ভারতের অন্ধ্রপ্রদেশের বিশাখাপত্তনমে একটি রাষ্ট্রীয় মালিকানাধীন ইস্পাত কারখানায় ভয়াবহ বিস্ফোরণে অন্তত আট শ্রমিক নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় আরও ছয়জন গুরুতর আহত হয়েছেন। বিস্ফোরণের পর কারখানার ভেতরে বড় ধরনের অগ্নিকাণ্ডের সৃষ্টি হয় এবং বিপুল পরিমাণ গলিত ইস্পাত ছড়িয়ে পড়ে।
সোমবার বিকেলে এই দুর্ঘটনা ঘটে। কারখানার গলন ইউনিটে উচ্চ তাপমাত্রার তরল ইস্পাত বহনকারী একটি পাত্র হঠাৎ বিস্ফোরিত হলে মুহূর্তের মধ্যে আগুন ছড়িয়ে পড়ে। এতে কর্মরত শ্রমিকরা মারাত্মকভাবে দগ্ধ হন।
নিহতদের মধ্যে কর্মকর্তা ও শ্রমিক
জেলা প্রশাসনের তথ্য অনুযায়ী, নিহতদের মধ্যে পাঁচজন স্থায়ী কর্মী এবং তিনজন চুক্তিভিত্তিক শ্রমিক রয়েছেন। নিহতদের মধ্যে একজন ব্যবস্থাপক পর্যায়ের কর্মকর্তাও ছিলেন বলে জানা গেছে। দুর্ঘটনার পরপরই উদ্ধার কার্যক্রম শুরু হলেও অনেকের জীবন রক্ষা করা সম্ভব হয়নি।
গলিত ইস্পাত ছড়িয়ে পড়ে
দুর্ঘটনার সময় ইস্পাতের তাপমাত্রা প্রায় ১ হাজার ৬০০ ডিগ্রি সেলসিয়াস ছিল। বিস্ফোরণের ফলে শত শত টন গলিত ধাতু চারদিকে ছড়িয়ে পড়ে, যা উদ্ধারকাজকে আরও ঝুঁকিপূর্ণ করে তোলে। আগুন নিয়ন্ত্রণে আনতে দমকল বাহিনী দীর্ঘ সময় কাজ করে।
আহতদের অবস্থা সংকটাপন্ন
আহতদের শরীরের ৪০ থেকে ৯০ শতাংশ পর্যন্ত অংশ পুড়ে গেছে বলে জানা গেছে। তাদের দ্রুত শহরের বিভিন্ন বিশেষায়িত হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। গুরুতর আহতদের চিকিৎসায় জরুরি ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে।
দুর্ঘটনার পর ঘটনাস্থলে একাধিক অ্যাম্বুলেন্স মোতায়েন করা হয়। উদ্ধার ও চিকিৎসা সহায়তার জন্য প্রশাসন বিশেষ সমন্বয় কার্যক্রম শুরু করেছে। নিহত ও আহতদের স্বজনদের সহায়তায় সার্বক্ষণিক নিয়ন্ত্রণ কক্ষও খোলা হয়েছে।
শোক ও ক্ষতিপূরণ ঘোষণা
ঘটনায় গভীর শোক প্রকাশ করেছেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। নিহতদের পরিবারের জন্য আর্থিক সহায়তা এবং আহতদের চিকিৎসা সহায়তার ঘোষণা দেওয়া হয়েছে।
অন্ধ্রপ্রদেশের মুখ্যমন্ত্রীও দুর্ঘটনায় গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করে দ্রুত ত্রাণ ও উদ্ধার কার্যক্রম পরিচালনার নির্দেশ দিয়েছেন। একই সঙ্গে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে ক্ষতিগ্রস্তদের সর্বোচ্চ সহায়তা নিশ্চিত করার আহ্বান জানানো হয়েছে।
নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়ে প্রশ্ন
দুর্ঘটনার পর শিল্প কারখানার নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে। বিরোধী রাজনৈতিক নেতারা ঘটনার নিরপেক্ষ ও পূর্ণাঙ্গ তদন্ত দাবি করেছেন। তাদের মতে, নিরাপত্তা ব্যবস্থার কোনো ঘাটতি থাকলে তা দ্রুত চিহ্নিত করে দায়ীদের জবাবদিহির আওতায় আনতে হবে।
এদিকে কর্তৃপক্ষ দুর্ঘটনার কারণ অনুসন্ধানে তদন্ত প্রক্রিয়া শুরু করেছে। প্রাথমিকভাবে বিস্ফোরণের সুনির্দিষ্ট কারণ জানা না গেলেও প্রযুক্তিগত ত্রুটি কিংবা নিরাপত্তা ব্যবস্থার ব্যর্থতা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
Sarakhon Report 


















