচ্চ জ্বালানি ব্যয়ের কারণে বিভিন্ন দেশে ব্যবহার হ্রাস পাচ্ছে। তবে এর প্রকৃত মাত্রা এখনও স্পষ্ট নয়।

ভবিষ্যতের ঝুঁকি

বর্তমানে তেলের বাজারে যে স্থিতিশীলতা দেখা যাচ্ছে, তা অনেকাংশেই প্রত্যাশা ও অনুমানের ওপর নির্ভরশীল। বাস্তব তথ্যের ঘাটতি এবং যুদ্ধ পরিস্থিতির অনিশ্চয়তা বাজারকে ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় রেখেছে।

সংঘাত যত দীর্ঘায়িত হবে, বৈশ্বিক অর্থনীতি ও জ্বালানি চাহিদার ওপর তার প্রভাব তত বাড়বে। ফলে বাজারের বর্তমান শান্ত অবস্থা যে কোনো সময় ভেঙে পড়তে পারে এবং নতুন মূল্যবৃদ্ধি বা সরবরাহ সংকট দেখা দিতে পারে।

জনপ্রিয় সংবাদ

চার শতাব্দী পর ফিরল প্রকৃতির হারানো সন্তান, গ্লেন অ্যাফ্রিকে জন্ম নিল বুনো বিভারের নতুন প্রজন্ম

তেলবাজারে স্বস্তির আড়ালে অনিশ্চয়তার ছায়া, দীর্ঘ যুদ্ধের প্রভাবে বাড়ছে উদ্বেগ

০৬:০৯:৫৮ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ৯ জুন ২০২৬

বিশ্বের জ্বালানি বাজারে আপাতদৃষ্টিতে স্থিতিশীলতা দেখা গেলেও বাস্তবে পরিস্থিতি ক্রমেই জটিল হয়ে উঠছে। মধ্যপ্রাচ্যে চলমান সংঘাতের চার মাস পার হলেও এর কোনো সুস্পষ্ট সমাধান সামনে আসেনি। তবু আন্তর্জাতিক তেলের বাজারে বড় ধরনের আতঙ্ক দেখা যাচ্ছে না। তবে বিশ্লেষকদের মতে, এই শান্তভাবের আড়ালে লুকিয়ে আছে বহু অজানা ঝুঁকি, যা যেকোনো সময় বাজারকে নতুন সংকটে ফেলতে পারে।

হরমুজ প্রণালির গুরুত্ব

বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ তেল পরিবহন পথ হরমুজ প্রণালি দীর্ঘ সময় ধরে কার্যত বাধাগ্রস্ত অবস্থায় রয়েছে। এর ফলে বৈশ্বিক তেল সরবরাহের উল্লেখযোগ্য অংশ প্রভাবিত হয়েছে। সাম্প্রতিক সময়ে ইরান ও ইসরায়েলের মধ্যে নতুন করে হামলা-পাল্টা হামলার কারণে তেলের দাম আবারও বেড়েছে। তবে দাম এখনও অতীতের বড় সংকটগুলোর তুলনায় নিয়ন্ত্রিত পর্যায়ে রয়েছে।

বাজারে এমন ধারণা রয়েছে যে পরিস্থিতির দ্রুত পরিবর্তন হতে পারে এবং কোনো সমঝোতা হলে সরবরাহ স্বাভাবিক হতে পারে। কিন্তু বাস্তব চিত্র এতটা সহজ নয়। কারণ শুধু রাজনৈতিক সিদ্ধান্তই নয়, নিরাপত্তা ঝুঁকিও তেল পরিবহনের বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে।

জাহাজ চলাচলে সতর্কতা

যদিও কিছু তেলবাহী জাহাজ বিকল্প ও গোপন পদ্ধতিতে উপসাগরীয় অঞ্চল থেকে পণ্য পরিবহন করছে, তবুও এটি দীর্ঘমেয়াদি সমাধান নয়। জাহাজ পরিচালনাকারী প্রতিষ্ঠান, বীমা কোম্পানি এবং ব্যবসায়ীরা এখনও ঝুঁকি নিতে অনিচ্ছুক। তাদের আশঙ্কা, সংঘাত আবার বেড়ে গেলে জাহাজগুলো আটকে পড়তে পারে।

ফলে আনুষ্ঠানিকভাবে হরমুজ প্রণালি খুলে গেলেও সরবরাহ পুরোপুরি স্বাভাবিক হতে সময় লাগবে। নিরাপত্তা নিয়ে আস্থা ফিরে আসা ছাড়া বাণিজ্যিক কার্যক্রম আগের অবস্থায় ফেরানো কঠিন।

মজুদের ওপর বাড়তি চাপ

বর্তমান সংকটে বিশ্বজুড়ে সরকার ও জ্বালানি কোম্পানিগুলো তাদের বাণিজ্যিক মজুদ এবং কৌশলগত রিজার্ভ ব্যবহার করছে। এর ফলে বৈশ্বিক তেল মজুদ দ্রুত কমে যাচ্ছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, মজুদ হ্রাসের এই গতি অব্যাহত থাকলে ভবিষ্যতে সরবরাহ সংকট আরও প্রকট হতে পারে।

যুক্তরাষ্ট্রসহ বিভিন্ন দেশে মজুদের পরিমাণ উল্লেখযোগ্যভাবে কমেছে। বিশেষ করে গুরুত্বপূর্ণ সংরক্ষণ কেন্দ্রগুলোতে মজুদ এমন পর্যায়ে নেমে এসেছে, যা ভবিষ্যতে বাজার পরিচালনার জন্য উদ্বেগের কারণ হতে পারে।

Oil market calm masks a host of unknowns - The Economic Times

চীনের ভূমিকা নিয়ে ধোঁয়াশা

বিশ্বের দ্বিতীয় বৃহত্তম তেল ব্যবহারকারী দেশ চীনও বাজারে বড় অনিশ্চয়তার উৎস হয়ে উঠেছে। উচ্চমূল্যের কারণে দেশটি সমুদ্রপথে অপরিশোধিত তেল আমদানি কমিয়েছে। এতে অন্য দেশগুলোর জন্য কিছুটা স্বস্তি তৈরি হলেও নতুন প্রশ্নও তৈরি হয়েছে।

চীন কি নিজস্ব মজুদ ব্যবহার করছে, নাকি প্রকৃত চাহিদাই কমে গেছে—এ বিষয়ে স্পষ্ট তথ্য নেই। দেশটির জ্বালানি ব্যবহার ও মজুদের তথ্য সীমিত হওয়ায় বৈশ্বিক বাজার প্রকৃত পরিস্থিতি বুঝতে পারছে না। ফলে সরবরাহ ও চাহিদার ভারসাম্য নির্ধারণ আরও কঠিন হয়ে পড়েছে।

চাহিদা নির্ধারণের চ্যালেঞ্জ

তেল উৎপাদন, পরিশোধন এবং জাহাজ চলাচলের তথ্য তুলনামূলকভাবে সহজে পাওয়া গেলেও প্রকৃত চাহিদা নির্ধারণ অনেক বেশি কঠিন। বিশ্বজুড়ে কোটি কোটি ভোক্তার ব্যবহার নির্ভুলভাবে পরিমাপ করা সহজ নয়।

অনেক বিশ্লেষকের মতে, বর্তমান সংকটের ফলে বৈশ্বিক তেল চাহিদা উল্লেখযোগ্যভাবে কমেছে। অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডে ধীরগতি এবং উচ্চ জ্বালানি ব্যয়ের কারণে বিভিন্ন দেশে ব্যবহার হ্রাস পাচ্ছে। তবে এর প্রকৃত মাত্রা এখনও স্পষ্ট নয়।

ভবিষ্যতের ঝুঁকি

বর্তমানে তেলের বাজারে যে স্থিতিশীলতা দেখা যাচ্ছে, তা অনেকাংশেই প্রত্যাশা ও অনুমানের ওপর নির্ভরশীল। বাস্তব তথ্যের ঘাটতি এবং যুদ্ধ পরিস্থিতির অনিশ্চয়তা বাজারকে ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় রেখেছে।

সংঘাত যত দীর্ঘায়িত হবে, বৈশ্বিক অর্থনীতি ও জ্বালানি চাহিদার ওপর তার প্রভাব তত বাড়বে। ফলে বাজারের বর্তমান শান্ত অবস্থা যে কোনো সময় ভেঙে পড়তে পারে এবং নতুন মূল্যবৃদ্ধি বা সরবরাহ সংকট দেখা দিতে পারে।