মিয়ানমারের চলমান সংঘাতে বিদ্রোহী গোষ্ঠীগুলো সাম্প্রতিক সময়ে নানা চাপে পড়লেও প্রতিরোধের মনোভাব এখনো ভাঙেনি। যুদ্ধের কঠিন বাস্তবতার মধ্যেও অনেকে বিশ্বাস করছেন, স্বৈরশাসনের বিরুদ্ধে সংগ্রাম চালিয়ে যাওয়া ছাড়া তাদের সামনে আর কোনো পথ নেই।
একটি অস্থায়ী যুদ্ধক্ষেত্র হাসপাতালের চিকিৎসক ডা. সাউং সেই বিশ্বাসেরই প্রতীক। একসময় তিনি সেনাবাহিনীতে ছিলেন এবং দীর্ঘ সময় সামরিক শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে কাটিয়েছেন। কিন্তু এখন তিনি আহত বিদ্রোহী যোদ্ধাদের চিকিৎসা দিয়ে তাদের মনোবল ধরে রাখার চেষ্টা করছেন।
তিনি তরুণ যোদ্ধাদের বলেন, আগের প্রজন্ম তাদের দায়িত্ব পুরোপুরি পালন করতে পারেনি বলেই আজকের প্রজন্মকে এই সংগ্রামে নামতে হয়েছে। তার মতে, যদি বর্তমানের তরুণরা এখন অন্যায়ের বিরুদ্ধে দাঁড়াতে ব্যর্থ হয়, তাহলে ভবিষ্যতে তারাও একই ধরনের নিপীড়নের মুখোমুখি হবে এবং আবার নতুন করে প্রতিরোধ গড়ে তুলতে বাধ্য হবে।
যুদ্ধের মাঝেও চিকিৎসাসেবা

সীমিত সম্পদ নিয়ে পরিচালিত হাসপাতালটিতে প্রতিদিনই আহত যোদ্ধাদের চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। অপারেশন কক্ষ থেকে শুরু করে রোগীদের পুনর্বাসনের ব্যবস্থা—সবকিছুই চলছে অত্যন্ত সীমিত সামর্থ্যে।
চিকিৎসক, নার্স ও স্বেচ্ছাসেবকেরা দিনরাত কাজ করছেন। যুদ্ধের ভয়াবহতা চারপাশে থাকলেও তারা মানুষের জীবন বাঁচানোর চেষ্টা অব্যাহত রেখেছেন।
জন্ম নিল নতুন প্রাণ
হাসপাতালের একটি ওয়ার্ডে চিকিৎসা চলাকালে ঘটে এক আবেগঘন ঘটনা। আহত যোদ্ধার স্ত্রী ২৯ বছর বয়সী মে কিউট মন প্রসববেদনায় কাতর ছিলেন। তার পাশে দাঁড়িয়ে ছিলেন ২৪ বছর বয়সী স্বামী ইয়িন চিট।
প্রচণ্ড গরমের মধ্যে তিনি স্ত্রীকে বাতাস করছিলেন। সন্তানের জন্মের সময় ধর্মীয় প্রার্থনা পাঠ করার কথা থাকলেও তিনি পুরো প্রার্থনা মনে করতে পারছিলেন না। তাই নিজের মুঠোফোনে সেই প্রার্থনা চালিয়ে শোনান।

নার্সদের উৎসাহ আর চিকিৎসকদের সহযোগিতার মধ্যেই শেষ পর্যন্ত জন্ম নেয় একটি কন্যাশিশু। নবজাতককে দেখে ডা. সাউংয়ের মুখেও ফুটে ওঠে স্বস্তির হাসি।
‘পূরণ হওয়া ইচ্ছা’
পরিবারটি তাদের মেয়ের নাম রেখেছে ‘সু পায়ে’, যার অর্থ প্রায় ‘পূরণ হওয়া ইচ্ছা’। যুদ্ধ, অনিশ্চয়তা ও ভয়াবহ পরিস্থিতির মধ্যেও শিশুটির জন্ম পরিবারটির কাছে নতুন আশার প্রতীক হয়ে উঠেছে।
শিশুর ভবিষ্যৎ নিয়ে বাবা ইয়িন চিটের স্বপ্নও সাধারণ। তিনি চান তার মেয়ে এমন একটি দেশে বড় হোক, যেখানে ভয় নয়, শান্তি ও স্বাধীনতা থাকবে। যেখানে মানুষকে নিজেদের অধিকার আদায়ের জন্য অস্ত্র হাতে নিতে হবে না।
মিয়ানমারের সংঘাত এখনো শেষ হওয়ার কোনো লক্ষণ দেখাচ্ছে না। তবে যুদ্ধক্ষেত্রের সেই ছোট্ট হাসপাতাল এবং সেখানে জন্ম নেওয়া এক নবজাতক যেন মনে করিয়ে দেয়, সবচেয়ে কঠিন সময়েও মানুষ আশা হারাতে চায় না।




সারাক্ষণ রিপোর্ট 



















