১২:৪৭ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ০২ অগাস্ট ২০২৬
চার শতাব্দী পর ফিরল প্রকৃতির হারানো সন্তান, গ্লেন অ্যাফ্রিকে জন্ম নিল বুনো বিভারের নতুন প্রজন্ম ‘সবাইকে হত্যা করতে হবে’— প্রতিশোধের নামে সহিংসতার পক্ষে ইসরায়েলি বসতি স্থাপনকারীর উসকানি, আতঙ্কে পশ্চিম তীরের ফিলিস্তিনিরা এমঅ্যান্ডএসে খোলা-অংশের অন্তর্বাস বিক্রি ঘিরে বিতর্ক: ‘চমক’ নাকি বদলে যাওয়া বাজারের বাস্তবতা? প্রতিশোধের নামে হত্যার আহ্বান, পশ্চিম তীরে ইসরায়েলি বসতির বাসিন্দার বিস্ফোরক মন্তব্যে নতুন বিতর্ক ট্রাম্পের নতুন নিশানায় ‘পিকঅ্যাক্স মাউন্টেন’: ইরানের গোপন পারমাণবিক ঘাঁটি নিয়ে কেন বাড়ছে যুদ্ধের আশঙ্কা? ট্রাম্পের অভিযোগ ভেঙে পড়ল, আদালতে সরকারের স্বীকারোক্তি: ভাঙচুর নয়, তড়িঘড়ি মেরামতের ভুলেই ক্ষতিগ্রস্ত লিংকন রিফ্লেক্টিং পুল গোলাপি ডোরাকাটা রহস্যের অবসান: ৪০ বছরের অনুসন্ধানে মিলল সমুদ্রের নতুন শৈবাল প্রজাতি মৃত্যুর দিকে ছুটে চলা জীবনে থামার সময় কি এখনও আসেনি? প্যাক্স সিলিকা: কর্মসংস্থান নাকি নতুন নির্ভরতা? ফিলিপাইনের সামনে সুযোগের পাশাপাশি বড় ঝুঁকির সতর্কবার্তা যুক্তরাষ্ট্রের বিশেষ দূত সার্জিও গরের ঢাকা সফর শেষ, বাংলাদেশ-যুক্তরাষ্ট্র সম্পর্ক আরও জোরদারের অঙ্গীকার

মিয়ানমারের গৃহযুদ্ধে চাপে বিদ্রোহীরা, পাল্টা আক্রমণে শক্তি বাড়াচ্ছে সেনাবাহিনী

মিয়ানমারে সামরিক অভ্যুত্থানের পাঁচ বছর পার হলেও দেশটির সংঘাত থামার কোনো লক্ষণ নেই। বরং দীর্ঘস্থায়ী গৃহযুদ্ধ নতুন এক পর্যায়ে পৌঁছেছে, যেখানে বিদ্রোহী জোটগুলোর প্রাথমিক সাফল্যের পর এখন আবার শক্ত অবস্থানে ফিরে আসছে সেনাবাহিনী। এর ফলে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে নতুন করে উদ্বেগ, বাস্তুচ্যুতি এবং প্রাণহানির আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।

সামরিক অভ্যুত্থানের পর পরিস্থিতি

২০২১ সালে নির্বাচিত সরকারকে সরিয়ে ক্ষমতা দখল করে মিয়ানমারের সেনাবাহিনী। এরপর থেকেই দেশজুড়ে শুরু হয় ব্যাপক প্রতিরোধ আন্দোলন। ধীরে ধীরে বিভিন্ন জাতিগত সশস্ত্র গোষ্ঠী ও বিদ্রোহী সংগঠন একজোট হয়ে সেনাবাহিনীর বিরুদ্ধে লড়াই শুরু করে।

গত কয়েক বছরে সংঘাতে হাজার হাজার মানুষের মৃত্যু হয়েছে। একই সঙ্গে লাখো মানুষ ঘরবাড়ি ছেড়ে অন্যত্র আশ্রয় নিতে বাধ্য হয়েছে। যুদ্ধের প্রভাব দেশের অর্থনীতি, স্বাস্থ্যসেবা ও শিক্ষা ব্যবস্থাকেও মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত করেছে।

Civil War in Myanmar | Global Conflict Tracker

প্রথম সাফল্যের পর কঠিন বাস্তবতা

দুই বছরেরও বেশি সময় আগে বিদ্রোহী বাহিনীগুলো একের পর এক গুরুত্বপূর্ণ এলাকায় অগ্রগতি অর্জন করেছিল। অনেক সীমান্ত অঞ্চল ও কৌশলগত অবস্থান তাদের নিয়ন্ত্রণে চলে যায়। তখন ধারণা করা হচ্ছিল, সেনাবাহিনীর ওপর চাপ আরও বাড়বে।

তবে সাম্প্রতিক সময়ে পরিস্থিতি বদলাতে শুরু করেছে। সেনাবাহিনী বাধ্যতামূলক নিয়োগ কার্যক্রম জোরদার করেছে এবং যুদ্ধক্ষেত্রে আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার বাড়িয়েছে। বিশেষ করে ড্রোনের মাধ্যমে নজরদারি ও হামলার সক্ষমতা বৃদ্ধির ফলে বিদ্রোহীদের ওপর নতুন চাপ তৈরি হয়েছে।

সামনের সারির যুদ্ধ

দেশটির বিভিন্ন সংঘাতপূর্ণ অঞ্চলে এখনো তীব্র লড়াই চলছে। হাসপাতাল, অস্থায়ী চিকিৎসা কেন্দ্র এবং সামনের সারির প্রতিরক্ষা অবস্থানগুলোতে যুদ্ধের প্রভাব স্পষ্টভাবে দেখা যাচ্ছে। আহত যোদ্ধা ও সাধারণ মানুষের সংখ্যা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে মানবিক সংকটও গভীর হচ্ছে।

বিদ্রোহী যোদ্ধারা বলছেন, তারা এখনো লড়াই চালিয়ে যাওয়ার ব্যাপারে দৃঢ়প্রতিজ্ঞ। অন্যদিকে সেনাবাহিনীও হারানো এলাকা পুনর্দখলে সক্রিয় অভিযান অব্যাহত রেখেছে। ফলে সংঘাত দ্রুত শেষ হওয়ার সম্ভাবনা আপাতত দেখা যাচ্ছে না।

মানবিক সংকট আরও গভীর

বিশ্লেষকদের মতে, দীর্ঘমেয়াদি এই যুদ্ধের সবচেয়ে বড় মূল্য দিচ্ছে সাধারণ মানুষ। নিরাপত্তাহীনতা, খাদ্য সংকট, চিকিৎসাসেবার অভাব এবং বাস্তুচ্যুতি লাখো মানুষের দৈনন্দিন জীবনে বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

মিয়ানমারের ভবিষ্যৎ রাজনৈতিক পরিস্থিতি এখনো অনিশ্চিত। তবে একটি বিষয় স্পষ্ট—যুদ্ধ যত দীর্ঘ হবে, ততই বাড়বে মানবিক দুর্ভোগ এবং দেশের পুনর্গঠনের পথ তত কঠিন হয়ে উঠবে।

‘Blood and sweat’: Myanmar resistance fights to overturn military coup

 

জনপ্রিয় সংবাদ

চার শতাব্দী পর ফিরল প্রকৃতির হারানো সন্তান, গ্লেন অ্যাফ্রিকে জন্ম নিল বুনো বিভারের নতুন প্রজন্ম

মিয়ানমারের গৃহযুদ্ধে চাপে বিদ্রোহীরা, পাল্টা আক্রমণে শক্তি বাড়াচ্ছে সেনাবাহিনী

১১:৩৭:৪০ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ১০ জুন ২০২৬

মিয়ানমারে সামরিক অভ্যুত্থানের পাঁচ বছর পার হলেও দেশটির সংঘাত থামার কোনো লক্ষণ নেই। বরং দীর্ঘস্থায়ী গৃহযুদ্ধ নতুন এক পর্যায়ে পৌঁছেছে, যেখানে বিদ্রোহী জোটগুলোর প্রাথমিক সাফল্যের পর এখন আবার শক্ত অবস্থানে ফিরে আসছে সেনাবাহিনী। এর ফলে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে নতুন করে উদ্বেগ, বাস্তুচ্যুতি এবং প্রাণহানির আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।

সামরিক অভ্যুত্থানের পর পরিস্থিতি

২০২১ সালে নির্বাচিত সরকারকে সরিয়ে ক্ষমতা দখল করে মিয়ানমারের সেনাবাহিনী। এরপর থেকেই দেশজুড়ে শুরু হয় ব্যাপক প্রতিরোধ আন্দোলন। ধীরে ধীরে বিভিন্ন জাতিগত সশস্ত্র গোষ্ঠী ও বিদ্রোহী সংগঠন একজোট হয়ে সেনাবাহিনীর বিরুদ্ধে লড়াই শুরু করে।

গত কয়েক বছরে সংঘাতে হাজার হাজার মানুষের মৃত্যু হয়েছে। একই সঙ্গে লাখো মানুষ ঘরবাড়ি ছেড়ে অন্যত্র আশ্রয় নিতে বাধ্য হয়েছে। যুদ্ধের প্রভাব দেশের অর্থনীতি, স্বাস্থ্যসেবা ও শিক্ষা ব্যবস্থাকেও মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত করেছে।

Civil War in Myanmar | Global Conflict Tracker

প্রথম সাফল্যের পর কঠিন বাস্তবতা

দুই বছরেরও বেশি সময় আগে বিদ্রোহী বাহিনীগুলো একের পর এক গুরুত্বপূর্ণ এলাকায় অগ্রগতি অর্জন করেছিল। অনেক সীমান্ত অঞ্চল ও কৌশলগত অবস্থান তাদের নিয়ন্ত্রণে চলে যায়। তখন ধারণা করা হচ্ছিল, সেনাবাহিনীর ওপর চাপ আরও বাড়বে।

তবে সাম্প্রতিক সময়ে পরিস্থিতি বদলাতে শুরু করেছে। সেনাবাহিনী বাধ্যতামূলক নিয়োগ কার্যক্রম জোরদার করেছে এবং যুদ্ধক্ষেত্রে আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার বাড়িয়েছে। বিশেষ করে ড্রোনের মাধ্যমে নজরদারি ও হামলার সক্ষমতা বৃদ্ধির ফলে বিদ্রোহীদের ওপর নতুন চাপ তৈরি হয়েছে।

সামনের সারির যুদ্ধ

দেশটির বিভিন্ন সংঘাতপূর্ণ অঞ্চলে এখনো তীব্র লড়াই চলছে। হাসপাতাল, অস্থায়ী চিকিৎসা কেন্দ্র এবং সামনের সারির প্রতিরক্ষা অবস্থানগুলোতে যুদ্ধের প্রভাব স্পষ্টভাবে দেখা যাচ্ছে। আহত যোদ্ধা ও সাধারণ মানুষের সংখ্যা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে মানবিক সংকটও গভীর হচ্ছে।

বিদ্রোহী যোদ্ধারা বলছেন, তারা এখনো লড়াই চালিয়ে যাওয়ার ব্যাপারে দৃঢ়প্রতিজ্ঞ। অন্যদিকে সেনাবাহিনীও হারানো এলাকা পুনর্দখলে সক্রিয় অভিযান অব্যাহত রেখেছে। ফলে সংঘাত দ্রুত শেষ হওয়ার সম্ভাবনা আপাতত দেখা যাচ্ছে না।

মানবিক সংকট আরও গভীর

বিশ্লেষকদের মতে, দীর্ঘমেয়াদি এই যুদ্ধের সবচেয়ে বড় মূল্য দিচ্ছে সাধারণ মানুষ। নিরাপত্তাহীনতা, খাদ্য সংকট, চিকিৎসাসেবার অভাব এবং বাস্তুচ্যুতি লাখো মানুষের দৈনন্দিন জীবনে বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

মিয়ানমারের ভবিষ্যৎ রাজনৈতিক পরিস্থিতি এখনো অনিশ্চিত। তবে একটি বিষয় স্পষ্ট—যুদ্ধ যত দীর্ঘ হবে, ততই বাড়বে মানবিক দুর্ভোগ এবং দেশের পুনর্গঠনের পথ তত কঠিন হয়ে উঠবে।

‘Blood and sweat’: Myanmar resistance fights to overturn military coup