মধ্যপ্রাচ্যে আবারও সংঘাতের মাত্রা বেড়েছে। একটি মার্কিন অ্যাপাচি হেলিকপ্টার ভূপাতিত হওয়ার ঘটনার পর ইরানের বিভিন্ন লক্ষ্যবস্তুতে নতুন করে হামলা চালিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। এ ঘটনার জেরে দুই দেশের মধ্যে উত্তেজনা আরও তীব্র হয়েছে এবং সম্ভাব্য শান্তি উদ্যোগ নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে।
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেছেন, মার্কিন হেলিকপ্টার ভূপাতিত করার ঘটনায় জবাব ‘খুবই শক্তিশালী’ হওয়া উচিত। এর পরপরই মার্কিন বাহিনী ইরানের একাধিক স্থানে হামলা চালায়। মার্কিন কর্মকর্তাদের প্রাথমিক মূল্যায়ন অনুযায়ী, প্রায় ২০টি লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হানা হয়েছে এবং ইরানের ছোড়া অধিকাংশ ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন প্রতিহত করা হয়েছে। এখন পর্যন্ত মার্কিন সেনা বা স্থাপনায় বড় ধরনের ক্ষয়ক্ষতির খবর পাওয়া যায়নি।
হরমুজ প্রণালিকে ঘিরে উত্তেজনা
ইরানের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, হরমুজ প্রণালির কেশম দ্বীপে হামলা হয়েছে এবং সিরিক বন্দর এলাকায় আঘাত হানার ঘটনা নিশ্চিত করা হয়েছে। একই সঙ্গে বন্দর আব্বাস ও জাস্ক এলাকার কাছাকাছি বিস্ফোরণের শব্দ শোনা গেছে বলে স্থানীয় সূত্রের বরাত দিয়ে জানানো হয়েছে।
হরমুজ প্রণালি বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি পরিবহন পথ হওয়ায় সেখানে সংঘাত বৃদ্ধির আশঙ্কা আন্তর্জাতিক বাজারেও প্রভাব ফেলছে।

ইরানের পাল্টা হামলার দাবি
নতুন মার্কিন হামলার পর ইরান জানিয়েছে, তারা কোনো হামলা বা হুমকির জবাব ছাড়া রাখবে না। ইরানের বিপ্লবী গার্ড বাহিনী দাবি করেছে, তারা বাহরাইনে অবস্থানরত মার্কিন পঞ্চম নৌবহরকে ড্রোনের মাধ্যমে লক্ষ্যবস্তু করেছে। একই সঙ্গে ভবিষ্যতে আরও কঠোর জবাব দেওয়ার হুঁশিয়ারিও দিয়েছে তারা।
বাহরাইনের কর্তৃপক্ষ সতর্কতামূলক সাইরেন বাজানোর কথা জানিয়েছে। দেশটির প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা সম্ভাব্য হামলা প্রতিহত করেছে বলেও দাবি করা হয়েছে।
জর্ডান ও কুয়েতেও উত্তেজনা
ইরানের পক্ষ থেকে জর্ডানে অবস্থিত মার্কিন আল-আজরাক ঘাঁটিতে দূরপাল্লার ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালানোর দাবি করা হয়েছে। জর্ডানের সেনাবাহিনী জানিয়েছে, তারা পাঁচটি ক্ষেপণাস্ত্র ভূপাতিত করেছে। ধ্বংসাবশেষ দেশের ভেতরে পড়লেও কোনো হতাহত বা বড় ক্ষয়ক্ষতির ঘটনা ঘটেনি।
অন্যদিকে কুয়েতের আলি আল সালেম ঘাঁটিকেও ড্রোনের মাধ্যমে লক্ষ্যবস্তু করা হয়েছে বলে ইরানি গণমাধ্যমে দাবি করা হয়েছে। কুয়েতের সেনাবাহিনী জানিয়েছে, তাদের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা সন্দেহজনক আকাশীয় লক্ষ্যবস্তু মোকাবিলা করছে এবং জনগণকে সরকারি নিরাপত্তা নির্দেশনা মেনে চলার আহ্বান জানানো হয়েছে।

আঞ্চলিক প্রতিক্রিয়া
ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী সামাজিক মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্রকে মধ্যপ্রাচ্য অঞ্চল ছেড়ে যাওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন। একই সময়ে মার্কিন সামরিক কমান্ড তাদের অভিযানকে আত্মরক্ষামূলক পদক্ষেপ হিসেবে বর্ণনা করেছে।
বিশ্লেষকদের মতে, সাম্প্রতিক হামলা ও পাল্টা হামলার ফলে একটি ভঙ্গুর যুদ্ধবিরতি আরও ঝুঁকির মুখে পড়েছে। পরিস্থিতি দ্রুত পরিবর্তিত হওয়ায় আঞ্চলিক নিরাপত্তা, জ্বালানি সরবরাহ এবং আন্তর্জাতিক কূটনীতিতে এর প্রভাব নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে।
অর্থবাজারে প্রভাব
সংঘাতের প্রভাবে এশিয়ার শেয়ারবাজারে চাপ দেখা গেছে। একই সঙ্গে তেলের দামও ঊর্ধ্বমুখী হয়েছে। বিনিয়োগকারীরা মধ্যপ্রাচ্যের পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বিগ্ন থাকায় বাজারে অনিশ্চয়তা বেড়েছে। বিশেষ করে হরমুজ প্রণালিতে উত্তেজনা বৃদ্ধি বিশ্ব জ্বালানি বাজারে নতুন ঝুঁকি তৈরি করেছে।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 



















