যুক্তরাষ্ট্রে দীর্ঘ ছয় দশক পর ফিরে আসা নিউ ওয়ার্ল্ড স্ক্রুওয়ার্ম পরজীবীর সংক্রমণ আরও বিস্তৃত হচ্ছে। নতুন তিনটি সংক্রমণ শনাক্ত হওয়ার পর দেশটিতে মোট আক্রান্তের সংখ্যা বেড়ে পাঁচে দাঁড়িয়েছে। পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে খামারি, পশুচিকিৎসক এবং সরকারি কর্মকর্তাদের মধ্যে।
নিউ ওয়ার্ল্ড স্ক্রুওয়ার্ম একটি অত্যন্ত বিপজ্জনক পরজীবী, যা গবাদিপশু, পোষা প্রাণী, বন্যপ্রাণী এবং বিরল ক্ষেত্রে মানুষের শরীরেও সংক্রমণ ঘটাতে পারে। এর লার্ভা জীবন্ত টিস্যুর ভেতরে প্রবেশ করে ক্ষত তৈরি করে এবং প্রাণীর জন্য তীব্র যন্ত্রণার পাশাপাশি বড় ধরনের অর্থনৈতিক ক্ষতির কারণ হয়।
নতুন আক্রান্তের সন্ধান
যুক্তরাষ্ট্রের কৃষি কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, টেক্সাসে আরও দুটি নতুন সংক্রমণ শনাক্ত হয়েছে। একটি বাছুর এবং একটি ছাগলের শরীরে এই পরজীবীর উপস্থিতি পাওয়া গেছে। একই সঙ্গে আগে টেক্সাসে শনাক্ত বলে যে একটি কুকুরের সংক্রমণের কথা জানানো হয়েছিল, পরে সেটিকে নিউ মেক্সিকোর প্রথম সংক্রমণ হিসেবে পুনঃশ্রেণিবদ্ধ করা হয়েছে।
এর ফলে এখন টেক্সাস ও নিউ মেক্সিকো—দুই অঙ্গরাজ্যেই স্ক্রুওয়ার্মের উপস্থিতি নিশ্চিত হয়েছে।

মেক্সিকো থেকে উত্তরে অগ্রযাত্রা
গত এক বছর ধরে মেক্সিকোর ভেতর দিয়ে উত্তর দিকে অগ্রসর হচ্ছিল এই পরজীবী। বিশেষজ্ঞরা আগেই আশঙ্কা করেছিলেন, এটি যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশ করতে পারে। সেই আশঙ্কাই এখন বাস্তবে রূপ নিয়েছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, যদি সংক্রমণ ব্যাপক আকার ধারণ করে, তবে শুধু টেক্সাসেই প্রায় ১৮০ কোটি ডলারের অর্থনৈতিক ক্ষতি হতে পারে। পাশাপাশি গবাদিপশু শিল্পের পাশাপাশি বন্যপ্রাণী সংরক্ষণেও বড় ধরনের হুমকি তৈরি হবে।
প্রতিরোধে বাড়তি উদ্যোগ
পরিস্থিতি মোকাবিলায় যুক্তরাষ্ট্রের কৃষি বিভাগ নজরদারি ও প্রযুক্তিনির্ভর প্রতিরোধ কার্যক্রম জোরদার করছে। স্ক্রুওয়ার্ম দমনে নতুন প্রযুক্তি ও গবেষণার জন্য গঠিত বিশেষ তহবিল থেকে শিগগিরই অর্থ বরাদ্দের ঘোষণা দেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা।

সরকারি কর্মকর্তারা বলছেন, তদন্ত অব্যাহত রয়েছে এবং সামনে আরও নতুন তথ্য আসতে পারে। সংক্রমণ ছড়িয়ে পড়া ঠেকাতে আক্রান্ত এলাকা নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে।
খামারিদের মধ্যে মতভেদ
তবে সরকারি পদক্ষেপ নিয়ে স্থানীয় খামারি ও বাসিন্দাদের মধ্যে মতভেদ দেখা দিয়েছে। কেউ কেউ মনে করছেন, প্রতিক্রিয়া যথেষ্ট দ্রুত নয় এবং আরও বিস্তৃত ব্যবস্থা নেওয়া দরকার। অন্যদিকে অতীতের সংক্রমণ পরিস্থিতি দেখেছেন এমন অনেকেই নিজেদের উদ্যোগে বিকল্প প্রতিরোধ পদ্ধতি খুঁজতে শুরু করেছেন।
যদিও কৃষি বিভাগ দাবি করেছে, সাম্প্রতিক জনবল হ্রাস বা প্রশাসনিক পরিবর্তনের কারণে স্ক্রুওয়ার্ম মোকাবিলার কার্যক্রমে কোনো প্রভাব পড়েনি।
কেন এত উদ্বেগ?
স্ক্রুওয়ার্মের সবচেয়ে ভয়ঙ্কর দিক হলো এটি প্রাণীর জীবন্ত মাংসে আক্রমণ করে। সংক্রমণ দ্রুত ছড়ালে পশুর স্বাস্থ্য মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে এবং খামার শিল্পে বড় ধরনের আর্থিক ধাক্কা আসতে পারে। ফলে পরিস্থিতি এখন শুধু পশুস্বাস্থ্যের নয়, কৃষি অর্থনীতির জন্যও একটি বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে দেখা হচ্ছে।
:max_bytes(150000):strip_icc()/27818566279_8289c152f0_o-e5a9c29881294bdb99b980a9b1d9eb7c.jpg)

সারাক্ষণ রিপোর্ট 



















