০১:৪৫ অপরাহ্ন, বুধবার, ১০ জুন ২০২৬
নেহরুর রেকর্ড ছাড়িয়ে ইতিহাস গড়তে চলেছেন মোদি, দাবি অমিত শাহের দিঘার জগন্নাথ মন্দিরের নাম থেকে বাদ যাচ্ছে ‘ধাম’, পশ্চিমবঙ্গ সরকারের নতুন সিদ্ধান্ত কেরালার সাবেক মুখ্যমন্ত্রীর মেয়েকে তলব, সিএমআরএল অর্থপাচার মামলায় ইডির জিজ্ঞাসাবাদ মমতার বাড়িতে সিআইডি তল্লাশি, পশ্চিমবঙ্গের রাজনীতিতে নতুন বিতর্ক মার্কিন ঋণবাজারে বিদেশি সরকারের আগ্রহ কমছে, বাড়ছে নতুন উদ্বেগ কিউবার সংকটে মতাদর্শের লড়াই, বাস্তবতার পথে হাঁটার আহ্বান কলম্বিয়ার নির্বাচনে মধ্যপন্থার পতন, মুখোমুখি কঠোর ডান ও বাম রাজনীতি এক মাসের অবরোধে বিপর্যস্ত বলিভিয়া, সরকারের ওপর বাড়ছে চাপ ব্রাজিলের ইলেকট্রনিক ভোটিং ব্যবস্থায় আস্থার সংকট, নির্বাচনের আগে বাড়ছে বিতর্ক ট্রাম্পের মন্তব্যে বিতর্ক: ‘যুদ্ধপ্রেমী’ প্রতিরক্ষামন্ত্রী কি যুক্তরাষ্ট্রের জন্য সঠিক পছন্দ?

মিয়ানমারে বিদ্রোহীদের লড়াই অব্যাহত, যুদ্ধক্ষেত্রের হাসপাতালে জন্ম নিল ‘আশার সন্তান’

মিয়ানমারের চলমান সংঘাতে বিদ্রোহী গোষ্ঠীগুলো সাম্প্রতিক সময়ে নানা চাপে পড়লেও প্রতিরোধের মনোভাব এখনো ভাঙেনি। যুদ্ধের কঠিন বাস্তবতার মধ্যেও অনেকে বিশ্বাস করছেন, স্বৈরশাসনের বিরুদ্ধে সংগ্রাম চালিয়ে যাওয়া ছাড়া তাদের সামনে আর কোনো পথ নেই।

একটি অস্থায়ী যুদ্ধক্ষেত্র হাসপাতালের চিকিৎসক ডা. সাউং সেই বিশ্বাসেরই প্রতীক। একসময় তিনি সেনাবাহিনীতে ছিলেন এবং দীর্ঘ সময় সামরিক শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে কাটিয়েছেন। কিন্তু এখন তিনি আহত বিদ্রোহী যোদ্ধাদের চিকিৎসা দিয়ে তাদের মনোবল ধরে রাখার চেষ্টা করছেন।

তিনি তরুণ যোদ্ধাদের বলেন, আগের প্রজন্ম তাদের দায়িত্ব পুরোপুরি পালন করতে পারেনি বলেই আজকের প্রজন্মকে এই সংগ্রামে নামতে হয়েছে। তার মতে, যদি বর্তমানের তরুণরা এখন অন্যায়ের বিরুদ্ধে দাঁড়াতে ব্যর্থ হয়, তাহলে ভবিষ্যতে তারাও একই ধরনের নিপীড়নের মুখোমুখি হবে এবং আবার নতুন করে প্রতিরোধ গড়ে তুলতে বাধ্য হবে।

যুদ্ধের মাঝেও চিকিৎসাসেবা

BBC/Darren Conway Four young men stand with their backs to the camera, in a jungle under a tarpaulin roof. BBC correspondent Quentin Sommerville stands facing towards them.

সীমিত সম্পদ নিয়ে পরিচালিত হাসপাতালটিতে প্রতিদিনই আহত যোদ্ধাদের চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। অপারেশন কক্ষ থেকে শুরু করে রোগীদের পুনর্বাসনের ব্যবস্থা—সবকিছুই চলছে অত্যন্ত সীমিত সামর্থ্যে।

চিকিৎসক, নার্স ও স্বেচ্ছাসেবকেরা দিনরাত কাজ করছেন। যুদ্ধের ভয়াবহতা চারপাশে থাকলেও তারা মানুষের জীবন বাঁচানোর চেষ্টা অব্যাহত রেখেছেন।

জন্ম নিল নতুন প্রাণ

হাসপাতালের একটি ওয়ার্ডে চিকিৎসা চলাকালে ঘটে এক আবেগঘন ঘটনা। আহত যোদ্ধার স্ত্রী ২৯ বছর বয়সী মে কিউট মন প্রসববেদনায় কাতর ছিলেন। তার পাশে দাঁড়িয়ে ছিলেন ২৪ বছর বয়সী স্বামী ইয়িন চিট।

প্রচণ্ড গরমের মধ্যে তিনি স্ত্রীকে বাতাস করছিলেন। সন্তানের জন্মের সময় ধর্মীয় প্রার্থনা পাঠ করার কথা থাকলেও তিনি পুরো প্রার্থনা মনে করতে পারছিলেন না। তাই নিজের মুঠোফোনে সেই প্রার্থনা চালিয়ে শোনান।

Getty Images In this photo taken on January 24, 2026, soldiers and police walk towards a military Mi-17 helicopter transporting a military-organised press tour at a drug production site southwest of Mongyai, northern Shan State, that was captured by the Myanmar military.

নার্সদের উৎসাহ আর চিকিৎসকদের সহযোগিতার মধ্যেই শেষ পর্যন্ত জন্ম নেয় একটি কন্যাশিশু। নবজাতককে দেখে ডা. সাউংয়ের মুখেও ফুটে ওঠে স্বস্তির হাসি।

‘পূরণ হওয়া ইচ্ছা’

পরিবারটি তাদের মেয়ের নাম রেখেছে ‘সু পায়ে’, যার অর্থ প্রায় ‘পূরণ হওয়া ইচ্ছা’। যুদ্ধ, অনিশ্চয়তা ও ভয়াবহ পরিস্থিতির মধ্যেও শিশুটির জন্ম পরিবারটির কাছে নতুন আশার প্রতীক হয়ে উঠেছে।

শিশুর ভবিষ্যৎ নিয়ে বাবা ইয়িন চিটের স্বপ্নও সাধারণ। তিনি চান তার মেয়ে এমন একটি দেশে বড় হোক, যেখানে ভয় নয়, শান্তি ও স্বাধীনতা থাকবে। যেখানে মানুষকে নিজেদের অধিকার আদায়ের জন্য অস্ত্র হাতে নিতে হবে না।

মিয়ানমারের সংঘাত এখনো শেষ হওয়ার কোনো লক্ষণ দেখাচ্ছে না। তবে যুদ্ধক্ষেত্রের সেই ছোট্ট হাসপাতাল এবং সেখানে জন্ম নেওয়া এক নবজাতক যেন মনে করিয়ে দেয়, সবচেয়ে কঠিন সময়েও মানুষ আশা হারাতে চায় না।

BBC/Darren Conway Kyar Soe, an injured rebel platoon commander, is carried to the operating table

 

BBC/Darren Conway Injured rebel commander Kyar Soe after the operation to rebuild his leg

 

BBC/Darren Conway The operating theatre, with three doctors wearing green scrubs and facemasks

 

BBC/Darren Conway A couple hold a newborn baby in the arms, standing in front of the green of the jungle

 

 

 

জনপ্রিয় সংবাদ

নেহরুর রেকর্ড ছাড়িয়ে ইতিহাস গড়তে চলেছেন মোদি, দাবি অমিত শাহের

মিয়ানমারে বিদ্রোহীদের লড়াই অব্যাহত, যুদ্ধক্ষেত্রের হাসপাতালে জন্ম নিল ‘আশার সন্তান’

১১:৩২:৪২ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ১০ জুন ২০২৬

মিয়ানমারের চলমান সংঘাতে বিদ্রোহী গোষ্ঠীগুলো সাম্প্রতিক সময়ে নানা চাপে পড়লেও প্রতিরোধের মনোভাব এখনো ভাঙেনি। যুদ্ধের কঠিন বাস্তবতার মধ্যেও অনেকে বিশ্বাস করছেন, স্বৈরশাসনের বিরুদ্ধে সংগ্রাম চালিয়ে যাওয়া ছাড়া তাদের সামনে আর কোনো পথ নেই।

একটি অস্থায়ী যুদ্ধক্ষেত্র হাসপাতালের চিকিৎসক ডা. সাউং সেই বিশ্বাসেরই প্রতীক। একসময় তিনি সেনাবাহিনীতে ছিলেন এবং দীর্ঘ সময় সামরিক শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে কাটিয়েছেন। কিন্তু এখন তিনি আহত বিদ্রোহী যোদ্ধাদের চিকিৎসা দিয়ে তাদের মনোবল ধরে রাখার চেষ্টা করছেন।

তিনি তরুণ যোদ্ধাদের বলেন, আগের প্রজন্ম তাদের দায়িত্ব পুরোপুরি পালন করতে পারেনি বলেই আজকের প্রজন্মকে এই সংগ্রামে নামতে হয়েছে। তার মতে, যদি বর্তমানের তরুণরা এখন অন্যায়ের বিরুদ্ধে দাঁড়াতে ব্যর্থ হয়, তাহলে ভবিষ্যতে তারাও একই ধরনের নিপীড়নের মুখোমুখি হবে এবং আবার নতুন করে প্রতিরোধ গড়ে তুলতে বাধ্য হবে।

যুদ্ধের মাঝেও চিকিৎসাসেবা

BBC/Darren Conway Four young men stand with their backs to the camera, in a jungle under a tarpaulin roof. BBC correspondent Quentin Sommerville stands facing towards them.

সীমিত সম্পদ নিয়ে পরিচালিত হাসপাতালটিতে প্রতিদিনই আহত যোদ্ধাদের চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। অপারেশন কক্ষ থেকে শুরু করে রোগীদের পুনর্বাসনের ব্যবস্থা—সবকিছুই চলছে অত্যন্ত সীমিত সামর্থ্যে।

চিকিৎসক, নার্স ও স্বেচ্ছাসেবকেরা দিনরাত কাজ করছেন। যুদ্ধের ভয়াবহতা চারপাশে থাকলেও তারা মানুষের জীবন বাঁচানোর চেষ্টা অব্যাহত রেখেছেন।

জন্ম নিল নতুন প্রাণ

হাসপাতালের একটি ওয়ার্ডে চিকিৎসা চলাকালে ঘটে এক আবেগঘন ঘটনা। আহত যোদ্ধার স্ত্রী ২৯ বছর বয়সী মে কিউট মন প্রসববেদনায় কাতর ছিলেন। তার পাশে দাঁড়িয়ে ছিলেন ২৪ বছর বয়সী স্বামী ইয়িন চিট।

প্রচণ্ড গরমের মধ্যে তিনি স্ত্রীকে বাতাস করছিলেন। সন্তানের জন্মের সময় ধর্মীয় প্রার্থনা পাঠ করার কথা থাকলেও তিনি পুরো প্রার্থনা মনে করতে পারছিলেন না। তাই নিজের মুঠোফোনে সেই প্রার্থনা চালিয়ে শোনান।

Getty Images In this photo taken on January 24, 2026, soldiers and police walk towards a military Mi-17 helicopter transporting a military-organised press tour at a drug production site southwest of Mongyai, northern Shan State, that was captured by the Myanmar military.

নার্সদের উৎসাহ আর চিকিৎসকদের সহযোগিতার মধ্যেই শেষ পর্যন্ত জন্ম নেয় একটি কন্যাশিশু। নবজাতককে দেখে ডা. সাউংয়ের মুখেও ফুটে ওঠে স্বস্তির হাসি।

‘পূরণ হওয়া ইচ্ছা’

পরিবারটি তাদের মেয়ের নাম রেখেছে ‘সু পায়ে’, যার অর্থ প্রায় ‘পূরণ হওয়া ইচ্ছা’। যুদ্ধ, অনিশ্চয়তা ও ভয়াবহ পরিস্থিতির মধ্যেও শিশুটির জন্ম পরিবারটির কাছে নতুন আশার প্রতীক হয়ে উঠেছে।

শিশুর ভবিষ্যৎ নিয়ে বাবা ইয়িন চিটের স্বপ্নও সাধারণ। তিনি চান তার মেয়ে এমন একটি দেশে বড় হোক, যেখানে ভয় নয়, শান্তি ও স্বাধীনতা থাকবে। যেখানে মানুষকে নিজেদের অধিকার আদায়ের জন্য অস্ত্র হাতে নিতে হবে না।

মিয়ানমারের সংঘাত এখনো শেষ হওয়ার কোনো লক্ষণ দেখাচ্ছে না। তবে যুদ্ধক্ষেত্রের সেই ছোট্ট হাসপাতাল এবং সেখানে জন্ম নেওয়া এক নবজাতক যেন মনে করিয়ে দেয়, সবচেয়ে কঠিন সময়েও মানুষ আশা হারাতে চায় না।

BBC/Darren Conway Kyar Soe, an injured rebel platoon commander, is carried to the operating table

 

BBC/Darren Conway Injured rebel commander Kyar Soe after the operation to rebuild his leg

 

BBC/Darren Conway The operating theatre, with three doctors wearing green scrubs and facemasks

 

BBC/Darren Conway A couple hold a newborn baby in the arms, standing in front of the green of the jungle