তাইওয়ানের পূর্ব উপকূলের জলসীমা ঘিরে নতুন করে উত্তেজনা তৈরি হয়েছে চীন ও তাইওয়ানের মধ্যে। চীনের উপকূলরক্ষী বাহিনীর টহল কার্যক্রমকে কেন্দ্র করে দুই পক্ষের মধ্যে কূটনৈতিক বাকযুদ্ধ শুরু হয়েছে। তাইপের অভিযোগ, সাম্প্রতিক দিনগুলোতে চীনা জাহাজগুলো আন্তর্জাতিক বাণিজ্যিক জাহাজকে থামিয়ে বিভিন্ন তথ্য চেয়ে হয়রানি করছে।
চীনের দাবি, সংশ্লিষ্ট এলাকায় তাদের আইনানুগ টহল কার্যক্রম জাতীয় সার্বভৌমত্ব এবং সামুদ্রিক অধিকার রক্ষার অংশ। তবে তাইওয়ান বলছে, এসব পদক্ষেপ আসলে অঞ্চলে প্রভাব বিস্তারের আরেকটি প্রচেষ্টা।
আঞ্চলিক সমুদ্রসীমা নিয়ে নতুন বিরোধ
গত মাসে জাপান ও ফিলিপাইন নিজেদের সামুদ্রিক সীমানা নিয়ে আনুষ্ঠানিক আলোচনা শুরু করার ঘোষণা দেয়। বেইজিং এই পদক্ষেপে অসন্তোষ প্রকাশ করে, কারণ চীনের মতে আলোচনার সঙ্গে তাইওয়ানের আশপাশের জলসীমার বিষয়ও জড়িত।

এর পরপরই চীনা রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম জানায়, তাইওয়ানের পূর্ব দিকের জলসীমায় একটি বিশেষ সামুদ্রিক আইন প্রয়োগ অভিযান শুরু করা হয়েছে। এই অভিযানের অংশ হিসেবে কয়েকটি জাহাজ মোতায়েন করা হয়।
তাইওয়ানের অভিযোগ
তাইওয়ানের কর্তৃপক্ষের দাবি, চীনা জাহাজগুলো বাণিজ্যিক জাহাজের কাছ থেকে তাদের যাত্রার উৎস, গন্তব্য এবং অন্যান্য তথ্য জানতে চেয়েছে। একই সঙ্গে তারা ওই এলাকায় নিজেদের এখতিয়ার রয়েছে বলেও দাবি করেছে।
তাইপের মতে, এ ধরনের কার্যক্রম শুধু নৌচলাচলের স্বাধীনতার জন্যই উদ্বেগের নয়, বরং এটি আঞ্চলিক স্থিতিশীলতার জন্যও ঝুঁকিপূর্ণ।
চীনের অবস্থান
বেইজিংয়ের বক্তব্য অনুযায়ী, উপকূলরক্ষী বাহিনীর টহল সম্পূর্ণ আইনি কাঠামোর মধ্যেই পরিচালিত হচ্ছে। চীন জানিয়েছে, তারা ভবিষ্যতেও ওই জলসীমায় নিজেদের নিয়ন্ত্রণ ও উপস্থিতি আরও জোরদার করবে।
চীনের দৃষ্টিতে এই পদক্ষেপ জাতীয় স্বার্থ ও সামুদ্রিক অধিকার সুরক্ষার জন্য প্রয়োজনীয়।
‘আইন প্রয়োগের আড়ালে সম্প্রসারণ’
তাইওয়ানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী অভিযোগ করেছেন, চীন তথাকথিত আইন প্রয়োগের অজুহাতে নিজেদের প্রভাব বিস্তারের চেষ্টা করছে। তার ভাষায়, তাইওয়ানের পূর্ব দিকের জলসীমা সম্পর্কিত সার্বভৌমত্ব বা বিচারিক এখতিয়ারের বিষয়ে হস্তক্ষেপ করার কোনো অধিকার চীনের নেই।
তিনি আরও বলেন, আঞ্চলিক স্থিতাবস্থা নষ্ট করার ক্ষেত্রে চীনই প্রধান ভূমিকা পালন করছে।
দীর্ঘদিনের বিরোধ
চীন গণতান্ত্রিকভাবে পরিচালিত তাইওয়ানকে নিজেদের ভূখণ্ডের অংশ বলে দাবি করে। অন্যদিকে তাইওয়ান সেই দাবি প্রত্যাখ্যান করে আসছে এবং বলে, দ্বীপটির ভবিষ্যৎ নির্ধারণের অধিকার শুধুমাত্র তাইওয়ানের জনগণের।
এই বিরোধ বহু বছর ধরে চললেও সাম্প্রতিক সময়ে সামরিক মহড়া, উপকূলরক্ষী টহল এবং কূটনৈতিক চাপ বৃদ্ধির কারণে দুই পক্ষের উত্তেজনা আরও বেড়েছে। নতুন এই বিরোধও পূর্ব এশিয়ার নিরাপত্তা পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ বাড়িয়ে তুলেছে।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 



















